মা'আরিফুল হাদীস

রোযা অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৮
রোযা অধ্যায়
রোযা এবং তারাবীহ ক্ষমা লাভের উপায় হয়
৬৮. হযরত আবূ হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় রমযানের রোযা রাখবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় রমযানের রাতে ইবাদত (তারাবীহ ও তাহাজ্জুদ আদায়) করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের দাবীতে এবং পুণ্যের প্রত্যাশায় শবে ক্বদরে নফল ইবাদত করবে, তার অতীতের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।-বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ القَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ »
(رواه البخارى ومسلم)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে রমযানের রোযা, এর রাতের নফল ইবাদত এবং বিশেষ করে শবে ক্বদরের নফল ইবাদতকে অতীতের গুনাহমাফীর নিশ্চিত ওসীলা বলা হয়েছে। তবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে, এগুলো ঈমান ও এহতেসাবের সাথে হতে হবে। এ ঈমান ও এহতেসাব একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিভাষা। এর অর্থ এই যে, যে কোন নেক আমল করা হবে এর ভিত্তি এবং এর প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বিষয়টি হবে আল্লাহ্ ও রাসূলের উপর ঈমান, তাদের প্রতিশ্রুতি ও শাস্তিবাণীর প্রতি বিশ্বাস এবং তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত প্রতিদানের আশা। অন্য কোন উদ্দেশ্য ও আবেগ এর প্রতি উদ্বুদ্ধকারী হবে না। এ ঈমান ও এহতেসাবের দ্বারাই আমাদের আমলের সম্পর্ক আল্লাহর সাথে স্থাপিত হয়; বরং এ ঈমান ও এহতেসাবই আমাদের আমলসমূহের আত্মা ও প্রাণ। যদি এটা না থাকে, তাহলে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বিরাট মনে হলেও এ আমল প্রাণহীন ও অন্তঃসার শূন্যই গণ্য হবে- যা কেয়ামতের দিন অচল মুদ্রা প্রমাণিত হবে। পক্ষান্তরে ঈমান ও এহতেসাবের সাথে বান্দার একটি সাধারণ আমলও আল্লাহর কাছে এত প্রিয় ও মূল্যবান যে, এর বরকতে অনেক বছরের গুনাহ মাফ হয়ে যেতে পারে। আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর অনুগ্রহে আমাদেরকে ঈমান ও এহতেসাবের এ গুণ নছীব করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান