সাহাবায়ে কেরাম রা.—চক্রান্তকারী, ফ্যাকড়াবাজ, অবৈধ ক্ষমতালোভী, কায়েমি স্বার্থের পূজারী! বাউল মতবাদ! পর্ব—১৭
সাহাবায়ে কেরাম রা.—চক্রান্তকারী, ফ্যাকড়াবাজ, অবৈধ ক্ষমতালোভী, কায়েমি স্বার্থের পূজারী! বাউল মতবাদ! পর্ব—১৭
এমন ভাষা কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, এটি ঈমানের শেকড়েই আঘাত হানে। সাহাবায়ে কেরাম রা. ইসলামী ইতিহাসের এক অবিসংবাদিত ও নির্ণায়ক টার্নিং পয়েন্ট। তাঁদের মাধ্যমেই দীন আমাদের কাছে পৌঁছেছে—বিশুদ্ধ, নির্ভেজাল ও জীবন্ত রূপে। সাহাবা ছাড়া আমাদের কাছে দীনের কোনো অংশই স্বীকৃত নয়; কারণ কুরআন, সুন্নাহ, শরিয়াহ—সবকিছুরই বিশ্বস্ত বাহক ছিলেন তাঁরাই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দীন কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, কোনো অজানা উৎস থেকে আগত মতবাদও নয়; বরং সাহাবায়ে কেরামের জীবন, ত্যাগ, আমানতদারি ও সাক্ষ্যের মধ্য দিয়েই তা ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অতএব তাঁদের চরিত্রে কলুষ আরোপ করা মানে শুধু কয়েকজন ব্যক্তিকে নয়—বরং গোটা দীনি কাঠামোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করা।
সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা আসলে ইতিহাসের সমালোচনা নয়; এটি দীনের ভিত্তিকে নড়বড়ে করার দুঃসাহসিক প্রচেষ্টা। আর যে দীন তাঁদের হাত ধরে আমাদের কাছে এসেছে, সেই দীনকে অস্বীকারের পথ শেষ পর্যন্ত ঈমানকেই অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ঠেলে দেয়।
বাউল ধর্মে কী বলা হয়?
তারা সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর ব্যাপারে যে নগ্ন ও অবমাননাকর ভাষায় সমালোচনা করেছে, তা কোনো সচেতন মুসলিমের পক্ষেই সহ্য করা সম্ভব নয়। এই ভাষা শুধু শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করে না; বরং ঈমানের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত হানে। মনগড়া, বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী রচনা করে সাহাবায়ে কেরাম রা.-কে হেয় করাকেই তারা তাদের তথাকথিত ‘সাধনা’ হিসেবে উপস্থাপন করে। ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য দলিল নয়, কুরআন-সুন্নাহর আলো নয়—বরং কল্পনা, বিকৃতি ও বিদ্বেষের মিশ্রণ দিয়েই তারা সাহাবাদের চরিত্রে কলঙ্ক লেপন করতে চায়।
দেখুন, তারা নিজেরাই কী লিখেছে—
মহানবির দেহত্যাগের পর নবির ঘোষিত ‘মাওলা’ আলীকে (আঃ) অগ্রাহ্য করার জন্যে আবু বকর মাওলাইয়াতকে পাশ কাটিয়ে ‘আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত’ নামক ফ্যাকড়া তৈরি করে ফতুয়া দিলো ‘আল্লাহ ও রসুলকে দুটি পৃথক সত্তা বলে । এ কথা সরাসরি কোরানবিরোধী । কারণ কোরান বলেন: যারা আল্লাহ ও রসুলের মধ্যে পার্থক্য করে তারা স্পষ্টত কাফের। আবু বকর, ওমর, ওসমান, আয়েশা, মাবিয়া, এজিদের সুন্নতি মুসলমানদের সাথে এক্ষেত্রে অহাবিদের মৌলিক দূরত্ব নেই। -লালনভাষা অনুসন্ধান খ. ২ পৃ. ১৮১-১৮২
মহানবীর দেহত্যাগের পর তাঁর মনোনীত ‘মাওলা’ আলীকে রসুলরূপে ওমর, আবু বকর, ওসমান, আয়েশা প্রমুখ কর্তৃক অগ্রাহ্য করার ফলে ইসলাম ধর্মে যে জঘন্য মতভেদ, উপদলীয় কোন্দল ও রক্তাক্ত গোলযোগ শুরু হয় সে বিষয়ে শাঁইজী লালন আমাদের সজাগ করে দেন সুকৌশলে :
নবী বিনে পথে গোল হলো চারমতে
ফকির লালন বলে যেন গোলে পড়িস নে ৷
খেলাফতী-রাজতান্ত্রিক ভাবধারায় ওমরের আমল থেকে আরোপিত আরবীয় সাম্রাজ্যবাদের অহাবিমুখী প্রচলিত বদ্ধমত ও মিথ্যা ধারণার বিরুদ্ধে আলে মোহাম্মদের সাম্যবাদী কোরানের সত্য পতাকা সবার উপরে তুলে ধরার জন্যেই শাঁইজী পুনরাগমন করেন ধরাধামে। —অখন্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৬৪-৬৫
মহানবীর উচ্চতর মহাজ্ঞানের দরজা, তাঁর নবুয়ত, বেলায়েত ও রেসালতের সুযোগ্য অধিকারী রসুল বা নিয়োজিত প্রতিনিধি মাওলা আলী (করমুল্লাহ)। কিন্তু ওমর, আবু বকর, ওসমান, আয়েশা, আবু সুফিয়ান, মাবিয়া গং গোত্রীয় চক্রান্তে রসুলতত্ত্ব তথা নবীর আদর্শিক মোকামের অধিবাসী বা আহলে বাইতের আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব ও কোরান জোর করে কেড়ে নেয়। এর মধ্য দিয়ে অবৈধ ক্ষমতালোভী কায়েমি স্বার্থের পূজারীরা মাওলা আলীকে চরমভাবে উপেক্ষা-অগ্রাহ্য-অমর্যাদা করায় ‘রেসালত' তথা রসুলতত্ত্ব বিষয়টিই ব্যাপক মুসলিম জনমন থেকে একপ্রকার নির্বাসিত করে দেয়া হয়েছে। —অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৯৩
উক্ত বক্তব্যে তারা সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর শানে চরম অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছে। তাঁদেরকে চক্রান্তকারী, ফ্যাকড়াবাজ, অবৈধ ক্ষমতালোভী ও কায়েমি স্বার্থের পূজারী বলে অভিহিত করা হয়েছে—যা শুধু ঐতিহাসিক সত্যের বিকৃতি করেনি; বরং ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত করেছে।
ইসলাম কী বলে?
উপরের আলোচনায় আমরা স্পষ্ট করে দেখিয়েছি—সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর কেউই অন্যায়ভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। বরং ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হলো, হযরত আলী রা. নিজেও পূর্ণ স্বচ্ছতা ও সন্তুষ্টচিত্তে হযরত আবু বকর রা.-এর হাতে নির্দ্বিধায় বায়আত গ্রহণ করেছেন। সুতরাং শিয়াদের বানানো মিথ্যা, বানোয়াট গল্পগুজবকে ভিত্তি করে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর শানে এমন নোংড়া ও অবমাননাকর শব্দচয়ন কোনো মুসলমানের পক্ষেই কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর হৃদয় ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নির্মল। তাঁদের অন্তরে কোনো কর্দমাক্ততা, আবিলতা বা কপটতা ছিল না। হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ, অহংকার ও সংকীর্ণতা—এসব থেকে তাঁরা ছিলেন সম্পূর্ণ মুক্ত, নিষ্কলুষ ও পবিত্র। এ বিষয়ে হাদিস শরীফে এসেছে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন—
إِنَّ اللَّهَ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ، فَوَجَدَ قَلْبَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ، فَاصْطَفَاهُ لِنَفْسِهِ، فَابْتَعَثَهُ بِرِسَالَتِهِ، ثُمَّ نَظَرَ فِي قُلُوبِ الْعِبَادِ بَعْدَ قَلْبِ مُحَمَّدٍ، فَوَجَدَ قُلُوبَ أَصْحَابِهِ خَيْرَ قُلُوبِ الْعِبَادِ، فَجَعَلَهُمْ وُزَرَاءَ نَبِيِّهِ، يُقَاتِلُونَ عَلَى دِينِهِ
“আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয়কে সকল হৃদয়ের মধ্যে সর্বোত্তম হিসেবে পেয়েছেন। তাই তিনি তাঁকে নিজের জন্য নির্বাচন করেছেন এবং তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করেছেন। এরপর তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয়ের পর অন্যান্য বান্দাদের হৃদয়ের দিকে তাকিয়ে সাহাবীদের হৃদয়কে সকল হৃদয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হিসেবে পেয়েছেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর নবীর সহযোগী ও মন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছেন—যাঁরা তাঁর দীনের জন্য সংগ্রাম করেছেন।”—(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং: ৩৪১৮)
সেই সাহাবায়ে কেরাম রা.—যাঁদের হাতে গড়ে উঠেছে ইসলামের ভিত্তি, যাঁদের ত্যাগে দীনের ইতিহাস আলোকিত—তাঁদের শানে চক্রান্তকারী, ফ্যাকড়াবাজ, অবৈধ ক্ষমতালোভী, কায়েমি স্বার্থের পূজারী, এমন নোংরা ও অবমাননাকর অভিধা প্রয়োগ কি কোনো সুস্থ বিবেকসম্পন্ন মানুষের কাজ হতে পারে? এ ভাষা শুধু শিষ্টাচারবহির্ভূত নয়; বরং ঈমানি চেতনার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। তদুপরি, পবিত্র হাদিস শরীফে সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সমালোচনা থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে অসংখ্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই তাঁদের মর্যাদা ও সম্মান রক্ষার বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন। এর মধ্য থেকে কয়েকটি হাদিস এখানে উল্লেখ করা হলো—এক. হযরত সাওবান রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
إِذَا ذُكِرَ أَصْحَابِي فَأَمْسِكُوا
“যখন আমার সাহাবীদের আলোচনা আসে, তখন (তাদের ব্যাপারে সমালোচনা করা থেকে) নিজেকে বিরত রাখো।”—(আল-মু‘জামুল কাবীর (তাবরানী), হাদিস নং: ১৪২৭)
দুই. হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
لا تسبوا أصحابي فوالذي نفسي بيده لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهباً ما أدرك مد أحدهم ولا نصيفه
“তোমরা আমার কোনো সাহাবীকে মন্দ বলো না (সমালোচনা করো না)। আল্লাহর কসম—যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি উহুদ পর্বতসম পরিমাণ স্বর্ণ দানও করে, তবুও তা তাঁদের একজনের সোয়া সের যব সদাকা করার সমানও হবে না; বরং এর অর্ধেকের কাছাকাছিও পৌঁছাবে না।”—(সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৩৬৭৩)
তিন. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. বলেন—
لا تسبُّوا أصحابَ محمَّدٍ صلّى اللَّهُ عليهِ وسلَّمَ فلَمُقامُ أحدِهِم ساعةً خيرٌ مِن عمَلِ أحدِكُم عُمرَهُ
“তোমরা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবাগণের নিন্দা করো না। তাঁদের একজনের এক মুহূর্তের সৎকর্ম তোমাদের সারা জীবনের সৎকর্মের চেয়েও উত্তম।”—(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং: ১৬২)
চার. সাহাবা-সমালোচকদের বেত্রাঘাতের নির্দেশ :
উপরন্তু সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সমালোচনার ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এমনকি এ বিষয়ে বেত্রাঘাতের নির্দেশও বর্ণিত হয়েছে। হযরত আলী রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
مَن سَبَّ نبيًّا قُتِل ومَن سَبَّ أصحابَه جُلِد
“যে ব্যক্তি কোনো নবীকে গালি দেয় বা অবমাননা করে, তাকে হত্যা করা হবে। আর যে ব্যক্তি সাহাবীদের গালি দেয় বা অবমাননা করে, তাকে প্রহার করা হবে।”—(মু‘জামুস সগীর (তাবরানী), হাদিস নং: ৬৫৯)
পাঁচ. সাহাবা-সমালোচনা মানেই আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা :
সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সঙ্গে দুশমনি পোষণ করা আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করার শামিল। কারণ সাহাবায়ে কেরাম রা. ছিলেন উম্মতের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ওলিগণ। তাঁরা সবাই জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত, তাঁদের গুনাহ আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর আল্লাহর ওলিদের সঙ্গে দুশমনি করা মানেই আল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করা। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
إِنَّ اللَّهَ قَالَ مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْب
“আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি রাখবে, আমি তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করি।”—(সহিহ বুখারী, হাদিস নং: ৬৫০২)
ছয়. সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সমালোচনা অভিশাপের কারণ :হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
من سبَّ أصحابِي فعليه لعنةُ اللهِ والملائكةِ والناسِ أجمعين
“যে ব্যক্তি আমার সাহাবীদের গালি দেয়, তার ওপর আল্লাহ, ফেরেশতাগণ এবং সমগ্র মানবজাতির অভিশাপ।”—(জামে সগীর, হাদিস নং: ৮৭১৫)
সাত. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
إذا رأيتم الذين يسبون أصحابي فقولوا لعنة الله على شركم
“যখন তোমরা এমন লোকদের দেখবে যারা আমার সাহাবীদের গালি দেয়, তখন তাদের বলে দাও—তোমাদের অনিষ্টের ওপর আল্লাহর অভিশাপ হোক।”—(সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং: ৩৮৬৬)
আট. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—
اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي لاَ تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا بَعْدِي فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى اللَّهَ وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ
“হুঁশিয়ার! আমার সাহাবীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। আমার পরে তোমরা তাদেরকে গালি ও বিদ্রুপের লক্ষ্যবস্তু বানিও না। যে ব্যক্তি তাদের ভালোবাসে, সে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসে। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে তা করে। যে তাদের কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়; আর যে আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেয়, অচিরেই আল্লাহ তাকে পাকড়াও করবেন।”—(জামে তিরমিযী, হাদিস নং: ৩৮৬২)
নয়. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফ্ফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
فمن أحبهم فبحبي أحبهم ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم ومن آذاهم فقد آذاني ومن آذاني فقد آذى الله ومن آذى الله يوشك أن يأخذه
“যে তাঁদের (সাহাবীদের) ভালোবাসে, সে আমার ভালোবাসার কারণেই তাদের ভালোবাসে। আর যে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে আমার প্রতিই বিদ্বেষ পোষণ করার কারণে তা করে। যে তাদের কষ্ট দেয়, সে আমাকে কষ্ট দেয়; আর যে আমাকে কষ্ট দেয়, সে আল্লাহকে কষ্ট দেয়। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ অচিরেই তাকে পাকড়াও করবেন।”—(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস নং: ৭২৫৬)
প্রিয় পাঠক, উপরিউক্ত হাদিসগুলো থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়—যারা সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সমালোচনা করে, তারা অভিশপ্ত এবং আল্লাহর দুশমন। এত সুস্পষ্ট ও অসংখ্য হাদিস থাকা সত্ত্বেও মওদুদী কীভাবে এই জঘন্য দাবি করলেন যে সাহাবায়ে কেরাম ‘সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন’?
সাহাবা-বিদ্বেষ: দীনের ভিত্তি ধ্বংসের ষড়যন্ত্র :
মূলত সাহাবায়ে কেরাম রা.-এর সঙ্গে শত্রুতার পেছনে এক গভীর ও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে। ইমাম মুসলিম রহি.-এর উস্তায ইমাম আবু যুর‘আহ রহি. এ বিষয়ে বলেছেন—
اذا رأيت الرجل ينتقص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فاعلم أنه زنديق وذلك أن الرسول حق والقرآن حق وما جاء به حق وانما أدى الينا ذلك كله الصحابة وهؤلاء (وهم) يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة
“যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহাবীদের কারও সমালোচনা করতে দেখো, তবে জেনে রাখো—সে একজন যিন্দিক। কারণ রাসুল সত্য, কুরআন সত্য এবং তিনি যা নিয়ে এসেছেন সবই সত্য। আর এই সবকিছুই আমাদের কাছে পৌঁছেছে সাহাবীদের মাধ্যমেই। কিন্তু এই লোকেরা আমাদের সেই সাক্ষীদের (সাহাবীদের) বিতর্কিত করে কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করতে চায়।”—(আল-ইসাবাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৭)
চলুন, আমরা সাহাবায়ে কেরাম রা.-কে ভালোবাসতে শিখি; তাঁদের সম্মান রক্ষা করি। তাঁদের সমালোচনা করে নিজেদেরকে বাউলদের মতো অভিশপ্ত অবস্থানে ঠেলে না দিই। আল্লাহ পাক আমাদের ঈমানকে শিয়াবাদী প্রভাব ও সকল ভ্রান্ত আকিদা থেকে হেফাজত করুন। আমীন!
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ফিরিস্তা এবং দেবতা একই জিনিষ! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–১০
সমস্ত মুসলামানকে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আসমানী কিতাবের মতো ফেরেশতাদের অস্ত...
মুফতী রিজওয়ান রফিকী
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৩৫০৯
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন