মুদারাবা চুক্তিতে নির্দিষ্ট অংকের লাভের চুক্তি করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২৩৫৩. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একজন থেকে টাকা নিয়ে অন্যজনকে ব্যবসা করতে দিয়েছি। টাকা যার কাছ থেকে নিয়ছি তাকে বলেছি তোমাকে লাভের থেকে কমপক্ষে ৫০০ থেকে ৬০০ রিয়াল দিবো। আর যাকে টাকা দিয়েছি সে আমাকে বলেছে লাভের থেকে ৭০০-৮০০ টাকা দিবো আর সে এ ও বলেছে আমাকেও অতিরিক্ত কিছু দিবে। এখন প্রশ্ন হলো এ পুরো বিষয়টি কি জায়েজ হচ্ছে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি যেভাবে চুক্তিটি করেছেন, শরীয়তের দৃষ্টিতে এই পুরো লেনদেনটি সম্পূর্ণ না-জায়েজ ও ফাসিদ। ইসলামী শরীয়তের মূলনীতি হলো—মুদারাবা বা অংশীদারি ব্যবসায় লভ্যাংশ শতকরা বা আনুপাতিক হারে নির্ধারিত হতে হবে (যেমন: মোট অর্জিত লাভের ৫০%, ৪০% ইত্যাদি)। কোনো অবস্থাতেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা (যেমন: ৫০০, ৬০০ বা ৭০০–৮০০ রিয়াল/টাকা) লাভ হিসেবে নির্ধারণ করা জায়েজ নয়। এমন শর্ত করলে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়; কারণ ব্যবসায়ে লাভ কম হলে একজনের পাওনা নির্ধারিত থাকায় অন্যজন বঞ্চিত হতে পারে, যা সুদের সাদৃশ্য ও জুলুমের সৃষ্টি করে। মূল বিনিয়োগকারী (যার থেকে টাকা নিয়েছেন) যদি আপনাকে ব্যবসার অনুমতি দেন, তবে আপনি মুদারাবা ভিত্তিক বৈধ অনুপাতে তার সাথে চুক্তিবদ্ধ হবেন। এরপর অপর ব্যবসায়ীকে টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রেও আনুপাতিক হারেই লভ্যাংশ ভাগ হতে হবে। নির্দিষ্ট অঙ্ক ধার্য করে মাঝখান থেকে নিশ্চিত বাড়তি অংশ নেওয়ার যে রূপ তৈরি হয়েছে, তা মূলত নিশ্চিত লাভসহ অর্থ খাটানোর রূপ নিয়েছে, যা শরীয়তের দৃষ্টিতে সুদের অন্তর্ভুক্ত এবং হারাম।
চুক্তিটি জায়েজ করার সঠিক পদ্ধতি:
• আপনাকে পূর্বের ফাসিদ চুক্তি বাতিল করতে হবে।
• নতুন করে তিন পক্ষের মাঝে আনুপাতিক শতকরা হার নির্ধারণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ: মোট যে লাভ হবে তার ৫০% পাবে মূল ব্যবসায়ী (যিনি খাটছেন), ২০% পাবেন আপনি (ব্যবস্থাপক হিসেবে) এবং ৩০% পাবেন মূল বিনিয়োগকারী (পুঁজির মালিক)।
• ব্যবসায়ে লোকসান হলে তা লভ্যাংশের ওপর বর্তাবে এবং ব্যবসায়ী কোনো শ্রমমূল্য পাবে না।
تبيين الحقائق
(قَوْلُهُ فِي الْمَتْنِ وَيَكُونُ الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا) قَالَ الْأَتْقَانِيُّ وَذَلِكَ؛ لِأَنَّ الْمَقْصُودَ مِنْ عَقْدِ الْمُضَارَبَةِ هُوَ الشَّرِكَةُ فِي الرِّبْحِ فَإِذَا اشْتَرَطَ لِأَحَدِهِمَا دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً كَالْمِائَةِ وَنَحْوِهَا تَفْسُدُ الْمُضَارَبَةُ؛ لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يُفْضِي إلَى قَطْعِ الشَّرِكَةِ؛ لِأَنَّهُ رُبَّمَا لَا يَكُونُ الرِّبْحُ إلَّا ذَلِكَ الْقَدْرَ فَلَا يَبْقَى لِلْآخَرِ شَيْءٌ مِنْ الرِّبْحِ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন