ভেক-খিলাফতধারী : বাউলধর্মে সন্ন্যাস চর্চা! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৭
ভেক-খিলাফতধারী : বাউলধর্মে সন্ন্যাস চর্চা! বাউল মতবাদ। পর্ব—৩৭
এ সম্পর্কে আলোচনা করার আগে জানা জরুরি—সন্ন্যাস বা বৈরাগ্য কী?
সন্ন্যাস বা বৈরাগ্য হলো হালাল আরাম-আয়েশ ত্যাগ করা, সংসারে অনাসক্ত থাকা বা সংসার জীবন ছেড়ে উদাসী জীবন যাপন করা। অর্থাৎ, স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারসহ সংসার ত্যাগ করে, দূরে বা নিকটে কোনো স্থানে সন্ন্যাসী জীবন যাপন করা। খাওয়া-পরা ও ভোগ্যবস্তু সংগ্রহের চিন্তা না করা, বসবাসের জন্য গৃহ নির্মাণে যত্নবান না হওয়া; লোকালয় থেকে দূরে জঙ্গলাকীর্ণ পাহাড়ে বসবাস করা বা যাযাবরদের মতো ভ্রমণ ও পর্যটন করা।
অনেকে পাগলের ভান করে নিজেকে দুনিয়াবিমুখ প্রদর্শন করে বা পোশাক ও আচরণে পাগলের রূপ ধারণ করে। তবে বাস্তবে পাগল বা উন্মাদ না হয়ে, অনেকেই শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের জন্য এসব করে। কেউ কেউ মাজার, পীরের দরবার বা আস্তানায় বসবাস করে, নামাজ-রোজা ইত্যাদি ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপ থেকে বিরত থেকে নিজেকে সাধু, সন্ন্যাসী ও তপস্বী হিসেবে জ্ঞান করে। এমন সংসারত্যাগী জীবনকে তারা সাধনা ও পুণ্য মনে করে। কিন্তু ইসলামে এই ধরনের বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসচর্চার কোনো স্থান নেই।
বাউল ধর্মে কী বলে?
‘ভেক-খিলাফতধারী’ বাউল সম্প্রদায়ের কাছে একটু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ সম্পর্কে তারা তাদের ‘মহাত্মা লালন’ বইয়ে লিখেছে—
সুফিবাদী মানবধর্মে দীক্ষা নিয়ে একজন ভক্ত যখন চেষ্টা সাধনা করে নিজেকে সাধনার মাপকাঠিতে যোগ্য শিষ্য হয়ে উঠতে পারে, তখন গুরু তাকে সত্যের বাণী পাঠ করিয়ে সাদা রঙ-এর পোষাক পরিয়ে খিলাফতের দায়িত্ব দেন। এই খিলাফতের দায়িত্ব বড়ই গুরুত্ব এবং অতি মূল্যবান সম্পদ। যদিও দীর্ঘদিন মুরিদ হয়ে, গুরুসঙ্গ করে অনেকেই এই খিলাফত দায়িত্ব পায় না। এর জন্যে করতে হয় একান্তে একনিষ্ঠা সাধন-ভজন। আপনাকে সম্পূর্ণরূপে সহজ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হয়। এই খিলাফতের দায়িত্ব যে শিষ্য অর্জন করতে পারে, তাকে খিলাফত প্রদানের সময়ে 'তহবন' 'কোপনী' 'খিলকা' 'আচলা' ‘তসবিহ' 'পাগড়ী' ‘পেয়ালা' তারপর 'ছড়ি' দেওয়া হয়। এরপর ভক্তের কর্ণে ‘গুরুবাক্য' দান করেন গুরু। এখানে গুরুবাক্য মহাসত্য বলে প্রতিয়মান হয়। তারপর ভক্তের চোখ বেঁধে লালন সাঁইজির মাজারের (কুষ্টিয়া, ছেঁউড়িয়া আখড়াবাড়ি) চারপাশে সাতবার প্রদক্ষিণ (ঘোরানো) করানো হয়। আজ থেকে খিলাফতধারী একজন অন্য মানুষ, অন্য স্বতন্ত্রের; আলাদা হয় তার যাপিত জীবন। এই দীক্ষা নেওয়া মানুষের জীবনাচার্য অন্যদের চাইতে সম্পূর্ণ অন্য প্রকৃতির ।
এ সময় সাঁইজির সত্যপদ শোনানো হয়—
“কে তোমারে এ বেশ-ভূষণ পরাইল গো বলো শুনি,
জিন্দা দেহে মুরদার বেশ,
খিলকা তাজ আর ডোর কোপনী .....
খিলাফত প্রদানকালে উল্লেখিত সাঁইজির সত্যের বাণী সাধু-গুরু-ফকির-দরবেশ ভক্তগণ মিলিতকণ্ঠে গেয়ে খিলাফতের কার্য সমাপ্ত করেন। এখানে পরম ভক্তি ও বিশ্বাস প্রকাশ পায়। যাকে খিলাফত প্রদান করা হয়, তার জন্যে অবলা পশু-পাখি হত্যা করা যেমন মহাপাপ; তেমনি তার ডিম, মাংস ভক্ষণ করাও নিষেধ। মোটকথা, গুরুবাদী মানবধর্মে খিলাফতধারীকে হিংসা, বিদ্বেষ, লোভ-লালসা, কাম-ক্রোধ থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে মুক্ত রাখতে হয়। আমিত্বকে একেবারেই পরিহার করতে হয়। মূলত এটিই বিধান, আর এর মধ্যে দিয়েই আত্মার মুক্তি হয় এবং স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায়। অধরা পরমের সন্ধান মেলে আত্মজ্ঞানে। আর দিব্যজ্ঞানের বিকাশ ঘটে। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ৩৯)
তাছাড়া লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালক ড. আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
আমি বাউল ফকিরদের সঙ্গে দীর্ঘবছর মেলামেশার মাধ্যমে যা জেনেছি তা হলো, এই সাধনার অনুসারীদেরকে রতিনিরোধ কিংবা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি সম্পর্কে গুরু নিজেই তাদের শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ দেন। রতিনিরোধের একটি সাধনভাষা আছে, তা হলো ‘জ্যান্তে মরা'। একে বলা হয় জীবস্মৃত। বাউলেরা যখন দীক্ষা নেয় তখন তাকে বলা হয়—“তুমি আজ থেকে নিজেকে মৃত জানবে। কিন্তু তোমার কোনো সাধন প্রক্রিয়া থেমে থাকবে না। তোমার কোনো সংসার থাকবে না। তুমি কোনো সন্তানের পিতা-মাতা হতে পারবে না। তুমি সমাজেও ফিরে যাবে না। শুধু ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পাবে তা দিয়ে তোমাকে আর তোমার সেবাদাসীকে জীবন নির্বাহ করতে হবে। কোনো অভিযোগ করতে পারবে না।” এর পরে তাকে কাফন পরানো হয়। তখন তাদের অনেককে ক্রন্দনরত দেখেছি। এই প্রক্রিয়াকে সন্ন্যাসধর্মের সাথে তুলনা করা চলে। এই পর্যায়ের সাধনা যৌনাচারভিত্তিক। এই পথের অনুসারীদেরকে ‘ভেক-খিলাফত’ধারী বলা হয়। পরিধানে শ্বেতবস্ত্র এই পথের পথিকদের পরিচয় বহন করে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৩৯১-৩৯২)
বাউলেরা সাধারণত গৃহত্যাগী হয়। আর তাই এদের চাওয়া-পাওয়া কম এবং মানুষকেই এরা সাধনা করে। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ১৯)
ইসলাম কী বলে?
বাউল ধর্মে ‘ভেক-খিলাফতধারী’ নামে আবিস্কৃত ‘বৈরাগ্যতা’ খ্রিস্টানদের আবিস্কৃত একটি বিষয়। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ
“আর রাহবানিয়্যাতের যে বিষয়টা, তা তারা নিজেরাই উদ্ভাবন করেছিল। আমি তাদের উপর তা বাধ্যতামূলক করিনি।” —(সুরা হাদিদ : ২৭)
ইসলামে এমন যাযাবর জীবন-যাপন সমর্থন করে না। কারণ, ইসলাম একটি জীবন্ত ধর্ম। যার প্রতিটি কর্মই প্রাণবন্ত, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল এবং অর্থবহ। সুস্থ ও সুন্দর জীবনাচার গড়তে ইসলামের পরিপূর্ণ অনুসরণের বিকল্প নেই। এ জন্যই ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনবিধান। যার প্রতিটি বিধিনিষেধ পারিবারিক জীবনকে করে তোলে আলোকিত ও স্বচ্ছন্দময়। এই পারিবারিক জীবন আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অপরিসীম নিয়ামত। মহান রব্ব বলেন—
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُم مِّنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِّتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُم مَّوَدَّةً وَرَحْمَةً ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ
“তাঁর এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদেরই মধ্য হতে স্ত্রী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে গিয়ে শান্তি লাভ করো এবং তিনি তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয়ই এর ভেতর নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।” —(সুরা রুম : ২১)
অতএব, আল্লাহ তাআলার প্রদত্ত ‘পারিবারিক জীবন’ নামক নিয়ামতের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে নিজেকে সাধক বানানো উচিত নয়। এছাড়াও হাদিস শরীফে এসেছে—
دخَلَتِ امرأةُ عُثمانَ بنِ مَظعونٍ -واسمُها خَولةُ بنتُ حَكيمٍ- على عائشةَ، وهي باذَّةُ الهَيئةِ، فسألَتْها: ما شَأنُكِ؟ فقالتْ: زَوجي يَقومُ اللَّيلَ، ويَصومُ النَّهارَ، فدخَلَ النَّبيُّ ﷺ، فذكَرَتْ ذلك له عائشةُ، فلقيَ النَّبيَّ ﷺ، فقال: يا عُثمانُ، إنَّ الرَّهبانيَّةَ لم تُكتَبْ علينا، أما لك فيَّ أُسوةٌ؟ فواللهِ إنَّ أخشاكم للهِ، وأحفَظَكم لحُدودِه لأنا
“হযরত উসমান ইবনে মাজউন রা:-এর স্ত্রী খাওলা বিনতে হাকিম রা. একবার আয়েশা রা.-এর কাছে অপরিপাটি অবস্থায় এলেন। তখন হযরত আয়েশা রা. তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কেমন অবস্থা আপনার? জবাবে তিনি বললেন, ‘আমার স্বামী রাতভর ইবাদত-বন্দেগি করেন। সারা দিন রোজা রাখেন। (তাহলে আমি কার জন্য সাজগোজ করবো?) তখনই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হযরত আয়েশা রা.-এর ঘরে এলেন। হযরত আয়েশা রা. ঘটনাটি খুলে বললেন। তাৎক্ষণিক রাসুল সা. হজরত উসমান ইবনে মাজউন রা:-এর কাছে গেলেন। বললেন, ‘ইসলাম ধর্মে সন্ন্যাস শরিয়তসম্মত নয়। তোমার জন্য কী আমার আদর্শে ধর্মের কোনো নমুনা নেই? আল্লাহর কসম—আমি তোমাদের মাঝে সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ভয় পাই। আর তার সীমারেখাকে সবচেয়ে বেশি সংরক্ষণকারীও আমিই।” —(মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং : ২৫৮৯৩)
তাছাড়া, স্বাভাবিকভাবেই বিবাহ ইসলামে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তবে যদি সামর্থ থাকা সত্ত্বেও চাহিদা এত বেশি হয় যে বিয়ে না করলে ব্যভিচার, ধর্ষণ, সমকামিতা, কুদৃষ্টি বা হস্তমৈথুনের দিকে ঝুঁকির ভয় থাকে, তখন বিবাহ করা ফরজ হয়ে যায়। কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه لَه وِجَاءٌ
“হে যুবকের দল, তোমাদের মধ্যে যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে এবং যে বিয়ের সামর্থ্য রাখে না, সে যেন ’সওম’ পালন করে। কেননা, সওম যৌন ক্ষমতাকে দমন করে।” —(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৫০৬৫)
হযরত আনাস রা. বলেন—
جَاءَ ثَلاثَةُ رَهْطٍ إِلَى بُيُوتِ أزْوَاجِ النَّبيّ ﷺ يَسْأَلُونَ عَن عِبَادَةِ النَّبيّ ﷺ فَلَمَّا أُخْبِروا كَأَنَّهُمْ تَقَالُّوهَا وَقَالُوْا : أَيْنَ نَحْنُ مِنَ النَّبيِّ ﷺ وَقدْ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَا تَأخَّرَ قَالَ أحدُهُم : أمَّا أنا فَأُصَلِّي اللَّيلَ أبداً وَقالَ الآخَرُ : وَأَنَا أصُومُ الدَّهْرَ أَبَداً وَلا أُفْطِرُ وَقالَ الآخَر : وَأَنا أعْتَزِلُ النِّسَاءَ فَلاَ أتَزَوَّجُ أبَداً فَجَاءَ رَسُولُ الله ﷺ إلَيهِم فَقَالَ أنْتُمُ الَّذِينَ قُلْتُمْ كَذَا وَكَذَا ؟ أَمَا واللهِ إنِّي لأخْشَاكُمْ للهِ وَأَتْقَاكُمْ لَهُ لَكِنِّي أصُومُ وَأُفْطِرُ وأُصَلِّي وَأَرْقُدُ وَأَتَزَوَّجُ النِّساءَ فَمَنْ رَغِبَ عَن سُنَّتِي فَلَيْسَ مِنِّي
“তিন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীদের বাসায় এলেন। তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইবাদত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। অতঃপর যখন তাঁদেরকে এর সংবাদ দেওয়া হলো, তখন তাঁরা যেন তা অল্প মনে করলেন এবং বললেন, আমাদের সঙ্গে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর তুলনা কোথায়? তাঁর তো আগের ও পরের সমস্ত গোনাহ মোচন ক’রে দেওয়া হয়েছে। (সেহেতু আমাদের তাঁর চেয়ে বেশী ইবাদত করা প্রয়োজন)। সুতরাং তাঁদের মধ্যে একজন বললেন, আমি সারা জীবন রাতভর নামায পড়বো। দ্বিতীয়জন বললেন, আমি সারা জীবন রোজা রাখবো, কখনো রোজা ছাড়বো না। তৃতীয়জন বললেন, আমি নারী থেকে দূরে থাকবো, জীবনভর বিয়েই করবো না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁদের নিকট এলেন এবং বললেন, তোমরা এই এই কথা বলেছো? শোনো—আল্লাহর কসম! আমি তোমাদের চেয়ে বেশী আল্লাহকে ভয় করি, তার ভয় অন্তরে তোমাদের চেয়ে বেশী রাখি। কিন্তু আমি (নফল) রোযা রাখি এবং রোজা ছেড়েও দিই, নামায পড়ি এবং নিদ্রাও যাই। আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।” —(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৫০৬৩)
উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়—সংসার ত্যাগ করে শুধুমাত্র ইবাদত পালন করলেই হবে না; বরং সব ক্ষেত্রে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। তাই বিবাহ করা, স্ত্রী সন্তান ও পরিবারের সঙ্গে বসবাস করা, তাদের ভরণপোষণের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করা এবং সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে বাস করাও গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক গবেষণাও প্রমাণ করেছে, পারিবারিক জীবন মানসিক প্রশান্তি লাভের অন্যতম মাধ্যম। পরিবার ও সমাজ ছাড়া সুস্থভাবে জীবনযাপন করা কঠিন।
অতএব, ইসলামে এমন কোনো বৈরাগ্য সমর্থিত নয়, যা ইবাদতের নাম ধরে সমাজের মূল স্রোতের বাইরে গিয়ে ভবঘুরে জীবনযাপন, পরিবার থেকে উদাসীন থাকা, স্ত্রী সন্তান বা মা-বাবা ত্যাগ করে দূরে চলে যাওয়া, অথবা নিজেকে পাগলের ভান দেখানো। আবার এলোমেলো চুল, দীর্ঘ অগোছালো গোঁফ, অযত্নসহ গায়ে মোটা কাপড় জড়িয়ে সারাক্ষণ সাদা বা কালো রঙের পোশাক পরা—এসব সুস্থ ও সুরুচি সম্পন্ন মানুষের আচরণ হতে পারে না এবং এটি কোনো গ্রহণযোগ্য জীবনধারা বা লাইফস্টাইলও নয়। বরং, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা, নখ, চুল ও দাড়ি পরিপাটি রাখা, সুষম পোশাক পরিধান করা—এসবই সুস্থ রুচির পরিচয় বহন করে। সুতরাং, বাউলধর্মের এই ভেক-খিলাফতধারী বা বৈরাগ্য ভণ্ডামি থেকে সমাজের সকলকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
কুরআনের তাফসীর পড়া যাবে না! হেযবুত তওহীদ পর্ব–১৭
যদি কেউ বড় শিক্ষিত হয়, তবে তার বক্তব্য বুঝতে হলে নিশ্চয় জ্ঞানী হতে হয়, অথবা জ্ঞানীদের থেকে বুঝে নিতে...
মুফতী রিজওয়ান রফিকী
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৪৩৯৭
কুরআনের চেয়ে মুমিন দামী! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–১৬
পবিত্র কুরআন সরাসরি আল্লাহপাকের কালাম। পৃথিবীর সব কিছু মাখলুক হলেও আল্লাহ-র কালাম মাখলুক নয়। সুতরাং ...
মুফতী রিজওয়ান রফিকী
৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
৩৪৭৭