মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫২
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
ফারুকে আযম হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৫২. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুনেছি: আমি একদিন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। এ অবস্থায় (স্বপ্নে) আমার নিকট দুধ ভর্তি একটি পাত্র আনা হল। আমি খুব পরিতৃপ্তি সহকারে এখান থেকে পান করলাম। এমনকি আমি এ পরিতৃপ্তির প্রভাব আমার নখগুলোতে পর্যন্ত অনুভব করলাম। তারপর এর অবশিষ্ট দুধ উমর ইবনুল খাত্তাবকে দিয়ে দিলাম- যাতে সে পান করে নেয়। সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ। আপনি এর (স্বপ্নের) কি তা'বীর করলেন? তিনি উত্তর দিলেন, ইলম। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، يَقُولُ: «بَيْنَ أَنَا نَائِمٌ أُتِيتُ بِقَدَحِ لَبَنٍ، فَشَرِبْتُ حَتَّى إِنِّي لَأَرَى الرِّيَّ يَخْرُجُ مِنْ أَظْفَارِي، مِنْهُ، ثُمَّ أَعْطَيْتُ فَضْلِي عُمَرَ بْنَ الخَطَّابِ» قَالُوا: فَمَا أَوَّلْتَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ قَالَ: «العِلْمَ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
সূক্ষ্মদর্শী আলেমগণ বলেছেন যে, ইলমের উপমা আকৃতি অন্য জগতে দুধের ন্যায়। যে ব্যক্তি স্বপ্নে দেখে যে, তাকে ইলম দান করা হবে। দুধ ও ইলমের মধ্যে এ পারস্পরিক সম্পর্ক সুস্পষ্ট যে, দুধ মানবদেহের জন্য সর্বোত্তম উপকারী খাদ্য, তেমনিভাবে ইলম যা আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়, সেটা আত্মার জন্য সর্বোত্তম ও উপকারী।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে হুযুর (ﷺ)-কে প্রদত্ত ইলমের মধ্যে হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষ অংশ ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর পর যেভাবে তিনি দশ বছর খেলাফত ও নবুওয়াতের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যেভাবে উম্মতের পথপ্রদর্শন করেছেন, তা-ই এর প্রমাণ ও সাক্ষ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ইলমের যথেষ্ট অংশ দান করেছিলেন।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহঃ) 'ইযালাতুল খাফা' নামক গ্রন্থে হযরত উমর রাযি.-এর জ্ঞান-গরীমা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন, সেটা আলেমদের দেখার মত। এর অধ্যয়নের দ্বারা এ বিষয়ে হযরত ফারুকে আযমের অনন্য বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যেতে পারে।
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে হুযুর (ﷺ)-কে প্রদত্ত ইলমের মধ্যে হযরত উমর রাযি.-এর বিশেষ অংশ ছিল। হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর পর যেভাবে তিনি দশ বছর খেলাফত ও নবুওয়াতের নায়েব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং যেভাবে উম্মতের পথপ্রদর্শন করেছেন, তা-ই এর প্রমাণ ও সাক্ষ্য যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে ইলমের যথেষ্ট অংশ দান করেছিলেন।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (রহঃ) 'ইযালাতুল খাফা' নামক গ্রন্থে হযরত উমর রাযি.-এর জ্ঞান-গরীমা সম্পর্কে যা কিছু লিখেছেন, সেটা আলেমদের দেখার মত। এর অধ্যয়নের দ্বারা এ বিষয়ে হযরত ফারুকে আযমের অনন্য বৈশিষ্ট্য পূর্ণরূপে উপলব্ধি করা যেতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)