দমসাধনা, রতিনিরোধ বা নাড়ার ফকির : জন্মনিয়ন্ত্রণ মিশন। বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৮
দমসাধনা, রতিনিরোধ বা নাড়ার ফকির : জন্মনিয়ন্ত্রণ মিশন। বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৮
জনসংখ্যা বৃদ্ধি ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য, যার দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ে বিশেষ উপকারিতা রয়েছে।
বাউল ধর্মে কী বলে?
এ প্রসঙ্গে সাবেক লালন একাডেমিক পরিচালক এড. আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
বাউলসাধনার সাথে জন্মনিয়ন্ত্রণের একটি সুনিবিড় সংযোগ আছে । বাউল সাধনা তাই এক অর্থে জন্মনিয়ন্ত্রণ সাধনা। এ সাধনা কেবল রতিনিরোধের সাধনা বলে চিহ্নিত করা সংগত নয়। সহজিয়া বৈষ্ণব এবং অন্য মতাবলম্বীরা রতিনিরোধে বিশ্বাসী। তারা পূর্ণভাবেই সন্তান-জন্মদানে বিশ্বাসী নয়। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৮১)
তিনি আরো বলেন—
বলেছি, তৎকালীন ব্রাহ্মণ্যশাসিত সমাজে নানা কদাচার ও নৈতিক অধঃপতনের জন্ম হয়েছিল। কাম প্রবৃত্তি চরিতার্থ করার জন্য বিত্তবানদের ঘরে দাসী রাখা হতো। অষ্টম শতকের পূর্ব থেকেই ব্রাহ্মণ্য আমলে যৌনাচার ধর্মে স্বীকৃতি পাবার পর থেকে রতিনিরোধ সাধনাও গুরুত্ব পেয়েছিল। সহজিয়া বৌদ্ধদের মতো তৎকালীন অন্যান্য বৌদ্ধসমাজেও রতিনিরোধ সাধনা অনুসরিত হচ্ছিল। সহজিয়া ধর্মে যোগভিত্তিক সাধনা কর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত। এই সাধনা মূলত রতিনিরোধ সাধনা। শরীরের মধ্যে যে বত্রিশ নাড়ি আছে তার মধ্য দিয়ে শক্তি অর্থাৎ বীর্যকে মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ প্রদেশে প্রবাহিত করা এই সাধনার লক্ষ্য। এই স্থানটিকে সহস্রদল পদ্ম বা সহস্রার রূপে কল্পনা করা হয়েছে। মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ প্রদেশে পৌছুবার পথে দেহাভ্যন্তরে বিভিন্ন নাড়ির বিরাম ও সংযোগস্থল আছে। এগুলোকে পদ্ম ও চক্র নামে অভিহিত করা হয়। অতঃপর বীর্য বা শক্তি যখন মস্তিষ্কের সর্বোচ্চ প্রদেশে অর্থাৎ মহাসূক্ষ্ম স্থানে পৌঁছে তখন সাধনার শেষ এবং সাধনার পরম ও চরম আনন্দ বা মহাসুখ লাভ হয়। এই রতিসাধনা যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে সংঘটিত হতো সে সম্পর্কে চর্যাগীতিকায় বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৬৭)
বৈষ্ণব মতবাদের এই বিন্দুসাধনাকে কেন্দ্র করে ‘নাড়া’ মতাদর্শের জন্ম । ‘নাড়া’ অর্থে শাখা-প্রশাখাহীন একক সত্তা। সাধারণ কথায় যার কোনো সন্তানাদি হয়নি কিংবা নাই, সে নাড়া। এই মতাদর্শের উৎস মূল চর্যাগীতিকায় নিহিত। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৬৯)
অধিক সন্তান বাউলেরা কামনা করেনি। কারণ তারা মনে করে অধিক সন্তান হলে নিরবচ্ছিন্নভাবে স্রষ্টার প্রেমে নিজেকে উৎসর্গ করা যায় না। দুদ্দু আরেকটি গানে বলেন :
শরিকের উল্টা কলে পড়ো নারে ভাই কখন
দেখ না এই জগতে সবাই, শরিকের যাতনায় কষ্ট পাই
দীনো হীনো দুদ্দু বলে তাই, শরিকেই মৃত্যুর কারণ॥ —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৭৮)
দমসাধনা : বাউলধারায় সম্পৃক্ত কেউ কেউ (যশোর, নদীয়া, কুষ্টিয়া, রাজশাহীসহ কয়েকটি অঞ্চল) সংসারত্যাগী হয়ে সাধনসঙ্গী গ্রহণ করে সাধনা চালাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ (সিলেট,।নেত্রকোনা, ময়মনসিংহসহ কয়েকটি অঞ্চল) বিয়ে করে সংসারী হয়েও সাধনা চালিয়ে যান। তবে এঁরা প্রত্যেকেই ‘দমসাধনা’র মাধ্যমে ‘গুরুবস্তু' নিয়ন্ত্রণ করেন। ‘দমসাধনা’, অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে সন্তানধারণ না করাই হচ্ছে বাউল মতবাদের প্রধান রীতি। সে রীতি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে পারলেই একজন বাউল প্রকৃত সাধক হিসেবে গণ্য হবেন। —(বাউল সাধনা, পৃ. ৩১)
লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করীম লিখেছেন, লালন মূকপাত্র কুষ্টিয়া ম্যাজিট্রেটের সামনে দাবী করেছিলো...আমাদের সৃষ্টি নেই মানে বিবাহ নেই—সন্তান জন্ম নেই। [দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫] —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২৩)
সাধারণ্যে এরা নাড়ার ফকির হিসেবে গণ্য হলেও বাউলেরা নিজেদেরকে ফকির এবং বাউল নামে চিহ্নিত করে। 'নাড়া' অর্থে এরা শাখাপত্রহীন এবং এদের কোনো সন্তানসন্ততি হয় না। তাদের অস্বাভাবিক জীবনাচরণের কারণে তারা সমাজ এবং গোত্রচ্যুত। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২০)
অর্থাৎ,এক কথায় বাউল সমপ্রদায়ের কাছে সন্তান জন্ম দেয়া ক্ষতিকর।
ইসলাম কী বলে?
ইসলামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি কোনো সমস্যা নয়, বরং অধিক জনসংখ্যা আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত। মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া প্রাকৃতিক, নৈসর্গিক বা পরিবেশগত কোনো সুবিধা গ্রহণ করা মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় না। উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু মানুষ। এটি একটি পথ মাত্র, চূড়ান্ত লক্ষ্য নয়। যে উন্নয়নে মানুষের জীবন উন্নত হয় না বা যাতে মানুষের অংশগ্রহণ থাকে না, সে উন্নয়ন উন্নয়নই নয়। এ বোধই মানবসম্পদ উন্নয়ন ধারণার জনক, যার মূল কথা মানুষের উন্নয়ন, মানুষের জন্য উন্নয়ন এবং মানুষের দ্বারা উন্নয়ন। ১৯৯০ সালে ইউএনডিপির রিপোর্টে বলা হয়, মানব উন্নয়ন এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া, যা সমাগ্র সম্পদের সম্প্রসারণ ও ব্যবহার নিশ্চিত করে।
উন্নয়ন ব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণ মানবকেন্দ্রিক; মানুষ নিজেরা নিজেদের দৈহিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়ন ঘটাবে এবং নিজেরাই তার ফল ভোগ করবে। —(দৈনিক ইনকিলাব ৩/১১/২০১৬ ঈসায়ী)
জনসংখ্যা বৃদ্ধি কাফেরদের বিরুদ্ধে সাহায্যের মাধ্যম :
অধিক জনসংখ্যা উম্মতের মর্যাদা ও শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ার একটি মাধ্যমও বটে। তাই আল্লাহ তাআলা বনী ঈসরাইলদের সম্পর্কে বলেন:
ثُمَّ رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ وَأَمْدَدْنَاكُم بِأَمْوَالٍ وَبَنِينَ وَجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا
“তারপর আমি তোমাদেরকে ঘুরে দাঁড়িয়ে তাদের উপর আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ দিলাম এবং তোমাদের ধন-দৌলত ও সন্তান-সন্ততিতে বৃদ্ধি সাধন করলাম। আর তোমাদের লোকসংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি করলাম।” —(সুরা বনী ইসরাইল : ৬)
বুঝা গেলো, জনসংখ্যা বৃদ্ধি শত্রুর বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয়ের মাধ্যম হিশাবেও কাজ করে।
বাউলদের উদ্দেশ্য কী?
প্রিয় পাঠক, উপরোক্ত আয়াত থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়—জনসংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমে মুসলিমদের শক্তি সঞ্চয় হবে। আমার মনে হয়, এ আয়াতের প্রেক্ষাপটে ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের বিজয় পথ রুদ্ধ করার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির প্রচার শুরু করেছে।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ জনাব খোরশেদ আহমাদ বলেন,
“ভবিষ্যতে প্রভাবশালী ক্ষমতা শুধুমাত্র সেসব দেশেরই থাকবে, যেসব দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উচ্চ এবং একই সঙ্গে তারা প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানে অগ্রসর। তাই পাশ্চাত্যের জাতিগুলো তাদের কর্তৃত্ব ও নেতৃত্ব ধরে রাখার জন্য এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে জনসংখ্যা হ্রাস ও বন্ধ্যাকরণ আন্দোলন চালাচ্ছে। এ কারণে তারা নিজেদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। অপরদিকে, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে জন্মনিয়ন্ত্রণ আন্দোলন সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে সব ধরণের প্রচার মাধ্যমের সর্বোত্তম ব্যবহার করছে।”
তিনি আরও বলেন: ‘প্রফেসর অর্গানস্কি (আমেরিকান বুদ্ধিজীবী) ঠিকই বলেছেন: ‘ভবিষ্যতে সে সেনাবাহিনী হবে অধিক শক্তিশীলী যার সৈন্য সংখ্যা হবে বেশি।’ তিনি আরও বলেন: ইতিহাসের ছাত্রের কাছে এটি অজানা নয় যে, জনসংখ্যার রয়েছে মৌলিক রাজনৈতিক গুরুত্ব। এ কারণে প্রত্যেক সভ্যতা ও পরাশক্তি তার গঠন ও বিনির্মাণের যুগে জনসংখ্যা বাড়ানোর উপর অত্যাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। তাই তো, উইল ডুরান্ট (Will Durant) অধিক জনসংখ্যাকে সভ্যতার অগ্রসরতার অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করেন। অনুরূপভাবে আরনল্ড টয়েনবী (Arnold Toynbee) জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে সে সব বুনিয়াদি চ্যালেঞ্জসমূহের অন্যতম বলে ঘোষণা করেছেন যেগুলোর জোরে যে কোন মানব সভ্যতার উন্নতি ও বিস্তৃতি ঘটে’।
এ কথাটি বুঝতে নিন্মে দুটি জাতীয় পত্রিকার রিপোর্ট পেশ করলাম। আশা করি বুঝতে সহজ হবে—
‘বর্তমানে আমেরিকার মোট জনসংখ্যার মাত্র ১.১ শতাংশ তথা ৩৫ লাখ মুসলিম। ধর্মীয় জনগোষ্ঠীর হিসাবে তারা তৃতীয় বৃহত্তম। মার্কিন এক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বলছে, ইসলাম ধর্মগ্রহণ ও মুসলিম জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বর্তমানের মতো অব্যাহত থাকলে ২০৪০ সালে ইহুদিদের পেছনে ফেলে মুসলিমরা হবে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি। আর ২০৫০ সালে আনুমানিক সংখ্যা দাঁড়াবে অন্তত ৮১ লাখ। বর্তমানের চেয়ে যা দ্বিগুণেরও বেশি। তখন মোট জনসংখ্যার ২.১ শতাংশ থাকবে মুসলমান। —(দৈনিক কালের কণ্ঠ ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ঈসায়ী)
দৈনিক প্রথম আলো “ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের হাতে যাবে বিশ্বের দখল!” শিরোনামে একটি রিপোর্ট দেখুন—
‘এক সমীক্ষার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, আগামী ৫৩ বছর পর পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা হবে সব থেকে বেশি। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষার বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফের খবরে এমনটাই বলা হয়েছে। বিশ্বখ্যাত সমীক্ষা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার ওই প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, ২০৭০ সালে কেমন হবে বিশ্বের জনসংখ্যার চিত্রটি। সেখানে বলা হয়েছে আগামী ৫০ বছর পরে বিশ্ব মুসলমানদের দখলে যাবে। মার্কিন ওই সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীতে সব থেকে বেশি মানুষ হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী।
এখন যে হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি হচ্ছে এই ধারা চলতে থাকলে এ শতাব্দীর শেষের দিকে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর থেকে মুসলমানদের সংখ্যা বেশি হবে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউরোপসহ বিশ্বের বহু অঞ্চলে আগামী বছরগুলোতে দ্রুত ইসলাম ধর্মের অনুসারীর লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা বলছে, গোটা পৃথিবীতেই অন্যান্য ধর্মের তুলনায় দ্রুত হারে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। অন্য দিকে খ্রিষ্টান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার যেন প্রায় থমকে রয়েছে। ওই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, খ্রিষ্টানদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের হার যতটা বেশি, মুসলমানদের ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই বেশি বংশ বৃদ্ধির হার। একজন মুসলমান নারী গড়ে তিনটি শিশু সন্তানের জন্ম দেন। অন্যদের ধর্মের নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে মুসলমান জনসংখ্যা বাড়বে ৭৩ শতাংশ, যা ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হবে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন। অন্য দিকে, খ্রিষ্টান জনসংখ্যা বাড়বে ৩৫ শতাংশ। ২০১০ সালে বিশ্বে মোট খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন। ২০৫০ সালে সেটা হবে ২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশই হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী’। —(দৈনিক প্রথম আলো ৩ মার্চ ২০১৭ ঈসায়ী)
এটাই হলো মূল সমস্যা। অর্থাৎ বর্তমানে পৃথিবীতে যাদের জনসংখ্যা বেশি তারাই আধিপত্য বিস্তার করে আছে। তারা সবসময় চায় মুসলিমরা সবসময় সংখ্যালঘু থাকলে তাদের উপর জুলুম করা সহজ। এমনটিই লিখেছে “আনন্দবাজার পত্রিকা, ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নীতি মানেই দুর্বলতম জনগোষ্ঠীর ওপর জুলুম’। —(আনন্দবাজার পত্রিকা ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ঈসায়ী।)
সুতরাং, জন্মনিয়ন্ত্রণকে সমর্থন দেয়া নিঃসন্দেহে মুসলমানদের শত্রুদের একটি চক্রান্ত। শত্রুরা চায় মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি না পাক। কারণ, মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে শত্রুরা সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে, আর মুসলমানরা নিজেই স্বনির্ভর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে—নিজেদের চাষাবাদ, ব্যবসা ও বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয় এবং আরও নানামুখী কল্যাণ অর্জন করতে পারে।
অপরদিকে, যদি মুসলমানরা সংখ্যায় অল্প থাকে, তারা সবকিছুতে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে যাবে এবং লাঞ্ছিত থাকবে। এ কারণেই জন্মনিয়ন্ত্রণকে সমর্থন করার মাধ্যমে মুসলিমদের সংখ্যালঘু রাখার মনোভাবই আজ বাউল সম্প্রদায়ের মূল লক্ষ্য। আমাদের উচিত, নিজেদের সতর্ক রাখা এবং জাতিকেই সতর্ক করা।
তাছাড়া, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানুষকে অধিক সন্তানলাভের প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন এবং যেসব নারীরা অধিক সন্তানের প্রসবের জন্য সক্ষম, তাদের বিবাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। উপরন্তু, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিয়ামতের দিন নিজের উম্মাহর বিশালতা নিয়ে গর্ব করবেন বলে অগ্রীম জানিয়ে গেছেন। হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
تزوجوا الودودَ الولودَ فإني مكاثرٌ بكم الأممَ يومَ القيامةِ
“তোমরা অধিক সন্তান প্রসবকারী মেয়েকে বিবাহ করো। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে কিয়ামতের মাঠে গর্ব করবো।” —(আল-মাকাসিদুল হাসানাহ, হাদিস নং : ১৯৮)
অতএব, বাউলদের রতিনিরোধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ মিশন যেন সফল না হয়, সেদিকে আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকা জরুরি।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন