আল জামিউল কাবীর- ইমাম তিরমিযী রহঃ
৪৮. নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
হাদীস নং: ৩৮৬২
আন্তর্জাতিক নং: ৩৮৬২
নবীজী সাঃ ও সাহাবা রাঃ ; মর্যাদা ও বিবিধ ফাযায়েল
পরিচ্ছেদ : যে নবী (ﷺ) এর সাহাবীদের গালমন্দ করে
৩৮৬২। মুহাম্মাদ ইবন ইয়াহ্ইয়া (রাহঃ)... আব্দুল্লাহ ইবন মুগাফফাল (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন: আমার সাহাবীগণের বিষয়ে তোমরা আল্লাহকে ভয় করবে। আমার পরে তাদেরকে আক্রমণের লক্ষ্যস্থল বানিয়ে নিয়ো না। যারা তাদের ভালবাসবে, আমার প্রতি ভালবাসার জন্যই তারা তাদের ভালবাসবে। আর যে ব্যক্তি তাদের প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণ করবে, সে আমার প্রতি বিদ্বেষ ভাব পোষণের কারণেই তাদের প্রতি বিদ্বিষ্ট হবে।
যে ব্যক্তি তাদের কষ্ট দিল, সে আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহ্ তা'আলাকেই কষ্ট দিল। যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, শীঘ্রই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন। হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
যে ব্যক্তি তাদের কষ্ট দিল, সে আমাকেই কষ্ট দিল। আর যে ব্যক্তি আমাকে কষ্ট দিল, সে আল্লাহ্ তা'আলাকেই কষ্ট দিল। যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, শীঘ্রই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন। হাদীসটি গারীব। এ সূত্র ছাড়া এটি সম্পর্কে আমরা কিছু জানি না।
أبواب المناقب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم
باب فيمن سب أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قال: حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ قال: حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ أَبِي رَائِطَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ «اللَّهَ اللَّهَ فِي أَصْحَابِي، لَا تَتَّخِذُوهُمْ غَرَضًا بَعْدِي، فَمَنْ أَحَبَّهُمْ فَبِحُبِّي أَحَبَّهُمْ، وَمَنْ أَبْغَضَهُمْ فَبِبُغْضِي أَبْغَضَهُمْ، وَمَنْ آذَاهُمْ فَقَدْ آذَانِي، وَمَنْ آذَانِي فَقَدْ آذَى اللَّهَ، وَمَنْ آذَى اللَّهَ فَيُوشِكُ أَنْ يَأْخُذَهُ» هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لَا نَعْرِفُهُ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে সাহাবীদেরকে ভালোবাসার গুরুত্ব ও তাদেরকে অপসন্দ করার মন্দত্ব তুলে ধরা হয়েছে। "সাহাবা" শব্দটি صاحب -এর বহুবচন। এর অর্থ, সঙ্গী-সাথী। অধিকাংশ মুহাদ্দিসের মতে যারা ঈমানের সহিত রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-কে তাঁর জীবদ্দশায় দেখেছেন বা তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সহিত তাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁরাই সাহাবী।
সাহাবীদের ত্যাগ ও কুরবানীর বিনিময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারপর সারা বিশ্বে ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে, তাই কাফের ও মুশরিকগণ কখনও তাদের ভালো চোখে দেখেনি। তারা সর্বদা তাদেরকে ঘৃণা করে এসেছে। ফলে তাদের ঘৃণা করা বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফিকীর আলামত হয়ে গেছে। আর তাদেরকে মহব্বত করা হয়েছে ঈমানের নিদর্শন।
বস্তুত সাহাবীদের ভালোবাসা নবীপ্রেমেরও পরিচায়ক। যে সাহাবীগণ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করেছিলেন, কোনও নবীপ্রেমিক তাদের ভালো না বেসে পারে? তাই তো হাদীছে সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করার বিষয়ে বলা হয়েছে যারা তাদেরকে ভালবাসবে, আমার প্রতি ভালবাসার জন্যই তারা তাদেরকে ভালবাসবে।
অপরদিকে সাহাবীদের প্রতি ঘৃণা পোষণের পরিণতিও অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা হাদীছে আছে, যে-কেউ তাদেরকে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে ঘৃণা করবেন। বলাবাহুল্য, আল্লাহ তাআলার ঘৃণার পাত্র হওয়া অপেক্ষা নিকৃষ্ট পরিণাম আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা সে পরিণাম থেকে আমাদের হেফাজত করুন। তিনি আমাদের অন্তরে সাহাবীদের প্রতি গভীর মহব্বত দান করুন এবং সে মহব্বত নিয়েই কবরে যাওয়ার তাওফীক দিন।
সাহাবীদের ত্যাগ ও কুরবানীর বিনিময়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তারপর সারা বিশ্বে ক্রমান্বয়ে তা ছড়িয়ে পড়েছে, তাই কাফের ও মুশরিকগণ কখনও তাদের ভালো চোখে দেখেনি। তারা সর্বদা তাদেরকে ঘৃণা করে এসেছে। ফলে তাদের ঘৃণা করা বা তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা মুনাফিকীর আলামত হয়ে গেছে। আর তাদেরকে মহব্বত করা হয়েছে ঈমানের নিদর্শন।
বস্তুত সাহাবীদের ভালোবাসা নবীপ্রেমেরও পরিচায়ক। যে সাহাবীগণ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নিজেদের জান-মাল উৎসর্গ করেছিলেন, কোনও নবীপ্রেমিক তাদের ভালো না বেসে পারে? তাই তো হাদীছে সাহাবীদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করার বিষয়ে বলা হয়েছে যারা তাদেরকে ভালবাসবে, আমার প্রতি ভালবাসার জন্যই তারা তাদেরকে ভালবাসবে।
অপরদিকে সাহাবীদের প্রতি ঘৃণা পোষণের পরিণতিও অত্যন্ত ভয়াবহ। কেননা হাদীছে আছে, যে-কেউ তাদেরকে ঘৃণা করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে ঘৃণা করবেন। বলাবাহুল্য, আল্লাহ তাআলার ঘৃণার পাত্র হওয়া অপেক্ষা নিকৃষ্ট পরিণাম আর কিছুই হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা সে পরিণাম থেকে আমাদের হেফাজত করুন। তিনি আমাদের অন্তরে সাহাবীদের প্রতি গভীর মহব্বত দান করুন এবং সে মহব্বত নিয়েই কবরে যাওয়ার তাওফীক দিন।