মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
রোযা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮৪ টি
হাদীস নং: ৬১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কিতাবুস্ সাওম
তওহীদ ও রেসালতের সাক্ষ্যদানের পর নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব হচ্ছে ইসলামের মূল উপাদান চতুষ্টয়। এই 'মা'আরিফুল হাদীস' সিরিজের একেবারে শুরুতেই ঐসব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পাঁচটি জিনিসকে ইসলামের আরকান ও ভিত্তিমূল বলে অভিহিত করেছেন। এ জিনিসগুলো ইসলামের আরকান ও মূল উপাদান হওয়ার মর্ম- যেমন আগেও উল্লেখ করা হয়েছে- এই যে, ইসলাম আল্লাহর আনুগত্যের যে জীবনধারার নাম, এ জীবন নির্মাণে এবং এর বিকাশ ও ক্রমোন্নয়ণে এ পাঁচটি জিনিসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে নামায ও যাকাতের যে প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা স্বস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। রোযার এ প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যের আলোচনা স্বয়ং কুরআন মজীদে স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে করা হয়েছে। সূরা বাকারায় রমযানের রোযার ফরযিয়্যতের ঘোষণার সাথেই বলা হয়েছে: لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থাৎ, এ নির্দেশের উদ্দেশ্য এই যে, তোমাদের মধ্যে যেন তাকওয়া সৃষ্টি হয়।
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে আধ্যাত্মিকতা ও পশুত্বের অথবা অন্য শব্দে এভাবে বলুন যে, ফেরেশতা চরিত্র ও পশু চরিত্রের এক সমন্বিত রূপ বানিয়েছেন। তার চরিত্র ও মূল সৃষ্টিতে ঐসব জৈবিক চাহিদাও রয়েছে যেগুলো অন্যান্য পশুদের মধ্যেও থাকে। আর এরই সাথে তার সৃষ্টিতে আধ্যাত্মিকতা ও ফেরেশতা চরিত্রের ঐ নূরানী উপাদানও রয়েছে, যা উর্ধ্ব জগতের পবিত্র সৃষ্টি ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। মানুষের সৌভাগ্য ও সফলতা এর উপর নির্ভরশীল যে, তার এ আত্মিক ও ফেরেশতাসুলভ উপাদান যেন পশুসুলভ চরিত্রের উপর বিজয়ী হয়ে থাকে এবং এটাকে যেন একটা সীমা রেখার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। আর এটা তখনই সম্ভব যখন পশুত্বের দিকটি আত্মিক ও ফেরেশতা শক্তির দিকটির আনুগত্যে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এর বিরুদ্ধে অবাধ্যতা না করে। রোযার সাধনার বিশেষ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এটাই যে, এর মাধ্যমে মানুষের পশু শক্তিকে আল্লাহর আহকামের অনুসরণ এবং আত্মিক ও ঈমানী দাবীসমূহের তাবেদারীতে অভ্যস্ত করে নেওয়া হবে। যেহেতু এ জিনিসটি নবুওয়াত ও শরী‘আতের বিশেষ উদ্দেশ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এ জন্য পূর্বেকার সকল শরী‘আতেও রোযার বিধান সবসময় ছিল।
কুরআন মজীদে এ উম্মতকে রোযার নির্দেশ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে:
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়।-(সুরা বাকারা)
যাহোক, রোযা যেহেতু মানুষের পশুশক্তিকে তার ফেরেশতা শক্তির অধীনে রাখার এবং আল্লাহর বিধি-বিধানের সামনে নফসের চাহিদা এবং উদর ও যৌন তাড়নার দাবীকে পরাস্ত করার একটি বিশেষ মাধ্যম, এ জন্য পূর্ববর্তী উম্মতসমূহকেও এর হুকুম দেওয়া হয়েছিল।
যদিও রোযার সময়কাল এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিধি-বিধানে ঐসব উম্মতের বিশেষ অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনায় কিছুটা পার্থক্যও ছিল। এ আখেরী উম্মতের জন্য- যার যুগ দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত বছরে এক মাসের রোযা ফরয করা হয়েছে এবং রোযার সময় শেষ রাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রাখা হয়েছে। আর নিঃসন্দেহে এ মেয়াদ ও এ সময়সূচী উপরে উল্লেখিত উদ্দেশ্য লাভের ক্ষেত্রে এ যুগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। কেননা, এর চেয়ে কম সময়ে সাধনা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না। আর মেয়াদকাল যদি এর চেয়ে দীর্ঘ রাখা হত- যেমন, রোযার মধ্যে দিনের সাথে রাতকেও যুক্ত করে দেওয়া হত এবং কেবল সাহরীর সময় পানাহারের অনুমতি দেওয়া হত অথবা বছরে দু' চার মাস একাধারে রোযা রাখার হুকুম দেওয়া হত, তাহলে অধিকাংশ মানুষের জন্য এটা অসহনীয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যেত। যাহোক, শেষ রাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় এবং বছরে এক মাসের মুদ্দত এ যুগের সাধারণ মানুষের অবস্থা বিবেচনায় সাধনা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য সাধনের জন্য খুবই উপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ।
তারপর রোযার জন্য মাস নির্বাচন করা হয়েছে রমযানকে, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল এবং যে মাসে অসংখ্য রহমত ও বরকত সমৃদ্ধ একটি রাত (লায়লাতুল ক্বদর) থাকে। এ কথা স্পষ্ট যে, এ বরকতময় মাসটিই এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী ছিল। তাছাড়া এ মাসে দিনের বেলার রোযা ছাড়া রাতের বেলায়ও একটি বিশেষ ইবাদতের সাধারণ ও জামা'আতী ব্যবস্থাপনাও রাখা হয়েছে- যা 'তারাবীহ' রূপে উম্মতের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। দিনের রোযার সাথে রাতের তারাবীহের বরকত যুক্ত হয়ে এ মাসের দীপ্তিময়তা ও প্রভাবে ঐ সংযোজন ঘটে, যা নিজেদের দৃষ্টি ও অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক ঐ বান্দাই অনুভব করতে পারে, যাদের এসব বিষয়ের সাথে কিছুটা সম্পর্ক ও পরিচয় রয়েছে।
এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার রমযান ও রোযা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিনঃ
মাহে রমযানের ফযীলত ও বরকত
তওহীদ ও রেসালতের সাক্ষ্যদানের পর নামায, যাকাত, রোযা ও হজ্ব হচ্ছে ইসলামের মূল উপাদান চতুষ্টয়। এই 'মা'আরিফুল হাদীস' সিরিজের একেবারে শুরুতেই ঐসব হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ পাঁচটি জিনিসকে ইসলামের আরকান ও ভিত্তিমূল বলে অভিহিত করেছেন। এ জিনিসগুলো ইসলামের আরকান ও মূল উপাদান হওয়ার মর্ম- যেমন আগেও উল্লেখ করা হয়েছে- এই যে, ইসলাম আল্লাহর আনুগত্যের যে জীবনধারার নাম, এ জীবন নির্মাণে এবং এর বিকাশ ও ক্রমোন্নয়ণে এ পাঁচটি জিনিসের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে নামায ও যাকাতের যে প্রভাব ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে তা স্বস্থানে উল্লেখ করা হয়েছে। রোযার এ প্রভাব ও বৈশিষ্ট্যের আলোচনা স্বয়ং কুরআন মজীদে স্পষ্ট ও পরিষ্কারভাবে করা হয়েছে। সূরা বাকারায় রমযানের রোযার ফরযিয়্যতের ঘোষণার সাথেই বলা হয়েছে: لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ অর্থাৎ, এ নির্দেশের উদ্দেশ্য এই যে, তোমাদের মধ্যে যেন তাকওয়া সৃষ্টি হয়।
আল্লাহ তা'আলা মানুষকে আধ্যাত্মিকতা ও পশুত্বের অথবা অন্য শব্দে এভাবে বলুন যে, ফেরেশতা চরিত্র ও পশু চরিত্রের এক সমন্বিত রূপ বানিয়েছেন। তার চরিত্র ও মূল সৃষ্টিতে ঐসব জৈবিক চাহিদাও রয়েছে যেগুলো অন্যান্য পশুদের মধ্যেও থাকে। আর এরই সাথে তার সৃষ্টিতে আধ্যাত্মিকতা ও ফেরেশতা চরিত্রের ঐ নূরানী উপাদানও রয়েছে, যা উর্ধ্ব জগতের পবিত্র সৃষ্টি ফেরেশতাদের বৈশিষ্ট্য। মানুষের সৌভাগ্য ও সফলতা এর উপর নির্ভরশীল যে, তার এ আত্মিক ও ফেরেশতাসুলভ উপাদান যেন পশুসুলভ চরিত্রের উপর বিজয়ী হয়ে থাকে এবং এটাকে যেন একটা সীমা রেখার নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। আর এটা তখনই সম্ভব যখন পশুত্বের দিকটি আত্মিক ও ফেরেশতা শক্তির দিকটির আনুগত্যে অভ্যস্ত হয়ে যায় এবং এর বিরুদ্ধে অবাধ্যতা না করে। রোযার সাধনার বিশেষ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এটাই যে, এর মাধ্যমে মানুষের পশু শক্তিকে আল্লাহর আহকামের অনুসরণ এবং আত্মিক ও ঈমানী দাবীসমূহের তাবেদারীতে অভ্যস্ত করে নেওয়া হবে। যেহেতু এ জিনিসটি নবুওয়াত ও শরী‘আতের বিশেষ উদ্দেশ্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, এ জন্য পূর্বেকার সকল শরী‘আতেও রোযার বিধান সবসময় ছিল।
কুরআন মজীদে এ উম্মতকে রোযার নির্দেশ দিতে গিয়ে বলা হয়েছে:
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُتِبَ عَلَیۡکُمُ الصِّیَامُ کَمَا کُتِبَ عَلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکُمۡ لَعَلَّکُمۡ تَتَّقُوۡنَ
হে মুমিনগণ! তোমাদের প্রতি রোযা ফরয করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের প্রতি ফরয করা হয়েছিল, যাতে তোমাদের মধ্যে তাকওয়া সৃষ্টি হয়।-(সুরা বাকারা)
যাহোক, রোযা যেহেতু মানুষের পশুশক্তিকে তার ফেরেশতা শক্তির অধীনে রাখার এবং আল্লাহর বিধি-বিধানের সামনে নফসের চাহিদা এবং উদর ও যৌন তাড়নার দাবীকে পরাস্ত করার একটি বিশেষ মাধ্যম, এ জন্য পূর্ববর্তী উম্মতসমূহকেও এর হুকুম দেওয়া হয়েছিল।
যদিও রোযার সময়কাল এবং অন্যান্য বিস্তারিত বিধি-বিধানে ঐসব উম্মতের বিশেষ অবস্থা ও প্রয়োজন বিবেচনায় কিছুটা পার্থক্যও ছিল। এ আখেরী উম্মতের জন্য- যার যুগ দুনিয়ার শেষ দিন পর্যন্ত বিস্তৃত বছরে এক মাসের রোযা ফরয করা হয়েছে এবং রোযার সময় শেষ রাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রাখা হয়েছে। আর নিঃসন্দেহে এ মেয়াদ ও এ সময়সূচী উপরে উল্লেখিত উদ্দেশ্য লাভের ক্ষেত্রে এ যুগের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ও খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। কেননা, এর চেয়ে কম সময়ে সাধনা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্যই অর্জিত হয় না। আর মেয়াদকাল যদি এর চেয়ে দীর্ঘ রাখা হত- যেমন, রোযার মধ্যে দিনের সাথে রাতকেও যুক্ত করে দেওয়া হত এবং কেবল সাহরীর সময় পানাহারের অনুমতি দেওয়া হত অথবা বছরে দু' চার মাস একাধারে রোযা রাখার হুকুম দেওয়া হত, তাহলে অধিকাংশ মানুষের জন্য এটা অসহনীয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে যেত। যাহোক, শেষ রাত থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময় এবং বছরে এক মাসের মুদ্দত এ যুগের সাধারণ মানুষের অবস্থা বিবেচনায় সাধনা ও আত্মশুদ্ধির উদ্দেশ্য সাধনের জন্য খুবই উপযোগী ও ভারসাম্যপূর্ণ।
তারপর রোযার জন্য মাস নির্বাচন করা হয়েছে রমযানকে, যাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল এবং যে মাসে অসংখ্য রহমত ও বরকত সমৃদ্ধ একটি রাত (লায়লাতুল ক্বদর) থাকে। এ কথা স্পষ্ট যে, এ বরকতময় মাসটিই এর জন্য সবচেয়ে উপযোগী ছিল। তাছাড়া এ মাসে দিনের বেলার রোযা ছাড়া রাতের বেলায়ও একটি বিশেষ ইবাদতের সাধারণ ও জামা'আতী ব্যবস্থাপনাও রাখা হয়েছে- যা 'তারাবীহ' রূপে উম্মতের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে। দিনের রোযার সাথে রাতের তারাবীহের বরকত যুক্ত হয়ে এ মাসের দীপ্তিময়তা ও প্রভাবে ঐ সংযোজন ঘটে, যা নিজেদের দৃষ্টি ও অনুভূতি অনুযায়ী প্রত্যেক ঐ বান্দাই অনুভব করতে পারে, যাদের এসব বিষয়ের সাথে কিছুটা সম্পর্ক ও পরিচয় রয়েছে।
এ সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর এবার রমযান ও রোযা সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কিছু হাদীস নিম্নে পাঠ করে নিনঃ
মাহে রমযানের ফযীলত ও বরকত
৬১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন রমযান মাস আসে, তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে নেওয়া হয়। (অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, রহমতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।) -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنِ أَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الجَنَّةِ ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ » وفى رواية أَبْوَابُ الرَّحْمَةِ...
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মাহে রমযানের ফযীলত ও বরকত
৬২. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন রমযানের প্রথম রাত আসে, তখন শয়তান ও দুষ্ট জিনদেরকে শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে নেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এগুলোর কোন দরজাই খোলা রাখা হয় না। জান্নাতের সব দরজা খুলে দেওয়া হয় এবং এগুলোর কোন দরজাই বন্ধ রাখা হয় না। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ঘোষণাকারী এ ঘোষণা দিতে থাকে: হে কল্যাণপ্রত্যাশী! তুমি সামনে অগ্রসর হও। আর হে মন্দের অন্বেষী! থেমে যাও। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক (গুনাহগার) বান্দার জাহান্নাম মুক্তি রয়েছে। (অর্থাৎ, তাদের ক্ষমার ফায়সালা করা হয়।) আর এটা রমযানের প্রতি রাতেই অব্যাহত থাকে। -তিরমিযী, ইবনে মাজাহ্
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا كَانَتْ أَوَّلُ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ ، صُفِّدَتِ الشَّيَاطِينُ ، وَمَرَدَةُ الْجِنِّ ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ النَّارِ ، فَلَمْ يُفْتَحْ مِنْهَا بَابٌ ، وَفُتِحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ ، فَلَمْ يُغْلَقْ مِنْهَا بَابٌ ، وَيُنَادِي مُنَادٍ : يَا بَاغِيَ الخَيْرِ أَقْبِلْ ، وَيَا بَاغِيَ الشَّرِّ أَقْصِرْ ، وَلِلَّهِ عُتَقَاءُ مِنَ النَّارِ ، وَذَلكَ كُلُّ لَيْلَةٍ "
(رواه الترمذى وابن ماجه)
(رواه الترمذى وابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মাহে রমযানের ফযীলত ও বরকত
৬৩. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কল্যাণ বিতরণে এবং মানুষের উপকার সাধনে সবার চেয়ে অগ্রগামী ছিলেন। আর তাঁর এ বদান্যতার গুণটি রমযানে আরো বৃদ্ধি পেত। হযরত জিবরাঈল (আঃ) রমযানের প্রতি রাতে তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন, আর নবী করীম (ﷺ) তাকে কুরআন শুনাতেন। জিবরাঈল (আঃ) যখন তাঁর সাথে সাক্ষাত করতেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কল্যাণ বিতরণে মুক্ত বাতাসের চেয়েও বেশী অগ্রগামী হয়ে যেতেন।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : « كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَجْوَدَ النَّاسِ بِالخَيْرِ ، وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُونُ فِي رَمَضَانَ حِينَ يَلْقَاهُ جِبْرِيلُ ، يَلْقَاهُ كُلَّ لَيْلَةٍ فِي رَمَضَانَ ، يَعْرِضُ عَلَيْهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ القُرْآنَ ، فَإِذَا لَقِيَهُ جِبْرِيلُ كَانَ أَجْوَدَ بِالخَيْرِ مِنَ الرِّيحِ المُرْسَلَةِ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের আগমনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একটি ভাষণ
৬৪. হযরত সালমান ফারসী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শাবান মাসের শেষ তারিখে আমাদের সামনে একটি ভাষণ দিলেন। এ ভাষণে তিনি বললেনঃ হে লোকসকল! তোমাদের উপর একটি মহান বরকতময় মাস ছায়াপাত করেছে। এ মাসে একটি রাত রয়েছে, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। আল্লাহ্ তা'আলা এ মাসের রোযাকে ফরয সাব্যস্ত করেছেন, আর রাতের কেয়ামকে (তারাবীহকে) নফল ইবাদত নির্ধারণ করেছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন কল্যাণকর্ম (সুন্নত অথবা নফল ইবাদত) করবে, সে অন্য মাসের একটি ফরয ইবাদতের সমান সওয়াব পাবে, আর যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরয আদায় করবে, সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরযের সমান সওয়াব পাবে। এটা ধৈর্যের মাস, আর ধৈর্যের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। এটা সহানুভূতির মাস, এ মাসে মু'মিনের রিযিক বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে কোন রোযাদারকে ইফতার করায়, তার গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং জাহান্নাম থেকে তার মুক্তির ফায়সালা করে দেওয়া হয়। তাকে রোযাদারের সমান সওয়াবও দান করা হয়, তবে এতে রোযাদারের সওয়াবের কোন ঘাটতি আসবে না। আমরা নিবেদন করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের সবার তো আর ইফতার করানোর মত সামর্থ্য নেই, (তাই গরীবরা কি এ বিরাট সওয়াব থেকে বঞ্চিত থাকবে?) তিনি উত্তর দিলেন, আল্লাহ্ তা'আলা এ সওয়াব ঐ ব্যক্তিকেও দান করবেন, যে কোন রোযাদারকে এক চুমুক দুধ অথবা এক ঢোক পানি দিয়েও ইফতার করিয়ে দেয়। আর যে ব্যক্তি কোন রোযাদারকে পেট ভরে আহার করাবে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে আমার হাউয (কাওছার) থেকে এমন পানীয় পান করাবেন যে, জান্নাতে না যাওয়া পর্যন্ত তার আর কোন পিপাসাই হবে না। এটা এমন মাস, যার প্রথম অংশ রহমত, মধ্য ভাগ মাগফেরাত আর শেষ ভাগ জাহান্নাম মুক্তির। যে ব্যক্তি এ মাসে নিজের গোলাম ও চাকরের কাজ হালকা করে দিবে, আল্লাহ্ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে দিবেন। বায়হাকী
کتاب الصوم
عَنْ سَلْمَانَ الْفَارِسِيَّ ، قَالَ : خَطَبَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ يَوْمٍ مِنْ شَعْبَانَ فَقَالَ : " يا أَيُّهَا النَّاسُ قَدْ أَظَلَّكُمْ شَهْرٌ عَظِيمٌ ، شَهْرٌ مُبَارَكٌ ، شَهْرٌ فِيهِ لَيْلَةٌ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ، جَعَلَ اللهُ صِيَامَهُ فَرِيضَةً ، وَقِيَامَ لَيْلِهِ تَطَوُّعًا ، مَنْ تَقَرَّبَ فِيهِ بِخَصْلَةٍ مِنَ الْخَيْرِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَمَنْ أَدَّى فَرِيضَةً فِيهِ كَانَ كَمَنْ أَدَّى سَبْعِينَ فَرِيضَةً فِيمَا سِوَاهُ ، وَهُوَ شَهْرُ الصَّبْرِ ، وَالصَّبْرُ ثَوَابُهُ الْجَنَّةُ ، وَشَهْرُ الْمُوَاسَاةِ ، وَشَهْرٌ يُزَادُ فِي رِزْقِ الْمُؤْمِنِ ، مَنْ فَطَّرَ فِيهِ صَائِمًا كَانَ لَهُ مَغْفِرَةً لِذُنُوبِهِ ، وَعِتْقَ رَقَبَتِهِ مِنَ النَّارِ ، وَكَانَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِهِ مِنْ غَيْرِ أَنْ يُنْقَصَ مِنْ أَجْرِهِ شَيْءٌ " قُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ ، لَيْسَ كُلُّنَا يَجِدُ مَا يُفْطِرُ الصَّائِمَ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " يُعْطِي اللهُ هَذَا الثَّوَابَ مَنْ فَطَّرَ صَائِمًا عَلَى مَذْقَةِ لَبَنٍ أَوْ تَمْرَةٍ أَوْ شَرْبَةٍ مِنْ مَاءٍ ، وَمَنْ أَشْبَعَ صَائِمًا سَقَاهُ اللهُ مِنْ حَوْضِي شَرْبَةً لَا يَظْمَأُ حَتَّى يَدْخُلَ الْجَنَّةَ ، وَهُوَ شَهْرٌ أَوَّلُهُ رَحْمَةٌ ، وَأَوْسَطُهُ مَغْفِرَةٌ ، وَآخِرُهُ عِتْقٌ مِنَ النَّارِ مَنْ خَفَّفَ عَنْ مَمْلُوكِهِ فِيهِ غَفَرَ اللهُ لَهُ وَأَعْتَقَهُ مِنَ النَّارِ "
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযার মূল্য ও এর প্রতিদান
৬৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (রোযার ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে) বলেছেন: আদম-সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ' গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (অর্থাৎ, এ উম্মতের নেক আমলসমূহের বেলায় আল্লাহর সাধারণ নীতি এই যে, একটি পুণ্যের প্রতিদান পূর্ববর্তী উম্মতের তুলনায় কমপক্ষে দশগুণ দেওয়া হবে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে এর চাইতেও বেশী দেওয়া হবে। এমনকি কোন কোন মকবুল বান্দাকে তাদের পূণ্যকর্মের প্রতিদান সাতশ'গুণ পর্যন্ত দেওয়া হবে। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে এ সাধারণ রহমত নীতির উল্লেখ করেছেন।) কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: রোযা এ সাধারণ নীতির বাইরে ও ঊর্ধ্বে। কেননা, এটা আমারই জন্য এবং আমি (যেভাবে ইচ্ছা) এর প্রতিদান দিব। আমার বান্দা আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজের নফসের চাহিদা ও পানাহার ছেড়ে দেয়। রোযাদারের জন্য দু'টি খুশী রয়েছে। একটি ইফতারের সময়, আরেকটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়ে বেশী সুগন্ধময়। (অর্থাৎ, মানুষের কাছে মেশকের সুগন্ধি যতটুকু প্রিয় মনে হয়, আল্লাহর কাছে রোযাদারের মুখের গন্ধ এর চেয়ে বেশী প্রিয়।) আর রোযা হচ্ছে (নফস ও শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচার এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার) ঢাল। তোমাদের কারো যখন রোযার দিন হয়, তখন সে যেন অশ্লীল কথা-বার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে আসে, তাহলে সে যেন বলে দেয় যে, আমি রোযাদার।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ ، بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ ، قَالَ اللهُ تَعَالَى فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ : فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ ، وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ ، فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ ، وَلَا يَصْخَبْ ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ ، فَلْيَقُلْ : إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ"
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযার মূল্য ও এর প্রতিদান
৬৬. হযরত সাহল ইবনে সা'দ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: জান্নাতে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যাকে 'রাইয়্যান' বলা হয়। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন কেবল রোযাদাররাই প্রবেশ করবে, তাদের ছাড়া অন্য কেউই এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। সে দিন বলা হবে: রোযাদাররা কোথায়? এ ডাক শুনে তারা দাঁড়িয়ে যাবে, তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোযাদাররা যখন এ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করে যাবে, তখন দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। তারপর কেউ আর এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ : " إِنَّ فِي الجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ ، يُقَالُ : أَيْنَ الصَّائِمُونَ؟ فَيَقُومُونَ لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ "
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযার মূল্য ও এর প্রতিদান
৬৭. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন আমলের নির্দেশ দিন, যার দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: তুমি রোযা রেখে যাও, কেননা, এর তুল্য কোন আমল নেই। -নাসায়ী।
کتاب الصوم
عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِأَمْرٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ ، قَالَ : « عَلَيْكَ بِالصِّيَامِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ »
(رواه النسائى)
(رواه النسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযা এবং তারাবীহ ক্ষমা লাভের উপায় হয়
৬৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় রমযানের রোযা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় রমযানের রাতে ইবাদত (তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আদায়) করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় শবে ক্বদরে নফল ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৬৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে
৬৯. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রোযা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আমার প্রতিপালক! আমি এ বান্দাকে দিনের বেলায় পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত রেখেছিলাম। তাই তার বেলায় আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা থেকে ফিরিয়ে রেখেছিলাম। অতএব, তুমি তার বেলায় আমার সুপারিশ গ্রহণ কর। তাই উভয়ের সুপারিশ কবুল করা হবে। বায়হাকী
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَقُولُ الصِّيَامُ : أَيْ رَبِّ ، إِنِّي مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ ، وَيَقُولُ الْقُرْآنُ : مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ فَيُشَفَّعَانِ "
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের একটি রোযা ছেড়ে দেওয়ার ক্ষতি কখনো পূরণ হওয়ার নয়
৭০. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন ওযর ও অবকাশ এবং অসুস্থতার কারণ ছাড়া রমযানের একটি রোযা ছেড়ে দিল, সে পরবর্তীতে সারা জীবন রোযা রাখলেও এর ক্ষতিপূরণ হবে না। -মুসনাদে আহমাদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ্, দারেমী
ইমাম বুখারীও হাদীসটি একটি তরজুমাতুল বাবে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন।
ইমাম বুখারীও হাদীসটি একটি তরজুমাতুল বাবে সনদ ছাড়া উল্লেখ করেছেন।
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَنْ أَفْطَرَ يَوْمًا مِنْ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ رُخْصَةٍ وَلاَ مَرَضٍ ، لَمْ يَقْضِ عَنْهُ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ وَإِنْ صَامَهُ.
(رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه والدارمى والبخارى فى ترجمة باب)
(رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه والدارمى والبخارى فى ترجمة باب)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রোযা রেখে গুনাহ থেকে সতর্ক থাকা
৭১. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি রোযা রেখে মিথ্যা কথন ও অন্যায় কাজ পরিহার করল না, তার পানাহার ত্যাগে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই। -বুখারী
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالعَمَلَ بِهِ ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ »
(رواه البخارى)
(رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ অন্যান্য মাসের তুলনায় যেমন রমযানের বিশেষ ফযীলত রয়েছে, তেমনিভাবে এর শেষ দশক প্রথম দুই দশক থেকে উত্তম এবং শবে ক্বদর অধিকাংশ সময় এ দশকেই হয়ে থাকে। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ দশকে ইবাদত-মুজাহাদা আরো বেশী করতেন এবং অন্যদেরকেও এর প্রতি উৎসাহিত করতেন।
৭২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে এমন ইবাদত ও মুজাহাদা করতেন- যা অন্য দিনগুলোতে করতেন না। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : " كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْتَهِدُ فِي الْعَشْرِ ، مَا لَا يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ "
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের শেষ দশক ও শবে ক্বদর
৭৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন রমযানের শেষ দশক এসে যেত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কোমর বেঁধে নিতেন, সারা রাত জাগ্রত থাকতেন এবং নিজের পরিবার-পরিজনকেও জাগিয়ে দিতেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، قَالَتْ : « كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ شَدَّ مِئْزَرَهُ ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের শেষ দশক ও শবে ক্বদর
৭৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে ক্বদরের অনুসন্ধান কর। বুখারী
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ ، مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
(رواه البخارى)
(رواه البخارى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের শেষ দশক ও শবে ক্বদর
৭৫. যির ইবনে হুবাইশ তাবেয়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত উবাই ইবনে কা'বকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনার দ্বীনি ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ তো বলেন, যে ব্যক্তি সারা বছরের রাতগুলোতে ইবাদত করবে, সে শবে ক্বদর পেয়ে যাবে। (অর্থাৎ, শবে ক্বদর বছরের কোন এক রাতে হয়ে থাকে। তাই এটা পেতে হলে সারা বছরই প্রতি রাতে ইবাদত করতে হবে এবং এভাবেই নিশ্চিত শবে ক্বদর লাভ করা যাবে। তাই এ ব্যাপারে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন।) উবাই বললেন, ইবনে মাসউদকে আল্লাহ্ রহম করুন। তার উদ্দেশ্য এ ছিল যে, মানুষ যেন (কেবল এক রাতের ইবাদতের উপর) নির্ভর করে বসে না থাকে। অন্যথায় তিনি একথা ভালভাবেই জানেন যে, শবে ক্বদর রমযানেই হয়ে থাকে এবং এটা শেষ দশকে থাকে, আর এটা সাতাশতম রাতেই নির্ধারিত। তারপর তিনি দৃঢ়প্রত্যয়ের সাথে বললেন যে, এটা সাতাশতম রাতই। যির ইবনে হুবাইশ বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবুল মুনযির! এটা আপনি কিসের ভিত্তিতে বলছেন? তিনি উত্তর দিলেন, ঐ লক্ষণের ভিত্তিতে, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলে দিয়েছেন। আর সেটা হচ্ছে এই যে, শবে ক্বদরের প্রভাতে যখন সূর্য উঠে, তখন তার কিরণ স্বাভাবিক থাকে না। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ زِرَّ بْنَ حُبَيْشٍ ، يَقُولُ : سَأَلْتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، فَقُلْتُ : إِنَّ أَخَاكَ ابْنَ مَسْعُودٍ يَقُولُ : مَنْ يَقُمِ الْحَوْلَ يُصِبْ لَيْلَةَ الْقَدْرِ؟ فَقَالَ رَحِمَهُ اللهُ : أَرَادَ أَنْ لَا يَتَّكِلَ النَّاسُ ، أَمَا إِنَّهُ قَدْ عَلِمَ أَنَّهَا فِي رَمَضَانَ ، وَأَنَّهَا فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ ، وَأَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ ، ثُمَّ حَلَفَ لَا يَسْتَثْنِي ، أَنَّهَا لَيْلَةُ سَبْعٍ وَعِشْرِينَ ، فَقُلْتُ : بِأَيِّ شَيْءٍ تَقُولُ ذَلِكَ؟ يَا أَبَا الْمُنْذِرِ ، قَالَ : بِالْعَلَامَةِ ، أَوْ بِالْآيَةِ الَّتِي « أَخْبَرَنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهَا تَطْلُعُ يَوْمَئِذٍ ، لَا شُعَاعَ لَهَا »
(رواه مسلم)
(رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের শেষ দশক ও শবে ক্বদর
৭৬. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন শবে ক্বদর আসে, তখন জিবরাঈল আলাইহিস্ সালাম ফেরেশতাদের একটি কাফেলা নিয়ে অবতরণ করেন এবং তারা প্রত্যেক ঐ বান্দার জন্য দু‘আ করেন, যারা দাঁড়িয়ে অথবা বসে আল্লাহর ইবাদত ও যিকিরে মশগুল থাকে। বায়হাকী
کتاب الصوم
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا كَانَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ نَزَلَ جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ فِي كَبْكَبَةٍ مِنَ الْمَلَائِكَةِ يُصَلُّونَ عَلَى كُلِّ عَبْدٍ قَائِمٍ أَوْ قَاعِدٍ يَذْكُرُ اللهَ عَزَّ وَجَلَّ.
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
(رواه البيهقى فى شعب الايمان)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ শবে ক্বদরের বিশেষ দু‘আ
৭৭. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর নিকট আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে বলে দিন, আমি যদি জানতে পারি যে, শবে ক্বদর কোন্ রাত, তাহলে আমি সেই রাতে কি দু‘আ পড়ব? তিনি উত্তর দিলেন: তুমি বল-
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
হে আল্লাহ! তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু, আর ক্ষমা তুমি পছন্দ কর। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। -আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ كَرِيمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
হে আল্লাহ! তুমি বড়ই ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু, আর ক্ষমা তুমি পছন্দ কর। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। -আহমাদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ ، قَالَتْ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ إِنْ عَلِمْتُ أَيُّ لَيْلَةٍ لَيْلَةُ القَدْرِ مَا أَقُولُ فِيهَا؟ قَالَ : قُولِي : اللَّهُمَّ إِنَّكَ عُفُوٌّ كَرِيْمٌ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي.
(رواه احمد والترمذى وابن ماجة)
(رواه احمد والترمذى وابن ماجة)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের শেষ রাত
৭৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: রমযানের শেষ রাতে তাঁর উম্মতের ক্ষমার ফায়সালা করা হয়। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এটা কি শবে ক্বদর? তিনি উত্তর দিলেন, শবে ক্বদর তো নয়, কিন্তু নিয়ম হচ্ছে এই যে, কোন আমলকারীকে তার পূর্ণ প্রতিদান তখনই দেওয়া হয়, যখন সে তার কাজ সমাপ্ত করে নেয়। -মুসনাদে আহমাদ
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَن النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ : يُغْفَرُ لِأُمَّتِهِ فِي آخِرِ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ" قِيلَ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَهِيَ لَيْلَةُ الْقَدْرِ؟ قَالَ : " لَا ، وَلَكِنَّ الْعَامِلَ إِنَّمَا يُوَفَّى أَجْرَهُ إِذَا قَضَى عَمَلَهُ "
(رواه احمد)
(رواه احمد)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৭৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযান শরীফের বিশেষ করে এর শেষ দশ দিনের আমলসমূহের মধ্যে একটি আমল হচ্ছে ইতিকাফ। ইতিকাফের স্বরূপ হচ্ছে এই যে, একজন বান্দা সব কিছু থেকে নির্লিপ্ত হয়ে এবং সবাইকে ছেড়ে কেবল আল্লাহ তা'আলার ধ্যানে মগ্ন হয়ে তাঁর দরজায় (অর্থাৎ, মসজিদের এক কোণে) পড়ে থাকবে এবং নিরিবিলি পরিবেশে তাঁর ইবাদত ও যিকিরে লিপ্ত থাকবে। এটা আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের; বরং তাদের মধ্যে যারা উঁচু পর্যায়ের- তাদের ইবাদত। এ ইবাদতের উত্তম সময় রমযান শরীফ এবং বিশেষভাবে রমযানের শেষ দশকই হতে পারত। এ জন্য এ সময়টাকেই এর জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
কুরআন নাযিল হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে সবার নিকট থেকে পৃথক হয়ে নীরবে নির্জনে আল্লাহর ইবাদত ও যিকিরের যে ব্যাকুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে তিনি একাধারে কয়েক মাস পর্যন্ত হেরার গুহায় নির্জনবাস করতে থাকলেন, এটা যেন তাঁর প্রথম ইতিকাফ ছিল। আর এ ইতিকাফের দ্বারা তাঁর আত্মিক শক্তি এ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, এখন তাঁর উপর কুরআন অবতরণ শুরু হয়ে যেতে পারে।
বস্তুতঃ হেরা গুহার এ ইতিকাফের শেষ দিনগুলোতেই আল্লাহর ওহীবাহক ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল সূরা 'আলাক'-এর প্রাথমিক আয়াতগুলো নিয়ে আগমন করলেন। সঠিক অনুসন্ধান অনুযায়ী এটা রমযানের মাস ও এর শেষ দশক ছিল এবং ঐ রাতটি শবে ক্বদর ছিল। এ কারণেও ইতিকাফের জন্য রমযান শরীফের শেষ দশককে নির্বাচন করা হয়েছে।
আত্মার লালন ও এর উন্নতি এবং জৈবিক শক্তির উপর এটাকে প্রবল ও বিজয়ী রাখার জন্য রমযানের সারা মাসের রোযা তো উম্মতের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ফরয করা হয়েছে। এভাবে যেন নিজের অন্তরে ফেরেশতা শক্তিকে বিজয়ী ও পশু-চরিত্রকে দমন করার জন্য এতটুকু সাধনা ও নফসের এতটুকু কুরবানীকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য করে দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন এ পবিত্র মাসে আল্লাহর হুকুম পালন ও তাঁর ইবাদতের নিয়্যতে দিনের বেলায় পানাহার না করে, স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকে এবং সর্বপ্রকার গুনাহর কাজ- এমনকি অহেতুক কথাবার্তাও বর্জন করে চলে, আর এ নিয়মেই সারাটি মাস অতিবাহিত করে। বস্তুতঃ এটা হচ্ছে রমযানে আত্মার লালন ও এর পরিশুদ্ধির একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক কোর্স। এর চেয়ে আরো উঁচু পর্যায়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং উর্ধ্বজগতের সাথে সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য ইতিকাফের রীতি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। ইতিকাফকালে একজন মানুষ সবার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং সকলের নিকট থেকে দূরত্ব অবলম্বন করে আপন মালিক ও মাওলার ঘরে এবং যেন তাঁরই পদপ্রান্তে পড়ে থাকে, তাঁকেই স্মরণ করে, তাঁরই ধ্যানে মগ্ন থাকে, তারই তসবীহ ও প্রশংসা করে, তাঁর দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করে, নিজের অন্যায়-অপরাধ ও গুনাহ খাতার জন্য কান্নাকাটি করে, দয়াময় মালিকের কাছে রহমত ও মাগফেরাত প্রার্থনা করে, তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য কামনা করে। এভাবেই তার দিন কাটে এবং এ অবস্থায়ই তার রাত চলে। আর একথা স্পষ্ট যে, এর চেয়ে সৌভাগ্য একজন বান্দার আর কী হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি বছর খুবই যত্ন ও গুরুত্বসহকারে রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এমন কি এক বছরে যখন কোন কারণে ইতিকাফ ছুটে গেল, তখন পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করলেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস পাঠ করে নিন:
কুরআন নাযিল হওয়ার পূর্বে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে সবার নিকট থেকে পৃথক হয়ে নীরবে নির্জনে আল্লাহর ইবাদত ও যিকিরের যে ব্যাকুল আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে তিনি একাধারে কয়েক মাস পর্যন্ত হেরার গুহায় নির্জনবাস করতে থাকলেন, এটা যেন তাঁর প্রথম ইতিকাফ ছিল। আর এ ইতিকাফের দ্বারা তাঁর আত্মিক শক্তি এ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল যে, এখন তাঁর উপর কুরআন অবতরণ শুরু হয়ে যেতে পারে।
বস্তুতঃ হেরা গুহার এ ইতিকাফের শেষ দিনগুলোতেই আল্লাহর ওহীবাহক ফেরেশতা হযরত জিবরাঈল সূরা 'আলাক'-এর প্রাথমিক আয়াতগুলো নিয়ে আগমন করলেন। সঠিক অনুসন্ধান অনুযায়ী এটা রমযানের মাস ও এর শেষ দশক ছিল এবং ঐ রাতটি শবে ক্বদর ছিল। এ কারণেও ইতিকাফের জন্য রমযান শরীফের শেষ দশককে নির্বাচন করা হয়েছে।
আত্মার লালন ও এর উন্নতি এবং জৈবিক শক্তির উপর এটাকে প্রবল ও বিজয়ী রাখার জন্য রমযানের সারা মাসের রোযা তো উম্মতের প্রতিটি ব্যক্তির জন্য ফরয করা হয়েছে। এভাবে যেন নিজের অন্তরে ফেরেশতা শক্তিকে বিজয়ী ও পশু-চরিত্রকে দমন করার জন্য এতটুকু সাধনা ও নফসের এতটুকু কুরবানীকে প্রতিটি মুসলমানের জন্য অপরিহার্য করে দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন এ পবিত্র মাসে আল্লাহর হুকুম পালন ও তাঁর ইবাদতের নিয়্যতে দিনের বেলায় পানাহার না করে, স্ত্রী-সম্ভোগ থেকে বিরত থাকে এবং সর্বপ্রকার গুনাহর কাজ- এমনকি অহেতুক কথাবার্তাও বর্জন করে চলে, আর এ নিয়মেই সারাটি মাস অতিবাহিত করে। বস্তুতঃ এটা হচ্ছে রমযানে আত্মার লালন ও এর পরিশুদ্ধির একটি সাধারণ ও বাধ্যতামূলক কোর্স। এর চেয়ে আরো উঁচু পর্যায়ে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে এবং উর্ধ্বজগতের সাথে সম্বন্ধ স্থাপনের জন্য ইতিকাফের রীতি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। ইতিকাফকালে একজন মানুষ সবার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এবং সকলের নিকট থেকে দূরত্ব অবলম্বন করে আপন মালিক ও মাওলার ঘরে এবং যেন তাঁরই পদপ্রান্তে পড়ে থাকে, তাঁকেই স্মরণ করে, তাঁরই ধ্যানে মগ্ন থাকে, তারই তসবীহ ও প্রশংসা করে, তাঁর দরবারে তওবা-ইস্তিগফার করে, নিজের অন্যায়-অপরাধ ও গুনাহ খাতার জন্য কান্নাকাটি করে, দয়াময় মালিকের কাছে রহমত ও মাগফেরাত প্রার্থনা করে, তাঁর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য কামনা করে। এভাবেই তার দিন কাটে এবং এ অবস্থায়ই তার রাত চলে। আর একথা স্পষ্ট যে, এর চেয়ে সৌভাগ্য একজন বান্দার আর কী হতে পারে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রতি বছর খুবই যত্ন ও গুরুত্বসহকারে রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এমন কি এক বছরে যখন কোন কারণে ইতিকাফ ছুটে গেল, তখন পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করলেন। এ ভূমিকার পর এবার এ সংক্রান্ত কিছু হাদীস পাঠ করে নিন:
৭৯. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তাঁর এ রীতি মৃত্যু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করেছেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : « أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، كَانَ يَعْتَكِفُ العَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ حَتَّى تَوَفَّاهُ اللَّهُ ، ثُمَّ اعْتَكَفَ أَزْوَاجُهُ مِنْ بَعْدِهِ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ৮০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ইতিকাফ প্রসঙ্গ
৮০. হযরত আনাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। এক বছর তিনি ইতিকাফ করতে পারলেন না। তাই পরবর্তী বছর তিনি বিশ দিন ইতিকাফ করে নিলেন। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَنَسٍ قَالَ : كَانَ النَّبِىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ "يَعْتَكِفُ فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ ، فَلَمْ يَعْتَكِفْ عَامًا ، فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ ، اعْتَكَفَ عِشْرِينَ".
(رواه الترمذى)
(رواه الترمذى)
তাহকীক: