মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৫
রোযা অধ্যায়
রোযার মূল্য ও এর প্রতিদান
৬৫. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (রোযার ফযীলত বর্ণনা করতে গিয়ে) বলেছেন: আদম-সন্তানের প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব দশ গুণ থেকে সাতশ' গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়। (অর্থাৎ, এ উম্মতের নেক আমলসমূহের বেলায় আল্লাহর সাধারণ নীতি এই যে, একটি পুণ্যের প্রতিদান পূর্ববর্তী উম্মতের তুলনায় কমপক্ষে দশগুণ দেওয়া হবে। আর কোন কোন ক্ষেত্রে এর চাইতেও বেশী দেওয়া হবে। এমনকি কোন কোন মকবুল বান্দাকে তাদের পূণ্যকর্মের প্রতিদান সাতশ'গুণ পর্যন্ত দেওয়া হবে। (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এখানে এ সাধারণ রহমত নীতির উল্লেখ করেছেন।) কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা বলেন: রোযা এ সাধারণ নীতির বাইরে ও ঊর্ধ্বে। কেননা, এটা আমারই জন্য এবং আমি (যেভাবে ইচ্ছা) এর প্রতিদান দিব। আমার বান্দা আমার সন্তুষ্টির জন্য নিজের নফসের চাহিদা ও পানাহার ছেড়ে দেয়। রোযাদারের জন্য দু'টি খুশী রয়েছে। একটি ইফতারের সময়, আরেকটি তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের সময়। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের সুগন্ধির চেয়ে বেশী সুগন্ধময়। (অর্থাৎ, মানুষের কাছে মেশকের সুগন্ধি যতটুকু প্রিয় মনে হয়, আল্লাহর কাছে রোযাদারের মুখের গন্ধ এর চেয়ে বেশী প্রিয়।) আর রোযা হচ্ছে (নফস ও শয়তানের আক্রমণ থেকে বাঁচার এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মরক্ষার) ঢাল। তোমাদের কারো যখন রোযার দিন হয়, তখন সে যেন অশ্লীল কথা-বার্তা না বলে এবং অনর্থক শোরগোল না করে। কেউ যদি তাকে গালমন্দ করে অথবা তার সাথে ঝগড়া করতে আসে, তাহলে সে যেন বলে দেয় যে, আমি রোযাদার।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ يُضَاعَفُ الْحَسَنَةُ ، بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ ، قَالَ اللهُ تَعَالَى فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ ، يَدَعُ شَهْوَتَهُ وَطَعَامَهُ مِنْ أَجْلِي لِلصَّائِمِ فَرْحَتَانِ : فَرْحَةٌ عِنْدَ فِطْرِهِ ، وَفَرْحَةٌ عِنْدَ لِقَاءِ رَبِّهِ وَلَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللهِ مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ، وَالصِّيَامُ جُنَّةٌ ، وَإِذَا كَانَ يَوْمُ صَوْمِ أَحَدِكُمْ ، فَلَا يَرْفُثْ يَوْمَئِذٍ ، وَلَا يَصْخَبْ ، فَإِنْ سَابَّهُ أَحَدٌ أَوْ قَاتَلَهُ ، فَلْيَقُلْ : إِنِّي امْرُؤٌ صَائِمٌ"
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীসটির অধিকাংশ ব্যাখ্যাযোগ্য অংশের ব্যাখ্যা অনুবাদের ভিতরই করে দেওয়া হয়েছে। শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যে বলেছেন: "কারো যখন রোযার দিন হয়, তখন সে যেন অশ্লীল কথাবার্তা ও অহেতুক শোরগোল না করে। আর যদি অন্য কেউ তাকে গালি দেয় অথবা তার সাথে মাতামাতি করতে আসে, তাহলেও সে যেন কটুকথা না বলে; বরং এ কথা বলে দেয় যে, ভাই! আমি তো রোযাদার।" এ শেষ উপদেশে এদিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, এ হাদীসে রোযার যে বিশেষ বিশেষ ফযীলত ও বরকত বর্ণনা করা হয়েছে, এগুলো কেবল ঐ রোযার, যার মধ্যে প্রবৃত্তি দমন ও পানাহার বর্জন ছাড়া সর্বপ্রকার গুনাহ-এমনকি মন্দ ও অপছন্দনীয় কথা-বার্তাও পরিহার করে চলা হয়। অন্য এক হাদীসে (যা একটু পরেই আসবে।) বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি রোযা রাখে, কিন্তু মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ থেকে নিজেকে ফিরিয়ে রাখে না, তার পানাহার বর্জনে আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)