মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

الفتح الرباني لترتيب مسند الإمام أحمد بن حنبل الشيباني

কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৮২ টি

হাদীস নং: ৪১
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া ও তার সাথে কঠোরতা করা থেকে সতর্ক করা
৪১. বনূ সাদুসের এক ব্যক্তি থেকে বর্ণিত। তাকে দায়সাম বলা হতো। তিনি বলেন, আমরা বশীর ইবনুল খাসাসীয়াকে বললাম, তার নাম বশীর ছিল না, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নাম বশীর রাখেন। বনি তামীমে আমাদের কিছু প্রতিবেশী আছে, যারা আমাদের পালের কোন ছাগল তাদের নিকট গেলে, তারা তা নিয়ে নেয় তাদের কিছু সম্পদ আমাদের নিকট আসলে আমরাও কি সেটা নিয়ে নেব? তিনি বললেন, না।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب الترهيب من ايذاء الجار والتغليظ فيه
عن رجل من بني سدود (1) يقال له ديسم قال قلنا لبشير بن الخصاصية قال وما كان اسمه بشيرا فسماه رسول الله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم بشيرا (2) إن لنا جيرة من بني تميم لا تشذ لنا قاصية إلا ذهبوا بها (3) وانها تخالفنا من اموالهم أشياء (4) افنأخذ؟ قال لا
হাদীস নং: ৪২
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪২. উবাদা ইবন নুসাই (রা) থেকে বর্ণিত। একদা শাদ্দাদ ইবন আউস কাঁদছিলেন। তখন তাকে বলা হলো, তুমি কাঁদছ কেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট থেকে আমি এমন একটি শুনেছি, যার স্মরণ আমাকে কাঁদাচ্ছে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, আমি আমার উম্মতের উপর শিরক ও গোপন কামনার ভয় পাচ্ছি। তিনি বললেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার পরে কি আপনার উম্মত শিরক করবে? তিনি বললেন, হাঁ, তবে তারা সূর্য, চন্দ্র, পাথর ও মূর্তির পুজা করবে না, কিন্তু তারা তাদের নেক আমলসমূহ মানুষের সামনে এমনভাবে প্রকাশ করবে, যাতে লোকেরা তাকে নেককার বলবে, আর গোপন কামনা হলো- তোমাদের কেউ রোযা রাখবে, এরপর তার কাছে কামনা, বাসনা প্রভৃতি উপস্থাপন হলে সে রোযা ত্যাগ করবে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن عبادة بن أنس (5) من شداد بن أوس رضي الله عنه انه بكى فقيل له ما يبكيك؟ قال شيئا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقوله فذكرته فأبكاني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول أتخوف على أمتي الشرك والشهوة الخفية قال قلت يا رسول الله اتشرك أمتك من بعدك؟ قال نعم أما انهم لا يعبدون شمسا ولا قمرا ولا حجرا ولا وثنا ولكن يراءون بأعمالهم (6) والشهوة الخفية أن يصبح أحدهم صائما فتعرض له شهوة من شهواته فيترك صومه
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৩
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৩. আবু সা'ঈদ ইবন আবু ফাদালা আনসারী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি সাহাবী ছিলেন, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন যেদিনের আগমন সম্পর্কে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই, সেদিন পূর্বাপর সকলকে একত্র করবেন, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা দিবে, যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে গিয়ে এর মধ্যে কাউকে শরীক করবে, সে যেন এর প্রতিদান আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো নিকট প্রত্যাশা করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা শরীকদের শিরক থেকে মুক্ত।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن أبي سعيد (1) بن أبي فضالة الانصاري وكان من الصحابة انه قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول إذا جمع الله عز وجل الأولين والآخرين ليوم لا ريب فيه ينادي مناد من كان أشرك في عمل عمله لله تبارك وتعالى احدا فليطلب ثوابه من عند غير الله عز وجل فإن الله عز وجل أغنى الشركاء عن الشرك
হাদীস নং: ৪৪
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৪. আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, আমি অংশীদারদের মধ্যে সর্বোত্তম সত্ত্বা, যে ব্যক্তি আমার জন্য কোন আমল করে এবং তাতে আমার সাথে অন্যকে শরীক করে, আমি তার থেকে দায়মুক্ত। সে যার সাথে শিরক করে, কাজটি তার জন্যই হবে। অর্থাৎ তার আমল বিনষ্ট হবে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن أبي هريرة (2) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم قال الله عز وجل انا خير الشركاء من عمل لي عملا فأشرك غيري فأنا منه بريء وهو للذي أشرك
হাদীস নং: ৪৫
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৫. ইবন গানাম (র) বলেন, আমি এবং আবু দারদা (রা) যখন জাবীয়ার মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন আমাদের সাথে 'উবাদা ইবন সামিত (রা)-এর সাক্ষাত হলো। তিনি বাম হাত দিয়ে আমার ডান হাত ধরলেন এবং তার ডান হাত দিয়ে আবু দারদার বাম হাত ধরলেন। এভাবে আমরা বের হয়ে চলতে লাগলাম এবং আলাপ করছিলাম, আল্লাহ ভাল জানেন আমরা কি সম্পর্কে আলাপ করছিলাম। তখন 'উবাদা (রা) বললেন, যদি তোমাদের কেউ দীর্ঘ জীবন অথবা উভয়েই দীর্ঘ জীবন লাভ কর, তবে তোমরা মুসলমানদের মধ্যে উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন কাউকে দেখতে পাবে যে, সে রাসূল (ﷺ)-এর যবানে কুরআন তেলাওয়াত করছে, আবার পুনরাবৃত্তি করছে এবং প্রকাশ করছে, আর হালালকে হালাল করছে এবং হারামকে হারাম করে শরীয়তের নির্দিষ্টস্থানে অবস্থান করছে। অথচ সে তোমাদের মধ্যে মৃত গাধার মাথা যেমন মূল্যহীন, তেমনি মূল্যহীন বিবেচিত হবে। আমরা যখন এ অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের নিকট শাদ্দাদ ইবন 'আউস এবং 'আউফ ইবন মালিক (রা) উপস্থিত হলেন। তিনি আমাদের নিকট বসলে শাদ্দাদ (রা) বললেন, হে মানুষ! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গোপন কামনা ও শিরক সম্পর্কে যা বলতে শুনেছি, সে সম্পর্কে যেভাবে আমি ভয় করছি, তোমাদেরকেও সেভাবে ভয় দেখাচ্ছি! তখন 'উবাদা ইবন সামিত ও আবূদারদা (রা) বললেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর। আল্লাহর রাসূল কি আমাদেরকে বলেননি, শয়তান আরব ভূমিতে তার ইবাদত থেকে নিরাশ হয়েছেন। আর গোপন কামনা, সে সম্পর্কে আমরা জানি, তা হলো দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও নারীর প্রতিও কামনা বাসনা। কিন্তু হে শাদ্দাদ, তুমি আমাদেরকে যে শিরিক সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছ, সেটা কি? তখন শাদ্দাদ (রা) বললেন, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা দেখ কোন ব্যক্তি অন্যকে প্রদর্শনের জন্য নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং সদকা করে? তোমরা কি মনে করো না যে, সে শিরক করে? তারা বললো, হাঁ। আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদর্শনের জন্য নামায পড়ে অথবা রোযা রাখে অথবা সদকা করে, সে শিরক করে। এরপর শাদ্দাদ (রা) বললেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়ে, সে শিরক করে; যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য রোযা রাখে, সে শিরক করে এবং যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য সদকা করে, সে শিরক করে, তখন 'আউফ ইব্‌ন মালিক বললেন, আল্লাহ্ কি বান্দার ঐ সমস্ত আমলের দিকে দৃষ্টি দেননা, যা একনিষ্ঠভাবে তার জন্য করা হয়। তারপর যা তার জন্য একনিষ্ঠভাবে করা হয় তা কবুল করবেন আর যার মধ্যে অন্যকে শরিক করা হয়, সেগুলো বাদ দিতে পারেন না? তখন শাদ্দাদ (রা) বললেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি আমার সাথে কাউকে শরিক করে, আমি তার থেকে দায়মুক্ত। আমার সাথে যদি কেউ কোন কিছুতে শরিক করে, তার কম বেশী যাবতীয় আমল ঐ শরিকের জন্য, যার সাথে আমাকে শরিক করা হয়েছে, আমি সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ নির্মুখাপেক্ষী।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
حدثنا أبو النضر (4) قال ثنا عبد الحميد يعني بن بهرام قال قال شهر بن حوشب قال ابن غنم لما دخلنا مسجد الجابية أنا وأبو الدرداء لقينا عبادة بن الصامت فأخذ يميني بشماله وشمال أبي الدرداء بيمينه فخرج يمشي بيننا ونحن نتنجى (5) والله أعلم فيما نتناجى (6) وذاك قوله فقال عبادة بن الصامت لئن طال بكما عمر أحدكما أو كلاكما لتوشكان أن تريا بالرجل من ثبج (7) المسلمين يعني من وسط قراء القرآن على لسان محمد (وفي رواية على لسان أخيه قراءة على لسان محمد صلى الله عليه وسلم) فأعاده وأبدله واحل حلاله وحرم حرامه ونزل عند منازله لا يحور فيكم (8) إلا كما يحور رأس الحمار الميت قال فبينا نحن كذلك إذ طلع شداد بن أوس وعوف بن مالك فجلسا الينا فقال شداد إن اخوف ما أخاف عليكم أيها الناس لما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من الشهوة الخفية والشرك فقال عبادة بن الصامت وأبو الدرداء اللهم غفرا (9) أو لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنا ان الشيطان قد يئس أن يعبد في جزيرة العرب فأما الشهوة الخفية فقد عرفناها هي شهوات الدنيا من نسائها وشهواتها فما هذا الشرك الذي تخوفنا به يا شداد؟ فقال شداد أرأيتكم لو رأيتم رجلا يصلي لرجل أو يصوم له أو يتصدق له أترون أنه قد أشرك؟ قالوا نعم والله ان من صلى لرجل أو صام له أو تصدق له فقد أشرك فقال شداد فإني قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من صلى يرائي فقد أشرك ومن صام يرائي فقد اشرك ومن تصدق يرائي فقد أشرك فقال عوف بن مالك عند ذلك أفلا يعمد إلى ما ابتغي فيه وجهه من ذلك العمل كله فيقبل ما خلص له ويدع ما يشرك به؟ فقال شداد عند ذلك فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول أنا خير قسيم (1) لمن اشرك بي من أشرك بي شيئا فان حشده (2) عمله قليله وكثيره لشريكه الذي اشرك به وانا عنه غني
হাদীস নং: ৪৬
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৬. আবূ বাকরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার দোষত্রুটি মানুষের গোচরীভূত করবেন। আর যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করে, আল্লাহ্ মানুষকে সেটা দেখিয়ে দেবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن أبي بكرة (3) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من سمع (4) سمع الله به ومن راآ راآ (5) الله به
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৭
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৭. আবূ হিন্দ দারেমী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) কে একথা বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানো ও শুনানোর জন্য কাজ করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ্ তার সমস্ত দোষ-ত্রুটি মানুষকে দেখাবেন এবং শুনাবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن أبي هند الداري (6) أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من قام مقام رياء وسمعة راآ الله به يوم القيامة وسمع
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৮
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৮. 'আবদুল্লাহ ইবন 'আউফ কেনানী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রামলাতে 'উমর ইবন 'আবদুল 'আজিজের কর্মচারী ছিলেন, তিনি 'আবদুল মালিক ইব্‌ন মারওয়ানকে দেখেছিলেন, 'আমর ইবন সা'ঈদ ইবন 'আসকে যেদিন হত্যা করা হয়, সেদিন তিনি বশীর ইবন আকরাবা জুহানী (রা) কে বলেছিলেন, হে আবুল ইয়ামান, আমি তোমার কথার প্রতি অধিক মুখাপেক্ষী তুমি দাঁড়াও এবং কথা বল। সে বললো, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি খুতবা দিতে দাঁড়ায় এবং মানুষকে দেখানো ও শুনানো ছাড়া কোন তার নিয়ত থাকে না, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে এমনভাবে দাঁড় করাবেন, যাতে মানুষ তার দোষত্রুটি দেখে ও শুনে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن عبد الله بن عوف الكناني (7) وكان عاملا لعمر بن عبد العزيز على الرملة انه شهد عبد الملك بن مروان قال لبشير بن عقربة الجهني يوم قتل عمرو بن سعيد بن العاص يا أبا اليمان قد احتجت اليوم الى كلامك فقم فتكلم قال اني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من قام بخطبة لا يلتمس بها إلا رياء وسمعة أوقفه الله عز وجل يوم القيامة موقف رياء وسمعة
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৪৯
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৯. 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি মানুষকে শুনানোর জন্য কাজ করে, আল্লাহ তার দোষ-ত্রুটি নিন্দনীয়ভাবে মানুষকে শুনাবেন এবং তাকে হেয় ও অবজ্ঞা করবেন, বর্ণনাকারী বলেন, একথা শুনে 'আবদুল্লাহর চোখ দিয়ে অশ্রু পরাহিত হতে থাকে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن عبد الله بن عمرو (8) أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من سمع الناس بعمله سمع الله به سامع خلقه وصغره وحقره قال (1) فذرفت عينا عبد الله
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৫০. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন প্রথমে তিন ব্যক্তির বিচার করা হবে। প্রথম ব্যক্তি শহীদ, তাকে হাজির করা হবে। এরপর পার্থিব জগতে তাকে যেসব নিয়ামত দেয়া হয়েছিল, সেগুলো তাকে দেখানো হবে এবং সে তা চিনতে পারবে। তাকে বলা হবে: এসব নিয়ামত তুমি কিভাবে ব্যবহার করেছ? সে বলবে: হে আল্লাহ্! আমি তোমার পথে জিহাদ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যে, লোকে তোমাকে বীর উপাধি দেবে, অবশ্য তা বলাও হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে হেঁচড়ে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। অপর এক ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছিল এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছিল, আর সে কুরআনও পাঠ করেছিল। তাকে ডেকে নিয়ে যেসব নিয়ামত তাকে দেয়া হয়েছিল, তা তাকে দেখানো হবে। সে তা চিনতে করবে। আল্লাহ্পাক বলবেন, এসব নিয়ামত তুমি কিভাবে কাজে লাগিয়েছ? সে উত্তর দিবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি। আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই জ্ঞান অর্জন করেছ যে, লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে। আর কুরআন এজন্যই পাঠ করেছ যে, তোমাকে কারী বলা হবে, আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে হেঁচড়ে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন সম্পদের যথেষ্ট প্রাচুর্য দান করেছেন। তাকে দেয়া নিয়ামতসমূহ তার সামনে হাজির করা হবে এবং সে তা চিনতে পারবে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তুমি এ ধন-সম্পদ কিভাবে ব্যবহার করেছ? সে বলবে, হে আল্লাহ! যে সব পথে খরচ করা তুমি পছন্দ কর, আমি তার প্রতিটি পথেই অর্থ-সম্পদ খরচ করেছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই অর্থ- সম্পদ খরচ করেছ যে, তোমাকে দানশীল বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে নিয়ে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে।
(তিরমিযি, মুসলিম)
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن سليمان بن يسار (2) قال تفرج الناس عن أبي هريرة (3) فقال له نأتل الشامي أيها الشيخ حدثنا حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان اول الناس يقضي فيه يوم القيامة ثلاثة رجل استشهد فإني به فعرفه نعمه فعرفها فقال وما عملت فيها؟ قال قاتلت فيك حتى قتلت قال كذبت ولكنك قاتلت ليقال هو جريئي فقد قيل ثم أمر به فيسحب على وجهه حتى القي في النار ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن فأتى به ليعرفه نعمه فعرفها فقال ما عملت فيها؟ قال تعلمت منك العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن فقال كذبت ولكنك تعلمت ليقال هو عالم فقد قيل وقرأت القرآن ليقال هو قارئ فقد قيل ثم أمر به فيسحب على وجهه حتى القي في النار ورجل وسع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله فأتى به فعرفه نعمه فعرفها فقال ما عملت فيها؟ قال ما تركت من سبيل تحب ان ينفق فيها إلا انفقت فيها لك قال كذبت ولكنك فعلت ذلك ليقال هو جواد فقد قيل ثم أمر به فيسجب على وجهه حتى القي في النار
হাদীস নং: ৫১
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৫১. আবু সা'ঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা পালাক্রমে রাসূল (ﷺ)-এর নিকট যেতাম এবং তাঁর প্রয়োজনে আমরা তাঁর নিকট অবস্থান করতাম, রাতে তাঁর কোন প্রয়োজনে তিনি আমাদেরকে পাঠাতেন। এভাবে ছাওয়াব প্রত্যাশী এবং পালাক্রমে আগত লোকদের সংখ্যা বেড়ে গেল। আর আমরা আলাপ করছিলাম, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে আমাদের নিকট বের হয়ে এসে বলেন, তোমরা, কিসের গোপন কথা বলছিলে? তোমাদেরকে কি আমি গোপন কথা বলতে নিষেধ করিনি? রাবী বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমরা আল্লাহর নিকট তওবা করছি। কিন্তু আমরা মসীহ দাজ্জালের আগমনের ভয়ের কথা স্মরণ করছি। তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করবো না, যা আমার মতে তোমাদের জন্য মসীহ দাজ্জালের চেয়েও ভয়ংকর। রাবী বলেন, আমরা বললাম, হাঁ, অবশ্যই। তিনি বলেন, গুপ্ত শিরক, যে আমল মানুষ লোকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য করে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن ابي سعيد الخدري (4) قال كنا نتناوب رسول الله صلى الله عليه وسلم فنبيت عنده تكون له الحاجة ويطرقه أمر من الليل فيبعثنا فيكثر المحتسبون وأهل النوب فكنا نتحدث (5) فخرج علينا رسول الله صلى الله عليه وسلم من الليل فقال ما هذه النجوى؟ الم أنهكم عن النجوى؟ قال قلنا نتوب إلى الله يا نبي الله إنما كان في ذكر المسيح فرقا (6) منه فقال ألا أخبركم بما هو أخوف عليكم من المسيح عندي؟ قال قلنا بلى قال الشرك الخفي ان يقوم الرجل يعمل لمكان رجل
হাদীস নং: ৫২
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৫২. ইবন আদরা' (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পাহারা দিচ্ছিলাম। এরপর তিনি তাঁর কোন প্রয়োজনে বের হলেন এবং আমাকে দেখে আমার হাত চেপে ধরলেন। তখন আমরা সামনে চললাম, তখন উচ্চস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করে নামায পড়া অবস্থায় এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। নবী করিম (ﷺ) বললেন, সম্ভবত: লোকটি মানুষকে দেখানোর জন্য তা করছে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সে তো নামাযে উচ্চস্বরে কুরআন পড়ছে (অর্থাৎ সে নেক লোক) আমার এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার হাত ছেড়ে দিলেন, তারপর বললেন, তোমরা এ কাজের পুরস্কার ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারবে না। তিনি বলেন, এরপর তিনি অন্য এক রাতে বের হন। এ সময় আমি তাকে পাহারা দিচ্ছিলাম। তিনি আমার হাত ধরলেন। এ সময় এক ব্যক্তি নামাযে কুরআন পড়ছিল, আমরা তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম। আমি বললাম, সম্ভবত: লোকটি মানুষকে দেখানোর জন্য উচ্চস্বরে কুরআন পড়ছে, তখন নবী করিম (ﷺ) বললেন, কখন ও নয়, সে তাওবা ও ইখলাছের সাথে আল্লাহর নিকট প্রত্যাবর্তনকারী। তিনি বলেন, আমি তাকিয়ে দেখলাম, সে 'আবদুল্লাহ 'যুলবিজাদাইন'।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن ابن الأدرع (1) قال كنت احرس النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فخرج لبعض حاجته قال فرآني فأخذ بيدي فانطلقنا فمررنا على رجل يصلي يجهر بالقرآن فقال النبي صلى الله عليه وسلم عسى أن يكون مرائيا (2) قال قلت يا رسول الله يصلي يجهر بالقرآن (3) قال فرفض يدي (4) ثم قال انكم لن تنالوا هذا الأمر (5) بالمغالبة قال ثم خرج ذات ليلة وانا احرسه لبعض حاجته فأخذ بيدي فمررنا على رجل يصلي بالقرآن قال فقلت عسى أن يكون مرائيا (6) فقال النبي صلى الله عليه وسلم كلا إنه أواب قال فنظرت فإذا هو عبد الله ذو البجادين
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৩
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৩. 'আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, যার অন্তরে শস্য পরিমাণ ঈমান থাকবে, সে দোযখে প্রবেশ করবে না। আর যার অন্তরে শস্য পরিমাণ অংহকার থাকবে, সে বেহেশতে প্রবেশ করবে না। এক ব্যক্তি বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমার কাছে এটা খুবই পছন্দনীয় যে, আমার পোশাক পরিচ্ছদ-পরিস্কার হোক, আমার চুল তেলযুক্ত হোক, আমার জুতা নতুন হোক, এভাবে তিনি বেশ কিছু জিনিসের উল্লেখ করলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তার চাবুকের কথাও বললেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! এসব কি অংহকারের মধ্যে পড়বে? রাসূল (ﷺ) বললেন, না। এসব সৌন্দর্য। আল্লাহ্ সুন্দর, তিনি সৌন্দর্যকে পছন্দ করেন। কিন্তু অহংকার হলো সত্যকে গুরুত্বহীন মনে করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن عبد الله بن مسعود (8) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل النار من كان في قلبه مثقال حبة من ايمان ولا يدخل الجنة من كان في قلبه مثقال حبة من كبر فقال رجل يا رسول الله اني ليعجبني ان يكون ثوبي غسيلا ورأسي دهينا وشراك نعلي جديدا وذكر أشياء حتى ذكر علاقة سوطه افمن الكبر ذاك يا رسول الله؟ قال لا ذاك الجمال إن الله جميل يحب الجمال ولكن الكبر صفه الحق وازدرى الناس
হাদীস নং: ৫৪
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৪. 'উকবা ইবন আমির (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে, আর মৃত্যুর সময় তার অন্তরে শস্য পরিমাণ অহংকার থাকবে। তার জন্য জান্নাতের সুগন্ধি হালাল হবে না এবং সে তা দেখবেও না। তখন কুরায়শ গোত্রের রায়হানা নামে এক ব্যক্তি বললো, আল্লাহর শপথ! হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি সৌন্দর্যকে পছন্দ করি। এরপর সে 'আবদুল্লাহ ইবন মাস'উদ (রা)-এর অনুরূপ হাদীস উল্লেখ করে।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن عقبة بن عامر (9) أنه سمع رسول الله صلى اللهعليه وسلم يقول ما من رجل يموت حين يموت وفي قلبه مثقال حبة من خردل من كبر تحل له الجنة ان يريح ريحها ولا يراها فقال رجل من قريش يقال له أبو ريحانه والله يا رسول الله اني لأحب الجمال وذكر نحو حديث عبد الله بن مسعود
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৫
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৫. আবু রায়হানা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, অহংকারের কোন জিনিসই জান্নাতে প্রবেশ করবে না। তখন আবু রায়হানা বলেন, হে আল্লাহ্ নবী! আমি আমার চাবুকের রশি ও জুতার ফিতা সুন্দর রাখতে পছন্দ করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এ কাজ অহংকার নয়। নিশ্চয় আল্লাহ্ পাক সুন্দর, তিনি সুন্দরকে পছন্দ করেন। আর অহংকার হলো, সত্যকে অবজ্ঞা করা এবং মানুষকে হেয় প্রতিপন্ন করা।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن أبي ريحانه (1) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يدخل شيء من الكبر الجنة فقال قائل (2) يا نبي الله اني احب ان اتجمل بحبلان سوطي وشسع نعلي فقال النبي صلى الله عليه وسلم ان ذلك ليس بالكبر ان الله عز وجل جميل يحب الجمال انما الكبر من سفه الحق وغمص الناس بعينيه (3) يعني بالحبلان سير السوط وشسع النعل
হাদীস নং: ৫৬
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৬. 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর ইবনুল 'আস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহর নবী নূহ (আ) যখন মৃত্যু শয্যায়, তখন তিনি তার ছেলেকে বলেন, আমি তোমাকে ওসীয়ত করব। আমি তোমাকে দুটি কাজের আদেশ দিচ্ছি এবং দুটি জিনিস বর্জন করার নির্দেশ দিচ্ছি। তোমাকে "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ" বলার নির্দেশ দিচ্ছি। এরপর তিনি এর ফযিলত বর্ণনা করেন এবং "সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহী" এরও ফযিলত বর্ণনা করেন। এরপর বলেন, আমি তোমাকে শিরক ও অহংকার থেকে মুক্ত থাকার নির্দেশ দিচ্ছি। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, শিরক তো বুঝতে পারলাম, কিন্তু অহংকার কি? আমাদের কারও দুটি সুন্দর জুতা হবে, সেগুলোর ফিতা সুন্দর হোক, এটা কি অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। আমাদের কারও জুব্বা থাকবে এবং তা পরিধান করবে, তাও কি অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। তিনি বলেন, আমাদের কারও ভারবাহী পশু থাকে আর সে যদি তাতে আরোহণ করে, তাও কি অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। আমাদের কারো অনেক সঙ্গী-সাথী থাকে যাদের কাছে সে বসে তাও কি অহংকার হবে? তিনি বললেন, না। তখন বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! তাহলে অহংকার কি? রাসূল (ﷺ) বললেন, সত্যকে অবজ্ঞা করা ও মানুষকে হেয় মনে করা অহংকারের মধ্যে গণ্য।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن عبد الله بن عمرو (4) أن النبي صلى الله عليه وسلم قال ان نبي الله نوحا لما حضرته الوفاة قال لابنه اني قاص عليك الوصية آمرك باثنتين وانهاك عن اثنتين آمرك بلا إله إلا الله (فذكر فضلها) (5) وسبحان الله وبحمده فذكر فضلها ثم قال وانهاك عن الشرك والكبر قال قلت أو (6) قيل يارسول الله هذا الشرك قد عرفناه فما الكبر؟ قال ان يكون لأحدنا نعلان حسنتان لهما شراكان حسنان؟ قال لا قال هو أن قال هو ان يكون لأحدنا حلة يلبسها قال لا قال الكبر هو أن يكون لأحدنا دابة يركبها؟ قال لا قال أفهو ان يكون لأحدنا أصحاب يجلسون اليه؟ قال لا قيل يا رسول الله فما الكبر؟ قال سفه الحق (7) وغمص الناس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৭
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৭. আবু হাইয়‍ান (রা) তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একবার 'আমর ইবনুল 'আস ও 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমরের মাঝে সাক্ষাৎ হলে 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'উমর কান্নারত অবস্থায় এগিয়ে আসলেন। তখন লোকেরা তাকে জিজ্ঞেস করলো, হে 'আবদুর রহমান! তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, যে হাদীস ইনি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে মানুষের অন্তরে শস্য পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।
তার দ্বিতীয় বর্ণনায় আবূ সালমা ইবন 'আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমর ও 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'আমর ইবনুল 'আসের সাথে মারওয়ায় দেখা হয়, উভয়ই হাদীস বর্ণনা করলেন। এরপর 'আবদুল্লাহ ইব্‌ন 'উমর (রা) স্থান ত্যাগ করলেন, আর 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমর সেখানে দাঁড়িয়ে কাঁদতে লাগলেন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললো, হে 'আবদুর রহমান! তোমাকে কে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন 'আবদুল্লাহ ইবন 'আমর (রা) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছেন, যার অন্তরে শস্য পরিমাণ অহংকার থাকবে, আল্লাহ তাকে উপুড় করে দোযখে নিক্ষেপ করবেন।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن أبي حيان عن أبيه (1) قال التقي عبد الله بن عمرو (يعني ابن العاص) وعبد الله بن عمر ثم اقبل عبد الله بن عمر وهو يبكي فقال القوم ما يبكيك يا ابا عبد الرحمن؟ قال الذي حدثني هذا قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول لا يدخل الجنة انسان في قلبه مثقال حبة من خردل من كبر (ومن طريق ثان) (2) عن أبي سلمة بن عبد الرحمن قال التقى عبد الله بن عمر وعبد الله بن عمرو بن العاص على المروة فتحدثا ثم مضى عبد الله بن عمرو وبقي عبد الله بن عمر يبكي فقال له رجل ما يبكيك يا أبا عبد الرحمن؟ قال هذا يعني عبد الله بن عمرو زعم انه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من كان في قلبه مثقال حبة من خردل من كبر أكبه الله على وجهه في النار
হাদীস নং: ৫৮
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৮. হুমায়দ ইবন 'আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইবন মাসউদ (রা) বলেছেন, আমাকে রাসূলের অমুক অমুক গোপন কথা শুনতে বাধা দেওয়া হত না। ইবন আউফ বলেন তিনি একটি কথা ভুলে যান এবং আমিও একটি ভুলে যাই। ইবন মাসউদ (রা) বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসলাম, তখন সেখানে মালিক ইব্‌ন মুরারা রাহাউয়ী (রা) উপস্থিত ছিলেন। সে সময় আমি তার কথার শেষ অংশটি পেলাম, সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমাকে যে সৌন্দর্য দেয়া হয়েছে তা আপনি জানেন, আমি এটা পছন্দ করি না যে আমাদের মাঝে কেউ জুতার ফিতার ক্ষেত্রেও আমার চেয়ে অধিক সুন্দর হবে, এ ব্যাপারে আপনার মত কি? এটা কি বাড়াবাড়ি ও অন্যায় হবে না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, না, এটা অন্যায় হবে না। কিন্তু অন্যায় হবে অহংকারী হলে। তিনি বলেন, আর তা হলো সত্যকে অবজ্ঞা করা ও মানুষকে হেয় জ্ঞান করা।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن حميد بن عبد الرحمن (3) قال قال ابن مسعود كنت لا أحجب عن النجوى (4) ولا عن كذا ولا عن كذا قال ابن عون (5) فنسى واحدة ونسيت أنا واحدة قال فأتيته (6) وعنده مالك بن مراوة الرهاوى فأدركت من آخر حديثه وهو يقول يارسول الله قد قسم لي من الجمال ما ترى فما أحب أن أحدا من الناس فضلني بشراكين (7) فما فوقهما أفليس ذلك هو البغى؟ قال لا ليس ذلك البغى لكن البغى من بطر (8) قال أو قال سفه الحق وغمط (9) الناس
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৫৯
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৫৯. ইবন 'উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যে নিজেকে মর্যাদাবান মনে করে, অথবা তার চালচলনে অহংকার প্রকাশ পায়, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এমন অবস্থায় যে আল্লাহ্ তার উপর রাগান্বিত।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن ابن عمر (10) قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من تعظم في نفسه أو اختال في مشيته لقى الله وهو عليه غضبان
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ৬০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৬০. 'আবদুর রহমান ইবন গানাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অর্থ সম্পদ জমাকারী কৃপণ ব্যক্তি, অসৎ চরিত্রবান লোক, এবং জারজ সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن عبد الرحمن بن غنم (11) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة الجواظ (1) والجعظري والعتل والزنيم