মা'আরিফুল হাদীস
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হাদীস নং: ২০৬
গুণাবলী ও ফযীলত অধ্যায়
হযরত যুবায়ের রাযি.
২০৬. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দু'কান' রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মুখ থেকে একথা বলতে শুনেছে: তালহা ও যুবায়ের জান্নাতে আমার প্রতিবেশী হবে। (তিরমিযী)
کتاب المناقب والفضائل
عَنْ عَلِيٍّ قَالَ: سَمِعَتْ أُذُنِي مِنْ فِي رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ يَقُولُ: طَلْحَةُ وَالزُّبَيْرُ جَارَايَ فِي الجَنَّةِ. (رواه الترمذى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির মর্ম অত্যন্ত স্পষ্ট, এর কোন ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তবে এ কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখ করার মত যে, হযরত আলী রাযি. এ দু'জনের (হযরত তালহা ও যুবায়ের) মর্যাদা ও শহীদী মর্যাদা লাভের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করতেন। যেমন, এ হাদীসেই- যেখানে বলা হয়েছে যে, এ দু'জন জান্নাতে আমার প্রতিবেশী হয়ে থাকবে- এর জন্য হযরত আলী রাযি. এ বাচনভঙ্গি অবলম্বন করেছেন:
سَمِعْتُ أُدْنى مِنْ فِي رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ
অর্থাৎ, আমার দু'কান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র মুখ থেকে শুনেছে। একথা স্পষ্ট যে, এ বাচনভঙ্গি ঐ বিশেষ গুরুত্বেরই প্রকাশ। এর বিশেষ কারণ সম্ভবত: এই ছিল যে, এ দু মহান ব্যক্তি যখন জঙ্গে জামালের সময় যুদ্ধ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন, তখন হযরত আলী রাযি.-এর সৈন্যদের কিছু বদ নসীব লোক তাদেরকে শহীদ করে ফেলেছিল।
এ যুদ্ধের ব্যাপারে এতটুকু কথা এখানে উল্লেখ করে দেওয়া জরুরী যে, এটা পৃথিবীর এক ঐ আশ্চর্য ও শিক্ষণীয় যুদ্ধ ছিল, যার উভয় পক্ষের কেউই যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক ছিল না। উভয়পক্ষ অন্য পক্ষের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল এবং প্রতিপক্ষের গুণের স্বীকৃতি দান করত। কিন্তু কিছু মানুষ বেশী শয়তান আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ও তার অনুচররা তাদের শয়তানী ও ধূর্তামী চালাতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে সফলকাম হয়ে গেল। যাহোক, এ যুদ্ধ অনিচ্ছায় এবং কেবল প্রতারণার শিকার হয়ে সংঘটিত হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর উভয় পক্ষেরই চরম দুঃখ ও অনুশোচনা হল এবং তারা এস্তেগফার ও ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখলেন।
سَمِعْتُ أُدْنى مِنْ فِي رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ
অর্থাৎ, আমার দু'কান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পবিত্র মুখ থেকে শুনেছে। একথা স্পষ্ট যে, এ বাচনভঙ্গি ঐ বিশেষ গুরুত্বেরই প্রকাশ। এর বিশেষ কারণ সম্ভবত: এই ছিল যে, এ দু মহান ব্যক্তি যখন জঙ্গে জামালের সময় যুদ্ধ থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন, তখন হযরত আলী রাযি.-এর সৈন্যদের কিছু বদ নসীব লোক তাদেরকে শহীদ করে ফেলেছিল।
এ যুদ্ধের ব্যাপারে এতটুকু কথা এখানে উল্লেখ করে দেওয়া জরুরী যে, এটা পৃথিবীর এক ঐ আশ্চর্য ও শিক্ষণীয় যুদ্ধ ছিল, যার উভয় পক্ষের কেউই যুদ্ধ করতে ইচ্ছুক ছিল না। উভয়পক্ষ অন্য পক্ষের ফযীলত ও মর্যাদা সম্পর্কে অবগত ছিল এবং প্রতিপক্ষের গুণের স্বীকৃতি দান করত। কিন্তু কিছু মানুষ বেশী শয়তান আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ও তার অনুচররা তাদের শয়তানী ও ধূর্তামী চালাতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে উভয় পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ লাগিয়ে দিতে সফলকাম হয়ে গেল। যাহোক, এ যুদ্ধ অনিচ্ছায় এবং কেবল প্রতারণার শিকার হয়ে সংঘটিত হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধের পর উভয় পক্ষেরই চরম দুঃখ ও অনুশোচনা হল এবং তারা এস্তেগফার ও ক্ষতিপূরণের সম্ভাব্য সকল চেষ্টা অব্যাহত রাখলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)