মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়

হাদীস নং: ৫০
কবীরা ও অন্যান্য গুনাহের বর্ণনা অধ্যায়
পরিচ্ছেদ: 'রিয়া' সম্পর্কে ভীতি প্রদর্শন আর 'রিয়া' হলো গোপন শিরক
৫০. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন প্রথমে তিন ব্যক্তির বিচার করা হবে। প্রথম ব্যক্তি শহীদ, তাকে হাজির করা হবে। এরপর পার্থিব জগতে তাকে যেসব নিয়ামত দেয়া হয়েছিল, সেগুলো তাকে দেখানো হবে এবং সে তা চিনতে পারবে। তাকে বলা হবে: এসব নিয়ামত তুমি কিভাবে ব্যবহার করেছ? সে বলবে: হে আল্লাহ্! আমি তোমার পথে জিহাদ করেছি এবং শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলছ। বরং তুমি এ জন্য যুদ্ধ করেছ যে, লোকে তোমাকে বীর উপাধি দেবে, অবশ্য তা বলাও হয়েছে। অতঃপর নির্দেশ দেয়া হবে, তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে হেঁচড়ে তাকে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। অপর এক ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছিল এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছিল, আর সে কুরআনও পাঠ করেছিল। তাকে ডেকে নিয়ে যেসব নিয়ামত তাকে দেয়া হয়েছিল, তা তাকে দেখানো হবে। সে তা চিনতে করবে। আল্লাহ্পাক বলবেন, এসব নিয়ামত তুমি কিভাবে কাজে লাগিয়েছ? সে উত্তর দিবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি এবং তা অন্যকে শিক্ষা দিয়েছি। আর তোমার সন্তুষ্টির জন্য কুরআন পাঠ করেছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই জ্ঞান অর্জন করেছ যে, লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলবে। আর কুরআন এজন্যই পাঠ করেছ যে, তোমাকে কারী বলা হবে, আর তা বলা হয়েছে। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দেয়া হবে এবং তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে হেঁচড়ে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে। আর এক ব্যক্তিকে আল্লাহ ধন সম্পদের যথেষ্ট প্রাচুর্য দান করেছেন। তাকে দেয়া নিয়ামতসমূহ তার সামনে হাজির করা হবে এবং সে তা চিনতে পারবে তাকে জিজ্ঞেস করা হবে: তুমি এ ধন-সম্পদ কিভাবে ব্যবহার করেছ? সে বলবে, হে আল্লাহ! যে সব পথে খরচ করা তুমি পছন্দ কর, আমি তার প্রতিটি পথেই অর্থ-সম্পদ খরচ করেছি। আল্লাহ্ বলবেন, তুমি মিথ্যা বললে, বরং তুমি এজন্যই অর্থ- সম্পদ খরচ করেছ যে, তোমাকে দানশীল বলা হবে। আর তা বলাও হয়েছে। তার সম্পর্কে নির্দেশ দেয়া হবে, তখন তাকে উপুড় করে মুখের উপর টেনে নিয়ে দোযখে নিক্ষেপ করা হবে।
(তিরমিযি, মুসলিম)
كتاب الكبائر وأنواع اخرى من المعاصي
باب ما جاء في الترهيب من الرياء وهو الشرك الخفي نعوذ بالله منه
عن سليمان بن يسار (2) قال تفرج الناس عن أبي هريرة (3) فقال له نأتل الشامي أيها الشيخ حدثنا حديثا سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول ان اول الناس يقضي فيه يوم القيامة ثلاثة رجل استشهد فإني به فعرفه نعمه فعرفها فقال وما عملت فيها؟ قال قاتلت فيك حتى قتلت قال كذبت ولكنك قاتلت ليقال هو جريئي فقد قيل ثم أمر به فيسحب على وجهه حتى القي في النار ورجل تعلم العلم وعلمه وقرأ القرآن فأتى به ليعرفه نعمه فعرفها فقال ما عملت فيها؟ قال تعلمت منك العلم وعلمته وقرأت فيك القرآن فقال كذبت ولكنك تعلمت ليقال هو عالم فقد قيل وقرأت القرآن ليقال هو قارئ فقد قيل ثم أمر به فيسحب على وجهه حتى القي في النار ورجل وسع الله عليه وأعطاه من أصناف المال كله فأتى به فعرفه نعمه فعرفها فقال ما عملت فيها؟ قال ما تركت من سبيل تحب ان ينفق فيها إلا انفقت فيها لك قال كذبت ولكنك فعلت ذلك ليقال هو جواد فقد قيل ثم أمر به فيسجب على وجهه حتى القي في النار

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আল্লাহর পথে জিহাদ করে শাহাদাত বরণ করা, আল্লাহর দীনের ইলম হাসিল করা ও তা মানুষকে শিক্ষা দান করা এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ মুক্তহস্তে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দেয়া মহান ইবাদত। এ গুরুত্বপূর্ণ কুরবানীর প্রতিদানও মহান। আল্লাহ কিয়ামতের দিন শহীদ, আলিম এবং দাতাকে খুব সম্মানিত করবেন। তিনি তাদেরকে জান্নাতের বুলন্দ মাকাম দান করবেন। কিন্তু দুনিয়ার যিন্দেগীতে উল্লিখিত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আমলের জন্য বিরাট কুরবানী দান করা সত্ত্বেও কোন কোন লোক কিয়ামতের দিন দোযখে নিক্ষিপ্ত হবে। নেক কাজ করার পেছনে দুনিয়ার যশ ও সুখ্যাতির মোহ থাকার কারণে তারা কোন সওয়াব লাভ করা তো দূরের কথা, আল্লাহর ক্রোধ ও আযাব ভোগ করবে। বস্তুত রিয়া মানুষের মহান ইবাদতকে ধ্বংসে ও বরবাদ করে দেয়।

আল্লাহ রিয়াকারীদের প্রতি এতবেশি নারায ও রাগান্বিত যে, তিনি কিয়ামতের দিন কাফির, ফাজির, মুশরিক, চোর, বদমায়েশ, ব্যভিচারী প্রভৃতি মারাত্মক অপরাধীদের বিচার করার পূর্বে রিয়াকারীদের বিচার করবেন। আল্লাহ আমাদেরকে রিয়া থেকে রক্ষা করুন। আমীন-সুম্মা আমীন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান