হাদীস অনুসন্ধানের ফলাফল
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৮
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৮. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করবে, কেননা কাপড়সমূহের মধ্যে সাদা কাপড় উত্তম এবং সাদা কাপড় দ্বারাই তোমাদের মৃতদের কাফন দিবে। (আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : البَسُوا مِنْ ثِيَابِكُمُ البَيَاضَ ، فَإِنَّهَا مِنْ خَيْرِ ثِيَابِكُمْ ، وَكَفِّنُوا فِيهَا مَوْتَاكُمْ. (رواه ابوداؤد والترمذى وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৮
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৮. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, স্বামী দর্শনকারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে করা হবে না। আর কুমারী মেয়েকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করা যাবে না। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! তার সম্মতি কিরূপ? তিনি বললেন, (জিজ্ঞাসা অন্তে) তার নিশ্চুপ হয়ে যাওয়া তার সম্মতি বুঝা যাবে। (বুখারী, মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ولاَ تُنْكَحُ الْاَيَّمُ حَتَّى تُسْتَأْمَرَ. وَلاَ تُنْكَحُ الْبِكْرُ حَتَّى تُسْتَأْذَنَ، قَالَوْا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ إِذْنُهَا قَالَ: أَنْ تَسْكُتَ. (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৯
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ কাফনে কয়টি কাপড় হবে এবং তা কিরূপ হওয়া বাঞ্ছনীয়?
৩২৯. হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা বেশী দামী কাপড় কাফনরূপে ব্যবহার করো না, কেননা তা অচিরেই নষ্ট হযে যাবে। (আবু দাউদ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَلِىٍّ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا تَغَالَوْا فِي الْكَفَنِ ، فَإِنَّهُ يُسْلَبُهُ سَرِيعًا. (رواه ابوداؤد)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩২৯
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কনের সম্মতি ও ওলীর স্থান।
৩২৯. হযরত আবূ মূসা আশ'আরী (রা) রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেন যে, ওলী ছাড়া বিয়ে হয় না। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, দারিমী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَن أَبِي مُوسَى عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لاَ نِكَاحَ إِلاَّ بِوَلِيٍّ. (رواه احمد والترمذى وابو داؤد وابن ماجه والدارمى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩০
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ে গোপনে না হয়ে প্রকাশ্যে হওয়া আবশ্যক
৩৩০. হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, ঘোষণার মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন কর এবং তা মসজিদে অনুষ্ঠিত কর। আর তাতে দফ্ বাজাও। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَعْلِنُوا هَذَا النِّكَاحَ وَاجْعَلُوهُ فِي الْمَسَاجِدِ وَاضْرِبُوا عَلَيْهِ بِالدُّفُوفِ. (رواه الترمذى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩০
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার (লাশের) পেছনে পেছনে যাওয়া এবং জানাযার সালাত আদায়ের সাওয়াব
৩৩০. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় কোন মুসলমানের লাশের অনুসরণ করে এবং জানাযা ও দাফনে অংশগ্রহণ করে সে দুই 'কীরাত' সাওয়াব নিয়ে প্রত্যাবর্তন করে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « مَنِ اتَّبَعَ جَنَازَةَ مُسْلِمٍ ، إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا ، وَكَانَ مَعَهُ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا وَيَفْرُغَ مِنْ دَفْنِهَا ، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ مِنَ الأَجْرِ بِقِيرَاطَيْنِ ، كُلُّ قِيرَاطٍ مِثْلُ أُحُدٍ ، وَمَنْ صَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ رَجَعَ قَبْلَ أَنْ تُدْفَنَ ، فَإِنَّهُ يَرْجِعُ بِقِيرَاطٍ » (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩১
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার পেছনে দ্রুত চলা এবং তাড়াতাড়ি করার নির্দেশ
৩৩১. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: মৃতকে তাড়াতাড়ি দাফন করে দাও। যদি সে সৎকর্মশীল হয়, তবে তাকে কল্যাণের দিকে অগ্রসর করে দিলে। পক্ষান্তরে যদি অন্য কিছু হয়, তবে মন্দকে তোমার কাঁধ থেকে সরিয়ে দিলে। (বুখারী ও মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ ، فَإِنْ تَكُ صَالِحَةً فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا ، وَإِنْ يَكُ سِوَى ذَلِكَ ، فَشَرٌّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ » (رواه البخارى ومسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩১
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের জন্য সাক্ষী প্রয়োজন
৩৩১. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে মহিলা নিজের বিয়ে সাক্ষী ছাড়া করল, সে ব্যভিচারিণী। (তিরমিযী)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: الْبَغَايَا الَّتِي يُنْكِحْنَ أَنْفُسَهُنَّ بِغَيْرِ بَيِّنَةٍ. (رواه الترمذى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩২
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩২. হযরত আবূ হুরায়ারা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমরা যখন কোন মৃতের জানাযার সালাত আদায় করবে, তখন তার জন্য নিষ্ঠার সাথে দু'আ করবে। (আবূ দাউদ ও ইবনে মাজাহ)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : « إِذَا صَلَّيْتُمْ عَلَى الْمَيِّتِ ، فَأَخْلِصُوا لَهُ الدُّعَاءَ » (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩২
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের খুৎবা
৩৩২. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে (বিয়ে ইত্যাদি) সব গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন-এ খুৎবা শিক্ষা দিয়েছেন:
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
إنَّ الحمدَ للهِ، نَستعينُه ونَستغفِرُه، ونَعوذُ باللهِ مِن شُرورِ أنفُسِنا، مَن يَهدِه اللهُ فلا مُضِلَّ له، ومَن يُضلِلْ فلا هاديَ له، وأشهَدُ أنْ لا إلهَ إلَّا اللهُ وأشْهَدُ أنَّ محمَّدًا عبْدُه ورَسولُه، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (آل عمران: 102)، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (النساء: 1)، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا} (الأحزاب: 70).
সব প্রশংসা আল্লাহরই জন্য উপযুক্ত। আমরা (নিজেদের সব প্রয়োজন ও সব বাসনায়) তাঁরই সাহায্য প্রার্থনাকারী। আর তাঁরই কাছে (নিজেদের ত্রুটি ও গুনাহ সমূহের) ক্ষমা চাই। স্বীয় আত্মার অনিষ্ট সমূহ থেকে আল্লাহরই আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ গোমরাহ করতে পারে না। আর যার জন্য আল্লাহ হিদায়াত বঞ্চিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তাকে কেউ হিদায়াত করতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি-আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নাই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ ﷺ তাঁর বান্দা ও সত্য রাসূল।
হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট যাচঞ্চা কর এবং সতর্ক থাক জ্ঞাতি বন্ধন সম্পর্কে। আল্লাহ তোমাদের প্রতি তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন (তোমাদের সব কাজ দেখেন)। হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথার্থভাবে ভয় কর এবং তোমরা আত্মসমর্পণকারী না হয়ে কোন অবস্থায়ই মরবেনা। হে মু'মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। তা হলে তিনি তোমাদের কাজকে ত্রুটিমুক্ত করবেন এবং তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করবেন। যারা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করে তারা অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করবে। (আবু দাউদ, আহমদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ)।
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: عَلَّمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُطْبَةَ الْحَاجَةِ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُهُ وَنَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا، مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ» {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}، {يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}. (فى شرح السنة عن ابن مسعود فى خطبة الحاجة من النكاح وغيره)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৩
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা)-এর সেই বর্ণনা যা সহীহ বুখারীর বরাতে বিয়ের ধারাবাহিকতায় সর্ব প্রথমে উল্লেখ করা হয়েছে, তা থেকে জানা গেল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর নবুওয়াতের পূর্বে জাহিনী যুগে বিয়ের যে সম্মানজনক প্রথা আরববাসীর মধ্যে ছিল, তাতেও মহর নির্ধারণ করা হত। অর্থাৎ বিবাহকারী পুরুষের জন্য প্রয়োজন হত যে, স্ত্রীকে এক নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে নিজের জিম্মায় গ্রহণ করবে। ইসলামে এ প্রথা বহাল রাখা হয়েছে। মহর এ কথার প্রতীক যে, কোন মহিলাকে বিয়েকারী পুরুষ মহিলাটির প্রার্থী ও আকাঙ্খী এবং সে স্বীয় অবস্থা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাকে মহরের উপঢৌকন পেশ করছে, অথবা ইহা পরিশোধের দায়িত্ব নিজের জিম্মায় নিয়ে নিচ্ছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ মহরের কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করেননি। কেননা, বিয়েকারীদের অবস্থা, তাদের প্রাচুর্য ও সামর্থ্য ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বস্তুত রাসূলুল্লাহ ﷺ আপন কন্যাগণের মহর পাঁচশ দিরহাম (অথবা এর কাছাকাছি) নির্ধারণ করেন। আর তাঁর অধিকাংশ পবিত্র স্ত্রীগণের মহরও এরূপই ছিল। তবে হুজুর ﷺ-এর কালে এবং তাঁর সাক্ষাতে এ থেকে বহু কম ও বহু বেশিও মহর নির্ধারণ করা হত। হজুর ﷺ-এর কন্যাগণের ও পবিত্র স্ত্রীগণের মহর অনুসরণ আবশ্যক বলে মনে করা হত না।
মহরের ব্যাপারে কুরআন ও হাদীসের নির্দেশাবলী থেকে এটাও জানা যায় যে, এটা নিছক কাল্পনিক ও পদ্ধতিগত ব্যাপার নয় এবং মৌখিক জমাখরচ জাতীয় বিষয়ও নয়। বরং এটা পরিশোধ করা স্বামীর জন্য অপরিহার্য। তবে স্ত্রী স্বয়ং নিতে না চাইলে ভিন্ন কথা।
কুরআন পাকে স্পষ্ট বলা হয়েছে- وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً “তোমরা নারীদেরকে তাদের মহর স্বেচ্ছায় প্রদান কর।” (আল-কুরআন ৪:৪)
এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ যে তাকীদ ও কঠোর বাণী উচ্চারণ করেছেন তা সামনে লিপিবদ্ধ কোন কোন হাদীস থেকে জানা যাবে।
৩৩৩. মাইমুন আল কুরদী কর্তৃক স্বীয় পিতা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন নারীকে কম অথবা দেশি মহরে বিয়ে করল আর তার অন্তরে তার (স্ত্রীর) মহরের হক আদায়ের ইচ্ছা নেই, কিয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে ব্যভিচারীরূপে উপস্থিত হবে। (তাবরানীর আওসত সগীর)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ مَيْمُونٍ الْكُرْدِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَيُّمَا رَجُلٍ تَزَوَّجَ امْرَأَةً عَلَى مَا قَلَّ مِنَ الْمَهْرِ أَوْ كَثُرَ لَيْسَ فِي نَفْسِهِ أَنْ يُؤَدِّيَ إِلَيْهَا حَقَّهَا لَقِيَ اللَّهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَهُوَ زَانٍ. (رواه الطبرانى فى الاوسط والصغير)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৩
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩৩. হযরত আওফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ জানাযার সালাত আদায় কালে যে দু'আ পাঠ করতেন আমি তা মুখস্থ করে নিয়েছি। তিনি বলেছেন:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ»
"হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর, তাকে দয়া কর, তাকে শান্তিতে রাখ, তাকে সম্মানজনকভাবে আপ্যায়ন কর, তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও, তাকে ধুয়ে মুছে নাও পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিলা বৃষ্টির পানি দ্বারা। তাকে এমনভাবে পাপমুক্ত করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তাকে তার (দুনিয়ার) ঘর থেকে উত্তম ঘর দান কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার ও তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" বর্ণনাকারী বলেন, (নবী কারীম ﷺ এই দু'আ করায়) আমি আকাঙক্ষা করেছিলাম আমি যদি এই মৃত ব্যক্তি হতাম। (মুসলিম)
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِنَ الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلًا خَيرًا مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلْهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ»
"হে আল্লাহ্! তাকে ক্ষমা কর, তাকে দয়া কর, তাকে শান্তিতে রাখ, তাকে সম্মানজনকভাবে আপ্যায়ন কর, তার কবরকে প্রশস্ত করে দাও, তাকে ধুয়ে মুছে নাও পানি দ্বারা, বরফ দ্বারা ও শিলা বৃষ্টির পানি দ্বারা। তাকে এমনভাবে পাপমুক্ত করে দাও, যেমন সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়। তাকে তার (দুনিয়ার) ঘর থেকে উত্তম ঘর দান কর, তার পরিবার থেকে উত্তম পরিবার ও তার স্ত্রী হতে উত্তম স্ত্রী দান কর। তাকে কবরের ও জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।" বর্ণনাকারী বলেন, (নবী কারীম ﷺ এই দু'আ করায়) আমি আকাঙক্ষা করেছিলাম আমি যদি এই মৃত ব্যক্তি হতাম। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ ، قَالَ : صَلَّى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ وَهُوَ يَقُولُ : « اللهُمَّ ، اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ ، وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ ، وَاغْسِلْهُ بِالْمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالْبَرَدِ ، وَنَقِّهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ ، وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ ، وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ ، وَأَدْخِلْهُ الْجَنَّةَ وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالَ : « حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنْ أَكُونَ أَنَا ذَلِكَ الْمَيِّتَ » (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৪
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩৪. হযরত আবূ হুরায়রা (রা.) থেকে বণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন জানাযার সালাত আদায় করতেন তখন এই বলে দু'আ করতেন:
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ. اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ»
"হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের জীবিত, মৃত, উপস্থিত অনুপস্থিত, ছোট বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মৃত্যু দিবে তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করো না এবং (মৃত্যুর পরে) ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলে দিওনা। "(আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)"
«اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا وَمَيِّتِنَا وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا وَصَغِيرِنَا وَكَبِيرِنَا وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا. اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِسْلَامِ وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِيمَانِ. اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ»
"হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের জীবিত, মৃত, উপস্থিত অনুপস্থিত, ছোট বড়, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে ক্ষমা কর। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদের মধ্যে যাকে জীবিত রাখবে তাকে ইসলামের উপর জীবিত রাখ এবং যাকে মৃত্যু দিবে তাকে ঈমানের সাথে মৃত্যু দিও। হে আল্লাহ্! তুমি আমাদেরকে সাওয়াব থেকে বঞ্চিত করো না এবং (মৃত্যুর পরে) ফিতনা বা পরীক্ষায় ফেলে দিওনা। "(আবূ দাউদ, তিরমিযী ও ইবনে মাজা)"
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَنَازَةٍ ، قَالَ : « اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِحَيِّنَا ، وَمَيِّتِنَا ، وَصَغِيرِنَا ، وَكَبِيرِنَا ، وَذَكَرِنَا وَأُنْثَانَا ، وَشَاهِدِنَا وَغَائِبِنَا ، اللَّهُمَّ مَنْ أَحْيَيْتَهُ مِنَّا فَأَحْيِهِ عَلَى الْإِيمَانِ ، وَمَنْ تَوَفَّيْتَهُ مِنَّا فَتَوَفَّهُ عَلَى الْإِسْلَامِ ، اللَّهُمَّ لَا تَحْرِمْنَا أَجْرَهُ ، وَلَا تَفْتِنَّا بَعْدَهُ » (رواه احمد وابوداؤد والترمذى وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৪
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
৩৩৪. আবু সালিমা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি উম্মুল মু'মিনীন হযরত আয়েশা (রা) কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মহর কত ছিল? তিনি বললেন, তাঁর স্ত্রীগণের জন্য তাঁর মহর ছিল সাড়েবার উকিয়া ও এক নিশি। (মুসলিম)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ قَالَ: سَأَلْتُ عَائِشَةَ كَمْ كَانَ صَدَاقُ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لأَزْوَاجِهِ ثِنْتَيْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشٌّ. (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৫
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাত এবং মৃতের জন্য দু'আ
৩৩৫. হযরত ওয়াসিলা ইবনে আসকা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের নিয়ে এক মুসলিম ব্যক্তির জানাযার সালাত আদায় করেন। আমি তখন তাঁকে এই দু'আ পাঠ করতে শুনলাম:
«اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ»
"হে আল্লাহ্! আমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার প্রতিবেশিত্বের আশ্রয়ে রইল। অতএব তুমি তাকে কবরের বিপদ ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ দিও। তুমি তো প্রতিশ্রুতি পূরণকারী ও সত্যের উৎস। হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর এবং তার প্রতি দয়া কর। কেননা নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।" (আবু দাউদ ও ইবনে মাজা)
«اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ»
"হে আল্লাহ্! আমুকের পুত্র অমুক তোমার দায়িত্বে এবং তোমার প্রতিবেশিত্বের আশ্রয়ে রইল। অতএব তুমি তাকে কবরের বিপদ ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে পানাহ দিও। তুমি তো প্রতিশ্রুতি পূরণকারী ও সত্যের উৎস। হে আল্লাহ্! তুমি তাকে ক্ষমা কর এবং তার প্রতি দয়া কর। কেননা নিশ্চয়ই তুমি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।" (আবু দাউদ ও ইবনে মাজা)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ وَاثِلَةَ بْنِ الْأَسْقَعِ ، قَالَ : صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْمُسْلِمِينَ ، فَسَمِعْتُهُ يَقُولُ : " اللَّهُمَّ إِنَّ فُلَانَ بْنَ فُلَانٍ فِي ذِمَّتِكَ وَحَبْلِ جِوَارِكَ ، فَقِهِ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ ، وَأَنْتَ أَهْلُ الْوَفَاءِ وَالْحَقِّ اللَّهُمَّ فَاغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ " (رواه ابوداؤد وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
৩৩৫. হযরত উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। (এবং স্বীয় স্বামীর সাথে তিনি মক্কা থেকে আবিসিনিয়া রাজ্যে হিজরত করেছিলেন। সেই আবিসিনিয়ায়) উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তার বিয়ে সংঘটিত করেন এবং হুজুর ﷺ-এর পক্ষ থেকে তাঁকে চার হাজার দিরহাম মহর আদায় করেন। আর শুরাহবীল বিন হাসানা-এর সাথে তাঁকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট প্রেরণ করেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ فَمَاتَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْهَرَهَا عنه أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ. (رواه ابوداؤد والنسائى)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৬
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের পর মুবারকবাদ ও দু'আ
দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠির মধ্যে বিয়ে শাদী উপলক্ষে মুবারকবাদ প্রদানের বিভিন্ন প্রথা চালু আছে। এ উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় শিক্ষা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা এ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন যে, উভয়ের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণের দু'আ করা হবে। যার অর্থ আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ কল্যাণ ও উত্তম জিনিস দান করুন ও তাঁর অনুগ্রহের বৃষ্টি বর্ষণ করুন।
দুনিয়ার বিভিন্ন জাতি ও গোষ্ঠির মধ্যে বিয়ে শাদী উপলক্ষে মুবারকবাদ প্রদানের বিভিন্ন প্রথা চালু আছে। এ উপলক্ষে রাসুলুল্লাহ ﷺ স্বীয় শিক্ষা ও কার্যপ্রণালী দ্বারা এ পদ্ধতি নির্ধারণ করেছেন যে, উভয়ের জন্য আল্লাহর কাছে কল্যাণের দু'আ করা হবে। যার অর্থ আল্লাহ তা'আলা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ কল্যাণ ও উত্তম জিনিস দান করুন ও তাঁর অনুগ্রহের বৃষ্টি বর্ষণ করুন।
৩৩৬. আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। রাসুল ﷺ যখন কোন বিবাহিত লোককে মুবারকবাদ জানাতেন- বলতেন, আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন এবং তোমাদের উভয়ের ওপর বরকত নাযিল করুন আর তোমাদের উভয়কে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত রাখুন। (আহমদ, তিরমিযী, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا رَفَّأَ الإِنْسَانَ إِذَا تَزَوَّجَ قَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ. (رواه احمد والترمذى وابوداؤد وابن ماجه)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৬
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাতে অধিক সংখ্যক লোক সমাবেশের বরকত এবং গুরুত্ব
৩৩৬. হযরত আয়েশা (রা.) সূত্রে নবী কারীম ﷺ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: যে কোন মুসলিম ব্যক্তির জানাযায় যদি একশ' লোক অংশ গ্রহণ করে এবং প্রত্যেকে তার জন্য সুপারিশ করে, তবে তাদের সুপরিশ কবুল করা হবে। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ عَائِشَةَ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : « مَا مِنْ مَيِّتٍ تُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً ، كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ ، إِلَّا شُفِّعُوا فِيهِ » (رواه مسلم)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৭
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ বিয়ের পর মুবারকবাদ ও দু'আ
৩৩৭. রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা) বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, যখন তোমাদের কোন ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করে অথবা সেবাকারী কোন দাস-দাসীকে ক্রয় করে, তবে এ দু'আ করবে-হে আল্লাহ! এর মধ্যে যে কল্যাণ রয়েছে এবং আপনি তার প্রকৃতিতে যে কল্যাণ রেখেছেন আমি আপনার কাছে তা চাই, আর তার অনিষ্ট হতে এবং যে অনিষ্ট তার প্রকৃতিতে রেখেছেন তা থেকে পানাহ চাই। (আবু দাউদ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا تَزَوَّجَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً أَوِ اشْتَرَى خَادِمًا فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَمِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ. (رواه ابوداؤد)
মা'আরিফুল হাদীস
হাদীস নং: ৩৩৭
সলাত অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ জানাযার সালাতে অধিক সংখ্যক লোক সমাবেশের বরকত এবং গুরুত্ব
৩৩৭. হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মুক্তদাস কুরাইব সূত্রে আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত যে, কুদাইদ অথবা উসফান নামক স্থানে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর এক পুত্র ইন্তিকাল করেন। এমতাবস্থায় তিনি বললেনঃ হে কুরাইব দেখে এস, কি পরিমাণ লোক জানাযার জন্য জড়ো হয়েছে। তিনি বলেন, আমি বেরিয়ে গেলাম এবং লোকদের জমায়েত সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তাদের সংখ্যা চল্লিশ হবে কি? কুরাইব বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, তাকে বের করে নিয়ে এসো। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছি যে কোন মুসলমানের মৃত্যুর পর তার জানাযায় যদি অংশীবাদী নয় এমন চল্লিশজন লোক অংশগ্রহণ করে, নিশ্চয়ই 'আল্লাহ্ তার সম্পর্কে তাদের সুপারিশ কবুল করেন। (মুসলিম)
کتاب الصلوٰۃ
عَنْ كُرَيْبٍ ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّهُ مَاتَ لَهُ ابْنٌ بِقُدَيْدٍ أَوْ بِعُسْفَانَ فَقَالَ : يَا كُرَيْبُ ، انْظُرْ مَا اجْتَمَعَ لَهُ مِنَ النَّاسِ ، قَالَ : خَرَجْتُ ، فَإِذَا نَاسٌ قَدِ اجْتَمَعُوا لَهُ ، فَأَخْبَرْتُهُ ، فَقَالَ : تَقُولُ هُمْ أَرْبَعُونَ؟ قَالَ : نَعَمْ ، قَالَ : أَخْرِجُوهُ ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : « مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ ، فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلًا ، لَا يُشْرِكُونَ بِاللهِ شَيْئًا ، إِلَّا شَفَّعَهُمُ اللهُ فِيهِ » (رواه مسلم)