কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

৩. যাকাতের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৪৫ টি

হাদীস নং: ১৬৩৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ধনী হওয়া সত্ত্বেও যার জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ।
১৬৩৬. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) .... আবু সাইদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يَجُوزُ لَهُ أَخْذُ الصَّدَقَةِ وَهُوَ غَنِيٌّ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ ابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ زَيْدٍ كَمَا قَالَ مَالِكٌ وَرَوَاهُ الثَّوْرِيُّ عَنْ زَيْدٍ قَالَ حَدَّثَنِي الثَّبْتُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم .
হাদীস নং: ১৬৩৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ধনী হওয়া সত্ত্বেও যার জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ।
১৬৩৭. মুহাম্মাদ ইবনে আওফ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করছেনঃ ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ করা হালাল নয়। অবশ্য যারা আল্লাহর রাস্তায় থাকে, অথবা মুসাফির, অথবা কারো দরিদ্র প্রতিবেশী যদি যাকাত হিসাবে কিছু মাল প্রাপ্ত হয়ে তা তার ধনী প্রতিবেশীকে উপঢৌকন হিসাবে দান করে অথবা দাওয়াত করে খেতে দেয়, তবে তা তাদের (ধনীদের) জন্য বৈধ বা হালাল।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يَجُوزُ لَهُ أَخْذُ الصَّدَقَةِ وَهُوَ غَنِيٌّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَوْفٍ الطَّائِيُّ، حَدَّثَنَا الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عِمْرَانَ الْبَارِقِيِّ، عَنْ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلاَّ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوِ ابْنِ السَّبِيلِ أَوْ جَارٍ فَقِيرٍ يُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ فَيُهْدِي لَكَ أَوْ يَدْعُوكَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ فِرَاسٌ وَابْنُ أَبِي لَيْلَى عَنْ عَطِيَّةَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ .
হাদীস নং: ১৬৩৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৫. এক ব্যক্তিকে যাকাতের মালের কি পরিমাণ দেয়া যেতে পারে।
১৬৩৮. আল-হাসান ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... বশীর ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আনসারদের এক ব্যক্তি যার নাম সাহল ইবনে আবু হাছমাহ, তাঁকে খবর দেন যে, নবী করীম (ﷺ) তাঁকে দিয়াতের হিসাবে একশতটি যাকাতের উট দান করেন, অর্থাৎ সেই আনসারীর দিয়াত (রক্তমূল্য) যিনি খায়বরে নিহত হন।
كتاب الزكاة
باب كَمْ يُعْطَى الرَّجُلُ الْوَاحِدُ مِنَ الزَّكَاةِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنِي سَعِيدُ بْنُ عُبَيْدٍ الطَّائِيُّ، عَنْ بُشَيْرِ بْنِ يَسَارٍ، زَعَمَ أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ يُقَالُ لَهُ سَهْلُ بْنُ أَبِي حَثْمَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَدَاهُ بِمِائَةٍ مِنْ إِبِلِ الصَّدَقَةِ - يَعْنِي دِيَةَ الأَنْصَارِيِّ الَّذِي قُتِلَ بِخَيْبَرَ .
হাদীস নং: ১৬৩৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে অবস্থায় যাঞ্ছা করা বৈধ।
১৬৩৯. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ..... যায়দ ইবনে উকবা আল-ফাযারী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ভিক্ষাবৃত্তি হল ক্ষতবিক্ষতকারী জিনিস-যার সাহায্যে কোন ব্যক্তি নিজের মুখমণ্ডল ক্ষতবিক্ষত করে। অতএব যার ইচ্ছা সে নিজের মানসম্মান বজায় রাখুক এবং যার ইচ্ছা নিজের লজ্জা-শরম ত্যাগ করুক। কিন্তু রাষ্ট্রপ্রধানের নিকট কিছু যাচ্ঞা করা বৈধ, অথবা অনন্যোপায় অবস্থায় যাচ্ঞা করা বৈধ।
كتاب الزكاة
باب مَا تَجُوزُ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ النَّمَرِيُّ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ عُقْبَةَ الْفَزَارِيِّ، عَنْ سَمُرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الْمَسَائِلُ كُدُوحٌ يَكْدَحُ بِهَا الرَّجُلُ وَجْهَهُ فَمَنْ شَاءَ أَبْقَى عَلَى وَجْهِهِ وَمَنْ شَاءَ تَرَكَ إِلاَّ أَنْ يَسْأَلَ الرَّجُلُ ذَا سُلْطَانٍ أَوْ فِي أَمْرٍ لاَ يَجِدُ مِنْهُ بُدًّا " .
হাদীস নং: ১৬৪০
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে অবস্থায় যাঞ্ছা করা বৈধ।
১৬৪০. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... কাবীসা ইবনে মুখারিক আল-হিলালী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি (এক জনের) ঋণের জামিন হলাম। আমি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট এলে তিনি বলেনঃ হে কাবীসা! তুমি যাকাতের মাল আসা পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আর আমি তা থেকে তোমাকে কিছু দেওয়ার নির্দেশ দিব। অতঃপর তিনি বলেন, হে কাবীসা! তিন শ্রেনীর লোক ব্যতীত কারো জন্য যাচ্ঞা করা হালাল নয়।

(১) যে ব্যক্তি যামিন হয়েছে তার জন্য তা পরিশোধিত না হওয়া পর্যন্ত অন্যের সাহায্য চাওয়া হালাল, অতঃপর সে তা পরিত্যাগ করবে।

(২) যদি কোন ব্যক্তির ধন-সম্পদ দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিনষ্ট হয়, তবে সে ব্যক্তির জন্য এ বিপদ হতে নিষ্কৃতি লাভ না করা পর্যন্ত যাচ্ঞা করা হালাল।

(৩) ঐ ব্যক্তি যে ধনী হওয়া সত্ত্বেও দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে অভাবগ্রস্ত ও সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছে। প্রমাণস্বরূপ যদি তার স্থানীয় তিনজন ব্যক্তি বলে যে, অমুক ব্যক্তিটি সর্বহারা হয়ে গিয়াছে তখন সেই ব্যক্তির জন্য চাওয়া (ভিক্ষা করা) ততক্ষণ পর্যন্ত বৈধ-যতক্ষণ না সে জীবন ধারণে স্বচ্ছল ও স্বাবলম্বী হয়।

অতঃপর তিনি বলেনঃ হে কাবীসা! উপরোক্ত তিন শ্রেনীর লোক ব্যতীত অন্যদের জন্য ভিক্ষা করা হারাম। যদি কেউ করে, তবে সে হারাম খায়।
كتاب الزكاة
باب مَا تَجُوزُ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ هَارُونَ بْنِ رِيَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي كِنَانَةُ بْنُ نُعَيْمٍ الْعَدَوِيُّ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ الْهِلاَلِيِّ، قَالَ تَحَمَّلْتُ حَمَالَةً فَأَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ " أَقِمْ يَا قَبِيصَةُ حَتَّى تَأْتِيَنَا الصَّدَقَةُ فَنَأْمُرَ لَكَ بِهَا " . ثُمَّ قَالَ " يَا قَبِيصَةُ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ إِلاَّ لأَحَدِ ثَلاَثَةٍ رَجُلٌ تَحَمَّلَ حَمَالَةً فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَهَا ثُمَّ يُمْسِكُ وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ جَائِحَةٌ فَاجْتَاحَتْ مَالَهُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ " . أَوْ قَالَ " سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ " . " وَرَجُلٌ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ حَتَّى يَقُولَ ثَلاَثَةٌ مِنْ ذَوِي الْحِجَا مِنْ قَوْمِهِ قَدْ أَصَابَتْ فُلاَنًا الْفَاقَةُ فَحَلَّتْ لَهُ الْمَسْأَلَةُ فَسَأَلَ حَتَّى يُصِيبَ قِوَامًا مِنْ عَيْشٍ - أَوْ سِدَادًا مِنْ عَيْشٍ - ثُمَّ يُمْسِكُ وَمَا سِوَاهُنَّ مِنَ الْمَسْأَلَةِ يَا قَبِيصَةُ سُحْتٌ يَأْكُلُهَا صَاحِبُهَا سُحْتًا " .
হাদীস নং: ১৬৪১
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৬. যে অবস্থায় যাঞ্ছা করা বৈধ।
১৬৪১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আনাস ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক আনসারী ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে উপস্থিত হয়ে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করে। তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তোমার ঘরে কি কিছু নাই? সে বলেঃ হ্যাঁ, একটি কম্বল মাত্র যার অর্ধেক আমি পরিধান করি এবং বাকী অর্ধেক বিছিয়ে শয়ন করি। আর আছে একটি পেয়ালা, যাতে আমি পানি পান করি। তিনি বলেনঃ উভয় বস্তু আমার নিকট নিয়ে আস। রাবী বলেনঃ সে তা আনয়ন করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তা স্বহস্তে ধারণ পূর্বক (নিলামের ডাকের মত) বলেনঃ কে এই দুটি ক্রয় করতে ইচ্ছুক? এক ব্যক্তি বলে, আমি তা এক দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করতে চাই।

অতঃপর তিনি বলেনঃ এক দিরহামের অধিক কে দিবে? তিনি দুই বা তিনবার এইরূপ উচ্চারণ করেন। তখন এক ব্যক্তি বলে, আমি তা দুই দিরহামের বিনিময়ে গ্রহণ করব। তিনি সেই ব্যক্তিকে তা প্রদান করেন এবং বিনিময়ে দুইটি দিরহাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি তা আনসারীর হাতে তুলে দিয়ে বলেনঃ এর একটি দিরহাম দিয়ে কিছু খাদ্য ক্রয় করে তোমার পরিবার-পরিজনদের দাও; আর বাকী এক দিরহাম দিয়ে একটি কুঠার কিনে আমার নিকট আস। লোকটি কুঠার কিনে আনলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বহস্তে তাতে হাতল লাগিয়ে তার হাতে দিয়ে বলেনঃ এখন তুমি যাও এবং জঙ্গল হতে কাঠ কেটে এনে বিক্রী কর। আর আমি যেন তোমাকে পনের দিন না দেখি।

অতঃপর সে চলে গেল এবং কাঠ কেটে এনে বিক্রয় করতে থাকে। অতঃপর সে (পনের দিন পর) আসল। সে তখন প্রাপ্ত হয়েছিল দশটি দিরহাম যা দিয়ে সে কিছু কাপড় এবং কিছু খাদ্য ক্রয় করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ভিক্ষাবৃত্তির চাইতে এটা তোমার জন্য উত্তম। কেননা ভিক্ষাবৃত্তির ফলে কিয়ামতের দিন তোমার চেহারা ক্ষত-বিক্ষত হত। ভিক্ষা চাওয়া তিন শ্রেনীর ব্যক্তি ব্যতীত অন্যদের জন্য হালাল নয়ঃ (১) ধূলা-মলিন নিঃস্ব ভিক্ষুকের জন্য, (২) প্রচন্ড ঋণের চাপে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য এবং (৩) যার উপর দিয়াত (রক্তপণ) আছে, অথচ তা পরিশোধের অক্ষমতার কারণে নিজের জীবন বিপন্ন— এ ধরনের ব্যক্তিরা যাচ্ঞা করতে পারে।
كتاب الزكاة
باب مَا تَجُوزُ فِيهِ الْمَسْأَلَةُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنِ الأَخْضَرِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ أَبِي بَكْرٍ الْحَنَفِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنَ الأَنْصَارِ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَسْأَلُهُ فَقَالَ " أَمَا فِي بَيْتِكَ شَىْءٌ " . قَالَ بَلَى حِلْسٌ نَلْبَسُ بَعْضَهُ وَنَبْسُطُ بَعْضَهُ وَقَعْبٌ نَشْرَبُ فِيهِ مِنَ الْمَاءِ . قَالَ " ائْتِنِي بِهِمَا " . فَأَتَاهُ بِهِمَا فَأَخَذَهُمَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدِهِ وَقَالَ " مَنْ يَشْتَرِي هَذَيْنِ " . قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمٍ . قَالَ " مَنْ يَزِيدُ عَلَى دِرْهَمٍ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا قَالَ رَجُلٌ أَنَا آخُذُهُمَا بِدِرْهَمَيْنِ . فَأَعْطَاهُمَا إِيَّاهُ وَأَخَذَ الدِّرْهَمَيْنِ وَأَعْطَاهُمَا الأَنْصَارِيَّ وَقَالَ " اشْتَرِ بِأَحَدِهِمَا طَعَامًا فَانْبِذْهُ إِلَى أَهْلِكَ وَاشْتَرِ بِالآخَرِ قَدُومًا فَأْتِنِي بِهِ " . فَأَتَاهُ بِهِ فَشَدَّ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عُودًا بِيَدِهِ ثُمَّ قَالَ لَهُ " اذْهَبْ فَاحْتَطِبْ وَبِعْ وَلاَ أَرَيَنَّكَ خَمْسَةَ عَشَرَ يَوْمًا " . فَذَهَبَ الرَّجُلُ يَحْتَطِبُ وَيَبِيعُ فَجَاءَ وَقَدْ أَصَابَ عَشَرَةَ دَرَاهِمَ فَاشْتَرَى بِبَعْضِهَا ثَوْبًا وَبِبَعْضِهَا طَعَامًا . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَذَا خَيْرٌ لَكَ مِنْ أَنْ تَجِيءَ الْمَسْأَلَةُ نُكْتَةً فِي وَجْهِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَصْلُحُ إِلاَّ لِثَلاَثَةٍ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ لِذِي غُرْمٍ مُفْظِعٍ أَوْ لِذِي دَمٍ مُوجِعٍ " .
হাদীস নং: ১৬৪২
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭. ভিক্ষাবৃত্তির নিন্দা।
১৬৪২. হিশাম ইবনে আম্মার (রাহঃ) ..... আওফ ইবনে মালিক (রাযিঃ) বর্ণনা করেছেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে সাতজন বা আটজন অথবা নয়জন উপস্থিত চিলাম। তখন তিনি বলেন, তোমরা কি আল্লাহর রাসূলের নিকট বায়আত গ্রহণ করবে না? আর আমরা অল্পদিন আগেই বায়আত গ্রহণ করেছিলাম। আমরা বলি, আমরা তো আপনার নিকট বায়আত হয়েছি, (এই উদ্দেশ্যে যে, হয়ত তিনি তা ভুলে গিয়েছেন)। তিনি এইরূপ তিনবার বলেন (যাতে আমরা মনে করি যে, তিনি পুনর্বার বায়আত গ্রহণের জন্য বলেছেন)।

তখন আমরা আমাদের হাত সম্প্রসারিত করি এবং তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করি। (আমাদের) একজন বলেন, ইয়া রাসূলা্ল্লাহ! আমরা তো (পূর্বে) আপনার নিকট বায়আত হয়েছি, এখন কিসের জন্য আপনার নিকট বায়আত গ্রহণ করব? তিনি বলেনঃ (এর উপর যে,) তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কিছুই শরীক করবেন। অতঃপর তিনি অনুচ্চ কন্ঠে বলেঃ তোমরা লোকদের নিকট কিছুই সাওয়ালকরবে না।

রাবী আওফ (রাযিঃ) বলেনঃ এদের কোন কোন ব্যক্তির (সফরকালে) চাবুক নীচে পড়ে গেলে তা উঠিয়ে দেওয়ার জন্য অন্যকে বলতেন না।
كتاب الزكاة
باب كَرَاهِيَةِ الْمَسْأَلَةِ
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ رَبِيعَةَ، - يَعْنِي ابْنَ يَزِيدَ - عَنْ أَبِي إِدْرِيسَ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي مُسْلِمٍ الْخَوْلاَنِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي الْحَبِيبُ الأَمِينُ، أَمَّا هُوَ إِلَىَّ فَحَبِيبٌ وَأَمَّا هُوَ عِنْدِي فَأَمِينٌ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ قَالَ كُنَّا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَبْعَةً أَوْ ثَمَانِيَةً أَوْ تِسْعَةً فَقَالَ " أَلاَ تُبَايِعُونَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " . وَكُنَّا حَدِيثَ عَهْدٍ بِبَيْعَةٍ قُلْنَا قَدْ بَايَعْنَاكَ حَتَّى قَالَهَا ثَلاَثًا فَبَسَطْنَا أَيْدِيَنَا فَبَايَعْنَاهُ فَقَالَ قَائِلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا قَدْ بَايَعْنَاكَ فَعَلاَمَ نُبَايِعُكَ قَالَ " أَنْ تَعْبُدُوا اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا وَتُصَلُّوا الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ وَتَسْمَعُوا وَتُطِيعُوا " . وَأَسَرَّ كَلِمَةً خُفْيَةً قَالَ " وَلاَ تَسْأَلُوا النَّاسَ شَيْئًا " . قَالَ فَلَقَدْ كَانَ بَعْضُ أُولَئِكَ النَّفَرِ يَسْقُطُ سَوْطُهُ فَمَا يَسْأَلُ أَحَدًا أَنْ يُنَاوِلَهُ إِيَّاهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ حَدِيثُ هِشَامٍ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ سَعِيدٌ .
হাদীস নং: ১৬৪৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৭. ভিক্ষাবৃত্তির নিন্দা।
১৬৪৩. উবাইদুল্লাহ ইবনে মুআয (রাহঃ) ..... ছাওবান (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আর তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আযাদকৃত গোলাম। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি আমার নিকট এই মর্মে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হবে যে, সে অন্যের নিকট যাচ্ঞা করবে না, আমি তার জান্নাতের জিম্মাদারী গ্রহণ করব। ছাওবান (রাযিঃ) বলেন, আমি। অতঃপর তিনি কারো নিকট কিছু প্রার্থনা করতেন না।
كتاب الزكاة
باب كَرَاهِيَةِ الْمَسْأَلَةِ
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ وَكَانَ ثَوْبَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَكَفَّلَ لِي أَنْ لاَ يَسْأَلَ النَّاسَ شَيْئًا وَأَتَكَفَّلَ لَهُ بِالْجَنَّةِ " . فَقَالَ ثَوْبَانُ أَنَا . فَكَانَ لاَ يَسْأَلُ أَحَدًا شَيْئًا .
হাদীস নং: ১৬৪৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৪. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। আনসারদের কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট কিছু প্রার্থনা করে। তিনি তাদের কিছু দান করলে তারা পুনরায় প্রার্থনা করে। অতঃপর তিনি বারবার তাদের দান করতে থাকায় তাঁর (সম্পদ) শেষ হয়ে যায়।

তখন তিনি বলেনঃ আমার নিকট গচ্ছিত আর কোন সম্পদ নাই। আর যে ব্যক্তি অন্যের নিকট প্রার্থনা করা থেকে বিরত থাকবে, আল্লাহ তাআলা তাকে পবিত্র করবেন; যে অমুখাপেক্ষী হবে, আল্লাহ তাআলা তাকে অমুখাপেক্ষী করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট সবর (ধৈর্য) কামনা করবে, আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। বস্ততঃ সবরের চাইতে উত্তম জিনিস কাউকে দান করা হয় নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ نَاسًا، مِنَ الأَنْصَارِ سَأَلُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَاهُمْ ثُمَّ سَأَلُوهُ فَأَعْطَاهُمْ حَتَّى إِذَا نَفِدَ مَا عِنْدَهُ قَالَ " مَا يَكُونُ عِنْدِي مِنْ خَيْرٍ فَلَنْ أَدَّخِرَهُ عَنْكُمْ وَمَنْ يَسْتَعْفِفْ يُعِفَّهُ اللَّهُ وَمَنْ يَسْتَغْنِ يُغْنِهِ اللَّهُ وَمَنْ يَتَصَبَّرْ يُصَبِّرْهُ اللَّهُ وَمَا أَعْطَى اللَّهُ أَحَدًا مِنْ عَطَاءٍ أَوْسَعَ مِنَ الصَّبْرِ " .
হাদীস নং: ১৬৪৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৫. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... ইবনে মাসউদ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি দারিদ্র্য পীড়িত হয়ে তা মানুষের নিকট প্রকাশ করে, আল্লাহ তার দারিদ্র্য দূর করেন না। অপরপক্ষে যে ব্যক্তি তা আল্লাহর কাছে পেশ করে আল্লাহ তাকে অমুখাপেক্ষী করেন, হয় দ্রুত মৃত্যুর মাধ্যমে অথবা সম্পদশালী করার মাধ্যমে।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، ح حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ حَبِيبٍ أَبُو مَرْوَانَ، حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، - وَهَذَا حَدِيثُهُ - عَنْ بَشِيرِ بْنِ سَلْمَانَ، عَنْ سَيَّارٍ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ طَارِقٍ، عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ أَصَابَتْهُ فَاقَةٌ فَأَنْزَلَهَا بِالنَّاسِ لَمْ تُسَدَّ فَاقَتُهُ وَمَنْ أَنْزَلَهَا بِاللَّهِ أَوْشَكَ اللَّهُ لَهُ بِالْغِنَى إِمَّا بِمَوْتٍ عَاجِلٍ أَوْ غِنًى عَاجِلٍ " .
হাদীস নং: ১৬৪৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৬. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ...... ইবনুল ফিরাসী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি কি (লোকের নিকট) সাওয়ালকরব? নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ না। আর একান্তই যদি তোমাকে কিছু প্রার্থনা করতে হয় তবে অবশ্যই উত্তম লোকদের নিকট চাইবে।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنْ بَكْرِ بْنِ سَوَادَةَ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ مَخْشِيٍّ، عَنِ ابْنِ الْفِرَاسِيِّ، أَنَّ الْفِرَاسِيَّ، قَالَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَسْأَلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ وَإِنْ كُنْتَ سَائِلاً لاَ بُدَّ فَاسْأَلِ الصَّالِحِينَ " .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬৪৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৭. আবুল ওলীদ আত-তাইয়ালিসী (রাহঃ) ...... ইবনুস-সাঈদী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, উমর (রাযিঃ) আমাকে যাকাত আদায়ের জন্য নিয়োগ করেন। আমি তা আদায়ের পর তাঁর নিকট জমা দিলে তিনি আমাকে কাজের বিনিময় গ্রহণের নির্দেশ দেন। তখন আমি বলি, আমি তো তা আল্লাহর জন্য করেছি, অতএব আমার বিনিময় আল্লাহর কাছে। তিনি বলেন, আমি তোমাকে যা দান করি তা গ্রহণ কর। কেননা আমিও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যাকাত আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। আর আমিও তোমার মত বলেছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তোমার চাওয়া ব্যতিরেকে যা কিছু দেওয়া হয়, তুমি তা দিয়ে যা খুশী তাই কর অথবা দান-খয়রাত করে দাও।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَشَجِّ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ السَّاعِدِيِّ، قَالَ اسْتَعْمَلَنِي عُمَرُ - رضى الله عنه - عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا فَرَغْتُ مِنْهَا وَأَدَّيْتُهَا إِلَيْهِ أَمَرَ لِي بِعُمَالَةٍ فَقُلْتُ إِنَّمَا عَمِلْتُ لِلَّهِ وَأَجْرِي عَلَى اللَّهِ . قَالَ خُذْ مَا أُعْطِيتَ فَإِنِّي قَدْ عَمِلْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَعَمَّلَنِي فَقُلْتُ مِثْلَ قَوْلِكَ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا أُعْطِيتَ شَيْئًا مِنْ غَيْرِ أَنْ تَسْأَلَهُ فَكُلْ وَتَصَدَّقْ " .
হাদীস নং: ১৬৪৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মিম্বরের উপর উপবিষ্ট হয়ে যাকাত ও দান-খয়রাত গ্রহণ হতে বিরত থাকা এবং উপরের হাত নীচের হাত হতে উত্তম হওয়ার কথা বলেন। উপরের হাত হল খরচকারী (দাতা) এবং নীচের হাত যাচ্ঞাকারী (গ্রহীতা)।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَهُوَ عَلَى الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَذْكُرُ الصَّدَقَةَ وَالتَّعَفُّفَ مِنْهَا وَالْمَسْأَلَةَ " الْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى وَالْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ وَالسُّفْلَى السَّائِلَةُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ اخْتُلِفَ عَلَى أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَبْدُ الْوَارِثِ " الْيَدُ الْعُلْيَا الْمُتَعَفِّفَةُ " . وَقَالَ أَكْثَرُهُمْ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ " الْيَدُ الْعُلْيَا الْمُنْفِقَةُ " . وَقَالَ وَاحِدٌ عَنْ حَمَّادٍ " الْمُتَعَفِّفَةُ " .
হাদীস নং: ১৬৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৪৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৮. ভিক্ষাবৃত্তি বা কারো কাছে কিছু চাওয়া থেকে নিবৃত্ত থাকা।
১৬৪৯. আহমাদ ইবনে হাম্বল (রাহঃ) .... আবুল আহওয়াস (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা মালিক ইবনে নাদলা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ হাত তিন প্রকারের-
(১) আল্লাহ তাআলার হাত সবার উপরে,
(২) অতঃপর দানকারীর হাত এবং
(৩) সর্ব নিম্নের হাত হল ভিক্ষুকের হাত।
কাজেই তোমরা তোমাদের উদ্ধৃত্ত মাল দান-খয়রাত কর এবং নিজেকে নফসের দাবীর কাছে সমর্পণ কর না।
كتاب الزكاة
باب فِي الاِسْتِعْفَافِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، حَدَّثَنَا عَبِيدَةُ بْنُ حُمَيْدٍ التَّيْمِيُّ، حَدَّثَنِي أَبُو الزَّعْرَاءِ، عَنْ أَبِي الأَحْوَصِ، عَنْ أَبِيهِ، مَالِكِ بْنِ نَضْلَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " الأَيْدِي ثَلاَثَةٌ فَيَدُ اللَّهِ الْعُلْيَا وَيَدُ الْمُعْطِي الَّتِي تَلِيهَا وَيَدُ السَّائِلِ السُّفْلَى فَأَعْطِ الْفَضْلَ وَلاَ تَعْجِزْ عَنْ نَفْسِكَ " .
হাদীস নং: ১৬৫০
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।
১৬৫০. মুহাম্মাদ ইবনে কাছীর (রাহঃ) .... আবু রাফে (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) এক ব্যক্তিকে (আরকাম) বনী মাখযূমদের নিকট হতে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। তিনি (আরকাম) আবু রাফেকে বলেন, আপনি আমার সঙ্গে থাকুন তাহলে আপনিও তা হতে কিছু পাবেন। জবাবে তিনি বলেনঃ আমি নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটে গিয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে নেব। তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেনঃ কোন সম্প্রদায়ের মুক্তদাস তাদের অর্ন্তভূক্ত। অতএব আমাদের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয় (তাই তোমার জন্যও তা বৈধ নয়)।
كتاب الزكاة
باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ ابْنِ أَبِي رَافِعٍ، عَنْ أَبِي رَافِعٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم بَعَثَ رَجُلاً عَلَى الصَّدَقَةِ مِنْ بَنِي مَخْزُومٍ فَقَالَ لأَبِي رَافِعٍ اصْحَبْنِي فَإِنَّكَ تُصِيبُ مِنْهَا . قَالَ حَتَّى آتِيَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْأَلَهُ فَأَتَاهُ فَسَأَلَهُ فَقَالَ " مَوْلَى الْقَوْمِ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَإِنَّا لاَ تَحِلُّ لَنَا الصَّدَقَةُ " .
হাদীস নং: ১৬৫১
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।
১৬৫১. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) .... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ নবী করীম (ﷺ) একটি পতিত খেজুরের পাশ দিয়ে গমন করেন। কিন্তু তিনি এই ভয়ে তা গ্রহণ করেন নাই যে, হয়ত তা যাকাতের খেজুর।
كتاب الزكاة
باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَمُرُّ بِالتَّمْرَةِ الْعَائِرَةِ فَمَا يَمْنَعُهُ مِنْ أَخْذِهَا إِلاَّ مَخَافَةُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً .
হাদীস নং: ১৬৫২
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।
১৬৫২. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) একটি খেজুর পেয়ে বলেনঃ যদি আমি তা যাকাতের মাল হওয়ার আশঙ্কা না করতাম তবে অবশ্যই তা খেয়ে ফেলতাম।
كتاب الزكاة
باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، عَنْ خَالِدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ تَمْرَةً فَقَالَ " لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ أَنْ تَكُونَ صَدَقَةً لأَكَلْتُهَا " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ هِشَامٌ عَنْ قَتَادَةَ هَكَذَا .
হাদীস নং: ১৬৫৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।
১৬৫৩। মুহাম্মাদ ইবনে উবাইেদ(রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে নবী করিম (ﷺ)-এর খিদমতে একটি উটের জন্য প্রেরণ করেন, যা তিনি (নবী (ﷺ)) তাঁকে যাকাতের মাল হতে দান করেছিলেন।*

* সম্ভবতঃ এটা বনী হাশিমদের জন্য সাদকার মাল গ্রহণ হারাম হওয়ার পূর্বের ঘটনা। পরে তা মানসূখ হয়। অথবা তা সাদকার মাল ছিল না।
كتاب الزكاة
باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ الْمُحَارِبِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بَعَثَنِي أَبِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي إِبِلٍ أَعْطَاهَا إِيَّاهُ مِنَ الصَّدَقَةِ .
হাদীস নং: ১৬৫৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৯. হাশিম বংশীয়দের যাকাত প্রদান সম্পর্কে।
১৬৫৪. মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (রাহঃ) ..... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে এই সূত্রেও পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এই সূত্রে হাদীসের শেষাংশে (আমার পিতা এগুলো তাঁর সাথে বিনিময় করেন) অংশটি অতিরিক্ত আছে।
كتاب الزكاة
باب الصَّدَقَةِ عَلَى بَنِي هَاشِمٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - هُوَ ابْنُ أَبِي عُبَيْدَةَ - عَنْ أَبِيهِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، نَحْوَهُ زَادَ أَبِي يُبْدِلُهَا لَهُ .
হাদীস নং: ১৬৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৫৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩০. ফকীর যদি ধনীকে হাদিয়া হিসাবে যাকাতের মাল দেয়।
১৬৫৫. আমর ইবনে মারযূক (রাহঃ) ..... আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ)-এর খিদমতে গোশত পেশ করা হলে তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তা কি ধরনের গোশত? লোকেরা বলেন, এই গোশত বারীরাহ (আয়িশা (রাযিঃ) এর দাসী)-কে সদকাহ হিসাবে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেনঃ তা তার জন্য সদকাহস্বরূপ এবং আমার জন্য উপঢৌকন স্বরূপ।
كتاب الزكاة
باب الْفَقِيرِ يُهْدِي لِلْغَنِيِّ مِنَ الصَّدَقَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أُتِيَ بِلَحْمٍ قَالَ " مَا هَذَا " . قَالُوا شَىْءٌ تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ فَقَالَ " هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ " .