মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ১০৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হুযুর (ﷺ)-এর অনুপম আখলাক ও চরিত্র
১০৮. হযরত আনাস রাযি. থেকেই বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে পথ চলছিলাম, আর তখন তাঁর গায়ে ছিল একটি নাজরানী চাদর- যার দুই প্রান্ত ছিল মোটা। এমন সময় এক বেদুঈন তাঁকে ধরে ফেলল এবং তাঁর চাদর ধরে এমন জোরে টান দিল যে, তিনি ঐ বেদুঈনের বুকের কাছে এসে গেলেন। আমি দেখলাম যে, এই সজোরে টান দেওয়ার কারণে তাঁর ঘাড়ের এক দিকে দাগ পড়ে গিয়েছে।
তারপর লোকটি বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার নিকট আল্লাহর যে মাল রয়েছে, (তোমার লোকদেরকে) নির্দেশ দাও যে, সেখান থেকে যেন আমাকে কিছু দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন এবং তার এ আচরণে হাসলেন। তারপর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। -বুখারী, মুসলিম
তারপর লোকটি বলল, হে মুহাম্মদ! তোমার নিকট আল্লাহর যে মাল রয়েছে, (তোমার লোকদেরকে) নির্দেশ দাও যে, সেখান থেকে যেন আমাকে কিছু দেয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ বেদুঈনের দিকে তাকিয়ে দেখলেন এবং তার এ আচরণে হাসলেন। তারপর তাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب المناقب والفضائل
وَعَنْهُ قَالَ: «كُنْتُ أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ نَجْرَانِيٌّ غَلِيظُ الحَاشِيَةِ»، فَأَدْرَكَهُ أَعْرَابِيٌّ فَجَبَذَهُ بِرِدَائِهِ جَبْذَةً شَدِيدَةً، حَتَّى «نَظَرْتُ إِلَى صَفْحَةِ عَاتِقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَثَّرَتْ بِهَا حَاشِيَةُ البُرْدِ مِنْ شِدَّةِ جَبْذَتِهِ»، ثُمَّ قَالَ: يَا مُحَمَّدُ مُرْ لِي مِنْ مَالِ اللَّهِ الَّذِي عِنْدَكَ، «فَالْتَفَتَ إِلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ ضَحِكَ، ثُمَّ أَمَرَ لَهُ بِعَطَاءٍ» (رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
নাজরান ইয়ামান অঞ্চলের একটি শহর ছিল- যেখানে বিশেষ ধরনের চাদর তৈরী হত এবং এগুলোকে নাজরানী চাদর বলা হত। এ বেদুঈন যে 'আল্লাহর মালের' সওয়াল করেছিল, এর দ্বারা উদ্দেশ্য বাহ্যত যাকাত, সদাকা ইত্যাদি সম্পদ ছিল- যা বায়তুল মালে জমা রাখা হত- যা তিনি হকদারদের মধ্যে বিতরণ করতেন।
হাদীসটির বিষয়বস্তু একেবারে স্পষ্ট, কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, এ বেদুঈন চরম পর্যায়ের মূর্খ-গোয়ার ছিল। এসময় তার মধ্যে কোন সংশোধনমূলক কথা গ্রহণ করার যোগ্যতাই ছিল না। এ জন্য হুযুর (ﷺ) তাকে সংশোধন করা তো দূরের কথা- কোন উপদেশমূলক কথাও বললেন না; বরং তার এ চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের উত্তর তিনি কেবল মুচকি হাসি দ্বারা দিলেন এবং যে টাকা-পয়সার আব্দার সে করেছিল, তা তিনি দিয়ে দিলেন। এভাবে তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিলেন যে, এ পর্যায়ের ধৃষ্টতা প্রদর্শন ও কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ক্ষমার আচরণ অবলম্বন করে যেতে হবে। হয়ত আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হেদায়াত দান করবেন এবং তার সংশোধনও হয়ে যাবে। নিঃসন্দেহে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের নিকট হুযুর (ﷺ)-এর জীবনের এ জাতীয় ঘটনাবলীও তাঁর মু'জেযার অন্তর্ভুক্ত।
হাদীসটির বিষয়বস্তু একেবারে স্পষ্ট, কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন নেই। স্পষ্টতই বুঝা যায় যে, এ বেদুঈন চরম পর্যায়ের মূর্খ-গোয়ার ছিল। এসময় তার মধ্যে কোন সংশোধনমূলক কথা গ্রহণ করার যোগ্যতাই ছিল না। এ জন্য হুযুর (ﷺ) তাকে সংশোধন করা তো দূরের কথা- কোন উপদেশমূলক কথাও বললেন না; বরং তার এ চরম ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের উত্তর তিনি কেবল মুচকি হাসি দ্বারা দিলেন এবং যে টাকা-পয়সার আব্দার সে করেছিল, তা তিনি দিয়ে দিলেন। এভাবে তিনি উম্মতকে শিক্ষা দিলেন যে, এ পর্যায়ের ধৃষ্টতা প্রদর্শন ও কষ্ট দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ক্ষমার আচরণ অবলম্বন করে যেতে হবে। হয়ত আল্লাহ্ তা'আলা তাকে হেদায়াত দান করবেন এবং তার সংশোধনও হয়ে যাবে। নিঃসন্দেহে অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন লোকদের নিকট হুযুর (ﷺ)-এর জীবনের এ জাতীয় ঘটনাবলীও তাঁর মু'জেযার অন্তর্ভুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)