কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

৩. যাকাতের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৪৫ টি

হাদীস নং: ১৬১৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯. কি পরিমাণ সাদ্‌কাতুল ফিতর দিতে হবে তার বর্ণনা।
১৬১৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে (জীবিত) ছিলেন, তখন আমরা সদকায়ে ফিতর আদায় করতাম, প্রত্যেক ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাসের পক্ষ থেকে এক সা’ পরিমাণ খাদ্য (খাদ্যশস্য) বা এক সা’ পরিমাণ পনির বা এক সা’ বার্লি বা এক সা খোরমা অথবা এক সা’ পরিমাণ কিসমিস।

আমরা এই হিসাবে সাদ্‌কায়ে ফিতর দিয়ে যাচ্ছিলাম এবং অবশেষে মুআবিয়া (রাযিঃ) হজ্জ অথবা উমরার উদ্দেশ্যে আগমন করেন। অতঃপর তিনি মিম্বরে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং লোকদের উদ্দেশ্যে বলেন, সিরিয়া থেকে আগত দুই ‘মুদ্দ’* গম এক সা’ খেজুরের সম পরিমাণ। তখন লোকেরা তাই গ্রহণ করেন। কিন্তু আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) বলেন, আমি যত দিন জীবিত আছি, সদকায়ে ফিতর এক সা’ হিসাবেই প্রদান করতে থাকব।
كتاب الزكاة
باب كَمْ يُؤَدَّى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ، - يَعْنِي ابْنَ قَيْسٍ - عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ كُنَّا نُخْرِجُ إِذْ كَانَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَكَاةَ الْفِطْرِ عَنْ كُلِّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ صَاعًا مِنْ طَعَامٍ أَوْ صَاعًا مِنْ أَقِطٍ أَوْ صَاعًا مِنْ شَعِيرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ صَاعًا مِنْ زَبِيبٍ فَلَمْ نَزَلْ نُخْرِجُهُ حَتَّى قَدِمَ مُعَاوِيَةُ حَاجًّا أَوْ مُعْتَمِرًا فَكَلَّمَ النَّاسَ عَلَى الْمِنْبَرِ فَكَانَ فِيمَا كَلَّمَ بِهِ النَّاسَ أَنْ قَالَ إِنِّي أَرَى أَنَّ مُدَّيْنِ مِنْ سَمْرَاءِ الشَّامِ تَعْدِلُ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ فَأَخَذَ النَّاسُ بِذَلِكَ . فَقَالَ أَبُو سَعِيدٍ فَأَمَّا أَنَا فَلاَ أَزَالُ أُخْرِجُهُ أَبَدًا مَا عِشْتُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ عُلَيَّةَ وَعَبْدَةُ وَغَيْرُهُمَا عَنِ ابْنِ إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُثْمَانَ بْنِ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ عَنْ عِيَاضٍ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ بِمَعْنَاهُ وَذَكَرَ رَجُلٌ وَاحِدٌ فِيهِ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ أَوْ صَاعَ حِنْطَةٍ . وَلَيْسَ بِمَحْفُوظٍ .
হাদীস নং: ১৬১৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯. কি পরিমাণ সাদ্‌কাতুল ফিতর দিতে হবে তার বর্ণনা।
১৬১৭. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) থেকে ইসমাঈলের সূত্রে বর্ণিত এ হাদীসে ‘গমের’ উল্লেখ নাই।
كتاب الزكاة
باب كَمْ يُؤَدَّى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ، لَيْسَ فِيهِ ذِكْرُ الْحِنْطَةِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَدْ ذَكَرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عِيَاضٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، " نِصْفَ صَاعٍ مِنْ بُرٍّ " . وَهُوَ وَهَمٌ مِنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ هِشَامٍ أَوْ مِمَّنْ رَوَاهُ عَنْهُ .
হাদীস নং: ১৬১৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১৯. কি পরিমাণ সাদ্‌কাতুল ফিতর দিতে হবে তার বর্ণনা।
১৬১৮. হামিদ ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ..... ইবনে আজলান ইয়াদ (রাহঃ) কে বলতে শুনেছেন, আমি আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমি সব সময়ই (সকল বস্তু হতে) সাদ্‌কায়ে ফিতর হিসাবে এক সা’ পরিমাণই আদায় করতে থাকব। কেননা আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে খেজুর, বার্লি, পনির ও কিসমিস সদকায়ে ফিতর হিসাবে এক সা’ করে আদায় করতাম। এটা ইয়াহয়া বর্ণিত হাদীস। তবে সুফিয়ানের বর্ণনায় আরও আছে: ″অথবা এক সা’ আটা″।

রাবী হামিদ বলেন, মুহাদ্দিছগণ এটা গ্রহণে অসম্মতি জ্ঞাপন করায় সুফিয়ান এটা পরিহার করেন।
كتاب الزكاة
باب كَمْ يُؤَدَّى فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ
حَدَّثَنَا حَامِدُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، سَمِعَ عِيَاضًا، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ لاَ أُخْرِجُ أَبَدًا إِلاَّ صَاعًا إِنَّا كُنَّا نُخْرِجُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَاعَ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ أَقِطٍ أَوْ زَبِيبٍ هَذَا حَدِيثُ يَحْيَى زَادَ سُفْيَانُ أَوْ صَاعًا مِنْ دَقِيقٍ قَالَ حَامِدٌ فَأَنْكَرُوا عَلَيْهِ فَتَرَكَهُ سُفْيَانُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ فَهَذِهِ الزِّيَادَةُ وَهَمٌ مِنِ ابْنِ عُيَيْنَةَ .
হাদীস নং: ১৬১৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৬১৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২০. অর্ধ সা’ গম প্রদানের বর্ণনাসমুহ
১৬১৯. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ...... আব্দুল্লাহ ইবনে ছা’লাবা অথবা ছা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবী সুআয়র (রাহঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ছোট বা বড়, স্বাধীন বা ক্রীতদাস, নর বা নারী তোমাদের প্রতি দুইজনের পক্ষ থেকে এক সা’ গম বা খেজুর নির্ধারিত করা হল। তোমাদের মধ্যে যারা ধনী, তাদের আল্লাহ পবিত্র করবেন এবং যারা গরীব তাদেরকে দানের তুলনায় আরও অধিক দান করবেন। রাবী সুলাইমান তাঁর হাদীসে গ’নী অথবা ফকীর শব্দ অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।
كتاب الزكاة
باب مَنْ رَوَى نِصْفَ، صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْعَتَكِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ رَاشِدٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، - قَالَ مُسَدَّدٌ عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ، - عَنْ أَبِيهِ، - وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ أَوْ ثَعْلَبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي صُعَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صَاعٌ مِنْ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ اثْنَيْنِ صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ حُرٍّ أَوْ عَبْدٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى أَمَّا غَنِيُّكُمْ فَيُزَكِّيهِ اللَّهُ وَأَمَّا فَقِيرُكُمْ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِ أَكْثَرَ مِمَّا أَعْطَاهُ " . زَادَ سُلَيْمَانُ فِي حَدِيثِهِ غَنِيٍّ أَوْ فَقِيرٍ .
হাদীস নং: ১৬২০
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২০. অর্ধ সা’ গম প্রদানের বর্ণনাসমুহ
১৬২০. আলী ইবনুল হাসান (রাহঃ) .... ছা’লাবা ইবনে আব্দুল্লাহ অথবা (রাবীর সন্দেহ) আব্দুল্লাহ ইবনে ছা’লাবা (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। অপর পক্ষে মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া আন-নিশাপুরী ......... আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাবা ইবনে সাগীর তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ পরিমাণ বার্লি সদকায়ে ফিতর হিসাবে দেয়ার নির্দেশ দেন।

রাবী আলী ইবনে হাসানের হাদীসে আরও আছেঃ براوقمح ( উভয় শব্দের অর্থ অভিন্ন)। অতঃপর উভয় রাবী (আলী ইবনে হাসান ও মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহয়া) এক হয়ে বর্ণনা করেছেনঃ ছোট, বড়, স্বাধীন ও ক্রীতদাস সকলের পক্ষ হতে (সাদ্‌কায়ে ফিতর) আদায় করতে হবে।
كتاب الزكاة
باب مَنْ رَوَى نِصْفَ، صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْحَسَنِ الدَّرَابَجِرْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يَزِيدَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا بَكْرٌ، - هُوَ ابْنُ وَائِلٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ ثَعْلَبَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَوْ قَالَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ بَكْرٍ الْكُوفِيِّ، قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى هُوَ بَكْرُ بْنُ وَائِلِ بْنِ دَاوُدَ أَنَّ الزُّهْرِيَّ، حَدَّثَهُمْ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ صُعَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَطِيبًا فَأَمَرَ بِصَدَقَةِ الْفِطْرِ صَاعِ تَمْرٍ أَوْ صَاعِ شَعِيرٍ عَنْ كُلِّ رَأْسٍ زَادَ عَلِيٌّ فِي حَدِيثِهِ أَوْ صَاعِ بُرٍّ أَوْ قَمْحٍ بَيْنَ اثْنَيْنِ - ثُمَّ اتَّفَقَا - عَنِ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ وَالْحُرِّ وَالْعَبْدِ .
হাদীস নং: ১৬২১
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২০. অর্ধ সা’ গম প্রদানের বর্ণনাসমুহ
১৬২১. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) .... ইবনে শিহাব (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ছালাবা আর ইবনে সালেহ (রাহঃ) তার সাথে আল-আদাবী অর্থাৎ আল-আযরী যোগ করেছেন। রাবী ’আযরী বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতরের দুই দিন পূর্বে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন ......... আল মুকরীর (আব্দুল্লাহ ইবনে ইয়াযীদ) হাদীসের অনুরূপ।
كتاب الزكاة
باب مَنْ رَوَى نِصْفَ، صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ وَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ قَالَ ابْنُ صَالِحٍ قَالَ الْعَدَوِيُّ وَإِنَّمَا هُوَ الْعُذْرِيُّ خَطَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم النَّاسَ قَبْلَ الْفِطْرِ بِيَوْمَيْنِ بِمَعْنَى حَدِيثِ الْمُقْرِئِ .
হাদীস নং: ১৬২২
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২০. অর্ধ সা’ গম প্রদানের বর্ণনাসমুহ
১৬২২. মুহাম্মাদ ইবনুল মুছান্না (রাহঃ) ..... আল-হাসান (আল বসরী) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) রমযানের শেষভাগে বসরার (মসজিদের) মিম্বরে দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ তোমরা তোমাদের রোযার যাকাত (সদকায়ে ফিতর) প্রদান কর। উপস্থিত জনগণ তাঁর বক্তব্য হৃদয়ঙ্গম করতে অসমর্থ হলে তিনি সেখানে উপস্থিত মদীনার লোকদের সম্বোধন করে বলেনঃ তোমরা তোমাদের ভাইদের নিকট যাও এবং তাদের এ সম্পর্কে শিক্ষা প্রদান কর, কেননা তারা বুঝতে পারছে না। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এই সদকাহ এক সা’ পরিমাণ খেজুর বা বার্লি অথবা অর্ধ সা’ পরিমাণ গম প্রত্যেক স্বাধীন ক্রীতদাস, নর-নারী, ছোট-বড় সকলের উপর ধার্য করেছেন। অতঃপর আলী (রাযিঃ) যখন (বসরায়) এলেন তখন জিনিসপত্রের দর কম দেখে বলেনঃ এখন আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে প্রাচুর্য দান করেছেন। কাজেই তোমরা যদি প্রত্যেক বস্তু হতে সাদ্‌কাহ (সাদ্‌কায়ে-ফিতর) হিসাবে এক সা’ পরিমাণ প্রদান কর (তবে ভালো হত)।

রাবী হুমায়দ বলেন, হাসান এই মত পোষণ করতেন যে, রমযানের ফিতরা (সাদ্‌কায়ে ফিতর) কেবল রোযাদার ব্যক্তির উপর ওয়াজিব।
كتاب الزكاة
باب مَنْ رَوَى نِصْفَ، صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا سَهْلُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حُمَيْدٌ أَخْبَرَنَا عَنِ الْحَسَنِ، قَالَ خَطَبَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَحِمَهُ اللَّهُ فِي آخِرِ رَمَضَانَ عَلَى مِنْبَرِ الْبَصْرَةِ فَقَالَ أَخْرِجُوا صَدَقَةَ صَوْمِكُمْ فَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوا فَقَالَ مَنْ هَا هُنَا مِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ قُومُوا إِلَى إِخْوَانِكُمْ فَعَلِّمُوهُمْ فَإِنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ فَرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هَذِهِ الصَّدَقَةَ صَاعًا مِنْ تَمْرٍ أَوْ شَعِيرٍ أَوْ نِصْفَ صَاعٍ مِنْ قَمْحٍ عَلَى كُلِّ حُرٍّ أَوْ مَمْلُوكٍ ذَكَرٍ أَوْ أُنْثَى صَغِيرٍ أَوْ كَبِيرٍ فَلَمَّا قَدِمَ عَلِيٌّ - رضى الله عنه - رَأَى رُخْصَ السِّعْرِ قَالَ قَدْ أَوْسَعَ اللَّهُ عَلَيْكُمْ فَلَوْ جَعَلْتُمُوهُ صَاعًا مِنْ كُلِّ شَىْءٍ . قَالَ حُمَيْدٌ وَكَانَ الْحَسَنُ يَرَى صَدَقَةَ رَمَضَانَ عَلَى مَنْ صَامَ .
হাদীস নং: ১৬২৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২১. অবিলম্বে (অগ্রিম) যাকাত পরিশোধ কর।
১৬২৩. আল-হাসান ইবনুস-সাব্বাহ (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম (ﷺ) উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। ইবনে জামীল, খালীদ ইবনুল ওলীদ এবং আব্বাস (রাযিঃ) যাকাত প্রদানে বিরত থাকেন। সুতরাং রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ইবনে জামীল যাকাত প্রদানে অনিচ্ছুক কেন? আসলে সে তো গরীব ছিল, এখন আল্লাহ তাকে ধনী করেছেন। আর খালিদ ইবনুল ওলীদের প্রতি তোমরা যুলুম করেছ (অর্থাৎ তার উপর যাকাত ফরজ নয়)। কেননা সে তো তার লৌহবর্ম ওয়াক্‌ফ করেছে এবং তার সমুদয় যুদ্ধাস্ত্র আল্লাহর পথে যুদ্ধের জন্য দিয়ে দিয়েছে। আর আব্বাস, তিনি তো রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর চাচা, তাঁর যাকাত আদায় ও অনুরূপ খরচপত্রের ভার আমাকেই বহন করতে হবে। অতঃপর তিনি বলেনঃ তুমি কি অবগত নও যে, কোন ব্যক্তির চাচা তার পিতার সমতুল্য বা তার পিতার মতই?
كتاب الزكاة
باب فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، عَنْ وَرْقَاءَ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ عَلَى الصَّدَقَةِ فَمَنَعَ ابْنُ جَمِيلٍ وَخَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ وَالْعَبَّاسُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا يَنْقِمُ ابْنُ جَمِيلٍ إِلاَّ أَنْ كَانَ فَقِيرًا فَأَغْنَاهُ اللَّهُ وَأَمَّا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ فَإِنَّكُمْ تَظْلِمُونَ خَالِدًا فَقَدِ احْتَبَسَ أَدْرَاعَهُ وَأَعْتُدَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَمَّا الْعَبَّاسُ عَمُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَهِيَ عَلَىَّ وَمِثْلُهَا " . ثُمَّ قَالَ " أَمَا شَعَرْتَ أَنَّ عَمَّ الرَّجُلِ صِنْوُ الأَبِ " . أَوْ " صِنْوُ أَبِيهِ " .
হাদীস নং: ১৬২৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২১. অবিলম্বে (অগ্রিম) যাকাত পরিশোধ কর।
১৬২৪. সাঈদ ইবনে মনসুর (রাহঃ) ..... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আব্বাস (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট (সময়ের পূর্বে) দ্রুত যাকাত প্রদানের অনুমতি প্রার্থনা করলে তিনি তাঁকে অনুমতি দান করেন।

আরও একটি সূত্রে হুশাইম থেকে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে এবং এই শেষোক্ত সূত্রটি অধিকতর সহীহ।
كتاب الزكاة
باب فِي تَعْجِيلِ الزَّكَاةِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّا، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ حُجَيَّةَ، عَنْ عَلِيٍّ، أَنَّ الْعَبَّاسَ، سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي تَعْجِيلِ صَدَقَتِهِ قَبْلَ أَنْ تَحِلَّ فَرَخَّصَ لَهُ فِي ذَلِكَ . قَالَ مَرَّةً فَأَذِنَ لَهُ فِي ذَلِكَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ هُشَيْمٌ عَنْ مَنْصُورِ بْنِ زَاذَانَ عَنِ الْحَكَمِ عَنِ الْحَسَنِ بْنِ مُسْلِمٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَحَدِيثُ هُشَيْمٍ أَصَحُّ .
হাদীস নং: ১৬২৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২২. এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাকাত সামগ্রী খরচ করা সম্পর্কে।
১৬২৫. নসর ইবনে আলী (রাহঃ) ..... ইবরাহীম ইবনে আতা (রাহঃ) তাঁর পিতার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন যে, যিয়াদ অথবা অন্য কোন শাসক ইমরান ইবনে হুসাঈন (রাযিঃ)-কে যাকাত আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন। অতঃপর ইমরান (রাযিঃ) ফিরে এলে তিনি (আমীর) তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, যাকাতের মাল কোথায়? তিনি বলেনঃ আপনি আমাকে যাকাতের যে মাল আদায়ের জন্য প্রেরণ করেন, তা আমরা সেই সমস্ত স্থান হতে আদায় করেছি; যেখান হতে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আদায় করতাম, আর তা সেই সমস্ত স্থানে খরচ করেছি, যেখানে আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে ব্যয় করতাম (অর্থাৎ যেখানে আদায় করা হত সেই এলাকার গরীবদের মধ্যে বিতরণ করা হত)।
كتاب الزكاة
باب فِي الزَّكَاةِ هَلْ تُحْمَلُ مِنْ بَلَدٍ إِلَى بَلَدٍ
حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، أَخْبَرَنَا أَبِي، أَخْبَرَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ عَطَاءٍ، مَوْلَى عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ زِيَادًا، أَوْ بَعْضَ الأُمَرَاءِ بَعَثَ عِمْرَانَ بْنَ حُصَيْنٍ عَلَى الصَّدَقَةِ فَلَمَّا رَجَعَ قَالَ لِعِمْرَانَ أَيْنَ الْمَالُ قَالَ وَلِلْمَالِ أَرْسَلْتَنِي أَخَذْنَاهَا مِنْ حَيْثُ كُنَّا نَأْخُذُهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَوَضَعْنَاهَا حَيْثُ كُنَّا نَضَعُهَا عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
হাদীস নং: ১৬২৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬২৬. আল-হাসান ইবনে আলী (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষা চায় অথচ তার নিকট যা আছে তা তার জন্য যথেষ্ট, সে কিয়ামতের দিন স্বীয় চেহারায় অসংখ্য জখম, নখের আঁচড় ও ক্ষত সহ আগমন করবে। জিজ্ঞাসা করা হল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! ধনী কে? তিনি বলেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম অথবা পঞ্চাশ দিরহাম মূল্যের পরিমাণ স্বর্ণ (যার কাছে থাকবে সে ভিক্ষা করতে পারবে না)।

ইয়াহয়া (রাহঃ) বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে উছমান (রাহঃ) সুফিয়ানকে বলেন, আমার স্মরণ আছে যে, শোবা (রাহঃ) হাকীমের সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন না। সুফিয়ান বলেন, যুবায়দ (রাহঃ) মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদের সূত্রে তা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ وَلَهُ مَا يُغْنِيهِ جَاءَتْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ خُمُوشٌ - أَوْ خُدُوشٌ - أَوْ كُدُوحٌ - فِي وَجْهِهِ " . فَقِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا الْغِنَى قَالَ " خَمْسُونَ دِرْهَمًا أَوْ قِيمَتُهَا مِنَ الذَّهَبِ " . قَالَ يَحْيَى فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُثْمَانَ لِسُفْيَانَ حِفْظِي أَنَّ شُعْبَةَ لاَ يَرْوِي عَنْ حَكِيمِ بْنِ جُبَيْرٍ فَقَالَ سُفْيَانُ فَقَدْ حَدَّثَنَاهُ زُبَيْدٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ .
হাদীস নং: ১৬২৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬২৭. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাহঃ) বনী আসাদ গোত্রের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা আমি এবং আমার পরিবার-পরিজন (মদীনার নিকটবর্তী) বাকী আল-গারকাদে গিয়ে অবতরণ করি। তখন আমার স্ত্রী আমাকে বলে, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যান এবং তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করুন যা আমরা আহার করতে পারি। আর আমার পরিবারের লোকেরাও তাদের প্রয়োজনের কথা বর্ণনা করতে থাকে। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট পৌঁছে দেখতে পাই যে, জনৈক ব্যক্তি তাঁর নিকট কিছু প্রার্থনা করছে আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলছেনঃ আমার নিকট এমন কিছু নাই যা আমি তোমাকে দিতে পারি।

অতঃপর সে তাঁর নিকট হতে অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বলতে থাকেঃ আমার জীবনের শপথ! নিশ্চয় আপনি আপনার পছন্দসই লোককে দিয়ে থাকেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লোকটি আমার উপর অসন্তুষ্ট হলো, কিন্তু আমার নিকট দেয়ার মত কিছুই নাই। অতঃপর তিনি আরো বলেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা ভিক্ষা চায়, আর সে এক উকিয়া* বা তার সমপরিমাণ মুল্যের মালের মালিক সে অবশ্যই উত্যক্ত করার জন্য ভিক্ষা চায়।

আসাদী বলেন, তখন আমি (মনে মনে) বলি, আমাদের উট উকিয়া হতে উত্তম। আর উকিয়া হল চল্লিশ দিরহামের সমান। রাবী বলেন, আমি তাঁর নিকট কিছুই না চেয়ে ফিরে আসি। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে কিছু গম ও কিসমিস এলে তিনি তার অংশবিশেষ আমাদেরও দান করেন, অথবা (রাবীর সন্দেহ) যেমন তিনি বলেছেন, এমনকি আল্লাহ তাআলা এর বদৌলতে আমাদেরকে মালদার বানিয়ে দেন।

* উকিয়া হলঃ রৌপ্যের ওজন, যার পরিমাণ হল এক তোলা সাত মাশা। অন্য বর্ণনায় উকিয়া হলঃ চল্লিশ দিরহামের সমান।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، عَنْ رَجُلٍ، مِنْ بَنِي أَسَدٍ أَنَّهُ قَالَ نَزَلْتُ أَنَا وَأَهْلِي، بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَقَالَ لِي أَهْلِي اذْهَبْ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَسَلْهُ لَنَا شَيْئًا نَأْكُلُهُ فَجَعَلُوا يَذْكُرُونَ مِنْ حَاجَتِهِمْ فَذَهَبْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَوَجَدْتُ عِنْدَهُ رَجُلاً يَسْأَلُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " لاَ أَجِدُ مَا أُعْطِيكَ " . فَتَوَلَّى الرَّجُلُ عَنْهُ وَهُوَ مُغْضَبٌ وَهُوَ يَقُولُ لَعَمْرِي إِنَّكَ لَتُعْطِي مَنْ شِئْتَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " يَغْضَبُ عَلَىَّ أَنْ لاَ أَجِدَ مَا أُعْطِيهِ مَنْ سَأَلَ مِنْكُمْ وَلَهُ أُوقِيَّةٌ أَوْ عَدْلُهَا فَقَدْ سَأَلَ إِلْحَافًا " . قَالَ الأَسَدِيُّ فَقُلْتُ لَلَقِحَةٌ لَنَا خَيْرٌ مِنْ أُوقِيَّةٍ وَالأُوقِيَّةُ أَرْبَعُونَ دِرْهَمًا . قَالَ فَرَجَعْتُ وَلَمْ أَسْأَلْهُ فَقَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَعْدَ ذَلِكَ شَعِيرٌ أَوْ زَبِيبٌ فَقَسَمَ لَنَا مِنْهُ - أَوْ كَمَا قَالَ - حَتَّى أَغْنَانَا اللَّهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ هَكَذَا رَوَاهُ الثَّوْرِيُّ كَمَا قَالَ مَالِكٌ .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৬২৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬২৮. কুতায়বা ইবনে সাঈদ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ যে ব্যক্তি ভিক্ষা চায়, আর তার নিকট এক উকিয়া পরিমাণ মূল্যের বস্ত থাকে সে অসংগতভাবে ভিক্ষা চায়। অতঃপর আমি (মনে মনে) বলি, আমার ইয়াকূত নাম্নী উট তো এক উকিয়ার চাইতেও উত্তম। রাবী হিশাম বলেন, চল্লিশ দিরহাম হতেও উত্তম। অতপঃর আমি তার নিকট কিছু প্রার্থনা না করে প্রত্যাবর্তন করি। হিশাম তাঁর হাদীসে আরও বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে এক উকিয়া চল্লিশ দিরহামের সমপরিমাণ মূল্যের ছিল।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَهِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الرِّجَالِ، عَنْ عُمَارَةَ بْنِ غَزِيَّةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنْ أَبِيهِ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ " مَنْ سَأَلَ وَلَهُ قِيمَةُ أُوقِيَّةٍ فَقَدْ أَلْحَفَ " . فَقُلْتُ نَاقَتِي الْيَاقُوتَةُ هِيَ خَيْرٌ مِنْ أُوقِيَّةٍ . قَالَ هِشَامٌ خَيْرٌ مِنْ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا فَرَجَعْتُ فَلَمْ أَسْأَلْهُ شَيْئًا زَادَ هِشَامٌ فِي حَدِيثِهِ وَكَانَتِ الأُوقِيَّةُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا .
হাদীস নং: ১৬২৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৬২৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬২৯. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... সাহল ইবনুর-রাবী আল-হানযালীয়া (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে উয়াইনা ইবনে হিসন ও আল-আকরা ইবনে হাবিস আগমন করে। তারা উভয়ে তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলে তিনি তাদের প্রার্থনার অনুরূপ মাল প্রদানের নির্দেশ দেন এবং মুআবিয়া (রাযিঃ)-কে তাদের অনুকূলে একটি দলীল লিখে দিতে নির্দেশ দেন। তখন মুআবিয়া (রাযিঃ) তাদের উভয়ের চাহিদা অনুযায়ী তা লিখে দেন। অতঃপর আকরা এই নির্দেশনামা নিয়ে তা ভাঁজ করে তার পাগড়ীর মধ্যে লুকিয়ে চলে যায়। কিন্তু উয়াইনা নিজের নির্দেশনামা গ্রহণ করে তা নিয়ে নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট এসে বলেঃ ইয়া মুহাম্মাদ! আপনি কি চান যে, আমি আমার কওমের নিকট এমন একটি পত্র বহন করে নিয়ে যাই যার বিষয়বস্তু সম্পর্কে আমি অজ্ঞ (সহীফাতুল মুতালাম্মেসের)* মত।

মুআবিয়া (রাযিঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে তার কথা অবহিত করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি ধনী (অমুখাপেক্ষী) হওয়া সত্ত্বেও সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অন্যের নিকট কিছু চায়, সে অধিক দোজখের আগুন চায়। রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় আছেঃ জাহান্নামের জ্বলন্ত অঙ্গার চায়। সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! ধনী (বা মুখাপেক্ষী) হওয়ার সীমা কি? রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করেনঃ অমুখাপেক্ষীতার সীমা কি, যার কারণে অন্যের নিকট কিছু চাওয়া অনুচিত হয়? তিনি বলেন, কারো নিকট এমন সম্পদ থাকা, যা তার সকাল ও সন্ধ্যার প্রয়োজনের জন্য যথেষ্ট। রাবী নুফায়লীর অন্য বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তির নিকট এমন পরিমাণ সম্পদ হবে, যা তার রাত-দিন বা দিন-রাতের জন্য যথেষ্ট। ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেনঃ আমি এখানে যে হাদীস উল্লেখ করলাম তা নুফায়লী আমাদের নিকট সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

* মুতালাম্মেসের দলীল, ইনি প্রাচীন আরবের একজন কবি ছিলেন। কোন এক বাদশাহের বিরুদ্ধে বিদ্রুপাত্মক কবিতা রচনা করায় তিনি রুষ্ট হন এবং তাঁর এক গভর্নরের নিকট একটি একটি পত্রসহ তাঁকে পাঠান। কবি মনে করেন, নিশ্চয় বাদ্শাহ তাঁকে পুরস্কৃত করার জন্য লিখেছেন। পথিমধ্যে সন্দেহ বশে তিনি পত্র খুলে দেখতে পান যে, তন্মধ্যে তাঁর মৃত্যুদন্ড দেওয়ার নিদের্শ আছে। অতঃপর তিনি সেই গভর্নরের নিকট উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকেন এবং বেঁচে যান। এমতাবস্থায় তা একটি আরবীয় প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়েছে।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا مِسْكِينٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُهَاجِرِ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، حَدَّثَنَا سَهْلُ ابْنُ الْحَنْظَلِيَّةِ، قَالَ قَدِمَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ عُيَيْنَةُ بْنُ حِصْنٍ وَالأَقْرَعُ بْنُ حَابِسٍ فَسَأَلاَهُ فَأَمَرَ لَهُمَا بِمَا سَأَلاَ وَأَمَرَ مُعَاوِيَةَ فَكَتَبَ لَهُمَا بِمَا سَأَلاَ فَأَمَّا الأَقْرَعُ فَأَخَذَ كِتَابَهُ فَلَفَّهُ فِي عِمَامَتِهِ وَانْطَلَقَ وَأَمَّا عُيَيْنَةُ فَأَخَذَ كِتَابَهُ وَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَكَانَهُ فَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَتَرَانِي حَامِلاً إِلَى قَوْمِي كِتَابًا لاَ أَدْرِي مَا فِيهِ كَصَحِيفَةِ الْمُتَلَمِّسِ . فَأَخْبَرَ مُعَاوِيَةُ بِقَوْلِهِ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ سَأَلَ وَعِنْدَهُ مَا يُغْنِيهِ فَإِنَّمَا يَسْتَكْثِرُ مِنَ النَّارِ " . وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " مِنْ جَمْرِ جَهَنَّمَ " . فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا يُغْنِيهِ وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ وَمَا الْغِنَى الَّذِي لاَ تَنْبَغِي مَعَهُ الْمَسْأَلَةُ قَالَ " قَدْرُ مَا يُغَدِّيهِ وَيُعَشِّيهِ " . وَقَالَ النُّفَيْلِيُّ فِي مَوْضِعٍ آخَرَ " أَنْ يَكُونَ لَهُ شِبَعُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَوْ لَيْلَةٍ وَيَوْمٍ " . وَكَانَ حَدَّثَنَا بِهِ مُخْتَصِرًا عَلَى هَذِهِ الأَلْفَاظِ الَّتِي ذُكِرَتْ .
হাদীস নং: ১৬৩০
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬৩০. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) .... যিয়াদ ইবনে হারিছ আস-সুদাঈ (রাযিঃ) বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাজির হয়ে তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করি। অতঃপর তিনি একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করেন, অতপর বলেন, তাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলে, আমাকে কিছু যাকাতের মাল দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বলেনঃ আল্লাহ তাআলা সাদকার (মাল খরচের ব্যাপারে) তাঁর নবী ও অন্যের নির্দেশের উপর সন্তুষ্ট হননি, বরং তিনি এ ব্যাপারে স্বয়ং নির্দেশ প্রদান করেছেন এবং তা আট শ্রেনীর লোকের মধ্যে বিভক্ত করেছেন। যদি তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হও তবে আমি অবশ্যই তোমাকে তোমার হক প্রদান করব।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ، - يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ بْنِ غَانِمٍ - عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زِيَادٍ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ نُعَيْمٍ الْحَضْرَمِيَّ، أَنَّهُ سَمِعَ زِيَادَ بْنَ الْحَارِثِ الصُّدَائِيَّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَبَايَعْتُهُ فَذَكَرَ حَدِيثًا طَوِيلاً قَالَ فَأَتَاهُ رَجُلٌ فَقَالَ أَعْطِنِي مِنَ الصَّدَقَةِ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ اللَّهَ تَعَالَى لَمْ يَرْضَ بِحُكْمِ نَبِيٍّ وَلاَ غَيْرِهِ فِي الصَّدَقَاتِ حَتَّى حَكَمَ فِيهَا هُوَ فَجَزَّأَهَا ثَمَانِيَةَ أَجْزَاءٍ فَإِنْ كُنْتَ مِنْ تِلْكَ الأَجْزَاءِ أَعْطَيْتُكَ حَقَّكَ " .
হাদীস নং: ১৬৩১
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬৩১. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) .... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঐ ব্যক্তি মিসকীন নয়, যাকে তুমি একটি এবং দুটি খেজুর, কিংবা এক বা দুই লোকমা খাদ্য দান কর। বরং প্রকৃত মিসকীন তারাই, যারা (অভাবী হওয়া সত্ত্বেও) মানুষের নিকট চায় না, যার ফলে মানুষেরা তাদের অভাব সম্পর্কে অবহিতও হতে পারে না যে, তাদের দান-খয়রাত করবে।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ التَّمْرَةُ وَالتَّمْرَتَانِ وَالأُكْلَةُ وَالأُكْلَتَانِ وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ النَّاسَ شَيْئًا وَلاَ يَفْطِنُونَ بِهِ فَيُعْطُونَهُ " .
হাদীস নং: ১৬৩২
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬৩২. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ......... পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় আছে, মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে অভাবী হওয়া সত্ত্বেও অন্যের নিকট নিজের প্রয়োজনের কথা ব্যক্ত করে না এবং তার অভাবও বুঝা যায় না যে, তাকে দান-খয়রাত দেয়া যেতে পারে, তাকে বঞ্চিত বলা যায়। আর মুসাদ্দাদের বর্ণনায় ″তাদেরকে ’মুতাআফফিফ" (যারা কিছুই চায় না) কথাটুকু উল্লেখ নাই।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ، وَأَبُو كَامِلٍ - الْمَعْنَى - قَالُوا حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ قَالَ " وَلَكِنَّ الْمِسْكِينَ الْمُتَعَفِّفُ " . زَادَ مُسَدَّدٌ فِي حَدِيثِهِ " لَيْسَ لَهُ مَا يَسْتَغْنِي بِهِ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ وَلاَ يُعْلَمُ بِحَاجَتِهِ فَيُتَصَدَّقُ عَلَيْهِ فَذَاكَ الْمَحْرُومُ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مُسَدَّدٌ " الْمُتَعَفِّفُ الَّذِي لاَ يَسْأَلُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا مُحَمَّدُ بْنُ ثَوْرٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ جَعَلاَ الْمَحْرُومَ مِنْ كَلاَمِ الزُّهْرِيِّ وَهَذَا أَصَحُّ .
হাদীস নং: ১৬৩৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬৩৩. মুসাদ্দাদ (রাহঃ) ..... উবাইদুল্লাহ ইবনে আদী ইবনুল খিয়ার (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে (অপরিচিত) দুই ব্যক্তি এই খবর দেন যে, তাঁরা বিদায় হজ্জের সময় নবী করীম রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খিদমতে হাযির হন। তখন তিনি যাকাতের মাল বন্টনে রত ছিলেন। ঐ দুই ব্যক্তি কিছু মালের জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করে পুনরায় দৃষ্টি অবনত করেন। তিনি আমাদের উভয়কে শক্ত সবল ও হৃষ্টপুষ্ট দেখতে পেলেন। তিনি বলেন, যদি তোমরা চাও তবে আমি তোমাদের দুই জনকে দান করব। (কিন্তু জেনে রাখ!) এই মালে ধনী, কর্মক্ষম ও শক্ত সবলদের কোন অধিকার নাই।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، قَالَ أَخْبَرَنِي رَجُلاَنِ، أَنَّهُمَا أَتَيَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ يَقْسِمُ الصَّدَقَةَ فَسَأَلاَهُ مِنْهَا فَرَفَعَ فِينَا الْبَصَرَ وَخَفَضَهُ فَرَآنَا جَلْدَيْنِ فَقَالَ " إِنْ شِئْتُمَا أَعْطَيْتُكُمَا وَلاَ حَظَّ فِيهَا لِغَنِيٍّ وَلاَ لِقَوِيٍّ مُكْتَسِبٍ " .
হাদীস নং: ১৬৩৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৩. যাকাত কাকে দিতে হবে এবং কাকে ধনী বলা যায়।
১৬৩৪. আব্বাদ ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। মহানবী (ﷺ) বলেনঃ ধনী ব্যক্তি ও সুঠাম দেহের অধিকারী কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ (বা তাদের যাকাত প্রদান) বৈধ নয়।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يُعْطَى مِنَ الصَّدَقَةِ وَحَدِّ الْغِنَى
حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ مُوسَى الأَنْبَارِيُّ الْخُتَّلِيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ، - يَعْنِي ابْنَ سَعْدٍ - قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ سُفْيَانُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ كَمَا قَالَ إِبْرَاهِيمُ وَرَوَاهُ شُعْبَةُ عَنْ سَعْدٍ قَالَ " لِذِي مِرَّةٍ قَوِيٍّ " . وَالأَحَادِيثُ الأُخَرُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بَعْضُهَا " لِذِي مِرَّةٍ قَوِيٍّ " . وَبَعْضُهَا " لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . وَقَالَ عَطَاءُ بْنُ زُهَيْرٍ إِنَّهُ لَقِيَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو فَقَالَ إِنَّ الصَّدَقَةَ لاَ تَحِلُّ لِقَوِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ .
হাদীস নং: ১৬৩৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২৪. ধনী হওয়া সত্ত্বেও যার জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ।
১৬৩৫. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ..... আতা ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচ শ্রেনীর লোক ব্যতীত ধনী ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়ঃ
(১) আল্লাহর রাস্তায় জিহাদে যোগদানকারী;
(২) যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারী;
(৩) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি;
(৪) কোন ধনী ব্যক্তির গরীবের প্রাপ্ত যাকাত স্বীয় অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা;
(৫) যার মিসকীন প্রতিবেশী নিজের প্রাপ্ত যাকাত তাকে উপঢৌকন হিসাবে দান করলে ধনী হওয়া সত্ত্বেও তা গ্রহণ বৈধ।
كتاب الزكاة
باب مَنْ يَجُوزُ لَهُ أَخْذُ الصَّدَقَةِ وَهُوَ غَنِيٌّ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ إِلاَّ لِخَمْسَةٍ لِغَازٍ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ لِعَامِلٍ عَلَيْهَا أَوْ لِغَارِمٍ أَوْ لِرَجُلٍ اشْتَرَاهَا بِمَالِهِ أَوْ لِرَجُلٍ كَانَ لَهُ جَارٌ مِسْكِينٌ فَتُصُدِّقَ عَلَى الْمِسْكِينِ فَأَهْدَاهَا الْمِسْكِينُ لِلْغَنِيِّ " .
tahqiq

তাহকীক: