মা'আরিফুল হাদীস
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৩৫
মু‘আশারাত ও মু‘আমালাত অধ্যায়
মহরের গুরুত্ব ও এর আবশ্যকতা
৩৩৫. হযরত উম্মে হাবীবা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ এর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। (এবং স্বীয় স্বামীর সাথে তিনি মক্কা থেকে আবিসিনিয়া রাজ্যে হিজরত করেছিলেন। সেই আবিসিনিয়ায়) উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর আবিসিনিয়ার বাদশাহ নাজ্জাশী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তার বিয়ে সংঘটিত করেন এবং হুজুর ﷺ-এর পক্ষ থেকে তাঁকে চার হাজার দিরহাম মহর আদায় করেন। আর শুরাহবীল বিন হাসানা-এর সাথে তাঁকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট প্রেরণ করেন। (আবু দাউদ, নাসাঈ)
کتاب المعاشرت والمعاملات
عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ جَحْشٍ فَمَاتَ بِأَرْضِ الْحَبَشَةِ فَزَوَّجَهَا النَّجَاشِيُّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْهَرَهَا عنه أَرْبَعَةَ آلاَفٍ وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَعَ شُرَحْبِيلَ ابْنِ حَسَنَةَ. (رواه ابوداؤد والنسائى)
হাদীসের ব্যাখ্যা:
উম্মে হাবীবা (রা) আবু সুফয়ানের কন্যা ছিলেন। মক্কা বিজয় পর্যন্ত তিনি মক্কার কাফিরদের নেতা ও হুজুর ﷺ-এর প্রচন্ড শত্রু ছিলেন। এরপর অষ্টম হিজরী সনে মক্কা বিজয়কালে তাঁর ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য হয়। তবে তাঁর কন্যা বহু পূর্বে ইসলামের দাওয়াতের প্রাথমিক যুগেই ইসলাম কবুল করেছিলেন। তাঁর স্বামী উবাইদুল্লাহ ইব্ন জাহ্শও ইসলাম কবুল করেছিলেন। এরপর মক্কায় যখন ইসলাম গ্রহণকারীদেরকে সীমাহীন যন্ত্রণা দেয়া হচ্ছিল তখন হুজুর ﷺ-এর অনুমতি ও ইঙ্গিতক্রমে অন্যান্য অনেক মুসলমানের সাথে উম্মে হাবীবা ও তাঁর স্বামী হিজরত করেন। আল্লাহর অপার মহিমা, কিছুদিন পর স্বামী উবায়দুল্লাহ ইবনে জাহশ ইসলাম ত্যাগ করে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেন, যা ছিল সাধারণ আবিসিনিয়াবাসীদের ধর্ম এবং তিনি মদ ইত্যাদি অধিক পরিমাণে পান করতে থাকেন। এরপর এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে উম্মে হাবীবা দৃঢ়তার সাথে সর্বদা ইসলামে অবিচল থাকেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন উবায়দুল্লাহ বিন জাহশের মৃত্যুর সংবাদ অবগত হলেন, তখন মান-মর্যাদা রক্ষা, তার মনোরঞ্জন ইত্যাদি নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করে তাঁকে স্বীয় বিবাহ বন্ধনে নিতে চাইলেন এবং আবিসিনিয়ার বাদশাহর নিকট দূত পাঠালেন যে, আমার পক্ষ থেকে উম্মে হাবীবাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হোক। নাজ্জাশী তাঁর আবরাহা নাম্মী দাসীর মাধ্যমে উম্মে হাবীবাকে প্রস্তাব দেন। তিনি খুবই সানন্দ ও কৃতজ্ঞতার সাথে এ প্রস্তাব গ্রহণ করেন।
মুহাজির মুসলমানগণের মধ্যে তাঁর নিকটতম স্নেহভাজন খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আসীকে স্বীয় উকীল নিযুক্ত করেন। আর যেমন আবু দাউদ ও নাসাঈ-এর ব্যাখ্যাধীন বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, নাজাশী আবিসিনিয়াতেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ -এর পক্ষ থেকে তিনি নগদ মহরও আদায় করেন। আবূ দাউদের এ বর্ণনায় মহরের পরিমাণ চার হাজার দিরহাম বলা হয়েছে, তবে হাকেমের 'মুসতাদরাক' ইত্যাদির বর্ণনায় চার হাজার দীনার উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদীস লিপিবদ্ধকারী ও বর্ণনাকারীগণ এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বস্তুত পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে উম্মে হাবীবা (রা)-এর মহর অন্যান্য উন্মুল মু'মিনীন এর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে এটা হুজুর নয় বরং নাজ্জাশী নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এক বাদশাহ আর এটাই ছিল তাঁর শান আর মানের উপযুক্ত। যেমন হাদীসে রয়েছে, তিনি স্বয়ং আদায়ও করেন। বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এ ঘটনা হিজরী ষষ্ঠ অথবা সপ্তম সালের ছিল।
নাজ্জাশী আবিসিনিয়ার বাদশাদের উপাধি ছিল। নাজ্জাশীর আসল নাম ছিল আসহামা। মুহাজিরগণের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা সম্বন্ধে অবগত হয়েছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অষ্টম অথবা নবম হিজরী সনে তাঁর ইন্তিকাল হয়। ওহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহা অবগত হন। তিনি সাহাবা কিরামকে এ সংবাদ দান করেন এবং মদীনা শরীফে তাঁর গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করেন। (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন)।
মুহাজির মুসলমানগণের মধ্যে তাঁর নিকটতম স্নেহভাজন খালিদ ইবনে সাঈদ ইবনে আল-আসীকে স্বীয় উকীল নিযুক্ত করেন। আর যেমন আবু দাউদ ও নাসাঈ-এর ব্যাখ্যাধীন বর্ণনায় বর্ণিত হয়েছে, নাজাশী আবিসিনিয়াতেই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন করেন এবং রাসূলুল্লাহ্ -এর পক্ষ থেকে তিনি নগদ মহরও আদায় করেন। আবূ দাউদের এ বর্ণনায় মহরের পরিমাণ চার হাজার দিরহাম বলা হয়েছে, তবে হাকেমের 'মুসতাদরাক' ইত্যাদির বর্ণনায় চার হাজার দীনার উল্লেখ করা হয়েছে। আর হাদীস লিপিবদ্ধকারী ও বর্ণনাকারীগণ এটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। বস্তুত পবিত্র স্ত্রীগণের মধ্যে উম্মে হাবীবা (রা)-এর মহর অন্যান্য উন্মুল মু'মিনীন এর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। তবে এটা হুজুর নয় বরং নাজ্জাশী নির্ধারণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন এক বাদশাহ আর এটাই ছিল তাঁর শান আর মানের উপযুক্ত। যেমন হাদীসে রয়েছে, তিনি স্বয়ং আদায়ও করেন। বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, এ ঘটনা হিজরী ষষ্ঠ অথবা সপ্তম সালের ছিল।
নাজ্জাশী আবিসিনিয়ার বাদশাদের উপাধি ছিল। নাজ্জাশীর আসল নাম ছিল আসহামা। মুহাজিরগণের মাধ্যমে তিনি ইসলাম ও রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা সম্বন্ধে অবগত হয়েছিলেন। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। অষ্টম অথবা নবম হিজরী সনে তাঁর ইন্তিকাল হয়। ওহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইহা অবগত হন। তিনি সাহাবা কিরামকে এ সংবাদ দান করেন এবং মদীনা শরীফে তাঁর গায়েবানা জানাযার নামায আদায় করেন। (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকে সন্তুষ্ট রাখুন)।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)