মা'আরিফুল হাদীস

معارف الحديث

রোযা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ৮৪ টি

হাদীস নং: ১৪১
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যেসব দিনে নফল রোযা রাখা নিষেধ
১৪১. নুবাইশা হুযালী রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আইয়ামে তাশরীক (১১, ১২ ও ১৩ই যিলহজ্ব) হচ্ছে পানাহার ও আল্লাহর স্মরণের দিন।-মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ نُبَيْشَةَ الْهُذَلِيِّ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَيَّامُ التَّشْرِيقِ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ وَذِكْر اللهِ »
হাদীস নং: ১৪২
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ রমযানের রোযা যদি শরী‘আতসম্মত কোন ওযর ছাড়া ভেঙ্গে ফেলা হয়, তাহলে এর বিরাট কাফ্ফারাও আদায় করতে হয়, যার বিস্তারিত আলোচনা স্বস্থানে করা হয়েছে। কিন্তু নফল রোযা পালনকারী যদি ইচ্ছা করে, তাহলে রোযা ভাঙ্গতেও পারে এতে তার উপর কোন কাফ্ফারাও ওয়াজিব হবে না এবং সে গুনাহগারও হবে না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কখনও কখনও নিজেও এমন করেছেন এবং অন্যদেরকেও এই মাসআলা জানিয়ে দিয়েছেন।
১৪২. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার কাছে আসলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কাছে কি খাওয়ার কোন জিনিস আছে? আমরা বললাম, না। তিনি বললেন: তাহলে আমি রোযা রেখে নিচ্ছি। তারপর আরেক দিন তিনি এভাবে আসলেন। আমি বললাম: আজ আমাদের কাছে হাইস (খোরমা ও মাখনের পিঠা) হাদিয়া এসেছে। তিনি বললেন: আমাকে এটা দেখাও। আমি তো আজ রোযার নিয়াত করে ফেলেছিলাম। এই বলে তিনি এখান থেকে কিছু খেয়ে নিলেন এবং রোযা আর রাখলেন না। মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : دَخَلَ عَلَىَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيَّ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ : " هَلْ عِنْدَكُمْ شَيْءٌ؟ " فَقُلْنَا : لَا ، قَالَ : " فَإِنِّي إِذًا صَائِمٌ " ، ثُمَّ اَتَانَا يَوْمًا آخَرَ ، فَقُلْنَا : يَا رَسُولَ اللهِ أُهْدِيَ لَنَا حَيْسٌ فَقَالَ : أَرِنِيْهِ فَلَقَدْ أَصْبَحْتُ صَائِمًا ، فَأَكَلَ " (رواه مسلم)
হাদীস নং: ১৪৩
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নফল রোযা তাঙ্গাও যায়
১৪৩. হযরত উম্মে হানী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের দিন (যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মক্কায় অবস্থান করছিলেন।) হযরত ফাতেমা রাযি. আসলেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বাম পাশে বসে গেলেন। আর উন্মে হানী ছিলেন তাঁর ডান পাশে। এমন সময় একটি ছোট্ট মেয়ে কিছু পানীয় নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)এর সামনে পেশ করলেন, অতপর তিনি এখান থেকে কিছু পান করে নিলেন। তারপর তিনি আবার এটা উম্মে হানীর দিকে বাড়িয়ে দিলেন। উম্মে হানী এটা পান করে নিলেন। তারপর বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তো রোযা ভেঙ্গে ফেললাম, অথচ আমি রোযাদার ছিলাম। তিনি বললেন: তুমি কি কোন ফরয অথবা ওয়াজিব রোযার কাযা করছিলে? উম্মে হানী বললেন, না, (কেবল নফল রোযা ছিল।) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেন: তাহলে কোন ক্ষতি নেই। -আবূ দাউদ, তিরমিযী, দারেমী
کتاب الصوم
عَنْ أُمِّ هَانِئٍ ، قَالَتْ : لَمَّا كَانَ يَوْمُ الْفَتْحِ فَتْحِ مَكَّةَ ، جَاءَتْ فَاطِمَةُ ، فَجَلَسَتْ عَنْ يَسَارِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأُمُّ هَانِئٍ عَنْ يَمِينِهِ ، قَالَتْ : فَجَاءَتِ الْوَلِيدَةُ بِإِنَاءٍ فِيهِ شَرَابٌ ، فَنَاوَلَتْهُ فَشَرِبَ مِنْهُ ، ثُمَّ نَاوَلَهُ أُمَّ هَانِئٍ ، فَشَرِبَتْ مِنْهُ ، فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، لَقَدْ أَفْطَرْتُ ، وَكُنْتُ صَائِمَةً ، فَقَالَ لَهَا : « أَكُنْتِ تَقْضِينَ شَيْئًا؟ » ، قَالَتْ : لَا ، قَالَ : « فَلَا يَضُرُّكِ إِنْ كَانَ تَطَوُّعًا » (رواه ابوداؤد والترمذى والدارمى)
হাদীস নং: ১৪৪
রোযা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ নফল রোযা ভেঙ্গে ফেললে এর কাযা করতে হবে
১৪৪. হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং হাফসা রাযি. একবার নফল রোযা রেখেছিলাম। এ অবস্থায় আমাদের সামনে কিছু খাবার আসল, যার প্রতি আমরা আকৃষ্ট হয়ে পড়লাম এবং এখান থেকে কিছু খেয়ে ফেললাম। পরে হাফসা আরয করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা দু'জন রোযাদার ছিলাম। পরে আমাদের সামনে কিছু খাবার আসল, যার প্রতি আমরা আকৃষ্ট হয়ে গেলাম এবং এখান থেকে কিছু খেয়ে ফেললাম। (এবং এভাবে আমরা রোযা ভেঙ্গে ফেললাম।) তিনি বললেন: এর স্থলে অন্য কোন দিন এর কাযা করে নিয়ো। -তিরমিযী
کتاب الصوم
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ : كُنْتُ أَنَا وَحَفْصَةُ صَائِمَتَيْنِ ، فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ قَالَتْ حَفْصَةُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّا كُنَّا صَائِمَتَيْنِ ، فَعُرِضَ لَنَا طَعَامٌ اشْتَهَيْنَاهُ فَأَكَلْنَا مِنْهُ ، قَالَ : اقْضِيَا يَوْمًا آخَرَ مَكَانَهُ. (رواه الترمذى)