মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
হাদীস নং: ৬০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদ : গর্ব ও অহংকার বিষয়ে ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গ
৬০. 'আবদুর রহমান ইবন গানাম (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, অর্থ সম্পদ জমাকারী কৃপণ ব্যক্তি, অসৎ চরিত্রবান লোক, এবং জারজ সন্তান জান্নাতে প্রবেশ করবে না।
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الكبر والخيلاء
عن عبد الرحمن بن غنم (11) قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يدخل الجنة الجواظ (1) والجعظري والعتل والزنيم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
ইমাম নববী রহ. عتل -এর অর্থ করেছেন কঠোর-কঠিনপ্রাণ। তিনি جواظ -এর অর্থ করেছেন, এমন ব্যক্তি, যে ধন-সম্পদ খুব সঞ্চয় করে কিন্তু তা থেকে গরীব-দুঃখীকে কিছু দেয় না । তিনি বলেন, কারও মতে এর অর্থ মোটাতাজা শরীরের এমন লোক, যে দর্পিত ভঙ্গিতে চলাফেরা করে। কেউ বলেন, খাটো ভুঁড়িওয়ালা লোক।
শব্দদু'টির এছাড়া আরও ব্যাখ্যা আছে। যেমন কেউ বলেন, عتل অর্থ কাফের। দাউদী রহ. বলেন, মোটাতাজা শরীরের এমন লোক, যার ঘাড় মোটা ও পেট বড়। হারাবী রহ. বলেন, এমন ব্যক্তি, যে ধন-সম্পদ খুব সঞ্চয় করে কিন্তু তা থেকে গরীব দুঃখীকে কিছু দেয় না। আবার কেউ বলেন, খাঁটো দেহের স্থূলোদর ব্যক্তি। কারও মতে, এমন লোক, যে খুব বেশি পানাহার করে ও অন্যদের উপর জুলুম-অত্যাচার চালায়। কারও মতে এর অর্থ অত্যধিক কলহ-বিবাদকারী ও হীন স্বভাববিশিষ্ট। আবার কেউ বলেন, এমন কঠোর-কঠিন চরিত্রের লোক, যে ভালো কিছু মানতে চায় না। শব্দটির ব্যাখ্যা সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেন-
هو الشديد الخلق المصحح، الأكول الشروب، الواجد للطعام والشراب، الظلوم للناس، رحيب الجوف
‘পরিপুষ্ট, শক্ত-সমর্থ, সুস্থ-সবল লোক, যে খুব বেশি পানাহার করে, পানাহার সামগ্রী যার হস্তগত, মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচারকারী ও স্থূলোদর ব্যক্তি।২৪৩
جواظ -এর অর্থ ইমাম নববী রহ. যা বলেছেন, বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে এর সমর্থনে হাদীছও উদ্ধৃত হয়েছে। হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীছে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এর অর্থ কী? তিনি বলেন, এমন লোক, যে খুব অর্থ-সম্পদ জমা করে, কিন্তু সে কৃপণ, তা থেকে কাউকে কিছু দেয় না।
ইমাম খাত্তাবী ও জাওহারী রহ. শব্দটির অর্থ করেছেন স্থূলদেহী ও চালচলনে অহংকারী। নেহায়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এর অর্থ খাটো, লোভাতুর ও স্থূলোদর, পেট ভরে খাওয়া ছাড়া যার অন্য কোনও চিন্তা নেই।
এ শব্দদু'টির যেসকল অর্থ বর্ণিত হয়েছে তা সবই নিন্দনীয় স্বভাবের পরিচায়ক। এর কোনওটিই ইসলাম পসন্দ করে না। বিভিন্ন হাদীছে এর নিন্দা জানানো হয়েছে ও মুমিনদেরকে এর ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যেমন হাদীছ দ্বারা জানা যায়, কঠোর-কঠিন স্বভাবের লোক আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। লোভ-লালসাবশে অর্থ সঞ্চয় করা এবং তা থেকে গরীব-দুঃখীকে কিছু না দেওয়া কাফের-মুনাফিকের স্বভাব। অহংকারী ও দর্পিত স্বভাবের লোক জান্নাতে যাবে না। ভোগ-বিলাসিতায় মেতে থাকার কারণে মোটাতাজা হয়ে যাওয়াটা আখেরাতবিমুখিতার লক্ষণ। তর্কপ্রবণতা ও সত্যগ্রহণে অস্বীকৃতি ছিল ঘোর কাফেরদের খাসলাত। কুরআন মাজীদে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আলোচ্য হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ শব্দদু'টির উল্লেখ করে আমাদের সাবধান করেছেন যে, এর দ্বারা যে নিন্দনীয় স্বভাব বোঝানো হয়ে থাকে তা থেকে তোমরা দূরে থাকবে। কেননা এ স্বভাবের লোক জাহান্নামে যাবে।
শব্দদু'টির এছাড়া আরও ব্যাখ্যা আছে। যেমন কেউ বলেন, عتل অর্থ কাফের। দাউদী রহ. বলেন, মোটাতাজা শরীরের এমন লোক, যার ঘাড় মোটা ও পেট বড়। হারাবী রহ. বলেন, এমন ব্যক্তি, যে ধন-সম্পদ খুব সঞ্চয় করে কিন্তু তা থেকে গরীব দুঃখীকে কিছু দেয় না। আবার কেউ বলেন, খাঁটো দেহের স্থূলোদর ব্যক্তি। কারও মতে, এমন লোক, যে খুব বেশি পানাহার করে ও অন্যদের উপর জুলুম-অত্যাচার চালায়। কারও মতে এর অর্থ অত্যধিক কলহ-বিবাদকারী ও হীন স্বভাববিশিষ্ট। আবার কেউ বলেন, এমন কঠোর-কঠিন চরিত্রের লোক, যে ভালো কিছু মানতে চায় না। শব্দটির ব্যাখ্যা সম্পর্কে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। তিনি উত্তরে বলেন-
هو الشديد الخلق المصحح، الأكول الشروب، الواجد للطعام والشراب، الظلوم للناس، رحيب الجوف
‘পরিপুষ্ট, শক্ত-সমর্থ, সুস্থ-সবল লোক, যে খুব বেশি পানাহার করে, পানাহার সামগ্রী যার হস্তগত, মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচারকারী ও স্থূলোদর ব্যক্তি।২৪৩
جواظ -এর অর্থ ইমাম নববী রহ. যা বলেছেন, বিভিন্ন তাফসীর গ্রন্থে এর সমর্থনে হাদীছও উদ্ধৃত হয়েছে। হযরত ইবন আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত এক হাদীছে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এর অর্থ কী? তিনি বলেন, এমন লোক, যে খুব অর্থ-সম্পদ জমা করে, কিন্তু সে কৃপণ, তা থেকে কাউকে কিছু দেয় না।
ইমাম খাত্তাবী ও জাওহারী রহ. শব্দটির অর্থ করেছেন স্থূলদেহী ও চালচলনে অহংকারী। নেহায়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে, এর অর্থ খাটো, লোভাতুর ও স্থূলোদর, পেট ভরে খাওয়া ছাড়া যার অন্য কোনও চিন্তা নেই।
এ শব্দদু'টির যেসকল অর্থ বর্ণিত হয়েছে তা সবই নিন্দনীয় স্বভাবের পরিচায়ক। এর কোনওটিই ইসলাম পসন্দ করে না। বিভিন্ন হাদীছে এর নিন্দা জানানো হয়েছে ও মুমিনদেরকে এর ব্যাপারে সাবধান করা হয়েছে। যেমন হাদীছ দ্বারা জানা যায়, কঠোর-কঠিন স্বভাবের লোক আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে। লোভ-লালসাবশে অর্থ সঞ্চয় করা এবং তা থেকে গরীব-দুঃখীকে কিছু না দেওয়া কাফের-মুনাফিকের স্বভাব। অহংকারী ও দর্পিত স্বভাবের লোক জান্নাতে যাবে না। ভোগ-বিলাসিতায় মেতে থাকার কারণে মোটাতাজা হয়ে যাওয়াটা আখেরাতবিমুখিতার লক্ষণ। তর্কপ্রবণতা ও সত্যগ্রহণে অস্বীকৃতি ছিল ঘোর কাফেরদের খাসলাত। কুরআন মাজীদে এর তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। আলোচ্য হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ শব্দদু'টির উল্লেখ করে আমাদের সাবধান করেছেন যে, এর দ্বারা যে নিন্দনীয় স্বভাব বোঝানো হয়ে থাকে তা থেকে তোমরা দূরে থাকবে। কেননা এ স্বভাবের লোক জাহান্নামে যাবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)