মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৪৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৪৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ তা'আলা উমরের মুখে ও তাঁর অন্তরে সত্য কথা রেখে দিয়েছেন। -তিরমিযী
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ جَعَلَ الْحَقَّ عَلَى لِسَانِ عُمَرَ وَقَلْبِهِ. (رواه الترمذى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হযরত উমরের ব্যাপারে বলেছেন যে, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে যেসব বিশেষ নেয়ামতে ভূষিত করেছেন, এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, তাঁর অন্তরে যা কিছু আসে এবং যা কিছু তিনি মুখে বলেন, তা হক ও সত্যই হয়ে থাকে। তিনি হকই চিন্তা করেন এবং হকই বলেন। এর মর্ম অবশ্য এই নয় যে, তাঁর পক্ষ থেকে ইজতেহাদী ভুলও হয় না। হযরত উমর রাযি. থেকেও কখনো কখনো ইজতেহাদী ভুল হয়ে যেত; কিন্তু হক প্রকাশ হওয়ার পর তিনি এ থেকে ফিরে যেতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাতের ব্যাপারে এবং তেমনিভাবে যাকাত অস্বীকারকারীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ও লড়াইয়ের বিরুদ্ধে তাঁর যে অভিমত ছিল, এটা ইজতেহাদী ভুলই ছিল। পরে সত্য স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর তিনি আপন মত থেকে ফিরে আসেন এবং হযরত আবূ বকর সিদ্দীক রাযি.-এর সাথে ঐকমত্য পোষণ করে নেন। যাহোক, ইজতেহাদী ভুলের এ জাতীয় কয়েকটি ব্যতিক্রমী ঘটনা ছাড়া (যেগুলোতে সত্য প্রকাশ পেয়ে যাওয়ার পর তিনি নিজ মত থেকে ফিরে আসেন,) তিনি যা চিন্তা করেছেন ও বুঝেছেন এবং যেসব বিধান জারী করেছেন, এগুলো সব সঠিক ও হক ছিল।

নিঃসন্দেহে এটা তাঁর প্রতি আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ অনুগ্রহ ছিল। সামনের কোন কোন হাদীস থেকে ইনশাআল্লাহ হযরত ফারুকে আযমের এ বৈশিষ্ট্য ও মর্যাদার আরো কিছু বিষয় ফুটে উঠবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান