মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৭৭
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর ফযীলত ও মর্যাদা
১৭৭. হযরত উসমান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দ্বিতীয়া কন্যা (উম্মে কুলসুম)-এর মৃত্যুর পর আমাকে বলেছিলেন, হে উসমান। আমার যদি দশটি কন্যা সন্তান থাকত, তাহলে আমি একের পর আরেকজনকে তোমার নিকট বিয়ে দিয়ে দিতাম। কেননা, আমি তোমার প্রতি খুবই সন্তুষ্ট। -তাবরানী, দারাকুতনী, ইবনে আসাকির
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عُثْمَانَ قَال : قَالَ لِيْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ مَوْت ابْنَتَه الْأَخِيرَة يَا عُثْمَان ! لَوْ أَنَّ عِنْدِي عَشْرًا لَزَوَّجْتُكَهُنَّ وَاحِدَةً بَعْدَ وَاحِدَةٍ فَإِنّي عَنْك رَاضٍ . (رواه الطبرانى فى الاوسط والدار قطنى في الافراد وابن عساكر)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীসের বক্তব্যটি অত্যন্ত স্পষ্ট। এর পূর্বে ইসমাহ ইবনে মালেকের বর্ণিত হাদীস থেকে জানা গিয়েছিল যে, হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা হযরত উম্মে কুলসূমের ইন্তিকালের পর উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামকে বলেছিলেন যে, আমার যদি তৃতীয় কোন কন্যা থাকত, তাহলে তার বিয়েও উসমানের সাথেই দিয়ে দিতাম। আর এ হাদীসে এসেছে যে, স্বয়ং তিনি উসমানকে বললেন যে, যদি আমার দশটি কন্যা সন্তান থাকত, তাহলে আমি একের পর আরেকজনকে তোমার নিকটই বিয়ে দিতাম। এ কথা স্পষ্ট যে, এ দুই কথার মধ্যে কোন বৈপরিত্য নেই। প্রথম কথাটি তিনি সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, আর এ হাদীসে যা বলা হয়েছে, এর সম্বোধিত ব্যক্তি স্বয়ং হযরত উসমান রাযি. ছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল হযরত উসমানের সাথে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ও সন্তুষ্টির কথা প্রকাশ করা। হযরত উম্মে কুলসুমের ওফাতে হযরত উসমানের মধ্যে যে বেদনা ছিল, এর সান্ত্বনা ও দুঃখ লাঘবের জন্য এটা ছিল একটি উত্তম পদ্ধতি- যা হুযুর (ﷺ)-এর মহানুভবতার প্রমাণ। صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَبَارَكَ وَسَلَّمَ কোন কোন বর্ণনায় এর চেয়ে বেশী সংখ্যার কথাও এসেছে। এর মধ্যেও কোন বিরোধ ও বৈপরিত্য নেই। উদ্দেশ্য সেটাই যা বলে আসা হয়েছে।
আমাদের যুগের শিয়া পণ্ডিত ও লিখকগণ- যারা এমন কথা বলতে ও লিখতে শুরু করেছেন, যেগুলো তাদের মাসুম ইমামদের বক্তব্য এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বড় বড় শিয়া পণ্ডিত ও মুজতাহিদদের স্পষ্ট বক্তব্যের পরিপন্থী। এগুলোর মধ্যে একটি এইও যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কন্যা কেবল ফাতেমাই ছিলেন। তিনি ছাড়া হযরত যয়নব, হযরত রুকাইয়্যা ও হযরত উম্মে কুলসুম হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা ছিলেন না; বরং হযরত খাদীজার প্রথম স্বামীর সন্তান ছিলেন। এটা এমন ডাহা মিথ্যা ও অপবাদ যে, এর দুঃসাহস কেবল শিয়া পণ্ডিত ও লিখকগণই করতে পারেন। এখানে এ বিষয়ের উপর বিস্তারিত লিখার সুযোগ নেই। পাঠকদের খেদমতে কেবল এতটুকু নিবেদন করাই যথেষ্ট যে, কুরআন মজীদের সূরা আহযাবের ৫৯নং আয়াতে পর্দার বিধানের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সম্বোধন করে আল্লাহ তা'আলা এরশাদ করেছেন: یٰۤاَیُّہَا النَّبِیُّ قُلۡ لِّاَزۡوَاجِکَ وَبَنٰتِک (হে নবী" আপনি আপনার স্ত্রীদেরকে ও কন্যাদেরকে বলে দিন-----) এখানে আযওয়াজ ও বানাত শব্দ দু'টি বহুবচনরূপে ব্যবহৃত হয়েছে- যা একথা নির্দেশ করে যে, হুযূর (ﷺ)-এর স্ত্রীদের ন্যায় কন্যা সন্তানও একাধিক ছিলেন।

আমাদের যুগেরই একজন দূরদর্শী, গবেষক আলেম ও লিখক মাওলানা মুহাম্মদ নাফে এ বিষয়ের উপর একটি অত্যন্ত প্রামাণ্য কিতাব "বানাতে আরবাআ" (চার কন্যা) লিখে গবেষণার হক আদায় করে দিয়েছেন। এটা প্রায় সাড়ে চারশ' পৃষ্ঠার একটি কিতাব। এতে তিনি আহলে সুন্নতের হাদীস, ইতিহাস ও বংশবিদ্যার কিতাবসমূহ ছাড়া শিয়াদের হাদীসগ্রন্থ, মাসুম ইমামদের বর্ণনা, তাদের ইতিহাস ও বংশবিদ্যার কিতাবসমূহ ছাড়া তাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী পণ্ডিত ও মুজতাহিদদের স্পষ্ট বক্তব্যসমূহ থেকে অকাট্যভাবে প্রমাণ করেছেন যে, হযরত যয়নব, হযরত রুকাইয়্যা, হযরত উম্মে কুলসুম ও হযরত ফাতেমা রাযি. চারজনই হুযুর (ﷺ)-এর কন্যা ছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ১৭৭ | মুসলিম বাংলা