বাউলদের কালেমা : লা-ইলাহা ইলাল্লাহ, লালন রাসুলুল্লাহ! বাউল মতবাদ! পর্ব—১৫
বাউলদের কালেমা : লা-ইলাহা ইলাল্লাহ, লালন রাসুলুল্লাহ! বাউল মতবাদ! পর্ব—১৫
মুসলিমদের কালেমা হলো—লা-ইলাহা ইলাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ। অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল।
বাউল ধর্মে কী বলে?
লালন একাডেমীর সাবেক পরিচালত ডক্টর আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
এরা লালন ফকিরকে নবী হিসাবে দাবী করে জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট কুষ্টিয়া কোর্টে মামলা করেছে। জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট অভিযোগ পেশ করা লালনভক্তদের মূখপাত্র হয়ে জনৈক মন্টু শাহ যা বলেন, তা নিন্মরূপ :
আমরা বাউল। আমাদের ধর্ম আলাদা। আমরা না-মুসলমান, না-হিন্দু। আমাদের নবী সাঁইজি লালন শাহ। তাঁর গান আমাদের ধর্মীয় শ্লোক। সাঁইজির মাজার আমাদের তীর্থভূমি। আমরা যারা তাঁর ভক্ত আমরা সকলেই এক বিশেষ নিয়মে ভেক গ্রহণ করি। আমাদের সৃষ্টি নেই মানে বিবাহ নেই—সন্তান জন্ম নেই। আমাদের গুরুই আমাদের রাসুল। আমরা আলাদা একটি জাতি, আমাদের কালেমাও আলাদ। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ। [দ্রঃ সুধীর চক্রবর্তী, ব্রাত্য লোকায়ত লালন, ২য় সংস্করণ, আগস্ট ১৯৯৮ পৃঃ ৪-৯৫] —বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২২-২৩
লালন শাহের অনুসারীদের মধ্যে একটি শ্রেণী পাঞ্জুশাহী ফকিরদের মতো নিজেদেরকে সুফি ফকির বলে থাকে। কিন্তু এর একটি বিরাট অংশ নিজেদেরকে হিন্দু বা মুসলমান বলে পরিচয় দেয় না। তারা লালন শাহকে তাদের নবী বলে জানে এবং তাদের ধর্মকে ‘মানবধর্ম' বলে আখ্যায়িত করে। বর্তমানে এই মতানুসারীদের প্রাবল্য রয়েছে। —বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ২০
তাছাড়া তারা খতমে নবুওয়াতের অর্থও বিকৃতভাবে উত্থাপন করে থাকে। আগে দেখুন তারা কী লিখেছে—
নবুয়তের সাথে হেদায়েতের সম্বন্ধ তাই অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নবুয়ত ‘খতম’ মানে নবুয়তের সত্যায়ন, সিলমোহর দান. স্বীকৃতি বা পূর্ণতাপ্রাপ্তি ইত্যাদি। এসব অর্থ উহ্য রেখে ‘খতম’ নামক অত্যন্ত সূক্ষ্ম অর্থপূর্ণ শব্দটির অর্থ ‘শেষ’ বা ‘সর্বশেষ’ বলাটা এখন অন্ধ ধর্মীয় রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। একচোখা ধারণাপ্রসূত সুন্নি- শিয়া-অহাবীগণ আজ তেহাত্তর কাতার চুয়াত্তর ফেরকায় বিভক্ত। কাঠমোল্লা-মুন্সি-মৌলভিরা তাই খতমে নবুয়তের হিক্কা তুলে অজ্ঞান প্রায়। —অখণ্ড লালনসঙ্গীত, পৃ. ৯২
অর্থাৎ তারা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে শেষ নবী এটা মানতেই নারাজ।
ইসলাম কী বলে?
আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন আল্লাহর প্রেরিত সকল নবী এবং সর্বশেষ রাসুল। তাঁর পরে আর কোনো নবী বা রাসুল আসবে না। মহান আল্লাহ বলেন—
مَّا كَانَ مُحَمَّدٌ أَبَا أَحَدٍ مِّن رِّجَالِكُمْ وَلَٰكِن رَّسُولَ اللَّهِ وَخَاتَمَ النَّبِيِّينَ
“(হে মুমিনগণ,) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তোমাদের কোনো পুরুষের পিতা নন, কিন্তু সে আল্লাহর রাসুল এবং নবীদের মধ্যে সর্বশেষ। আল্লাহ সর্ববিষয়ে পরিপূর্ণ জ্ঞাত।” —সুরা আহযাব : ৪০
হাদিস শরীফেও এসেছে, হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—
إِنَّ الرِّسَالَةَ وَالنُّبُوَّةَ قَدِ انْقَطَعَتْ فَلاَ رَسُولَ بَعْدِي وَلاَ نَبِيَّ
“রিসালাত ও নবুওয়াতের যুগ শেষ হয়ে গিয়েছে। আমার পরে কোন রাসূলও নেই কোন নবীও নেই।” —(জামে তিরমিযি, হাদিস নং : ২২৭২)
হযরত জাবির রা. থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
إِنَّ مَثَلِي وَمَثَلَ الأَنْبِيَاءِ مِنْ قَبْلِي كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى بَيْتًا فَأَحْسَنَهُ وَأَجْمَلَهُ، إِلاَّ مَوْضِعَ لَبِنَةٍ مِنْ زَاوِيَةٍ، فَجَعَلَ النَّاسُ يَطُوفُونَ بِهِ وَيَعْجَبُونَ لَهُ، وَيَقُولُونَ هَلاَّ وُضِعَتْ هَذِهِ اللَّبِنَةُ قَالَ فَأَنَا اللَّبِنَةُ، وَأَنَا خَاتِمُ النَّبِيِّينَ.
“আমি এবং আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অবস্থা এরূপ—এক ব্যাক্তি যেন একটি ভবন নির্মাণ করল; ইহাকে সুশোভিত ও সুসজ্জিত করলো, কিন্তু এক কোনায় একটি ইটের জায়গা খালি রয়ে গেলো। অতঃপর লোকজন ইহার চারপাশে ঘুরে বিস্ময়ের সহিত বলতে লাগলো, ঐ শূন্যস্থানের ইটটি লাগানো হলো না কেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমিই সেই ইট। আর আমিই সর্বশেষ নবী।” —(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : ৩৫৩৫)
সুতরাং মুসলিমদের কালেমা ‘লা-ইলাহা ইলাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’, আর বাউলদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু লালন রাসুলুল্লাহ’। এরপরও কী তাদের মুসলমি বলার কেনো অবকাশ থাকে?
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন