মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আবু বকরের সমতুল্য কাউকে মনে করতাম না। তাঁর পরে উমর ও তাঁর পরে উসমান। তারপর আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সকল সাহাবীকে ছেড়ে দিতাম। তাঁদের মধ্যে একজনকে অন্যের উপর মর্যাদা দিতাম না। -বুখারী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا، قَالَ: «كُنَّا فِي زَمَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لاَ نَعْدِلُ بِأَبِي بَكْرٍ أَحَدًا، ثُمَّ عُمَرَ، ثُمَّ عُثْمَانَ، ثُمَّ نَتْرُكُ أَصْحَابَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لاَ نُفَاضِلُ بَيْنَهُمْ» (رواه البخارى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের উদ্দেশ্য বাহ্যতঃ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে তাঁর কর্মধারা ও আচরণ দেখে আমরা এটা বুঝতাম যে, সবার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর রাযি.। তাঁর পরে উমর রাযি. এবং তাঁর পরে উসমান রাযি.। এ তিনজনই বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদিতে হুযুর (ﷺ) অধিকাংশ সময় তাঁদের সাথেই পরামর্শ করতেন। হযরত আলী রাযি. হুযূর (ﷺ)-এর জীবদ্দশায় কম বয়সী ছিলেন। তিনি ঐ সময় ঐ কাতারে ছিলেন না। যদিও এ তিন জনের পর তিনি নিঃসন্দেহে উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং কোন কোন বৈশিষ্ট্যের কারণে তার অবস্থান অনেক উর্ধ্বে।

এখানে এ বিষয়টিও লক্ষণীয় যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যটি ব্যক্তি সম্পর্কে, শ্রেণী ও গুণের দৃষ্টিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে যে মর্যাদা ও স্তর রয়েছে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. এ বিষয়টি সামনে আনেননি। যেমন, আশারা মুবাশশারা, আসহাবে বদর, আসহাবে বায়আতে রেযওয়ান এবং মুহাজির-আনসারদের মধ্য থেকে যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের এ বক্তব্যে তাদের মর্যাদার প্রতি কোন অস্বীকৃতি নেই। তিনি যা বলেছেন, এর সম্পর্ক ঐ বিশেষ ফযীলত ও মর্যাদার সাথে, যা হুযুর (ﷺ)-এর যুগে এ তিন মনীষীর অর্জিত ছিল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৪২ | মুসলিম বাংলা