মা'আরিফুল হাদীস

রোযা অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৭
রোযা অধ্যায়
রোযার মূল্য ও এর প্রতিদান
৬৭. হযরত আবূ উমামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাকে এমন আমলের নির্দেশ দিন, যার দ্বারা আল্লাহ্ তা'আলা আমাকে উপকৃত করবেন। তিনি বললেন: তুমি রোযা রেখে যাও, কেননা, এর তুল্য কোন আমল নেই। -নাসায়ী।
کتاب الصوم
عَنْ أَبِىْ أُمَامَةَ قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ مُرْنِي بِأَمْرٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ ، قَالَ : « عَلَيْكَ بِالصِّيَامِ فَإِنَّهُ لَا مِثْلَ لَهُ »
(رواه النسائى)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নামায, রোযা, দান-খয়রাত, হজ্ব, সৃষ্টির সেবা ইত্যাদি পুণ্যকর্মসমূহে যদিও একটি বিষয় সমানভাবে বিদ্যমান যে, এর সবগুলোই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম, কিন্তু এগুলোর প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ও প্রতিক্রিয়াও রয়েছে- যার কারণে একটি আরেকটি থেকে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত ও ভিন্নধর্মী। যেমন বলা হয়: প্রতিটি ফুলের রং ও ঘ্রাণ ভিন্ন। এ স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের দৃষ্টিতে প্রত্যেকটি জিনিস সম্পর্কেই বলা যায় যে, এর তুল্য আর কোন আমল নেই। যেমন, প্রবৃত্তি দমন ও এর চাহিদাসমূহকে দুর্বল করার ক্ষেত্রে বলা যায় যে, রোযার মত অন্য কোন আমল নেই। অতএব, হযরত আবূ উমামার এ হাদীসে রোযা সম্পর্কে যে বলা হয়েছে, 'এর তুল্য কোন আমল নেই' এর অর্থ এটাই বুঝতে হবে। তাছাড়া এ কথাও মনে রাখা চাই যে, হযরত আবূ উমামার নিজের অবস্থা বিবেচনায় তার জন্য বেশী উপকারী আমল রোযাই ছিল। এ জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে এ পরামর্শ দিয়েছিলেন। এ হাদীসের অন্য কোন কোন বর্ণনায় এসেছে যে, আবূ উমামা এ উত্তর পাওয়ার পর দ্বিতীয় বার এবং তৃতীয়বারও এ নিবেদনই করলেন, 'আমাকে কোন আমলের কথা বলুন, যা আমি করে যাব।' রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন প্রতিবারই বললেন: রোযা রেখে যাও, এর তুল্য অন্য কোন আমল নেই। অর্থাৎ, তোমার বিশেষ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এর দ্বারাই তোমার বেশী উপকার হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মা'আরিফুল হাদীস - হাদীস নং ৬৭ | মুসলিম বাংলা