মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৪
রোযা অধ্যায়
রমযানের শেষ দশক ও শবে ক্বদর
৭৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে তোমরা শবে ক্বদরের অনুসন্ধান কর। বুখারী
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « تَحَرَّوْا لَيْلَةَ القَدْرِ فِي الوِتْرِ ، مِنَ العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ »
(رواه البخارى)
(رواه البخارى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীসটির মর্ম এই যে, শবে ক্বদর বেশীর ভাগ রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহের মধ্যে কোন এক রাতে হয়ে থাকে, অর্থাৎ ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯তম রাতে। শবে ক্বদর যদি এভাবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হত যে, এটা বিশেষ করে অমুক রাত, তাহলে অনেক মানুষ কেবল এ রাতেই ইবাদত-বন্দেগী করত। আল্লাহ্ তা'আলা এটাকে এমনভাবে অস্পষ্ট রেখেছেন যে, কুরআন মজীদে এক স্থানে বলা হয়েছে: কুরআন শবে ক্বদরে নাযিল হয়েছে। অন্যত্র বলা হয়েছে: কুরআন অবতরণ রমযান মাসে শুরু হয়েছে। এর দ্বারা ইঙ্গিত পাওয়া গেল যে, ঐ শবে ক্বদর রমযানের কোন রাত ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো স্পষ্ট ইঙ্গিত দিতে গিয়ে বললেন: রমযানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে এর অধিক সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঐ রাতগুলোর ব্যাপারে অধিক যত্নবান হওয়া চাই। এ বিষয়ের অনেক হাদীস হযরত আয়েশা ছাড়া অন্যান্য সাহাবীদের পক্ষ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। আর কোন কোন সাহাবীর ধারণা ছিল যে, শবে ক্বদর সাধারণতঃ রমযানের সাতাশতম রাতই হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)