হস্তমৈথুনের মাধ্যমে স্বামীর বীর্য সংগ্রহ করে বাচ্চা নেওয়ার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২১৬৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আইভিএফ এ স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে স্ত্রীর ডিম্বাণুতে নিষিক্ত করা হয়। সাধারণত এটি হস্তমৈথুন পদ্ধতিতে করা হয় এছাড়া অন্য পদ্ধতিতে নেওয়া হয়না এবং স্ত্রীর ডিম্বাণু সংগ্রহের একই সময়ে তা নেওয়া হয়।হস্তমৈথুনের মাধ্যমে সংগ্রহটা কি হালাল হবে এইভাবে সন্তান নেওয়া কি জায়েজ নয়?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
স্বামীর শুক্রাণু এবং স্ত্রীর ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে নিষিক্ত করার পর তা পুনরায় সেই স্ত্রীর গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা শর্তসাপেক্ষে জায়েয এটি চিকিৎসার (তাদাবী) অন্তর্ভুক্ত। তবে এর জন্য নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ হওয়া অপরিহার্য:
১. স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বলবৎ থাকতে হবে।
২. শুক্রাণু বা ডিম্বাণু কোনো তৃতীয় ব্যক্তির হতে পারবে না এবং অন্য কোনো নারীর গর্ভ ব্যবহার করা যাবে না।
৩. সংগৃহীত শুক্রাণু ও ডিম্বাণু যেন কোনো অবস্থাতেই অন্য কারও সাথে অদলবদল না হয়, সে ব্যাপারে শতভাগ বিশ্বস্ততা ও সতর্কতা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. স্বাভাবিক পদ্ধতিতে সন্তান লাভে ব্যর্থ হওয়ার মতো বাস্তব চিকিৎসা-সংক্রান্ত প্রয়োজন থাকতে হবে।
হস্তমৈথুনের মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহের বিধান
সাধারণ অবস্থায় স্বহস্তে বীর্যপাত ঘটানো শরীয়তে নিষিদ্ধ হলেও আইভিএফ প্রক্রিয়ার চিকিৎসা ও সন্তান লাভের প্রয়োজনে শুক্রাণু সংগ্রহের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ধারাবাহিকতা মেনে চলা আবশ্যক:
১. বীর্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যথাসম্ভব স্ত্রীর সংস্পর্শ ও সহযোগিতায় (যেমন: স্ত্রীর স্পর্শের মাধ্যমে) নির্গমন ঘটিয়ে তা সংগ্রহ করা উচিত। শরীয়তে স্বামীর জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে উত্তেজনা ও তৃপ্তি লাভ সম্পূর্ণ হালাল।
২. হাসপাতাল বা ল্যাবরেটরির পরিবেশ ও চিকিৎসার সময়গত সীমাবদ্ধতার কারণে স্ত্রীর মাধ্যমে শুক্রাণু সংগ্রহ করা যদি কোনোভাবেই সম্ভব না হয়, তবে সন্তান লাভের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শরয়ি প্রয়োজন ও চিকিৎসার স্বার্থে স্বামীর জন্য স্বহস্তে শুক্রাণু নির্গমন করা জরুরত ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে জায়েয হবে।
رد المحتار على الدر المختار
(ﻗﻮﻟﻪ: ﻭﻟﻮ ﺧﺎﻑ اﻟﺰﻧﻰ ﺇﻟﺦ) اﻟﻈﺎﻫﺮ ﺃﻧﻪ ﻏﻴﺮ ﻗﻴﺪ ﺑﻞ ﻟﻮ ﺗﻌﻴﻦ اﻟﺨﻼﺹ ﻣﻦ اﻟﺰﻧﻰ ﺑﻪ ﻭﺟﺐ؛ ﻷﻧﻪ ﺃﺧﻒ ﻭﻋﺒﺎﺭﺓ اﻟﻔﺘﺢ ﻓﺈﻥ ﻏﻠﺒﺘﻪ اﻟﺸﻬﻮﺓ ﻓﻔﻌﻞ ﺇﺭاﺩﺓ ﺗﺴﻜﻴﻨﻬﺎ ﺑﻪ ﻓﺎﻟﺮﺟﺎء ﺃﻥ ﻻ ﻳﻌﺎﻗﺐ اﻩـ ﺯاﺩ ﻓﻲ ﻣﻌﺮاﺝ اﻟﺪﺭاﻳﺔ ﻭﻋﻦ ﺃﺣﻤﺪ ﻭاﻟﺸﺎﻓﻌﻲ ﻓﻲ اﻟﻘﺪﻳﻢ اﻟﺘﺮﺧﺺ ﻓﻴﻪ ﻭﻓﻲ اﻟﺠﺪﻳﺪ ﻳﺤﺮﻡ ﻭﻳﺠﻮﺯ ﺃﻥ ﻳﺴﺘﻤﻨﻲ ﺑﻴﺪ ﺯﻭﺟﺘﻪ ﻭﺧﺎﺩﻣﺘﻪ اﻩـ ﻭﺳﻴﺬﻛﺮ اﻟﺸﺎﺭﺡ ﻓﻲ اﻟﺤﺪﻭﺩ ﻋﻦ اﻟﺠﻮﻫﺮﺓ ﺃﻧﻪ ﻳﻜﺮﻩ ﻭﻟﻌﻞ اﻟﻤﺮاﺩ ﺑﻪ ﻛﺮاﻫﺔ اﻟﺘﻨﺰﻳﻪ ﻓﻼ ﻳﻨﺎﻓﻲ ﻗﻮﻝ اﻟﻤﻌﺮاﺝ ﻳﺠﻮﺯ ﺗﺄﻣﻞ ﻭﻓﻲ اﻟﺴﺮاﺝ ﺇﻥ ﺃﺭاﺩ ﺑﺬﻟﻚ ﺗﺴﻜﻴﻦ اﻟﺸﻬﻮﺓ اﻟﻤﻔﺮﻃﺔ اﻟﺸﺎﻏﻠﺔ ﻟﻠﻘﻠﺐ ﻭﻛﺎﻥ ﻋﺰﺑﺎ ﻻ ﺯﻭﺟﺔ ﻟﻪ ﻭﻻ ﺃﻣﺔ ﺃﻭ ﻛﺎﻥ ﺇﻻ ﺃﻧﻪ ﻻ ﻳﻘﺪﺭ ﻋﻠﻰ اﻟﻮﺻﻮﻝ ﺇﻟﻴﻬﺎ ﻟﻌﺬﺭ ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ اﻟﻠﻴﺚ ﺃﺭﺟﻮ ﺃﻥ ﻻ ﻭﺑﺎﻝ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺃﻣﺎ ﺇﺫا ﻓﻌﻠﻪ ﻻﺳﺘﺠﻼﺏ اﻟﺸﻬﻮﺓ ﻓﻬﻮ ﺁﺛﻢ
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন