মা'আরিফুল হাদীস
রোযা অধ্যায়
হাদীস নং: ১২০
রোযা অধ্যায়
প্রতি মাসে তিনটি নফল রোযাই যথেষ্ট
১২০. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ডেকে বললেনঃ আমাকে জানানো হয়েছে, তুমি এ অভ্যাস বানিয়ে নিয়েছ যে, সর্বদা দিনে রোযা রাখ আর সারা রাত নফল নামায পড়। (ঘটনা কি তাই?) আমি বললাম, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বললেন: এমনটি করো না; বরং রোযাও রাখ আর বিরতিও দাও। অনুরূপভাবে রাতে নামাযও পড়, ঘুমও যাও। কেননা, তোমার উপর তোমার শরীরেরও হক রয়েছে। তোমার উপর চোখেরও হক রয়েছে, তোমার স্ত্রীরও হক রয়েছে, তোমার উপর তোমার মেহমানদেরও হক রয়েছে। যে ব্যক্তি সর্বদা বিরতিহীনভাবে রোযা রাখে, সে যেন রোযাই রাখে নাই। প্রতি মাসে তিন দিন রোযা রাখা- এটা সারা বছর রোযা রাখার মতই। তাই তুমি প্রতি মাসে তিন দিন নফল রোযা রাখ। আর প্রতি মাসে একবার কুরআন শরীফ (তাহাজ্জুদের নামাযে) খতম করে নাও। আমি বললাম, আমি এর চেয়ে বেশী করার শক্তি রাখি। (তাই আমাকে আরো বেশী কিছু করার অনুমতি দান করুন।) তিনি বললেন: তাহলে তুমি দাউদ আলাইহিস সালামের মত রোযা রাখ, অর্থাৎ, এক দিন রোযা রাখা আর এক দিন বিরতি দেওয়া। আর তাহাজ্জুদের সাত রাতে একবার কুরআন খতম কর। এর চেয়ে বেশী করতে যেয়ো না। বুখারী, মুসলিম
کتاب الصوم
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ العَاصِ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « يَا عَبْدَ اللَّهِ ، أَلَمْ أُخْبَرْ أَنَّكَ تَصُومُ النَّهَارَ ، وَتَقُومُ اللَّيْلَ؟ » ، فَقُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ : « فَلاَ تَفْعَلْ صُمْ وَأَفْطِرْ ، وَقُمْ وَنَمْ ، فَإِنَّ لِجَسَدِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِعَيْنِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْجِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، وَإِنَّ لِزَوْرِكَ عَلَيْكَ حَقًّا ، لاَ صَامَ مَنْ صَامَ الدَّهْرَ ، صَوْمُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ » ، صُمْ كُلِّ شَهْرٍ صَوْمُ الدَّهْرِ كُلِّهِ صُمْ كُلِّ شَهْرٍ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَاقْرَإِ القُرْآنَ فِي كُلِّ شَهْرٍ » ، قُلْتُ : أُطِيقُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ ، قَالَ : « صُمْ أَفْضَلَ الصَّوْمِ صَوْمَ دَاوُدَ صِيَامُ يَوْمٍ وَإِفْطَارُ يَوْمٍ ، وَاقْرَأْ فِي كُلِّ سَبْعِ لَيَالٍ مَرَّةً وَلَا تَزِدْ عَلَى ذَلِكَ »
(رواه البخارى ومسلم)
(رواه البخارى ومسلم)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি.-এর ইবাদতের প্রতি আগ্রহ খুব বেশী ছিল। তিনি সবসময় দিনে রোযা রাখতেন এবং রাতভর নফল নামায পড়তেন, আর এতে দৈনিক পুরা কুরআন শরীফ খতম করে নিতেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন এ ব্যাপারে অবগত হলেন, তখন তাকে ঐ পরামর্শ দিলেন, যা এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে এবং তিনি তাকে ইবাদতে মিতাচার ও মধ্যমপন্থা অবলম্বনের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেনঃ তোমার উপর তোমার দেহ-প্রাণ এবং তোমার সাথে সংশ্লিষ্ট লোকদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে, যেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা এবং যেগুলো পালন করা অতীব জরুরী। তিনি প্রথমে তাকে মাসে তিন দিন রোযা রাখার এবং তাহাজ্জুদে পুরা মাসে একবার কুরআন শরীফ খতম করার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আব্দুল্লাহ রাযি. যখন বললেন যে, আমি অনায়াসে এর চেয়ে বেশী করতে পারি, তাই আমাকে আরো কিছু বেশী করার অনুমতি দেওয়া হোক, তখন তিনি তাকে দাউদী রোযা (অর্থাৎ, এক দিন রোযা পালন ও এক দিন রোযা ছেড়ে দেওয়া) এবং সপ্তাহে একবার তাহাজ্জুদে কুরআন খতম করার অনুমতি দিয়ে দিলেন। কিন্তু এর চেয়ে বেশী কিছু করতে নিষেধ করে দিলেন। কিন্তু এ হাদীস থেকেই এ বিষয়টি স্পষ্ট বুঝা যায় যে, হুযুর (ﷺ)-এর এ নিষেধ করার উদ্দেশ্য ও অর্থ এই ছিল না যে, বেশী ইবাদত করা একটি দোষের কথা; বরং এ নিষেধাজ্ঞা স্নেহ ও দরদের কারণে ছিল। যেমন, ছোট শিশুদেরকে বেশী বোঝা বহন করতে নিষেধ করা হয়ে থাকে। এ কারণেই আব্দুল্লাহ রাযি. যখন নিবেদন করলেন যে, আমি এর চেয়ে বেশী করতে পারি, তখন তিনি তাকে প্রতি মাসে কেবল তিনটি রোযার স্থলে পনের দিন রোযা রাখার এবং মাসে একবার কুরআন খতম করার স্থলে সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করার অনুমতি দিয়ে দিলেন; বরং তিরমিযী শরীফের এক বর্ণনা অনুযায়ী পরে মাত্র পাঁচ দিনে কুরআন শরীফ খতম করার অনুমতিও দিয়েছিলেন। আর কোন কোন সাহাবীকে তো হুযুর (ﷺ) তিন দিনেও কুরআন শরীফ খতম করার অনুমতি দিয়েছিলেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)