মোবাইল চালানো অবস্থায় যিকির করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯৩৯৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মোবাইলে গেমইস,আর ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে কি দোয়া দুরুদ পড়া যাবে? সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আর আল্লাহুমা সল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ এই 2টা দুরুদ কি ঠীক আছে?
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আপনি দুইটি প্রশ্ন করেছেন। প্রথম প্রশ্নের উত্তর হলো,
আল্লাহ তাআলার জিকির ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর ওপর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। কোনো ব্যক্তি বসা, দাঁড়ানো, চলাফেরা কিংবা অন্যান্য বৈধ কাজে ব্যস্ত থাকা অবস্থায়ও জিকির ও দরুদ পড়তে পারে। সুতরাং শুধু মোবাইল হাতে থাকা, ফেসবুক দেখা বা কোনো বৈধ কাজে নিযুক্ত থাকার কারণে জিকির ও দরুদ পড়া নিষিদ্ধ হয়ে যায় না। যেকোনো হালাল কাজ করা অবস্থায় বা হাঁটা-চলাকালে মুখে আল্লাহর জিকির ও নবীজি ﷺ-এর ওপর দুরূদ পড়া জায়েয এবং এতে জিকিরের সওয়াব পাওয়া যাবে ।
তবে গেমস খেলা বা ফেসবুক স্ক্রল করার সময় কী বিধান হবে তা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে;
যদি হালাল কোনো কিছুতে লিপ্ত থাকে, তাহলে মুখে দুরূদ বা জিকির জারি রাখা জায়েয এবং অনর্থক নীরব থাকা বা বাজে কথা বলার চেয়ে মুখকে জিকিরে ব্যস্ত রাখা উত্তম। তবে জিকির ও দুরূদের মূল আদব হলো, একাগ্রতা ও মন-সংযোগ রাখা । স্ক্রল বা গেমসে মগ্ন থেকে অমনোযোগী হয়ে দুরূদ পড়লে মূল আদব ক্ষুণ্ণ হয় এবং পূর্ণ সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হয়। তাই পূর্ণ বরকতের জন্য মোবাইল বা অপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে অবসর নিয়ে একাগ্রচিত্তে জিকির ও দুরূদ পড়া উচিত।
আর যদি কোনো পাপ বা হারাম দৃশ্য দেখতে থাকে, তাহলে সেই অবস্থায় মুখে আল্লাহর নাম, জিকির বা দুরূদ পাঠ করা চরম বেআদবি ও ফিকহের দৃষ্টিতে মাকরূহ। তাই এমন অবস্থায় যিকির করা থেকে বিরত থাকবে।
বিঃদ্রঃ যদি ফেসবুকে কোনো হারাম ছবি, অশ্লীলতা, গীবত, মিথ্যা, গান-বাজনা বা শরিয়ত বিরোধী বিষয় দেখা হয়, তাহলে সেই হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। একই ভাবে কোনো গেম যদি জুয়া, অশ্লীলতা, হারাম বিষয় অথবা ফরজ নামাজ নষ্ট করার কারণ হয়, তাহলে তা থেকেও বিরত থাকা জরুরি।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর:
হ্যাঁ, «صلى الله عليه وسلم» (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং «اللهم صل وسلم على نبينا محمد» (আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মদ)—এ দুটি দুরূদই সম্পূর্ণ সহীহ, অর্থপূর্ণ ও অত্যন্ত বরকতময়।
فتح باب العناية بشرح النقاية 5/ 195
ثم اعلم أنّه يَحْرُم التسبيح والتكبير والصلاة على النبي عليه الصلاة والسلام عند عمل محرّمٍ كما، إذا سبّح أو كبَّر أو هلّل أو صلّى على النبيّ صلى الله عليه وسلم في مجلس الفسق واللهو، فهو حرامٌ يأثم فيه، وكذلك التاجر إذا فتح متاعه لمشتريه وسبَّحَ وصلّى على النبيّ صلى الله عليه وسلم وأراد بذلك إعلام المشتري جودة متاعه، وكذلك الفُقَّاعِي يقول عند فتح كوز الفُقَّاع: لا إله إلا الله، أو يقول: صلّى الله على النبيّ أو نحو ذلك، لأنّه يأخذ (به) ثمناً ويرغب المشتري هنالك. كذا في «شرح تحفة الملوك» للعَيْنِيّ. ومن هنا يُفهم أن بالأولى يَحْرُمُ ذِكْرُ اللَّه أو النبيّ مع الرَّباب كما هو شأن الأعراب، أو مع الزَّمَّارة كما هو شِعَار السَّيَّارة من شُحَّاذ أهل اليمن في السوق وأبواب أرباب التجارة.
ثم قال: ويجب منع الصوفية الَّذين يَدَّعون الوَجْد والمحبة عن رفع الصوت وتمزيق الثياب عند سماع الغناء، مع أنّ ذلك حرامٌ عند سماع القرآن، فكيف عند سماع الغناء الذي هو حرام؟ خصوصاً في هذا الزمان الذي اشتهر فيه الفسق، وظهرت فيه أنواع البدع، واشتهرت فيه طائفة تَحَلَّوا بحِليةِ العلماء وتَزَيَّوا بزيّ الصُّلحاء، والحال أنّ قلوبهم ممتلئة من الشهوات الكاسدة، والأهواء الفاسدة. فالعجب منهم أنهم يدّعون محبة الله ويخالفون سنة رسوله صلى الله عليه وسلم فيصفقون بأيديهم، ويضربون بأرجلهم، وَيَصْعَقُون بأفواههم، ويُظْهِرُونَ (ما ليس في قلوبهم، ويتحرَّكون) بحركات مختلفة في أبدانهم، والأزباد تنزل من أشداقهم، حتى (إنّ) الجهّال والحَمْقَى من العامة يعتقدونهم ويلازمونهم (ويقصدونهم)، ويعطونهم ويَنْسُبون أنفسهم إليهم، وينفقون (عليهم)، أعاذنا الله من شرّهم وشرّ ما لديهم
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন