মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
রোযা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮৪ টি
হাদীস নং: ১০১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইফতারের দু‘আ
১০১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন ইফতার করতেন, তখন বলতেন:
«ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ الله»
অর্থ: পিপাসা দূর হয়ে গেল, শিরা-উপশিরা যা শুকিয়ে গিয়েছিল তা সিক্ত হল, আর আল্লাহ্ চাইলে সওয়াব ও প্রতিদানও নির্ধারিত হয়ে গেল। আবু দাউদ
«ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ الله»
অর্থ: পিপাসা দূর হয়ে গেল, শিরা-উপশিরা যা শুকিয়ে গিয়েছিল তা সিক্ত হল, আর আল্লাহ্ চাইলে সওয়াব ও প্রতিদানও নির্ধারিত হয়ে গেল। আবু দাউদ
کتاب الصوم
عَنِ ابْنَ عُمَرَ قَالَ : كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذَا أَفْطَرَ قَالَ : « ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ ، وَثَبَتَ الْأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ »
(رواه ابوداؤد)
(رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযাদারকে ইফতার করানোর ফযীলত
১০২. হযরত যায়েদ ইবনে খালেদ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে ইফতার করায় অথবা কোন মুজাহিদকে জেহাদের উপকরণ সরবরাহ করে, তার জন্য রোযাদার ও মুজাহিদের সমান সওয়াব রয়েছে। -বায়হাকী, শরহুস্ সুন্নাহ
کتاب الصوم
عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا أَوْ جَهَّزَ غَازِيًا فَلَهُ مِثْلَ أَجْرِهِ "
(رواه البيهقى فى شعب الايمان ورواه محى السنة فى شرح السنة)
(رواه البيهقى فى شعب الايمان ورواه محى السنة فى شرح السنة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কুরআন মজীদে সূরা বাকারায় যেখানে রমযানের রোযার ফরযিয়্যাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, সেখানে অসুস্থ ও মুসাফিরদেরকে রমযানে রোযা না রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং হুকুম দেওয়া হয়েছে যে, তারা অসুস্থতা ও সফরের পর নিজেদের রোযা পূর্ণ করে নেবে। সেখানে একথাও বলে দেওয়া হয়েছে যে, এ অনুমতি ও অবকাশ বান্দাদের সুবিধার জন্য দেওয়া হয়েছে। এরশাদ হচ্ছে:
فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ
অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোযা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যান্য দিনগুলোতে রমযানের এ গণনা পুরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিলতা ও কাঠিন্য কামনা করেন না। (সূরা বাকারা)
এ আয়াত দ্বারা বুঝা গেল যে, এ অবকাশ বান্দাদের সুবিধা ও আসানীর জন্য এবং তাদেরকে জটিলতা ও কাঠিন্য থেকে বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। তাই যদি কোন ব্যক্তি সফরে থাকা সত্ত্বেও বোযা রাখতে বিশেষ কোন কষ্ট ও অসুবিধা অনুভব না করে, তাহলে সে রোযা রাখতে পারে আর ইচ্ছা করলে অবকাশও গ্রহণ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কর্মনীতি যেহেতু উম্মতের জন্য উসওয়া ও আদর্শ, এ জন্য তিনি সফরে কখনো রোযা রেখেছেন আবার কখনো কাযাও করেছেন। যাতে উম্মত নিজেদের অবস্থা অনুযায়ী যে কোন পদ্ধতির উপর আমল করতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ও কর্মনীতি দ্বারা যা বুঝা যায় সেটা এই যে, সফরে রোযা রাখাতে যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের অসুবিধা ও ক্ষতি হয়, তাহলে রোযা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী সময়ে কাযা করে নেওয়াই উত্তম। আর যদি এমন না হয়, তাহলে রোযা রেখে নেওয়াই উত্তম।
فَمَنۡ شَہِدَ مِنۡکُمُ الشَّہۡرَ فَلۡیَصُمۡہُ ؕ وَمَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰہُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَلَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ
অর্থাৎ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাসটি পাবে, সে যেন এ মাসের রোযা রাখে। আর যে ব্যক্তি অসুস্থ অথবা মুসাফির অবস্থায় থাকবে, সে অন্যান্য দিনগুলোতে রমযানের এ গণনা পুরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য জটিলতা ও কাঠিন্য কামনা করেন না। (সূরা বাকারা)
এ আয়াত দ্বারা বুঝা গেল যে, এ অবকাশ বান্দাদের সুবিধা ও আসানীর জন্য এবং তাদেরকে জটিলতা ও কাঠিন্য থেকে বাঁচানোর জন্য দেওয়া হয়েছে। তাই যদি কোন ব্যক্তি সফরে থাকা সত্ত্বেও বোযা রাখতে বিশেষ কোন কষ্ট ও অসুবিধা অনুভব না করে, তাহলে সে রোযা রাখতে পারে আর ইচ্ছা করলে অবকাশও গ্রহণ করতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কর্মনীতি যেহেতু উম্মতের জন্য উসওয়া ও আদর্শ, এ জন্য তিনি সফরে কখনো রোযা রেখেছেন আবার কখনো কাযাও করেছেন। যাতে উম্মত নিজেদের অবস্থা অনুযায়ী যে কোন পদ্ধতির উপর আমল করতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বাণী ও কর্মনীতি দ্বারা যা বুঝা যায় সেটা এই যে, সফরে রোযা রাখাতে যদি অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের অসুবিধা ও ক্ষতি হয়, তাহলে রোযা ছেড়ে দিয়ে পরবর্তী সময়ে কাযা করে নেওয়াই উত্তম। আর যদি এমন না হয়, তাহলে রোযা রেখে নেওয়াই উত্তম।
১০৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত হামযা ইবনে আমর আসলামী- যিনি খুব বেশী রোযা রাখতেন- রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে জিজ্ঞাসা করলেন যে, আমি কি সফর অবস্থায় রোযা রাখব? তিনি উত্তর দিলেন, ইচ্ছা করলে রাখতে পার, আর ইচ্ছা করলে নাও রাখতে পার। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : إِنَّ حَمْزَةَ بْنَ عَمْرٍو الْأَسْلَمِيُّ قال لِلنَّبِىِّ : أَصُومُ فِي السَّفَرِ؟ وَكَانَ كَثِيرَ الصِّيَامِ .... فَقَالَ : « إِنْ شِئْتَ فَصُمْ ، وَإِنْ شِئْتَ فَأَفْطِرْ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরের অবস্থায় রোযা
১০৪. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মদীনা থেকে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন এবং উসফান নামক স্থানে পৌছার আগ পর্যন্ত রোযা অব্যাহত রাখলেন। (সেখান থেকে তিনি রোযা ছেড়ে দিলেন এবং সবাইকে বিষয়টি স্পষ্ট করে বুঝানোর জন্য) তিনি পানি চাইলেন। তারপর এ পানি হাতে নিয়ে উপরের দিকে তুলে ধরলেন- যাতে সবাই দেখতে পারে। (তারপর এ পানি পান করে নিলেন।) এবং মক্কা না পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর রোযা রাখলেন না। আর এটা হয়েছিল রমযান মাসে। এ জন্য ইবনে আব্বাস বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সফরে রোযা রেখেছেনও, আবার কাযাও করেছেন। তাই যার ইচ্ছা রোযা রেখে নিক আর যার ইচ্ছা পরে কাযা করে নিক। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، مِنَ المَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ ، فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ عُسْفَانَ ، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ فَرَفَعَهُ إِلَى يَدَيْهِ لِيُرِيَهُ النَّاسَ ، فَأَفْطَرَ حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ ، وَذَلِكَ فِي رَمَضَانَ " ، فَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَقُولُ : « قَدْ صَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَفْطَرَ ، فَمَنْ شَاءَ صَامَ وَمَنْ شَاءَ أَفْطَرَ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরের অবস্থায় রোযা
১০৫. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ১৬ই রমযান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সাথে যুদ্ধে রওয়ানা হলাম। তখন আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রোযাদার ছিল, আর কেউ কেউ রোযা ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু রোযাদাররা বে- রোযাদারদের উপর এবং বে-রোযাদাররা রোযাদারদের উপর কোনরূপ আপত্তি করে নাই। (অর্থাৎ, প্রত্যেকেই অন্যের কর্মনীতিকে শরী‘আতসম্মত মনে করেছে।) -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، قَالَ : « غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِسِتَّ عَشْرَةَ مَضَتْ مِنْ رَمَضَانَ ، فَمِنَّا مَنْ صَامَ وَمِنَّا مَنْ أَفْطَرَ ، فَلَمْ يَعِبِ الصَّائِمُ عَلَى الْمُفْطِرِ ، وَلَا الْمُفْطِرُ عَلَى الصَّائِمِ »
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরের অবস্থায় রোযা
১০৬. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম (ﷺ)এর সাথে এক সফরে ছিলাম। আমাদের মধ্যে কেউ কেউ রোযাদার ছিল, আর কেউ কেউ বে-রোযাদার। এ অবস্থায় এক প্রচন্ড গরমের দিনে আমরা এক মনযিলে অবতরণ করলাম। এ সময় রোযাদাররা (রোযায় কাতর হয়ে) পড়ে গেল আর বে-রোযাদাররা উঠে সবার জন্য তাবু তৈরী করল এবং বাহনের পশুদেরকে পানি পান করাল। এ অবস্থা দেখে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আজ তো বে-রোযাদাররাই বেশী সওয়াব নিয়ে গেল। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي السَّفَرِ ، فَمِنَّا الصَّائِمُ وَمِنَّا الْمُفْطِرُ ، قَالَ : فَنَزَلْنَا مَنْزِلًا فِي يَوْمٍ حَارٍّ ، فَسَقَطَ الصُّوَّامُوْنَ ، وَقَامَ الْمُفْطِرُونَ ، فَضَرَبُوا الْأَبْنِيَةِ وَسَقَوْا الرِّكَابَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « ذَهَبَ الْمُفْطِرُونَ الْيَوْمَ بِالْأَجْرِ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ সফরের অবস্থায় রোযা
১০৭. হযরত জাবের রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোন এক সফরে ছিলেন। এর মধ্যে তিনি মানুষের ভীড় দেখলেন এবং এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে, তার উপর ছায়া করে রাখা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কি ব্যাপার? লোকেরা উত্তরে বলল, এ লোকটি রোযাদার, (গরমে কাতর হয়ে গিয়েছে। তাই ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এ জন্যই এ ভীড় দেখা যাচ্ছে।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: সফরের অবস্থায় এভাবে রোযা রাখার তো কোন মানে হয় না। এতে কী সওয়াব! -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ جَابِرِ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَفَرٍ ، فَرَأَى زِحَامًا وَرَجُلًا قَدْ ظُلِّلَ عَلَيْهِ ، فَقَالَ : « مَا هَذَا؟ » ، فَقَالُوا : صَائِمٌ ، فَقَالَ : « لَيْسَ مِنَ البِرِّ الصَّوْمُ فِي السَّفَرِ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ফরয রোযার কাযা
১০৮. মো'আযাহ (তাবেয়ী মহিলা) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, এটা কি ব্যাপার যে, হায়েযা মহিলারা রোযার তো কাযা করে; কিন্তু নামাযের কাযা করে না? আয়েশা রাযি. উত্তর দিলেন, আমাদের যখন এমন হত, তখন আমাদেরকে রোযার কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হত; কিন্তু নামাযের কাযার নির্দেশ দেওয়া হত না। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةِ أَنَّهَا قَالَتْ : لِعَائِشَةَ مَا بَالُ الْحَائِضِ تَقْضِي الصَّوْمَ ، وَلَا تَقْضِي الصَّلَاةَ. قَالَتْ : « كَانَ يُصِيبُنَا ذَلِكَ ، فَنُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّوْمِ ، وَلَا نُؤْمَرُ بِقَضَاءِ الصَّلَاةِ »
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১০৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিনা ওযরে ফরয রোযা ভাঙ্গার কাফ্ফারা
১০৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় হঠাৎ এক ব্যক্তি এসে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি ধ্বংস হয়ে গিয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: কি হয়েছে? লোকটি বলল, আমি রোযা অবস্থায় স্ত্রীসঙ্গম করে ফেলেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি কোন গোলাম আযাদ করতে পারবে? সে বলল, না। তিনি জি জ্ঞাসা করলেন: তুমি কি একাধারে দু'মাস রোযা রাখতে পারবে? সে বলল, না। এবার তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি ষাটজন মিসকীনকে খাবার দিতে পারবে? সে বলল, এ সামর্থ্যও আমার নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তুমি বসে থাক। (হয়তো আল্লাহ্ তা'আলা তোমার জন্য কোন উপায় বের করে দিবেন।) আবূ হুরায়রা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)ও সেখানে বসে রইলেন। আমরাও এ অবস্থায় বসা ছিলাম, হঠাৎ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর কাছে খেজুরের এক বিরাট থলে আসল। তিনি তখন ডাক দিয়ে বললেন: মাসআলা জিজ্ঞাসাকারী লোকটি কোথায়? সে বলল, এই যে, আমি হাজির। তিনি বললেন: এ থলেটি নিয়ে নাও এবং (নিজের পক্ষ থেকে) সদাকা করে দাও। সে বলল, আমার চেয়ে বেশী অভাবী কোন মানুষের উপর সদাকা করব? আল্লাহর কসম। মদীনার দু' প্রান্তের প্রস্তরময় ভূমির মাঝে (অর্থাৎ, মদীনায় সম্পূর্ণ জনপদে) আমার পরিবারের চেয়ে বেশী অভাবী কোন পরিবার নেই। (তার এ কথা শুনে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (নিজের অভ্যাসের বিপরীত) এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর দান্দান মোবারক বেশ খানিকটা স্পষ্ট হয়ে উঠল। (অথচ অভ্যাস হিসাবে তিনি কেবল মুচকি হাসতেন।) তারপর বললেনঃ এগুলো নিজের পরিবারের লোকদেরকেই খাইয়ে দাও। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ. قَالَ : « وَمَا لَكَ؟ » قَالَ : وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي وَأَنَا صَائِمٌ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « هَلْ تَجِدُ رَقَبَةً تُعْتِقُهَا؟ » قَالَ : لاَ ، قَالَ : « فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ » ، قَالَ : لاَ ، فَقَالَ : « فَهَلْ تَجِدُ إِطْعَامَ سِتِّينَ مِسْكِينًا » . قَالَ : لاَ ..... قَالَ : اِجْلِسْ وَمَكَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقٍ فِيهَا تَمْرٌ (وَالعَرَقُ المِكْتَلُ الضَّخْم) قَالَ : « أَيْنَ السَّائِلُ؟ » فَقَالَ : أَنَا ، قَالَ : « خُذْهَا ، فَتَصَدَّقْ بِهِ » فَقَالَ الرَّجُلُ : أَعَلَى أَفْقَرَ مِنِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ؟ فَوَاللَّهِ مَا بَيْنَ لاَبَتَيْهَا - يُرِيدُ الحَرَّتَيْنِ - أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي ، فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ، ثُمَّ قَالَ : « أَطْعِمْهُ أَهْلَكَ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কোন কোন জিনিস এমন আছে যেগুলোর ব্যাপারে সন্দেহ হতে পারে যে, এর দ্বারা বোযা ভেঙ্গে যায় অথবা রোযার কোন ক্ষতি হয়ে যায়। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের বাণী অথবা আমল দ্বারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এগুলোর দ্বারা রোযার কোন ক্ষতি হয় না। এ ধারার কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিন:
১১০. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রোযা অবস্থায় যে ব্যক্তি ভুলে (অর্থাৎ, রোযার কথা ভুলে গিয়ে) পানাহার করে ফেলল, (তার রোযা ভঙ্গ হয় নাই।) তাই সে যেন নিজের রোযা পুরা করে নেয়। কেননা, আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন। (সে ইচ্ছা করে রোযা ভাঙ্গে নাই। তাই তার রোযা ঠিকই আছে।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ نَسِيَ وَهُوَ صَائِمٌ ، فَأَكَلَ أَوْ شَرِبَ ، فَلْيُتِمَّ صَوْمَهُ ، فَإِنَّمَا أَطْعَمَهُ اللهُ وَسَقَاهُ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১১. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তিনটি জিনিস দ্বারা রোযা ভঙ্গ হয় না। (১) শিংগা লাগানো, (২) বমি হওয়া, (৩) স্বপ্নদোষ হওয়া। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ثَلاَثٌ لاَ يُفْطِرْنَ الصَّائِمَ : الحِجَامَةُ ، وَالقَيْءُ ، وَالاِحْتِلاَمُ.
(رواه الترمذى)
(رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১২. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে জিজ্ঞাসা করল যে, রোযাদার অবস্থায় স্ত্রীর সাথে আলিঙ্গন ইত্যাদি করা যায় কি না? তিনি তাকে এর অনুমতি দিলেন। তারপর দ্বিতীয় এক ব্যক্তি এসে একই প্রশ্ন করল। কিন্তু তিনি তাকে নিষেধ করে দিলেন (এবং অনুমতি দিলেন না।) আমরা লক্ষ্য করে দেখলাম, যাকে অনুমতি দিয়েছিলেন, সে লোকটি ছিল বুড়ো বয়সের, আর যাকে নিষেধ করে দিয়েছিলেন, সে ছিল একজন যুবক। -আবূ দাউদ
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَجُلً سَأَلَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ الْمُبَاشَرَةِ لِلصَّائِمِ ، « فَرَخَّصَ لَهُ » ، وَأَتَاهُ آخَرُ ، فَسَأَلَهُ ، « فَنَهَاهُ » ، فَإِذَا الَّذِي رَخَّصَ لَهُ شَيْخٌ ، وَالَّذِي نَهَاهُ شَابٌّ.
(رواه ابوداؤد)
(رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১৩. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, আমার চোখে অসুখ, তাই আমি কি রোযা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতে পারব? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ : اشْتَكَتْ عَيْنِي ، أَفَأَكْتَحِلُ وَأَنَا صَائِمٌ؟ قَالَ : نَعَمْ.
(رواه الترمذى)
(رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১৪. হযরত আমের ইবনে রবীআ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে অসংখ্য বার দেখেছি যে, তিনি রোযা অবস্থায় মেসওয়াক করছেন।-তিরমিযী, আবু দাউদ
کتاب الصوم
عَنْ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ قَالَ : رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا لاَ أُحْصِي يَتَسَوَّكُ وَهُوَ صَائِمٌ.
(رواه الترمذى وابوداؤد)
(رواه الترمذى وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১৫. রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে 'আরজ' নামক স্থানে দেখেছি যে, তিনি রোযা অবস্থায় পিপাসা অথবা গরমের কারণে মাথায় পানি ঢালছেন। -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ
کتاب الصوم
عَنْ بَعْضِ اَصْحَابِ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَقَدْ رَأَيْتُ النَّبِىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْعَرْجِ يَصُبُّ عَلَى رَأْسِهِ الْمَاءَ ، وَهُوَ صَائِمٌ مِنَ الْعَطَشِ ، أَوْ مِنَ الْحَرِّ.
(رواه مالك وابوداؤد)
(رواه مالك وابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব কারণে রোযা নষ্ট হয় না
১১৬. হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন, একবার আমি রোযা অবস্থায় খাহেশের কাছে কিছুটা পরাভূত হয়ে গেলাম এবং স্ত্রীকে চুমু খেয়ে বসলাম। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে হাজির হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আজ আমি একটি মারাত্মক কাজ করে ফেলেছি, আমি রোযা রেখে স্ত্রীকে চুমু খেয়েছি। তিনি বললেন: আচ্ছা, বল তো, তুমি যদি মুখে পানি নিয়ে কুল্লি কর, (তাহলে এতে কি তোমার রোযা নষ্ট হয়ে যাবে?) আমি উত্তর দিলাম, এতে তো রোযার কোন ক্ষতি হবে না। তিনি তখন বললেন: তাহলে (শুধু চুমু খাওয়াতে) কি হল? -আবূ দাউদ
کتاب الصوم
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ قَالَ : قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ : هَشَشْتُ ، فَقَبَّلْتُ وَأَنَا صَائِمٌ ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، صَنَعْتُ الْيَوْمَ أَمْرًا عَظِيمًا قَبَّلْتُ ، وَأَنَا صَائِمٌ ، قَالَ : « أَرَأَيْتَ لَوْ مَضْمَضْتَ مِنَ الْمَاءِ ، وَأَنْتَ صَائِمٌ » ، قُلْتُ : لَا بَأْسَ ، قَالَ : « فَمَهْ »
(رواه ابوداؤد)
(رواه ابوداؤد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নামায এবং যাকাতের মত রোযার একটি কোর্স ও নেছাবকে তো ইসলামের রুকন ও অপরিহার্য শর্ত সাব্যস্ত করে দেওয়া হয়েছে, যেটা ছাড়া কোন মুসলমানের জীবন ইসলামী জীবন হতে পারে না। আর সেটা হচ্ছে রমযানের পুরা মাসের রোযা। এ ছাড়া ইসলামী শরী‘আতে আত্মার পরিচর্যা ও এর পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ নৈকট্য অর্জনের জন্য অন্যান্য নফল ইবাদতের মত নফল রোযারও বিধান দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখের বিশেষ ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করে এগুলোতে রোযা রাখার উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৌখিক নির্দেশ ছাড়া নিজের আমল ও কর্ম দ্বারাও উম্মতকে এ নফল রোযাগুলোর প্রতি উৎসাহিত করতেন। তবে এরই সাথে তিনি এ বিষয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন যে, লোকেরা যেন নফল রোযার বেলায় সীমা লংঘন করে না যায় এবং এগুলোকে ফরযের পর্যায়ে নিয়ে না যায়; বরং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার প্রতি লক্ষ্য রেখে ফরযগুলোকে যেন ফরযের মত আদায় করে এবং নফলগুলোকে নফলের পর্যায়েই রাখে। এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো নিম্নে পাঠ করে নিন:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৌখিক নির্দেশ ছাড়া নিজের আমল ও কর্ম দ্বারাও উম্মতকে এ নফল রোযাগুলোর প্রতি উৎসাহিত করতেন। তবে এরই সাথে তিনি এ বিষয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতেন যে, লোকেরা যেন নফল রোযার বেলায় সীমা লংঘন করে না যায় এবং এগুলোকে ফরযের পর্যায়ে নিয়ে না যায়; বরং আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার প্রতি লক্ষ্য রেখে ফরযগুলোকে যেন ফরযের মত আদায় করে এবং নফলগুলোকে নফলের পর্যায়েই রাখে। এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত হাদীসগুলো নিম্নে পাঠ করে নিন:
১১৭. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: প্রত্যেক জিনিসেরই যাকাত রয়েছে, (যার দ্বারা ঐ জিনিস পবিত্র হয়ে যায়।) আর দেহের যাকাত হচ্ছে রোযা। -ইবনে মাজাহ
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، اللَّهِ صَلَّى قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لِكُلِّ شَيْءٍ زَكَاةٌ ، وَزَكَاةُ الْجَسَدِ الصَّوْمُ »
(رواه ابن ماجه)
(رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নফল রোযা প্রসঙ্গ
১১৮. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (কোন কোন সময় নফল) রোযা এভাবে একাধারে রেখে যেতেন যে, আমরা ধারণা করতাম যে, তিনি আর রোযা ছাড়বেনই না। আর কখনো কখনো এভাবে রোযা ছেড়ে দিতেন যে, আমরা মনে করতাম, তিনি রোযা ছাড়াই থাকবেন। আর আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে দেখি নাই যে, তিনি রমযান ছাড়া অন্য কোন মাসে পূর্ণ মাস রোযা রেখেছেন। আমি তাঁকে শা'বান মাসেই সবচেয়ে বেশী নফল রোযা রাখতে দেখেছি। (এ হাদীসেরই কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, তিনি শা'বানের প্রায় পুরা মাসই রোযা রাখতেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ " يَصُومُ حَتَّى نَقُولَ : لاَ يُفْطِرُ ، وَيُفْطِرُ حَتَّى نَقُولَ : لاَ يَصُومُ ، وَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اسْتَكْمَلَ صِيَامَ شَهْرٍ قَطُّ إِلَّا رَمَضَانَ ، وَمَا رَأَيْتُهُ فِي شَهْرٍ أَكْثَرَ مِنْهُ صِيَامًا فِي شَعْبَانَ "
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১১৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শাওয়ালের ছয় রোযা
১১৯. হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল, তারপর শাওয়ালে আরো ছয়টি নফল রোযা রাখল, এটা সারা বছরের রোযার মত হয়ে গেল। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الْأَنْصَارِيِّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ ، كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ »
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতি মাসে তিনটি নফল রোযাই যথেষ্ট
১২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডেকে বললেনঃ আমাকে জানানো হয়েছে, তুমি এ অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছ যে, সর্বদা দিনে রোযা রাখ আর সারা রাত নফল নামায পড়। (ঘটনা কি তাই?) আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: এমনটি করো না; বরং রোযাও রাখ আর বিরতিও দাও। অনুরূপভাবে রাতে নামাযও পড়, ঘুমও যাও। কেননা, তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে। তোমার উপর চোখেরও হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীরও হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার মেহমানদেরও হক রয়েছে। যে ব্যক্তি সর্বদা বিরতিহীনভাবে রোযা রাখে, সে যেন রোযাই রাখে নাই। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা- এটা সারা বছর রোযা রাখার মতই। তাই তুমি প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোযা রাখ। আর প্রতি মাসে একবার কুরআন শরীফ (তাহাজ্জুদের নামাযে) খতম করে নাও। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার শক্তি রাখি। (তাই আমাকে আরো বেশী কিছু করার অনুমতি দান করুন।) তিনি বললেন: তাহলে তুমি দাউদ আলাইহিস সালামের মত রোযা রাখ, অর্থাৎ, এক দিন রোযা রাখা আর এক দিন বিরতি দেওয়া। আর তাহাজ্জুদের সাত রাতে একবার কুরআন খতম কর। এর চেয়ে বেশী করতে যেয়ো না। বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « يَا عَبْدَ اللَّهِ ، أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ ، وَتَقُومُ اللَّيْلَ؟ » ، فَقُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ : « فَلاَ تَفْعَلْ صُمْ وَأَفْطِرْ ، وَقُمْ وَنَمْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الدَّهْرَ ، صَوْمُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ » ، صُمْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صُمْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَاقْرَإِ القُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ » ، قُلْتُ : أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ : « صُمْ أَفْضَلَ الصَّوْمِ صَوْمَ دَاوُدَ صِيَامُ يَوْمٍ وَإِفْطَارُ يَوْمٍ ، وَاقْرَأْ فِي كُلِّ سَبْعِ لَيَالٍ مَرَّةً وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক: