মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৫
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৪৫. ইবন গানাম (র) বলেন, আমি এবং আবু দারদা (রা) যখন জাবীয়ার মসজিদে প্রবেশ করলাম, তখন আমাদের সাথে 'উবাদা ইবন সামিত (রা)-এর সাক্ষাত হলো। তিনি বাম হাত দিয়ে আমার ডান হাত ধরলেন এবং তার ডান হাত দিয়ে আবু দারদার বাম হাত ধরলেন। এভাবে আমরা বের হয়ে চলতে লাগলাম এবং আলাপ করছিলাম, আল্লাহ ভাল জানেন আমরা কি সম্পর্কে আলাপ করছিলাম। তখন 'উবাদা (রা) বললেন, যদি তোমাদের কেউ দীর্ঘ জীবন অথবা উভয়েই দীর্ঘ জীবন লাভ কর, তবে তোমরা মুসলমানদের মধ্যে উঁচু মর্যাদা সম্পন্ন কাউকে দেখতে পাবে যে, সে রাসূল (ﷺ)-এর যবানে কুরআন তেলাওয়াত করছে, আবার পুনরাবৃত্তি করছে এবং প্রকাশ করছে, আর হালালকে হালাল করছে এবং হারামকে হারাম করে শরীয়তের নির্দিষ্টস্থানে অবস্থান করছে। অথচ সে তোমাদের মধ্যে মৃত গাধার মাথা যেমন মূল্যহীন, তেমনি মূল্যহীন বিবেচিত হবে। আমরা যখন এ অবস্থায় ছিলাম, তখন আমাদের নিকট শাদ্দাদ ইবন 'আউস এবং 'আউফ ইবন মালিক (রা) উপস্থিত হলেন। তিনি আমাদের নিকট বসলে শাদ্দাদ (রা) বললেন, হে মানুষ! আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে গোপন কামনা ও শিরক সম্পর্কে যা বলতে শুনেছি, সে সম্পর্কে যেভাবে আমি ভয় করছি, তোমাদেরকেও সেভাবে ভয় দেখাচ্ছি! তখন 'উবাদা ইবন সামিত ও আবূদারদা (রা) বললেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে ক্ষমা কর। আল্লাহর রাসূল কি আমাদেরকে বলেননি, শয়তান আরব ভূমিতে তার ইবাদত থেকে নিরাশ হয়েছেন। আর গোপন কামনা, সে সম্পর্কে আমরা জানি, তা হলো দুনিয়ার প্রতি আসক্তি ও নারীর প্রতিও কামনা বাসনা। কিন্তু হে শাদ্দাদ, তুমি আমাদেরকে যে শিরিক সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছ, সেটা কি? তখন শাদ্দাদ (রা) বললেন, তোমরা ভেবে দেখ, যদি তোমরা দেখ কোন ব্যক্তি অন্যকে প্রদর্শনের জন্য নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং সদকা করে? তোমরা কি মনে করো না যে, সে শিরক করে? তারা বললো, হাঁ। আল্লাহর শপথ! যে ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে প্রদর্শনের জন্য নামায পড়ে অথবা রোযা রাখে অথবা সদকা করে, সে শিরক করে। এরপর শাদ্দাদ (রা) বললেন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য নামায পড়ে, সে শিরক করে; যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য রোযা রাখে, সে শিরক করে এবং যে ব্যক্তি মানুষকে দেখানোর জন্য সদকা করে, সে শিরক করে, তখন 'আউফ ইব্ন মালিক বললেন, আল্লাহ্ কি বান্দার ঐ সমস্ত আমলের দিকে দৃষ্টি দেননা, যা একনিষ্ঠভাবে তার জন্য করা হয়। তারপর যা তার জন্য একনিষ্ঠভাবে করা হয় তা কবুল করবেন আর যার মধ্যে অন্যকে শরিক করা হয়, সেগুলো বাদ দিতে পারেন না? তখন শাদ্দাদ (রা) বললেন, আমি রাসূল (ﷺ) কে বলতে শুনেছি যে ব্যক্তি আমার সাথে কাউকে শরিক করে, আমি তার থেকে দায়মুক্ত। আমার সাথে যদি কেউ কোন কিছুতে শরিক করে, তার কম বেশী যাবতীয় আমল ঐ শরিকের জন্য, যার সাথে আমাকে শরিক করা হয়েছে, আমি সেগুলো থেকে সম্পূর্ণ নির্মুখাপেক্ষী।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
حدثنا أبو النضر (4) قال ثنا عبد الحميد يعني بن بهرام قال قال شهر بن حوشب قال ابن غنم لما دخلنا مسجد الجابية أنا وأبو الدرداء لقينا عبادة بن الصامت فأخذ يميني بشماله وشمال أبي الدرداء بيمينه فخرج يمشي بيننا ونحن نتنجى (5) والله أعلم فيما نتناجى (6) وذاك قوله فقال عبادة بن الصامت لئن طال بكما عمر أحدكما أو كلاكما لتوشكان أن تريا بالرجل من ثبج (7) المسلمين يعني من وسط قراء القرآن على لسان محمد (وفي رواية على لسان أخيه قراءة على لسان محمد صلى الله عليه وسلم) فأعاده وأبدله واحل حلاله وحرم حرامه ونزل عند منازله لا يحور فيكم (8) إلا كما يحور رأس الحمار الميت قال فبينا نحن كذلك إذ طلع شداد بن أوس وعوف بن مالك فجلسا الينا فقال شداد إن اخوف ما أخاف عليكم أيها الناس لما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من الشهوة الخفية والشرك فقال عبادة بن الصامت وأبو الدرداء اللهم غفرا (9) أو لم يكن رسول الله صلى الله عليه وسلم حدثنا ان الشيطان قد يئس أن يعبد في جزيرة العرب فأما الشهوة الخفية فقد عرفناها هي شهوات الدنيا من نسائها وشهواتها فما هذا الشرك الذي تخوفنا به يا شداد؟ فقال شداد أرأيتكم لو رأيتم رجلا يصلي لرجل أو يصوم له أو يتصدق له أترون أنه قد أشرك؟ قالوا نعم والله ان من صلى لرجل أو صام له أو تصدق له فقد أشرك فقال شداد فإني قد سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول من صلى يرائي فقد أشرك ومن صام يرائي فقد اشرك ومن تصدق يرائي فقد أشرك فقال عوف بن مالك عند ذلك أفلا يعمد إلى ما ابتغي فيه وجهه من ذلك العمل كله فيقبل ما خلص له ويدع ما يشرك به؟ فقال شداد عند ذلك فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول أنا خير قسيم (1) لمن اشرك بي من أشرك بي شيئا فان حشده (2) عمله قليله وكثيره لشريكه الذي اشرك به وانا عنه غني
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহর সত্তা, গুণ, অধিকার এবং ক্ষমতার সাথে কোন বস্তু, মানুষ বা প্রতিষ্ঠানকে শরীক করা শিরক। কোন ব্যক্তি, বস্তু বা প্রতিষ্ঠানকে আল্লাহ বলা বা আল্লাহর মর্যাদা দান করা বা আল্লাহর ক্ষমতা ও অধিকার কারো প্রতি জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে আরোপ করা শিরক। যে ব্যাক্তি শিরক করে, আল্লাহ তাকে খুব অপসন্দ করেন এবং তাকে আখিরাতে আগুনের আযাবের দ্বারা শাস্তি প্রদান করবেন।
রিয়া বা লোক দেখানো সৎকাজও এক ধরনের শিরক। যদি কোন বিশ্বাসী ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য সৎকর্ম করে, তাহলে তার ঈমান এবং নামায, রোযা, যাকাত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও তাকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহর আদালতে সে শিরকের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। নেক আমল করার ব্যাপারে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নিয়্যত বিশুদ্ধ হলে সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়্যত বিশুদ্ধ না হলে শুধু নেক আমল বরবাদই হবে না, তার সাথে তথাকথিত নেক আমলকারীকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।
রিয়া বা লোক দেখানো সৎকাজও এক ধরনের শিরক। যদি কোন বিশ্বাসী ব্যক্তি লোক দেখানোর জন্য সৎকর্ম করে, তাহলে তার ঈমান এবং নামায, রোযা, যাকাত প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও তাকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহর আদালতে সে শিরকের অভিযোগে অভিযুক্ত হবে। নেক আমল করার ব্যাপারে খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। নিয়্যত বিশুদ্ধ হলে সওয়াব পাওয়া যাবে। নিয়্যত বিশুদ্ধ না হলে শুধু নেক আমল বরবাদই হবে না, তার সাথে তথাকথিত নেক আমলকারীকেও শাস্তি ভোগ করতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)