মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৫
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস সম্মানিত পাঠকগণ দেখে নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণীও ছিল এবং কতিপয় মহান সাহাবীর বক্তব্যও ছিল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দ্বিতীয় খলীফা ফারুকে আযম হযরত উমর রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এখানেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ছাড়াও মহান সাহাবীদের বক্তব্যও থাকবে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রথম খলীফা হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা সংক্রান্ত অনেকগুলো হাদীস সম্মানিত পাঠকগণ দেখে নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণীও ছিল এবং কতিপয় মহান সাহাবীর বক্তব্যও ছিল। এবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দ্বিতীয় খলীফা ফারুকে আযম হযরত উমর রাযি.-এর মর্যাদা সম্পর্কে কিছু হাদীস লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। এখানেও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ছাড়াও মহান সাহাবীদের বক্তব্যও থাকবে।
১৪৫. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিল, যাদেরকে 'মুহাদ্দাস' বলা হত। (যারা আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে বিশেষ ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা দ্বারা ধন্য হতেন।) আমার উম্মতের মধ্যে যদি কেউ এ নেয়ামত দ্বারা ধন্য হয়ে থাকে, তাহলে সে হচ্ছে উমর। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَقَدْ كَانَ فِيمَا قَبْلَكُمْ مِنَ الأُمَمِ مُحَدَّثُونَ، فَإِنْ يَكُ فِي أُمَّتِي أَحَدٌ فَإِنَّهُ عُمَرُ. (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
'মুহাদ্দাস' আল্লাহ তা'আলার ঐ সব ভাগ্যবান বান্দাকে বলা হয়, যাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অধিক পরিমাণে ইলহাম ও অন্তর্নিক্ষিপ্ত বার্তা আসে এবং এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ আচরণ ও ভাব থাকে। তবে তিনি নবী হন না; বরং কোন নবীর উম্মত হয়ে থাকেন।
হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন ধরনের লোক থাকতেন, আর আমার উম্মতের মধ্যে যদি কাউকে এ নেয়ামত দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি হচ্ছেন উমর রাযি.।
হাদীসের শব্দমালা দ্বারা কারো যেন ভুলবুঝাবুঝি না হয় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় ছিল। তাঁর উম্মত যেহেতু শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই এ কথা স্পষ্ট যে, এ উম্মতের মধ্যেও এমন ভাগ্যবান বান্দা থাকবেন, যারা অধিক পরিমাণে ইলহাম দ্বারা ধন্য হবেন। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী হচ্ছে এ ক্ষেত্রে হযরত উমর রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেওয়া। আর নিঃসন্দেহে এ নেয়ামতের বেলায় হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষত্ব অর্জিত ছিল। যেমন সামনের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর মর্ম এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতসমূহের মধ্যে এমন ধরনের লোক থাকতেন, আর আমার উম্মতের মধ্যে যদি কাউকে এ নেয়ামত দ্বারা বিশেষভাবে ধন্য করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনি হচ্ছেন উমর রাযি.।
হাদীসের শব্দমালা দ্বারা কারো যেন ভুলবুঝাবুঝি না হয় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ সংশয় ছিল। তাঁর উম্মত যেহেতু শ্রেষ্ঠ উম্মত এবং পূর্ববর্তী সকল উম্মতের চেয়ে উত্তম, তাই এ কথা স্পষ্ট যে, এ উম্মতের মধ্যেও এমন ভাগ্যবান বান্দা থাকবেন, যারা অধিক পরিমাণে ইলহাম দ্বারা ধন্য হবেন। হুযুর (ﷺ)-এর এ বাণীর উদ্দেশ্য ও দাবী হচ্ছে এ ক্ষেত্রে হযরত উমর রাযি.-এর বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে দেওয়া। আর নিঃসন্দেহে এ নেয়ামতের বেলায় হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষত্ব অর্জিত ছিল। যেমন সামনের হাদীসসমূহ থেকে জানা যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)