কাজের ময়দানই আমলের স্থায়িত্বের চাবিকাঠি
কাজের ময়দানই আমলের স্থায়িত্বের চাবিকাঠি
[দীনের কাজে টিকে থাকতে হলে অবশ্যই কাজের ময়দানে সক্রিয় থাকতে হবে। একজন মানুষ যখন দাওয়াতি কাজ থেকে সরে গিয়ে শুধু পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার ভূমিকায় চলে যান, তখন তার মধ্যে 'দাঈ' সত্তা না থেকে 'ম্যানেজার' সত্তা জেগে ওঠে। ফলে ইখলাস ও আগ্রহ কমে যায় এবং মুরুব্বিয়ানার ভাব চলে আসে। কাজের ময়দানে থাকলে এই সমস্যা হয় না; যেমনটি মাওলানা সাঈদ খান রহ.-এর বাস্তব উদাহরণ থেকে বোঝা যায়—তিনি নিজের মর্যাদা সত্ত্বেও সাধারণ কাজে অংশ নিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চিল্লা বা দ্বীনের সফরে মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার নির্দেশনা। ফোন রাখলে বা করলে চিল্লার মূল উদ্দেশ্যই নষ্ট হয়ে যায়, কারণ মন তখন বাড়িতে থেকে যায়। অনেক মুরুব্বীকে ফোন ব্যবহার করতে দেখলে সেটাকে আদর্শ ভাবার সুযোগ নেই; বরং এটা তাদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা হতে পারে, যা অনুসরণ করা উচিত নয়। রাসূল (সা.)-ও নামাজে ভুল করেছিলেন—এই শিক্ষা আমাদের মনে রাখতে সাহায্য করে যে, মানুষের ভুল হতে পারে, কিন্তু আমাদের কর্তব্য হলো শুদ্ধটাই অনুসরণ করা।]
(রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জোড়, ২০১১)
*প্রশ্ন:* `যখন প্রথম তাবলীগে সময় লাগাই তখন ইলম ও আমলের আগ্রহ পয়দা হয়। পরে ধীরে-ধীরে আগ্রহ কমে যায় এবং মুরুব্বিয়ানা ভাব আসে। এর থেকে আমরা কিভাবে পরিত্রান পেতে পারি?`
*উত্তর:* এগুলোর মূল সমস্যা হলো- মেহনতের ময়দানে না থাকা। কাজের ময়দানে যে থাকে আর কাজের ময়দানে যে থাকেনা- উভয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। কখনো কখনো মনে হয়, কাজের ময়দানে সে আছে, কিন্তু (ঐটা) আসলে কাজের ময়দান না।
ডাক্তার; পড়াশোনা করে ডাক্তারি পাশ করল। এরপর ডাক্তারি প্র্যাকটিস শুরু করল। আর ডাক্তারি প্র্যাকটিসের মাধ্যমে যে টাকা পেয়েছে, ঐ টাকা দিয়ে সে নিজস্ব ক্লিনিক করল। ক্লিনিক (চালানো) তো এক ডাক্তারে হয় না, আরো কয়েকজন ডাক্তার লাগে। আরো ডাক্তারের নিয়োগ দিল। যখন থেকে সে ক্লিনিক শুরু করলো, তখন প্রথম প্রথম সে রোগীও দেখে আবার ক্লিনিক পরিচালনাও করে। তখন সে (একইসাথে) ডাক্তার এবং ব্যবসায়ী। আর ক্লিনিক যদি আস্তে আস্তে করে বড় হতে থাকে, তো ক্রমেই তার নিজের ডাক্তারি করা আর চলেনা। অনেক ডাক্তার, বড় ক্লিনিক। এক পর্যায়ে গিয়ে সে নিজে আর ডাক্তারি করেনা, শুধু ক্লিনিকের দেখাশোনাই করে, ম্যানেজার। সে যে পরবর্তীতে ম্যানেজমেন্ট বা ব্যবস্থাপনার যে কাজ করছে, ঐ কাজের সাথে ডাক্তারির কোন সম্পর্ক নেই। এখন সে একজন দক্ষ ব্যবসায়ী, ডাক্তারির কিছুই নেই। কিন্তু তার উপাধি _‘ডাক্তার’_ রয়ে যায়। তার চেম্বারের সামনে *ডা:* লিখা থাকে। আর তাকে সকলেই ডাক্তার সাহেব বলে। আর নিজেও মনে করে যে আমি ডাক্তার। অথচ তার এখন আর নিজেকে ডাক্তার মনে করার অধিকার নেই। এখন সে ডাক্তার নয়, এখন সে ম্যানেজার।
ম্যানেজারের মনোভাব আর ডাক্তারের মনোভাব ভিন্ন। কারণ যে যেই কাজ করে, তার দৃষ্টি ঐদিকে থাকে। মনে করা যাক, একটা বোর্ড মিটিং হচ্ছে, কয়েক কোটি টাকার এমআরআই মেশিন কিনবে। আবার কাজের জন্য, মিটিং এর জন্য ক্লিনিক বড় করবে, বোর্ড ডিরেক্টরদের জন্য ফার্নিচার ইত্যাদি কিনবে। এতে সমান দাম পড়বে। যে ডাক্তার এই মেশিন ব্যবহার করবে, এই মেশিনের সাথে সম্পৃক্ত ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেনিং নিয়েছে সে ঐ মিটিং এর মধ্যে চাপাচাপি করতে থাকবে যে ‘আমার এই মেশিনের প্রয়োজন। রোগীদের জন্য প্রয়োজন, হাসপাতালের জন্য প্রয়োজন, উন্নত হবার জন্য প্রয়োজন। আজকাল এমআরআই মেশিন লাগবেই লাগবে।’ সে এমআরআই, এমআরআই করতেই থাকবে। আর যারা ডাক্তার নয়, ম্যানেজার, তারা বলবে যে এখানে বোর্ড মিটিং এর জন্য যখন অনেক লোক আসে, এটা বড় হাসপাতাল, অনেক সময় অনেক অতিথিরা আসে, তাদের ভাল করে বসার জায়গা নেই, আরো বড় জায়গা থাকা দরকার- ইত্যাদি বিভিন্ন যুক্তি দিতে থাকবে। তার কাছে বোর্ড মিটিং এর ফার্নিচার, সুন্দর টেবিল, সুন্দর চেয়ার, লাউডস্পিকার এগুলো বেশি গুরুত্ব পাবে। দুইজনের দৃষ্টি দুই ধরনের।
*কাজের মাধ্যমে যে থাকবে, দাওয়াতের ময়দানে যে থাকবে- সে তো দাঈ হিসেবে থাকবে। দাওয়াতের ময়দান থেকে সে যদি আস্তে আস্তে করে সরতে আরম্ভ করে, সে এক পর্যায়ে গিয়ে, পরবর্তীতে গিয়ে তাবলীগী নয়, ‘তাবলীগী ম্যানেজার’ হয়ে যায়।* নির্ভর করে কোন স্তরে; ছোট হলে ছোট, বড় হলে বড়। আর ম্যানেজারের মনোভাব তার মধ্যে আসবে। দুইটা ভিন্ন (মনোভাব)। ঐ যে বললাম ডাক্তার আর হাসপাতালের মালিক বা ম্যানেজার। তো হাসপাতালের মালিক একজন ব্যবসায়ী। আর ডাক্তার তো একজন ডাক্তার। ডাক্তারের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন, আর হাসপাতালের মালিকের বা ম্যানেজারের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন, তাদের আচরণও ভিন্ন।
*যদি আমি কাজের মধ্যে থাকি, তো যত পুরনোই হই না কেন, কাজের জযবা ঠিক থাকবে।* কিছু জজবা সাময়িক থাকে। প্রথম যখন তবলীগে গেলাম তখন হয়তো একটা শখ হল যে আলিম হয়ে যাব বা পীর হয়ে যাব। ঐ জজবাগুলো কোন স্থায়ী, নির্ভরযোগ্য জজবা না। ওগুলো বাতাসের মতো আসে আবার চলে যায়, টিকবার নয়ই। ঐটা টিকবেও না আর না টিকা কোন দু:খও নয়।
তবলিগের মজমাতে কেউ এলো। একজন লোক নতুন বয়ান শুনে খুব মুতাসসির হলো। বয়ান শুনে অঝোরে কাদলো। পাশে যে একজন পুরোনো তাবলীগওয়ালা বসে আছে, সে কিন্তু কাঁদলো না। তাকে দেখে সে খুব অবাক হচ্ছে, মুগ্ধ হচ্ছে যে কিরকম নরম দ্বীল! আর নিজের ব্যাপারে মনে করছে ‘আমার কোন কান্নাই এল না, সে কত ভালো’। সে অনেক কাঁদছে, খুব মোতাসসির হচ্ছে। তাশকিলের সময় এলো, (বলা হল) চিল্লাতে যান। সে তিনদিনে যেতেও রাজি না। যথেষ্ট কেঁদেছে, ঐ পর্যন্তই যথেষ্ট! সময় একদিনও দিবে না। আর যে (পুরনো তাবলীগওয়ালা) মনে করেছিলো আমি কিছু আসর নিলাম না, কাদলাম না, কিছু না; সে চিল্লায় চলে গেল। প্রথম তো ঐ কান্না জাতীয় জিনিস আসে। ওটাতে খুব বেশি লাভ নেই। ঐটাতে আমল হবে না, ঐ কান্না দিয়েই শেষ করে দিবে। এর পরে গিয়ে সে আমলের স্তরে আসবে, ধাপে ধাপে।
সেজন্য প্রথম যে আমাদের জজবা ছিল যে ‘আলিম হয়ে যাব’ ইত্যাদি, ঐ জজবাটা খুব নির্ভরযোগ্য নয়, ঐটা একটা হাওয়ার মত আসে। কাজে যদি লেগে থাকে তো পরবর্তীতে ঐ ধরনের জজবা আর থাকবে না। কিন্তু তার প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েল জানা এবং এর উপর আমল করা- ঐটা ধীরে ধীরে বাড়বে। সেজন্য প্রথম যেই জজবা ছিল ঐটা থাকলো না, এইটা কোন দুঃখের কথা নয়।
*পরে যদি মুরুব্বী হতে আরম্ভ করি, তাহলে বুঝতে হবে যে আমি কাজের ময়দান থেকে সরে যাচ্ছি। আর কাজের ময়দান থেকে সরে গেলে, অবধারিত এটা হবেই। নিজে কাজ করতে থাকি, ইনশাআল্লাহ এটা হবে না।* সেজন্য নিজে থেকে মেহনত করতে থাকা। আল্লাহওয়ালারা এটা নিজেই এহতেমাম করতেন।
বাংলাদেশের সফরে হযরত মাওলানা সাঈদ খান রহ. চিটাগাং ছিলেন। উনি শেষ রাতে উঠে মারকাযের সব বাথরুমগুলো ধুতে গেলেন। প্রথম রাতে (রাতের প্রথম অংশে) পারবেন না, প্রচুর লোকজন থাকে, সবাই এসে বাধা দিবে। আর শেষ রাতেও চেহারা চাদর দিয়ে একেবারে ঢেকে গিয়েছেন। এটা যে ‘বাথরুমে ময়লা পড়ে আছে’ বা ‘ধোয়ার লোক নেই’- তা নয়। কিন্তু *আমি যদি সাধারন মেহনতের মধ্যে না থাকি তো আমি নষ্ট হয়ে যাব* । সেজন্য, নিজের জন্য প্রয়োজন।
তিনি সিলেটে গেলেন। মারকাজ থেকে বের হয়ে আমাদের একজন পরিচিত ভাই আছেন মাঈনউদ্দিন ভাই, উনাকে সামনেই পেলেন আর উনাকে বললেন আমাকে গাশতে নিয়ে চলো। উনি গাশতে নিয়ে গেলেন। উনি একটি মেডিসিন কোম্পানির সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ ছিলেন। তো সেই হিসেবে উনার পরিচিত ওরকম মেডিসিনের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ কারো কাছে নিয়ে গেলেন। মাওলানা সাঈদ খান সাহেব তার সাথে বোধহয় অনেকক্ষণ কথা বললেন, আর ঐ ব্যক্তি তর্কই করতে থাকলো, নিজে তশকিল কিছুই হলো না। তারপর চলে এলেন। এখন কেউ মনে করবে যে মাওলানা সাঈদ খান সাহেবের মত লোক এই দুইটা ঘন্টা ফালতু সময় নষ্ট করলেন! উনি যদি মাশওয়ারায় পেশ করতেন, তাহলে উনাকে দিয়ে কত গুরুত্বপূর্ণ গাশত করানো যেত! আর কত গুরুত্বপূর্ণ বয়ান হত! কিন্তু উনি এইটা মাশওয়ারায় পেশই করেননি। চুপচাপ করে শুধু হযরতজীকে ইনফেরাদিভাবে বললেন যে আমি একটু বাইরে যাব। চলে গেলেন। কেন? *উমুমি কাজের মধ্যে যদি আমি না থাকি, তাহলে আমি নষ্ট হয়ে যাব। মাশওয়ারায় পেশ করলে ঐটা আর উমুমি কাজ হবে না।* সাথীরা আমাকে নিয়ে বিরাট করে বয়ান করাবে, কোন মাদ্রাসার জিয়ারতে নিয়ে যাবে ইত্যাদি। যে কথা শুনতে চায় না, তর্ক করে- এই ধরনের লোকের কাছে নিবেই না। আর এইটা প্রয়োজন, তা নাহলে সে ‘শেখ’ হয়ে যাবে!
তো কাজের মধ্যে থাকলে এগুলো আসবে না। কিন্তু কাজ থেকে যদি আমি সরে যাই, তাহলে যে কথাগুলো বলা হয়েছে ওগুলো হবে। জবাব হল - বাস্তব কাজের মধ্যে থাকা। পুরনো যখন হয়ে যাবে তো পুরনো মুরুব্বী হিসেবে যেগুলো কাজ সেগুলো তাকে করতে হবে। লোক আসবে, জিজ্ঞাসা করবে, দেখা সাক্ষাৎ করবে ইত্যাদি। সেগুলো বাদ দিবে না, করবে; কিন্তু উমুমি কাজকে যেন ছেড়ে না দেয়।
*সফরে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা, না করা প্রসঙ্গে প্রশ্ন:*
*প্রশ্ন:* `জামাতে থাকা অবস্থায় বাসায় ফোন করা- না করা নিয়ে বড় এশকাল। হিদায়াতের কথায় শুনি, ‘ফোন, তো চিল্লা খুন।’ অথচ মজমায় আসা জিম্মাদার সাথীরা ফোন করে বাসায় খবর নেন।`
*উত্তর:* হিদায়াতের যে কথা বলা হয়, ঐটাই ঠিক। আমি শুনিনি যদিও, এখান থেকে শিখলাম, কাজে লাগাবো। ফোন তো, চিল্লা খুন, এইটাই। কথা ঠিক। এটা বুঝতে হবে। বিলকুল সত্য কথা। তবলীগের বা যেকোনো দ্বীনের মেহনতের নাম ওখানে তার মরা দেহকে নিয়ে যাওয়ার নাম নয়, তার মনকে নিয়ে যাওয়ার নাম। মন থাকলো দোকানে, মন থাকলো বাড়িতে- তো ওখানে লাশ গিয়ে কি করবে? সেজন্য আমার মন যেতে হলে বিচ্ছিন্ন হতে হবে। অতএব এই ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই, অন্য কোন ব্যাখ্যা রাখে না যে বিচ্ছিন্ন হতে হবে। ফোন রাখাও যাবেনা, করাও যাবে না, কিছুই না। চূড়ান্ত ক্ষেত্রে আমিরের মাধ্যমে অথবা বিশেষ কোন মাধ্যমে কোন খবর একতরফা দিয়ে দেওয়া আলাদা কথা। মোটামুটি কথা হলো এইটাই যে কোন যোগাযোগ নেই।
দ্বিতীয় কথা যেটা যে মুরব্বিদেরকে দেখলাম মিম্বরে বসে ফোনে কথা বলতে। সব ব্যাপারেই, আমরা যারা দাওয়াত দেই- আমাদের মধ্যে দোষ গুণ দুইটাই আছে। আমিও যেভাবে নির্দোষ হতে পারিনি, যাদেরকে আমরা দেখে চলি তারাও ঐরকম নির্দোষ হতে পারেননি। তাদেরকে অতিমানব মনে করা- এটা ভুল। তার দুর্বলতা আছে, এটাও দূর্বলতার মধ্যেই। মানবো তো ঐটাই, যেটা আমাকে করতে বলা হয়েছে। একজনের ভুল দেখলাম আর আমি মনে করলাম, এটাই ঠিক। ভুল তো ভুলই, যে’ই করুক!
রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের মধ্যে ভুল করলেন। কিরাতে ভুল করলেন, লোকমা দেওয়া হয়েছে, সংশোধন করেছেন। চার রাকাত নামাজ দুই রাকাতে শেষ করে দিয়েছেন। আমরাও তো এইরকম গাফিলতি করিনা যে চার রাকাত নামাজ দুই রাকাতে শেষ করে দিলাম, খেয়াল নেই। অথচ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করলেন। তো ভুল যে হতে পারে, এটা একটা মৌলিক কথা, আর এই কথাকে জানা দরকার। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চার রাকাত নামাজ যে ভুল করে দুই রাকাত পড়েছিলেন, সংশোধন করে দেয়া হয়েছে, তারপর চার রাকাত পুরা করলেন। অতএব রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি নামাজের ভেতরে ভুল করতে পারেন, তাহলে আমাদের মুরুব্বীদের একটু মোবাইলে কথা বলতে তো ভুল হতেই পারে।
দ্বিতীয় কথা হল, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন ওজর থাকতে পারে। আমি গিয়েছি আমার বাৎসরিক চিল্লায়। আর ঐ মুরুব্বী যিনি এসেছেন, উনার বাৎসরিক তিন চিল্লা কিন্তু আগেই আদায় হয়ে গেছে। আর তিনি সেই বাৎসরিক চিল্লায় যখন গিয়েছেন, তখন উনি মোবাইল নিয়ে যাননি। এইটা (বর্তমান সফর) উনাকে বলাই হয়েছে যে এটা অতিরিক্ত। উনি বললেন যে ‘আমার অসুবিধা আছে’। তাশকিল করনেওয়ালা বলল যে আপনি বাড়ির খোঁজখবর রাখতে পারবেন। তো উনি এখানে থেকে বাড়ীর খোঁজ খবর রাখেন। উনাকে তাশকিল ঐভাবেই করা হয়েছে। কারণ উনি নিজেও জানেন আর যে তাশকিল করছেন সেও জানে যে, এটা নেসাবি তিন চিল্লা নয়। উনি নেসাবি তিন চিল্লা আগেই দিয়েছেন। নেসাবি তিন চিল্লার মধ্যে হয়তো উনি কোন কথাই বলেন না। এইটা অতিরিক্ত। ঐসব কথা তো আমার জানা নেই। আর আমি উনাকে শুধু এই ফোন করাটাই দেখলাম! তো সেইজন্য দেখারও দরকার নেই। যদিওবা দেখি, তো ভুল তো ভুলই। করব তো শুদ্ধটাই।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
জরুরত - মানুষের প্রয়োজন ও ইবাদত
আল্লাহ তায়ালা বলেন: وَأْمُرْ أَهْلَكَ بِالصَّلَاةِ وَاصْطَبِرْ عَلَيْهَا لَا نَسْأَلُكَ رِزْقًا نَّ...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৬৮৭
আদরের ভাইটিকে বলছি
( দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতের আলোকিত পরশে দ্বীন পাওয়া প্রতিটি কলেজ বা ভার্সিটির জেনারেল শিক্ষিত ছাত্র ...
মাওলানা ডাঃ মোহাম্মদ মাসীহ উল্লাহ
১০ নভেম্বর, ২০২৪
১২৪৯৪
কাজ ও আমল: বাস্তবতা ও গায়েবের নিরিখে
দুনিয়ার মানুষ কাজে ব্যস্ত। আল্লাহ তাআলা আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামকে পাঠিয়েছেন মানুষকে কাজ থেকে সরিয...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
২০ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৮০৩
দুআ কবুল না হওয়ার কারণ: আমরা কি ভুল চাইছি?
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] أعوذ بالله من الشيطان الرجيم. بسم الله الرحمن الرحيم مَنۡ عَمِلَ صَالِح...
প্রফেসর হযরত মুশফিক আহমদ রহ.
১২ জানুয়ারী, ২০২৬
৩৮০১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন