মা'আরিফুল হাদীস

গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়

হাদীস নং: ১৭৮
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
যরত উসমান যিন্নুরাইন রাযি.-এর মর্যাদা সংক্রান্ত এ ধারাটি হযরত আলী রাযি.-এর একটি বক্তব্যের উপর সমাপ্ত করা হচ্ছে
১৭৮. সাবেত ইবনে উবায়েদ থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি হযরত আলী রাযি.-এর খেদমতে নিবেদন করল যে, আমি মদীনা ফিরে যাচ্ছি। সেখানে লোকেরা আমাকে হযরত উসমান রাযি. সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তাই (আমাকে বলে দিন) আমি কি উত্তর দিব। হযরত আলী রাযি. বললেন, তাদেরকে বলে দিয়ো যে, উসমান রাযি., আল্লাহর ঐসব বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (যাদের ব্যাপারে আল্লাহ্ তা'আলা কুরআন পাকে বলেছেন,) যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারপর তাকওয়া ও পরিপূর্ণ ঈমানী যিন্দেগীর অনুসরণ করেছে, তারপর তাওয়া ও ইহসানের স্তর লাভ করেছে। আর আল্লাহ তা'আলা ঐসব বান্দাকে ভালবাসেন, যারা ইহসানের স্তরে উন্নীত। -ইবনে মারদুবিয়্যাহ, ইবনে আসাকির
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ ثَابِتِ بْنِ عُبَيْدٍ أَنَّ رَجُلًا قَالَ لِعَلِيٍّ : يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ ! إنِّي ارْجِعْ إلَى الْمَدِينَةِ وَأَنَّهُمْ سَائِلِيْ عَنْ عُثْمَانَ فَمَاذَا أَقُولُ لَهُمْ ؟ قَالَ : أَخْبِرْهُمْ أَنَّ عُثْمَانَ كَانَ مِنْ الَّذِينَ {آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوْا وَآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوْا وَأَحْسَنُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ}. (رواه ابن مردويه وابن عساكر).

হাদীসের ব্যাখ্যা:

একথা সুবিদিত যে, হযরত আলী রাযি. কুফাকে দারুল খেলাফত বানিয়ে নিয়েছিলেন। এখানে যে ব্যক্তি মদীনার যাত্রী ছিলেন এবং যিনি হযরত আলীকে এ প্রশ্ন করেছিলেন, মনে হয় যে, তিনি হযরত আলীর সাথে বিশেষ সম্পর্কধারী ছিলেন। তার উদ্দেশ্য এই ছিল যে, আমি যখন মদীনায় যাব, তখন লোকেরা আপনার সাথে আমার বিশেষ সম্পর্কের কারণে- হযরত উসমান রাযি.-এর ব্যাপারে আমার মন্তব্য শুনতে চাইবে। (মনে রাখা চাই যে, এটা ঐ সময়ের কথা, যখন হযরত উসমানের ব্যক্তিত্ব বিতর্কিত হয়ে গিয়েছিল এবং তাঁকে শহীদ করে ফেলা হয়েছিল। আর যারা তাঁকে শহীদ করেছিল, ঐসব বিদ্রোহীরা হযরত আলীর ভালবাসার দাবীদার ছিল।) তাই হযরত আলী রাযি. তাকে ঐ উত্তর দিলেন, যা হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। এটা আসলে সূরা মায়েদার ৯২নং আয়াতের একটা অংশ। আয়াতটির মর্ম এই যে, যেসব বান্দা ঈমান, নেক আমল, তাকওয়া ও ইহসানের জীবন কাটাবে, তাদের পক্ষ থেকে যদি কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েও যায়, তাহলে আখেরাতে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ হবে না এবং তারা আল্লাহর প্রিয়পাত্র বলে গণ্য হবে। হযরত উসমান রাযি. আল্লাহর ঐসব প্রিয় ও মকবুল বান্দাদের মধ্যেই ছিলেন।
স্মরণ রাখা দরকার যে, এখানে যে ইহসান শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, এটা একটা বিশেষ দ্বীনি পরিভাষা। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক হাদীসে এর ব্যাখ্যা এই দিয়েছেন যে, বান্দা আল্লাহ্ তা'আলার ইবাদত ও বন্দেগী এবং তাঁর আহকাম ও বিধি-বিধানের অনুসরণ এভাবে করবে যে, আল্লাহ্ যেন তার চোখের সামনে। এ কথা স্পষ্ট যে, এটা ঈমান ও বিশ্বাসের সর্বোচ্চ স্তর। আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকেও এ ঈমানী অবস্থা ও অবস্থানের কিছু অংশ নসীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান