মা'আরিফুল হাদীস
معارف الحديث
রোযা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ
মোট হাদীস ৮৪ টি
হাদীস নং: ১২১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতি মাসে তিনটি নফল রোযাই যথেষ্ট
১২১. হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর খেদমতে এসে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কিভাবে রোযা রাখেন? (অর্থাৎ, নফল রোযা রাখার ব্যাপারে আপনার রীতি ও অভ্যাস কি?) তার এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাগান্বিত হয়ে গেলেন। হযরত উমর রাযি. তাঁর রাগ দেখে বললেন,
رضينا بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا نعوذ بالله من غضب الله وغضب رسوله
(অর্থাৎ, আমরা আল্লাহকে আমাদের রব হিসাবে পেয়ে, ইসলামকে নিজেদের দ্বীন হিসাবে পেয়ে এবং মুহাম্মদ (ﷺ)কে নবী হিসাবে পেয়ে খুশী। আমরা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে এবং তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে পানাহ চাই।) হযরত উমর রাযি. কথাটি বারবার বলে যাচ্ছিলেন। ফলে তাঁর রাগ প্রশমিত হয়ে গেল। এবার উমর রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি কেমন, যে সর্বদা বিরতিহীনভাবে রোযা রেখে যায়? তিনি উত্তরে বললেন: তার রোযা রাখাও হল না, রোযা ছাড়াও হল না। উমর রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে দুই দিন রোযা রাখে, আর এক দিন রোযা ছাড়া থাকে? তিনি বললেন: কেউ কি এমনটি করার শক্তি রাখে? (অর্থাৎ, এটা খুবই কঠিন। এমনকি প্রতিদিন রোযা রাখার চেয়েও বেশী কঠিন। তাই এমন করা উচিত নয়।) উমর জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে একদিন রোযা রাখে, আর এক দিন রোযা ছেড়ে দেয়? তিনি বললেন: এটা হচ্ছে দাউদ আলাইহিস সালামের রোযা। (অর্থাৎ, তিনি এক দিন বিরতি দিয়ে এভাবে রোযা রাখতেন।) উমর রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে এক দিন রোযা রাখে, আর দু'দিন রোযা ছাড়া থাকে? তিনি উত্তরে বললেন: আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যে, আমাকে যদি এতটুকু শক্তি দেওয়া হত! তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোযা, আর এক রমযান থেকে আরেক রমযান- এটা (সওয়াব ও প্রতিদানের দিক দিয়ে) সারা বছর রোযা রাখার মতই। আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আশা করি যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। আর আশুরার রোযার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। -মুসলিম
رضينا بالله ربا وبالإسلام دينا وبمحمد نبيا نعوذ بالله من غضب الله وغضب رسوله
(অর্থাৎ, আমরা আল্লাহকে আমাদের রব হিসাবে পেয়ে, ইসলামকে নিজেদের দ্বীন হিসাবে পেয়ে এবং মুহাম্মদ (ﷺ)কে নবী হিসাবে পেয়ে খুশী। আমরা আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে এবং তাঁর রাসূলের অসন্তুষ্টি থেকে পানাহ চাই।) হযরত উমর রাযি. কথাটি বারবার বলে যাচ্ছিলেন। ফলে তাঁর রাগ প্রশমিত হয়ে গেল। এবার উমর রাযি. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ঐ ব্যক্তি কেমন, যে সর্বদা বিরতিহীনভাবে রোযা রেখে যায়? তিনি উত্তরে বললেন: তার রোযা রাখাও হল না, রোযা ছাড়াও হল না। উমর রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে দুই দিন রোযা রাখে, আর এক দিন রোযা ছাড়া থাকে? তিনি বললেন: কেউ কি এমনটি করার শক্তি রাখে? (অর্থাৎ, এটা খুবই কঠিন। এমনকি প্রতিদিন রোযা রাখার চেয়েও বেশী কঠিন। তাই এমন করা উচিত নয়।) উমর জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে একদিন রোযা রাখে, আর এক দিন রোযা ছেড়ে দেয়? তিনি বললেন: এটা হচ্ছে দাউদ আলাইহিস সালামের রোযা। (অর্থাৎ, তিনি এক দিন বিরতি দিয়ে এভাবে রোযা রাখতেন।) উমর রাযি. জিজ্ঞাসা করলেন, ঐ ব্যক্তি কেমন, যে এক দিন রোযা রাখে, আর দু'দিন রোযা ছাড়া থাকে? তিনি উত্তরে বললেন: আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যে, আমাকে যদি এতটুকু শক্তি দেওয়া হত! তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোযা, আর এক রমযান থেকে আরেক রমযান- এটা (সওয়াব ও প্রতিদানের দিক দিয়ে) সারা বছর রোযা রাখার মতই। আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আশা করি যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছর ও পরবর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। আর আশুরার রোযার ব্যাপারে আমি আশাবাদী যে, এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ : أَنَّ رَجُلٌ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَقَالَ : كَيْفَ تَصُومُ؟ فَغَضِبَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، فَلَمَّا رَأَى عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، غَضَبَهُ ، قَالَ : رَضِينَا بِاللهِ رَبًّا ، وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا ، وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا ، نَعُوذُ بِاللهِ مِنْ غَضَبِ اللهِ وَغَضَبِ رَسُولِهِ ، فَجَعَلَ عُمَرُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يُرَدِّدُ هَذَا الْكَلَامَ حَتَّى سَكَنَ غَضَبُهُ ، فَقَالَ عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، كَيْفَ بِمَنْ يَصُومُ الدَّهْرَ كُلَّهُ؟ قَالَ : « لَا صَامَ وَلَا أَفْطَرَ » أَوْ قَالَ « لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ » قَالَ : كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمَيْنِ وَيُفْطِرُ يَوْمًا؟ قَالَ : « وَيُطِيقُ ذَلِكَ أَحَدٌ؟ » قَالَ : كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمًا؟ قَالَ : « ذَاكَ صَوْمُ دَاوُدَ عَلَيْهِ السَّلَام » قَالَ : كَيْفَ مَنْ يَصُومُ يَوْمًا وَيُفْطِرُ يَوْمَيْنِ؟ قَالَ : « وَدِدْتُ أَنِّي طُوِّقْتُ ذَلِكَ » ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « ثَلَاثٌ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، وَرَمَضَانُ إِلَى رَمَضَانَ ، فَهَذَا صِيَامُ الدَّهْرِ كُلِّهِ ، صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ ، وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ ، وَصِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ ، أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতি মাসে তিন রোযার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রীতি
১২২. হযরত হাফছা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, চারটি জিনিস রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনো ছাড়তেন না। (১) আশুরার রোযা, (২) যিলহজ্বের (১ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত) রোযা, (৩) প্রতি মাসে তিন দিনের রোযা, (৪) ফজরের পূর্বের দু' রাকআত সুন্নত। নাসায়ী
کتاب الصوم
عَنْ حَفْصَةَ ، قَالَتْ : " أَرْبَعٌ لَمْ تَكُنْ يَدَعُهُنَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامَ عَاشُورَاءَ ، وَالْعَشْرَ ، وَثَلَاثَةَ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ، وَرَكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ. (رواه النسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতি মাসে তিন রোযার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রীতি
১২৩. মুআযাহ আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মাসের কোন দিনগুলোতে তিনি এ রোযা রাখতেন? আয়েশা উত্তর দিলেন, তিনি এ চিন্তা করতেন না যে, মাসের কোন দিনগুলোতে রোযা রাখবেন। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةُ أَنَّهَا قَالَتْ : سَأَلَتْ عَائِشَةَ « أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ » قَالَتْ : « نَعَمْ » ، فَقُلْتُ لَهَا : « مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ؟ » قَالَتْ : « لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আইয়ামে বীযের রোযা
১২৪. হযরত আবূ যর গেফারী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ হে আবু যর! তুমি যখন মাসে তিন দিন রোযা রাখতে চাও তখন তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখে রোযা রাখ। -তিরমিযী, নাসায়ী
(প্রায় এ বিষয়বস্তুরই একটি হাদীস নাসায়ী শরীফে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। সেখানে রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) হযরত আবূ হুরায়রাকেও এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।)
(প্রায় এ বিষয়বস্তুরই একটি হাদীস নাসায়ী শরীফে হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকেও বর্ণিত হয়েছে। সেখানে রয়েছে যে, হুযুর (ﷺ) হযরত আবূ হুরায়রাকেও এ নির্দেশ দিয়েছিলেন।)
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : إِذَا صُمْتَ مِنَ الشَّهْرِ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فَصُمْ ثَلاَثَ عَشْرَةَ ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ. (رواه الترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আইয়ামে বীযের রোযা
১২৫. হযরত কাতাদা ইবনে মিলহান রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে নির্দেশ দিতেন যে, আমরা যেন আইয়ামে বীয অর্থাৎ, প্রতি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে রোযা রাখি। আর তিনি বলতেন যে, প্রতিদান ও সওয়াবের দিক দিয়ে এটা সারা বছর রোযা রাখার মতই। -আবূ দাউদ, নাসায়ী
کتاب الصوم
عَنْ قَتَادَةَ ابْنِ مِلْحَانَ قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَأْمُرُنَا أَنْ نَصُومَ الْبِيضَ ثَلَاثَ عَشْرَةَ ، وَأَرْبَعَ عَشْرَةَ ، وَخَمْسَ عَشْرَةَ وَقَالَ « هُوَ كَهَيْئَةِ الدَّهْرِ » (رواه ابوداؤد والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ প্রতি মাসে তিনটি নফল রোযা সম্পর্কে যে সব হাদীস পূর্বে আনা হয়েছে, এগুলোর কোন কোনটার মধ্যে আশুরার রোযার ফযীলত এবং এর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সযত্ন প্রয়াস ও নিয়মানুবর্তিতার বিষয়টি প্রসঙ্গক্রমে এসে গিয়েছে। এবার নিম্নে কিছু হাদীস উল্লেখ করা হচ্ছে, যেগুলো বিশেষভাবে এরই সাথে সংশ্লিষ্ট এবং যেগুলোর দ্বারা এ দিনের বৈশিষ্ট্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও জানা যাবে।
১২৬. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হিজরত করে যখন মদীনায় আসলেন, তখন দেখলেন যে, ইয়াহুদীরা আশুরা দিবসে রোযা রাখে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, (তোমাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসাবে) এটা বিশেষ কি দিবস যে, তোমরা এতে রোযা পালন কর? তারা বলল, এটা আমাদের কাছে এক মহান দিবস। এ দিন আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আঃ) এবং তার সম্প্রদায় বনী ইসরাঈলকে মুক্তি দিয়েছিলেন আর ফেরআউন ও তার সম্প্রদায়কে পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মূসা (আঃ) এ দিন রোযা রেখেছিলেন। এ জন্য আমরাও তাঁর অনুসরণে এ দিন রোযা রাখি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: মূসা (আঃ)-এর সাথে আমাদের সম্পর্ক তোমাদের চাইতে বেশী এবং আমরাই এর অধিক হকদার। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজেও এ দিন রোযা রাখলেন এবং উম্মতকেও এ দিনের রোযার হুকুম দিলেন। বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدِمَ الْمَدِينَةَ فَوَجَدَ الْيَهُودَ صِيَامًا ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ ، فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَا هَذَا الْيَوْمُ الَّذِي تَصُومُونَهُ؟ » فَقَالُوا : هَذَا يَوْمٌ عَظِيمٌ ، أَنْجَى اللهُ فِيهِ مُوسَى وَقَوْمَهُ ، وَغَرَّقَ فِرْعَوْنَ وَقَوْمَهُ ، فَصَامَهُ مُوسَى شُكْرًا ، فَنَحْنُ نَصُومُهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « فَنَحْنُ أَحَقُّ وَأَوْلَى بِمُوسَى مِنْكُمْ فَصَامَهُ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশুরার দিনের রোযা ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১২৭. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে কোন দিনকে অন্য দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে এতে রোযা রাখতে দেখিনি, কেবল আশুরার দিন ও রমযানের মাস এর ব্যতিক্রম ছিল। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : « مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَتَحَرَّى صِيَامَ يَوْمٍ فَضَّلَهُ عَلَى غَيْرِهِ إِلَّا هَذَا اليَوْمَ ، يَوْمَ عَاشُورَاءَ ، وَهَذَا الشَّهْرَ يَعْنِي شَهْرَ رَمَضَانَ » (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ আশুরার দিনের রোযা ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব
১২৮. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আশুরার দিন রোযা রাখার অভ্যাস বানিয়ে নিলেন (এবং অন্যদেরকেও এ দিন রোযা রাখার হুকুম দিলেন, তখন কিছু সংখ্যক সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এ দিনকে তো ইয়াহুদী ও নাসারাগণ বিরাট দিন হিসাবে পালন করে এবং এটা যেন তাদের জাতীয় ও ধর্মীয় প্রতীক। তাই এ দিন রোযা রাখলে তাদের সাথে আমাদের হিস্যাদারী ও সাদৃশ্য হয়ে যায়। তাই এর মধ্যে কি এমন কোন পরিবর্তন আনা যায়, যার দ্বারা এ সাদৃশ্য আর বাকী না থাকে?) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ইন্শাআল্লাহ, যখন আগামী বছর আসবে, তখন আমরা নবম তারিখে রোযা রাখব। ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, কিন্তু আগামী বছরের মুহাররম মাস আসার আগেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইন্তিকাল করে গেলেন। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ ، قَالَ : حِينَ صَامَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ عَاشُورَاءَ وَأَمَرَ بِصِيَامِهِ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّهُ يَوْمٌ يُعَظِّمُهُ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ إِنْ شَاءَ اللهُ صُمْنَا يَوْمَ التَّاسِعِ ". قَالَ : فَلَمْ يَأْتِ الْعَامُ الْمُقْبِلُ حَتَّى تُوُفِّيَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১২৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যিলহজ্বের দশ দিন ও আরাফার দিনের রোযা
১২৯. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যিলহজ্বের দশ দিনের ইবাদত আল্লাহ্ তা'আলার কাছে যে কোন দিনের ইবাদতের চেয়ে অধিকতর প্রিয়। এই দশকের এক দিনের রোযা এক বছরের রোযার সমান গণ্য করা হয়, আর এক রাতের নফল ইবাদত শবে ক্বদরের নফল ইবাদতের সমান গণ্য করা হয়। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الحِجَّةِ ، يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ بِصِيَامِ سَنَةٍ ، وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ القَدْرِ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যিলহজ্বের দশ দিন ও আরাফার দিনের রোযা
১৩০. হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আরাফার দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আশা করি যে, আল্লাহ্ তা'আলা এর দ্বারা পরবর্তী এক বছর ও পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ ، إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পনেরই শা'বানের রোযা
১৩১. হযরত আলী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন পনেরই শা'বানের রাত আসে, তখন তোমরা এতে নফল নামায পড় আর দিনে রোযা রাখ। কেননা, এ রাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ্ তা'আলার বিশেষ তাজাল্লী ও রহমত প্রথম আকাশে নেমে আসে। আর তিনি বলতে থাকেন, কোন ক্ষমাপ্রার্থী বান্দা আছে কি যে, আমি তাকে ক্ষমা করে দেব। কোন রিযিকপ্রার্থী আছে কি যে, আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন বিপদগ্রস্ত আছে কি যে, আমি তাকে বিপদমুক্ত করে দেব। এভাবে বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে তিনি বান্দাদেরকে ডাকতে থাকেন যে, তারা যেন এ সময় আমার কাছে কিছু চেয়ে নেয়। সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ এভাবে ডাকতে থাকেন। -ইবনে মাজাহ্
کتاب الصوم
عَنْ عَلِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : " إِذَا كَانَتْ لَيْلَةُ النِّصْفِ مِنْ شَعْبَانَ ، فَقُومُوا لَيْلَهَا وَصُومُوا نَهَارَهَا ، فَإِنَّ اللَّهَ يَنْزِلُ فِيهَا لِغُرُوبِ الشَّمْسِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا ، فَيَقُولُ : أَلَا مِنْ مُسْتَغْفِرٍ لِي فَأَغْفِرَ لَهُ أَلَا مُسْتَرْزِقٌ فَأَرْزُقَهُ أَلَا مُبْتَلًى فَأُعَافِيَهُ أَلَا كَذَا أَلَا كَذَا ، حَتَّى يَطْلُعَ الْفَجْرُ " (رواه ابن ماجه)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেভাবে এ পর্যন্ত লিখা হাদীসসমূহের মধ্যে বছরের নির্দিষ্ট মাস এবং মাসের বিশেষ তারিখসমূহে নফল রোযা রাখার প্রতি বিশেষ উৎসাহ দান করা হয়েছে, তেমনিভাবে সপ্তাহের কোন কোন বিশেষ দিনেও রোযা রাখার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আমল দ্বারাও এ ব্যাপারে দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
১৩২. হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সোমবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তাই আমি চাই যে, যেদিন আমার আমল পেশ করা হয়, সেদিন যেন আমি রোযাদার অবস্থায় থাকি।-তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : تُعْرَضُ الأَعْمَالُ يَوْمَ الاِثْنَيْنِ وَالخَمِيسِ ، فَأُحِبُّ أَنْ يُعْرَضَ عَمَلِي وَأَنَا صَائِمٌ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ দিনের নফল রোযা
১৩৩. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সোমবার ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন। তিরিমিযী, নাসায়ী
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ يَوْمَ الِاثْنَيْنِ وَيَوْمَ الْخَمِيسِ. (رواه الترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ দিনের নফল রোযা
১৩৪. হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে সোমবার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল। তিনি বললেন: আমি সোমবারেই জন্ম গ্রহণ করেছি এবং সোমবারেই আমার উপর কুরআন নাযিল শুরু হয়েছে। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سُئِلَ عَنْ صَوْمِ الِاثْنَيْنِ؟ فَقَالَ : « فِيهِ وُلِدْتُ وَفِيهِ أُنْزِلَ عَلَيَّ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৫
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ দিনের নফল রোযা
১৩৫. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এমন খুব কমই হত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শুক্রবার দিন রোযা ছাড়া থাকতেন। -তিরমিযী, নাসায়ী
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ، قَالَ : « قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُفْطِرُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ » (رواه الترمذى والنسائى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৬
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ দিনের নফল রোযা
১৩৬. হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: তোমরা সপ্তাহের রাতগুলোর মধ্য থেকে শুক্রবারের রাতকে নফল নামায ও ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়ো না এবং সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্য থেকে শুক্রবার দিনকে নফল রোযার জন্য নির্দিষ্ট করে নিয়ো না। তবে যদি শুক্রবার এমন দিনে পড়ে যায়, যাতে তোমাদের কেউ এমনিতেই রোযা রাখে, (তাহলে এই শুক্রবারের রোযায় কোন দোষ নেই।)-মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « لَا تَخْتَصُّوا لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ بِقِيَامٍ مِنْ بَيْنِ اللَّيَالِي ، وَلَا تَخُصُّوا يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ مِنْ بَيْنِ الْأَيَّامِ ، إِلَّا أَنْ يَكُونَ فِي صَوْمٍ يَصُومُهُ أَحَدُكُمْ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৭
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিশেষ বিশেষ দিনের নফল রোযা
১৩৭. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এমনও করতেন যে,) এক মাসে যদি শনি, রবি ও সোমবার রোযা রাখতেন, তাহলে অন্য মাসে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার দিন রোযা রাখতেন। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنَ الشَّهْرِ السَّبْتَ ، وَالأَحَدَ ، وَالاِثْنَيْنِ ، وَمِنَ الشَّهْرِ الآخَرِ الثُّلاَثَاءَ ، وَالأَرْبِعَاءَ ، وَالخَمِيسَ. (رواه الترمذى)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৮
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বছরে এমন কিছু বিশেষ দিনও রয়েছে, যেগুলোতে রোযা রাখা নিষেধ। আল্লাহ্ তা'আলা নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী মালিক। তিনি নামাযকে মহান ইবাদতও সাব্যস্ত করেছেন, আবার বিশেষ বিশেষ সময়ে (যেমন, সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত ও সূর্যের মধ্যগগণে অবস্থানের সময়) নামায পড়তে নিষেধও করেছেন। তেমনিভাবে তিনি রোযাকে সবচেয়ে প্রিয় ইবাদত এবং আত্মিক উন্নতির বিশেষ মাধ্যমও বানিয়েছেন, আবার কোন কোন বিশেষ দিনে এটাকে হারামও করে দিয়েছেন। আর এটাই নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী শাসকের সার্বভৌম ক্ষমতার পরিচায়ক। বান্দার কাজ হচ্ছে নির্দেশ পালন এবং আনুগত্য করে যাওয়া।
১৩৮. হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। -বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي سَعِيدِ نِ الْخُدْرِىِّ قَالَ : نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صَوْمِ يَوْمِ الفِطْرِ وَالنَّحْرِ. (رواه البخارى ومسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৩৯
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব দিনে নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৩৯. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু'টি দিন রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ, ঈদুল আযহার দিন ও ঈদুল ফিতরের দিন।-মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ « أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى عَنْ صِيَامِ يَوْمَيْنِ يَوْمِ الْأَضْحَى ، وَيَوْمِ الْفِطْرِ » (رواه مسلم)
তাহকীক:
হাদীস নং: ১৪০
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব দিনে নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৪০. ইবনে আযহার তাবেয়ীর আযাদকৃত গোলাম আবু উবায়েদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি হযরত উমর রাযি.-এর সাথে ঈদের নামায পড়লাম। তিনি এসে নামায পড়ালেন। নামায শেষে খুতবা দিলেন এবং এতে বললেন, ঈদের এ দু'টি দিনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রোযা রাখতে নিষেধ করেছেন। এগুলোর মধ্যে একটি দিন হচ্ছে (সারা মাস রোযা রাখার পর) তোমাদের (ঈদুল) ফিতরের দিন, আরেকটি হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي عُبَيْدٍ ، مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ ، أَنَّهُ قَالَ : شَهِدْتُ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ ، فَجَاءَ فَصَلَّى ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَخَطَبَ النَّاسَ ، فَقَالَ : « إِنَّ هَذَانِ يَوْمَانِ ، نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ صِيَامِهِمَا ، يَوْمُ فِطْرِكُمْ مِنْ صِيَامِكُمْ ، وَالْآخَرُ يَوْمٌ تَأْكُلُونَ فِيهِ مِنْ نُسُكِكُمْ » (رواه مسلم)
তাহকীক: