বাউল সমাজে মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ! ও বাউল সাধনায় গাজা সেবন! বাউল মতবাদ। পর্ব—৫৪-৫৫
বাউল সমাজে মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ! ও বাউল সাধনায় গাজা সেবন! বাউল মতবাদ। পর্ব—৫৪-৫৫
আল্লাহ তাআলার হালালকৃত কোনো খাবারকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা স্পষ্টত অন্যায়। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামতের প্রতি বিদ্রুপ ও অবমাননার অন্তর্ভুক্ত।
বাউল ধর্মে কী বলে?
লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালক এড. আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
বাউলসমাজে কোনো প্রকার মাংস ভক্ষণের প্রচলন নেই। বাউল বিশ্বাস করে যে এতে পাকস্থলী গরম হয়ে শারীরিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। শরীরে স্বাভাবিকভাবে কিছু প্রোটিনযুক্ত খাদ্য প্রয়োজন পুষ্টিসাধনের জন্য। এ কারণে বাউলেরা মাছ, দুধ অথবা দুগ্ধজাত খাদ্য যেমন দই, পায়েশ ইত্যাদি খেয়ে থাকে। বাউলেরা রোগ নিরাময়ে কিংবা শরীরের পুষ্টিসাধনে উপর্যুক্ত দ্রব্যাদি ব্যতিরেকে কোনো গাছগাছড়া, ফল, ফুল ইত্যাদি ভক্ষণ করে না। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৪০৯)
ইসলাম কী বলে?
হিন্দু ধর্মের গুরুরা বিভিন্ন সময় তাদের ভক্তকুলকে বিভিন্ন খাদ্য আহারে নিষিদ্ধ আরোপ করে থাকে। যা সবারই কমবেশি জানা। সেই বিষয়টার পূনঃচর্চা বাউল মতবাদেও আছে। অথচ আল্লাহর হালালকৃত কোনো বিষয়কে নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা কারোরই নেই। মহান আল্লাহ বলেন,
وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَٰذَا حَلَالٌ وَهَٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
“যে সব বস্তু সম্পর্কে তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা রচনা করে, সে সম্পর্কে বলো না- এটা হালাল এবং এটা হারাম। কেননা, তার অর্থ হবে তোমরা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছো। জেনে রেখো, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দেয়, তারা সফলকাম হয় না।” —(সুরা নাহল : ১১৬)
তাছাড়া হযরত আদী বিন হাতেম রা. বলেন,
أَتَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي عُنُقِي صَلِيبٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ : يَا عَدِيُّ اطْرَحْ عَنْكَ هَذَا الْوَثَنَ وَسَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فِي سُورَةِ بَرَاءَةَ : (اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ) قَالَ : أَمَا إِنَّهُمْ لَمْ يَكُونُوا يَعْبُدُونَهُمْ وَلَكِنَّهُمْ كَانُوا إِذَا أَحَلُّوا لَهُمْ شَيْئًا اسْتَحَلُّوهُ وَإِذَا حَرَّمُوا عَلَيْهِمْ شَيْئًا حَرَّمُوهُ
“একদা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলাম। তখন আমার ঘাড়ে সোনার ক্রুশ ছিল। তা দেখে তিনি বললেন—হে আদী, এই প্রতিমা তোমার নিকট থেকে খুলে ফেলো। এবং শুনলাম তিনি সুরা তাওবার এই আয়াত পাঠ করলেন,
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللهِ
তারা আল্লাহর পরিবর্তে নিজেদের আহবার (অর্থাৎ ইয়াহুদী ধর্মগুরু) এবং রাহিব (খ্রিস্টান বৈরাগী) কে খোদা বানিয়ে নিয়েছে। —(সুরা তওবা : ৩১)
আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মুখে উক্ত আয়াত শুনে আরজ করলাম যে, ইয়াহুদী-নাসারারা তো নিজেদের আলেমদের কখনো ইবাদত করেনি, তাহলে এটা কেন বলা হয়েছে যে, তারা তাদেরকে ’রব্ব’ বানিয়ে নিয়েছে? তিনি বললেন, এ কথা ঠিক যে, তারা তাদের ইবাদত করেনি। কিন্তু এটা তো সঠিক যে, তাদের আলেমরা যা হালাল করেছে, তাকে তারা হালাল এবং যা হারাম করেছে,তাকে তারা হারাম বলে মেনে নিয়েছে। আর এটাই হলো তাদের ইবাদত করা।” —(জামে তিরমিযী, হাদিস নং : ৩০৯৫)
সুতরাং, ইহুদী-খ্রিস্টানদের মতো বাউলরাও তাদের গুরুদেরকে রব্বের আসনে বসিয়ে তাদের পূজো করছে। যা দীন ইসলামে নিষিদ্ধ।
বাউল সাধনায় গাজা সেবন!
‘গাজা’ মদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ গাজা খেয়ে মানুষের স্বাভাবিক বিবেক শক্তি বিকৃত হয়ে যায়। এজন্য ইসলামে গাজা খাওয়া হারাম করা হয়েছে।
বাউল ধর্মে কী বলে?
লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালক এড. আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
বাউলসাধনায় গাঁজা খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। এই গাঁজা খাওয়ার মূলে বাউলদের মধ্যে একটি বিশ্বাস যে এতে শরীরের একপ্রকার রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সৃষ্টি হয়, ফলে বীর্যস্খলন সহজে হয় না এবং সাধক-সাধিকা দীর্ঘক্ষণ রতি ক্রিয়ায় নিবিষ্ট থাকতে পারে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৪০৯)
ইসলাম কী বলে?
গাঁজা, মদ-আফিম, কোকেন, প্রভৃতি ঐ সকল দ্রব্যের পর্যায়ে, যা মানুষের স্বাভাবিক বিবেক-বুদ্ধি আচ্ছন্ন করে দেয়, অনুভূতি ও বিচার-বুদ্ধি, বোধশক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ শক্তি হরণ বা কোন রূপ প্রভাবিত করে দেয়। ফলে গাজাও الْخَمْرُ বা মাদকদ্রব্য নামে অভিহিত। আর এধরণের দ্রব্যকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চিরদিনের তরে হারাম করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
“হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমার বেদি ও জুয়ার তীর অপবিত্র, শয়তানী কাজ। সুতরাং এসব পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলতা অর্জন করো।” —(সুরা মায়িদা : ৯০)
উক্ত আয়াতে ’الْخَمْرُ’ তথা মাদকদ্রব্য গ্রহণ করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এই ‘الْخَمْرُ’ তথা মাদক কী? সে সম্পর্কে হযরত উমার রা. মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দানকালে বলেন,
والخمرُ ما خامَرَ العقلَ
“আর যা মানুষের বিবেকবুদ্ধি বিলোপ করে দেয়, তা-ই ‘الْخَمْرُ’ তথা মদ।” —(সহিহ মুসলিম, হাদিস নং : ৩০৩২)
মনে রাখা উচিত—ভারতবর্ষে ঐতিহ্যাশ্রয়ী হিন্দুদের অনেকে বিশ্বাস করেন গাজা থেকে তৈরি পানীয়–যাকে বলা হয় ‘ভাঙ লাচ্ছি’–তা পান করলে যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধি পায়। —(ডিবিসি, ২৭ জানুয়ারী ২০২২ ঈ.)
কিন্তু বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশের দাবি—গাঁজা পুরুষের শুক্রাণুর ক্ষতি করতে পারে। —(আমাদের সময়, ২৮ জানুয়ারি ২০২২ ঈ.)
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
জেনারেল শিক্ষিতরা কীভাবে দীনের খেদমত করবেন?
দীনের খিদমত কী জিনিস? ধরেন, আমি ডাক্তার। এক হচ্ছে, আমি হালালভাবে ইনকাম করছি, যথাসাধ্য রোগীদের ফ্রী-ড...
ডাঃ শামসুল আরেফীন শক্তি
৭ নভেম্বর, ২০২৪
৬৪৯৪
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন