মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ১২৩
রোযা অধ্যায়
প্রতি মাসে তিন রোযার ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রীতি
১২৩. মুআযাহ আদাবিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়েশা রাযি.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখতেন? তিনি উত্তরে বললেন, হ্যাঁ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, মাসের কোন দিনগুলোতে তিনি এ রোযা রাখতেন? আয়েশা উত্তর দিলেন, তিনি এ চিন্তা করতেন না যে, মাসের কোন দিনগুলোতে রোযা রাখবেন। -মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ مُعَاذَةَ الْعَدَوِيَّةُ أَنَّهَا قَالَتْ : سَأَلَتْ عَائِشَةَ « أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَصُومُ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ؟ » قَالَتْ : « نَعَمْ » ، فَقُلْتُ لَهَا : « مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ كَانَ يَصُومُ؟ » قَالَتْ : « لَمْ يَكُنْ يُبَالِي مِنْ أَيِّ أَيَّامِ الشَّهْرِ يَصُومُ » (رواه مسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কোন কোন হাদীসে প্রতি মাসের শুরুতে হুযুর (ﷺ)-এর তিন দিন রোযা রাখার অভ্যাস ছিল বলে উল্লেখ পাওয়া যায়। কোন কোন রেওয়ায়াতে মাসের তের, চৌদ্দ ও পনের তারিখ এবং অপর কোন কোন বর্ণনায় সপ্তাহের বিশেষ বিশেষ তিন দিনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু হযরত আয়েশা রাযি.-এর এ বর্ণনা দ্বারা জানা গেল যে, এগুলোর মধ্য থেকে কোনটাই হুযুর (ﷺ)-এর চিরাচরিত অভ্যাস ছিল না। এর একটি কারণ তো এ ছিল যে, হুযুর (ﷺ)-এর অনেক সময় বাইরে সফর এবং এ জাতীয় অন্যান্য প্রয়োজন বেশী করে দেখা দিত। এগুলোর কারণে বিশেষ বিশেষ তারিখ ও দিনের নিয়মানুবর্তিতা তাঁর জন্য উপযোগী ছিল না। দ্বিতীয় কারণ এটাও ছিল যে, তিনি যদি সর্বদা বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখে রোযা রাখতেন, তাহলে উম্মতের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য এটা কষ্টের কারণ হয়ে যেত এবং এর দ্বারা এ ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারত যে, এ রোযাগুলো ওয়াজিব পর্যায়ের। সারকথা, এ জাতীয় কল্যাণ চিন্তার কারণে তিনি নিজে বিশেষ বিশেষ দিন ও তারিখের পাবন্দী করতেন না এবং হুযুর (ﷺ)-এর বেলায় এটাই উত্তম ছিল। তবে সাহাবায়ে কেরামকে তিনি মাসের তিন রোযার ক্ষেত্রে অধিকতর আইয়ামে বীয তথা ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের প্রতিই উৎসাহ দিতেন- যেমন, নিম্নের হাদীসগুলো দ্বারা এ বিষয়টি জানা যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)