কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

كتاب السنن للإمام أبي داود

৩. যাকাতের অধ্যায় - এর পরিচ্ছেদসমূহ

মোট হাদীস ১৪৫ টি

হাদীস নং: ১৫৫৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৫৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যাকাতের অধ্যায়
১৫৫৬। কুতায়বা ইবনে সাঈস আছ-ছাকাফী (রাহঃ) ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ইন্তিকালের পর আবু বকর (রাযিঃ)-কে তাঁর স্থলাভিসিক্ত করা হয়। এই সময়ে আরবের কিছু লোক মুরতাদ (ইসলাম ত্যাগী) হয়ে যায়। এমতাবস্থায় উমর (রাযিঃ) আবু বকর (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করেন, আপনি (মুরতাদ) লোকদের বিরুদ্ধে কিরূপে যুদ্ধ করবেন? অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ আমি নির্দেশ প্রাপ্ত হয়েছি যে, যতক্ষণ না লোকেরা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। অতঃপর যে ব্যক্তি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলবে, তাঁর জন্য জান-মাল আমার নিকট নিরাপদ। অবশ্য শরীআতের দৃষ্টিতে তার উপর দন্ড আসলে তা কার্যকর হবে এবং তাঁর হিসাব-নিকাশ আল্লাহর নিকটে।

আবু বকর (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব, যার নামায ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কেননা যাকাত হল ধন-সম্পদের হক। আল্লাহর শপথ! তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে যে রশি যাকাত দিত, যদি তাও দিতে তারা অস্বীকার করে, তবে আমি তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করব।

উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! তখম আমি উপলদ্ধি করতে পারলাম যে, আল্লাহ তাআলা আবু বকর (রাযিঃ) এর অন্তর যুদ্ধের জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছেন। উমর (রাযিঃ) আরও বলেন, আমি হৃদয়ংগম করলাম যে, তিনিই (আবু বকর) সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত আছে।
كتاب الزكاة
كتاب الزكاة
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ لأَبِي بَكْرٍ كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَمَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ " . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عِقَالاً كَانُوا يُؤَدُّونَهُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهِ . فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ لِلْقِتَالِ - قَالَ - فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ مَعْمَرُ بْنُ الْمُثَنَّى الْعِقَالُ صَدَقَةُ سَنَةٍ وَالْعِقَالاَنِ صَدَقَةُ سَنَتَيْنِ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَاهُ رَبَاحُ بْنُ زَيْدٍ وَعَبْدُ الرَّزَّاقِ عَنْ مَعْمَرٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ بِإِسْنَادِهِ وَقَالَ بَعْضُهُمْ عِقَالاً . وَرَوَاهُ ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ قَالَ عَنَاقًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَقَالَ شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ وَمَعْمَرٌ وَالزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا . وَرَوَى عَنْبَسَةُ عَنْ يُونُسَ عَنِ الزُّهْرِيِّ فِي هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ عَنَاقًا .
হাদীস নং: ১৫৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৫৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ যাকাতের অধ্যায়
১৫৫৭। ইবনুস সারহ ও সুলাইমান ইবনে দাউদ (রাহঃ) .... ইমাম যুহরী (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু বাকর (রাযিঃ) বলেন, তার হক হল যাকাত আদায় করা। এই বর্ণনায় রাবী ‘ইকালান” শব্দ উল্লেখ করেছেন।
كتاب الزكاة
كتاب الزكاة
حَدَّثَنَا ابْنُ السَّرْحِ، وَسُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ إِنَّ حَقَّهُ أَدَاءُ الزَّكَاةِ وَقَالَ عِقَالاً .
হাদীস নং: ১৫৫৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৫৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. যে পরিমাণ মালে যাকাত ওয়াজিব হয়।
১৫৫৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) ...... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পাঁচটি উটের কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না, রূপার পরিমাণ দুই শত দিরহামের (তোলা) কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না * এবং ভূমি হতে উৎপন্ন ফসলের পরিমাণ পাঁচ ওয়াসাকের কম হলে যাকাত ওয়াজিব হবে না।**

*যদি কেউ দুইশত দিরহাম পরিমাণ রূপার মালিক হয় এবং তা এক বছর তাঁর নিকট জমা থাকে, তবে ঐ সম্পদের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাতস্বরূপ প্রদান করতে হবে।

**এক ওয়াসাকের পরিমাণ হলঃ ৬০ সা’আ। এক সা’আ = প্রায় এক সের তের ছটাক। হানাফী মাযহাব অনুসারে ভূমিতে উৎপন্ন ফসলের যাকাত বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। বৃষ্টির পানি দ্বারা স্বাভাবিকভাবে বিনা শ্রমে যদি ক্ষেতের ফসল উৎপন্ন হয়, তবে দশ ভাগের একভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। ইমাম আবু হানীফা (রাহঃ) এর মতে ক্ষেতের উৎপন্ন ফসল কম বা বেশী যাই হোক, তার যাকাত আদায় করতে হবে। আর ক্ষেতে পানি সেচ ও আগাছা পরিষ্কার করার জন্য শ্রম খাটানো হলে ১/৪০ ভাগ যাকাত আদায় করতে হবে। - (অনুবাদক)
كتاب الزكاة
باب مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ ذَوْدٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌ وَلَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ صَدَقَةٌ " .
হাদীস নং: ১৫৫৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৫৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. যে পরিমাণ মালে যাকাত ওয়াজিব হয়।
১৫৫৯. আইয়ুব ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি এর বর্ণনা ধারা নবী করীম (ﷺ) পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ পাঁচ ওয়াসাকের কম উৎপন্ন ফসলের যাকাত ওয়াজিব হবে না এবং এক ওয়াসাকের পরিমাণ হল ষাট সা’আ।
كتاب الزكاة
باب مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ
حَدَّثَنَا أَيُّوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا إِدْرِيسُ بْنُ يَزِيدَ الأَوْدِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ الْجَمَلِيِّ، عَنْ أَبِي الْبَخْتَرِيِّ الطَّائِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، يَرْفَعُهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوْسُقٍ زَكَاةٌ " . وَالْوَسْقُ سِتُّونَ مَخْتُومًا . قَالَ أَبُو دَاوُدَ أَبُو الْبَخْتَرِيِّ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِي سَعِيدٍ .
হাদীস নং: ১৫৬০
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. যে পরিমাণ মালে যাকাত ওয়াজিব হয়।
১৫৬০. মুহাম্মাদ ইবনে কুদামা (রাহঃ) .... ইবরাহীম (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ওয়াসাকের পরিমাণ হল ষাট সা’আ-এর সমান এবং হিজাজীদের প্রচলিত সুনির্দিষ্ট ওজন।*

*হিজাজবাসীদের মতে এক সা’আ-এর পরিমাণ হল চার মুদ্‌ এবং এক মুদ হল ৪/৩ রতল। ইরাকীদের অভিমত অনুসারে এক সা’আ-এর পরিমাণ হল চার মুদ এক মুদ হল দুই রতলের সমান। - (অনুবাদক)
كتاب الزكاة
باب مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الْمُغِيرَةِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ الْوَسْقُ سِتُّونَ صَاعًا مَخْتُومًا بِالْحَجَّاجِيِّ .
হাদীস নং: ১৫৬১
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ১. যে পরিমাণ মালে যাকাত ওয়াজিব হয়।
১৫৬১. মুহাম্মাদ ইবনে বাশাশার (রাহঃ) .... নাসিরা ইবনে আবুল মানযিল (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হাবীব আল-মালিকীকে বলতে শুনেছিঃ একদা জনৈক ব্যক্তি ইমরান ইবনে হুসায়েন (রাযিঃ)-কে বলেন, হে আবু নুজায়েদ! আপনারা এমন সব হাদীস বর্ণনা করেন যার ভিত্তি কুরআনের মধ্যে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয় না। একথায় ইমরান (রাযিঃ) রাগান্বিত হয়ে তাকে বলেন, তোমরা কি কুরআনে এরূপ কোন নির্দেশ পেয়েছ যে, চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম যাকাত দিতে হবে? এত সংখ্যক ছাগলের জন্য একটি ছাগল যাকাত দিতে হবে? এত সংখ্যক উটের এত যাকাত দিতে হবে? অনুরূপ কোন নির্ধারিত নির্দেশ কুরআনে আছে কি? লোকটি বলল, না। তিনি বলেন, তোমরা এই যাকাতের বিস্তারিত নির্দেশ কোথায় পেয়েছে? তোমরা তা আমাদের নিকটে পেয়েছ এবং আমরা তা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকট পেয়েছি। তিনি এরূপভাবে অন্যান্য বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন।
كتاب الزكاة
باب مَا تَجِبُ فِيهِ الزَّكَاةُ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا صُرَدُ بْنُ أَبِي الْمَنَازِلِ، قَالَ سَمِعْتُ حَبِيبًا الْمَالِكِيَّ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ لِعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ يَا أَبَا نُجَيْدٍ إِنَّكُمْ لَتُحَدِّثُونَنَا بِأَحَادِيثَ مَا نَجِدُ لَهَا أَصْلاً فِي الْقُرْآنِ . فَغَضِبَ عِمْرَانُ وَقَالَ لِلرَّجُلِ أَوَجَدْتُمْ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا شَاةً شَاةٌ وَمِنْ كُلِّ كَذَا وَكَذَا بَعِيرًا كَذَا وَكَذَا أَوَجَدْتُمْ هَذَا فِي الْقُرْآنِ قَالَ لاَ . قَالَ فَعَنْ مَنْ أَخَذْتُمْ هَذَا أَخَذْتُمُوهُ عَنَّا وَأَخَذْنَاهُ عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَذَكَرَ أَشْيَاءَ نَحْوَ هَذَا .
হাদীস নং: ১৫৬২
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ২. বাণিজ্যিক পণ্যের যাকাত।
১৫৬২. মুহাম্মাদ ইবনে দাউদ (রাহঃ) ..... সামুরা ইবনে জুনদুব (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ব্যবসায়ের উদ্দেশ্যে খরিদকৃত পণ্যের যাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
كتاب الزكاة
باب الْعُرُوضِ إِذَا كَانَتْ لِلتِّجَارَةِ هَلْ فِيهَا مِنْ زَكَاةٍ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ دَاوُدَ بْنِ سُفْيَانَ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مُوسَى أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، حَدَّثَنِي خُبَيْبُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِيهِ، سُلَيْمَانَ عَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ، قَالَ أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَأْمُرُنَا أَنْ نُخْرِجَ الصَّدَقَةَ مِنَ الَّذِي نُعِدُّ لِلْبَيْعِ .
হাদীস নং: ১৫৬৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।
১৫৬৩. আবু কামিল (রাহঃ) ..... আমর ইবনে শুআইব (রাহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি (দাদা) বলেন, এক মহিলা তার কন্যাসহ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে উপস্থিত হন। তার কন্যার হাতে মোটা দুই গাছি সোনার কাকন ছিল। তিনি বলেনঃ তোমরা কি যাকাত দাও? মহিলা বলেন, না।

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তুমি কি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের কাঁকন পরিধান করান? রাবী বলেন, একথা শুনে মেয়েটি তার হাত থেকে তা খুলে নবী করীম (ﷺ)-এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এ দুটি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য।
كتاب الزكاة
باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ
حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، وَحُمَيْدُ بْنُ مَسْعَدَةَ، - الْمَعْنَى - أَنَّ خَالِدَ بْنَ الْحَارِثِ، حَدَّثَهُمْ حَدَّثَنَا حُسَيْنٌ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ امْرَأَةً، أَتَتْ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَعَهَا ابْنَةٌ لَهَا وَفِي يَدِ ابْنَتِهَا مَسَكَتَانِ غَلِيظَتَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ لَهَا " أَتُعْطِينَ زَكَاةَ هَذَا " . قَالَتْ لاَ . قَالَ " أَيَسُرُّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللَّهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ " . قَالَ فَخَلَعَتْهُمَا فَأَلْقَتْهُمَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَالَتْ هُمَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَلِرَسُولِهِ .
হাদীস নং: ১৫৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।
১৫৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বর্ণালংকার ব্যবহার করতাম। একদা আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এই অলংকার “কানয” হিসেবে গণ্য হবে কী? তিনি বলেনঃ যে মালের পরিমাণ এতটা হবে যার উপর যাকাত ধার্য হয়, তার যাকাত দিতে হবে, তা (ভূগর্ভে) গচ্ছিত ধন নয়।*

*জমীনের অভ্যন্তরে প্রোথিত সম্পদকে ‘কান্‌য’ বলে। তা সাধারণ সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে গণ্য।
كتاب الزكاة
باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَتَّابٌ، - يَعْنِي ابْنَ بَشِيرٍ - عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَنْزٌ هُوَ فَقَالَ " مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ " .
হাদীস নং: ১৫৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।
১৫৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস (রাহঃ) .... আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ ইবনুল হাদ (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রী আয়িশা (রাযিঃ) এর খেদমতে উপস্থিত হই। তখন তিনি বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার হাতে রূপার বড় বড় আংটি দেখতে পান। তিনি বলেন, হে আয়িশা! এ কি? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার উদ্দেশ্যে রূপচর্চা কারার জন্য তা গড়িয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এর যাকাত পরিশোধ করে থাক? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহ পাকের যা ইচ্ছা ছিল। তিনি বলেনঃ তোমাকে দোযখে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট।*

*হানাফী মাযহাব মতে অলংকারের যাকাত দিতে হবে। হযরত উমর, ইবনে মাসউদ, আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আব্বাস, আবু মুসা (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণের মতে অলংকার-পত্রের যাকাত দিতে হবে। সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আতা, ইবনে সীরীন, জাবের ইবনে যায়েদ, মুজাহিদ, যুহরী, সুফিয়ান সাওরী, আব্দুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ, দাহ্‌হাক, আলকামা, আসওয়াদ, উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) প্রমুখ উপরোক্ত হয় গ্রহণ করেছেন। অপরদিকে ইবনে উমর, জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ, আয়েশা, আনাস ইবনে মালেক, আসমা বিনতে আবু বকর (রাযিঃ) প্রমুখ সাহাবীগণের মতে অলংকার-পত্রের উপর যাকাত ধার্য হবে না। ইমাম মালেক, শাফিঈ, আহমাদ (রাহঃ) প্রমুখ এই মত গ্রহণ করেছেন।
كتاب الزكاة
باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِدْرِيسَ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ الرَّبِيعِ بْنِ طَارِقٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي جَعْفَرٍ، أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَخْبَرَهُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، أَنَّهُ قَالَ دَخَلْنَا عَلَى عَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَرَأَى فِي يَدِي فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ فَقَالَ " مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ " . فَقُلْتُ صَنَعْتُهُنَّ أَتَزَيَّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنَّ " . قُلْتُ لاَ أَوْ مَا شَاءَ اللَّهُ . قَالَ " هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ " .
হাদীস নং: ১৫৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৬
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।
১৫৬৬. সাফওয়ান ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... উমর ইবনে ইয়ালা থেকে এই সূত্রেও আংটি সম্পর্কিত পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। সুফিয়ানকে জিজ্ঞাসা করা হল, কিভাবে এর যাকাত দিতে হবে? তিনি বলেন, যাকাতের অন্যান্য মালের সাথে যোগ করে।
كتاب الزكاة
باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ
حَدَّثَنَا صَفْوَانُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عُمَرَ بْنِ يَعْلَى، فَذَكَرَ الْحَدِيثَ نَحْوَ حَدِيثِ الْخَاتَمِ . قِيلَ لِسُفْيَانَ كَيْفَ تُزَكِّيهِ قَالَ تَضُمُّهُ إِلَى غَيْرِهِ .
tahqiq

তাহকীক:

rabi
বর্ণনাকারী:
হাদীস নং: ১৫৬৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৭
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৬৭। মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ......... হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, আমি ছুমামা ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আনাস (রাযিঃ) এর নিকট থেকে একটি কিতাব (বা পত্র) সংগ্রহ করেছি। তিনি (ছুমামা) ধারণা করেন যে, আবু বকর সিদ্দীক (রাযিঃ) (খলিফা হওয়ার পরে) এই পত্রখানা আনাস (রাযিঃ)-কে (বাহরাইনে) যাকাত আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রেরণের সময় লিখেন। পত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মোহরাংকিত ছিল। তাতে লেখা ছিল, এটা ফরয যাকাতের ফিরিস্তি, যা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মুসলমানদের উপর ধার্য করেছেন এবং আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে যার নির্দেশ করেছেন। যে মুসলমানের নিকট তা নিয়ম মাফিক চাওয়া হবে, সে তা প্রদান করবে। আর যার নিকট এর অধিক চাওয়া হবে সে তা দেবা না।

পঁচিশটির কম সংখ্যক উটে প্রতি পাঁচটি উটের যাকাত হল একটি বকরী। উটের সংখ্যা পঁচিশ হতে পঁয়ত্রিশের মধ্যে হলে এর যাকাত হবে একটি বিনতে মাখাদ, অর্থাৎ এক বছর বয়সের মাদী উট। পালে যদি এই বয়সের মাদী উট না থাকে তবে একটি ইবনে মাবূন (যার বয়স দুই বছর পূর্ণ হয়ে তিন বছরে পড়বে) প্রদান করবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য একটি “বিনতে লাবূন” (দুই বছরের মাদী উট) যাকাত স্বরূপ আদায় করতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ হতে ষাটের মধ্যে হলে এর জন্য একটি গর্ভ ধারণের উপযোগী চার বৎসর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একষট্টি হতে পঁচাত্তরের মধ্যে হলে পাঁচ বৎসর বয়সের একটি মাদী উট যাকাত স্বরূপ দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর হতে নব্বইর মধ্যে হলে এর জন্য দুই বৎসর বয়সের দুটি মাদী উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একানব্বই হতে একশ বিশের মধ্যে হলে এর জন্য গর্ভ ধারণে সক্ষম দুইটি (চার বছর বয়সের) মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত বিশের অধিক হলে (অতিরিক্ত) প্রত্যেক চল্লিশ উটের জন্য একটি করে দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে এবং প্রত্যেক পঞ্চাশ উটের জন্য একটি চার বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে।

যাকাত আদায়কালে নির্দিষ্ট বয়সের উট না থাকলে অর্থাৎ কারো উটের সংখ্যা পাঁচ বছরের একটি মাদী উট প্রদানের সম-পরিমাণ হল, অথচ তার নিকট পাঁচ বছরের মাদী উট নাই, কিন্তু চার বছরের মাদী উট আছে, তখন তার নিকট চার বছরের মাদী উট গ্রহণ করতে হবে এবং এর যাকাত প্রদাতা দুইটি বকরীও দেবে, যদি তা দেওয়া তার জন্য সহজ হয়, অন্যথায় বিশটি দিরহাম দিবে, অতঃপর যার উটের সংখ্যা চার বছরের মাদী উট প্রদানের সম-পরিমাণ হবে, কিন্তু তার নিকট চার বছর বয়সের মাদী উট নাই, অথচ পাঁচ বছর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় তার নিকট হতে এটাই গ্রহণ করতে হবে এবং যাকাত উসুলকারী তাকে বিশটি দিরহাম বা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা চার বছর বয়সের মাদী মাদী উট প্রদানের সমান হবে, অথচ তার নিকট চার বছর বয়সের মাদী উট নাই; কিন্তু তার নিকট দুই বছরের মাদী উট আছে - এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এখান থেকে আমি রাবী মুসার নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য আমার আশানুরূপ সঠিকভাবে স্মরণে রাখতে পারিনিঃ “এবং মালিক এর সাথে বিশটি দিরহাম বা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা দুই বছরের একটি মাদী উট প্রদানের সমপরিমাণ হবে অথচ তার নিকট চার বৎসর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে।

ইমাম আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, এ পর্যন্ত (আমি সন্দিহান), অতঃপর (সামনের অংশ) উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছিঃ “এবং যাকাত আদায়কারী ব্যক্তি মালিককে বিশ দিরহাম অথবা দুইটি বকরী প্রদান করবে। অতঃপর যার উটের সংখ্যা দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট প্রদানের সমপরিমাণ হবে, অথচ তার নিকট মাত্র এক বছর বয়সের মাদী উট আছে, এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে এবং এর সাথে দুটি বকরী অথবা বিশটি দিরহাম মালিকের নিকট হতে হবে। অতঃপর যার উটের যাকাত এক বছর বয়সের মাদী উট প্রদানে সমতুল্য হবে, অথচ তার নিকট এটা নাই; কিন্তু তার নিকট দুই বছর বয়সের পুরুষ উট আছে; এমতাবস্থায় এটাই তার নিকট হতে গ্রহণ করতে হবে এবং এজন্য কাউকেও কিছু প্রদান করতে হবে না। অতঃপর যার উটের সংখ্যা মাত্র চারটি, তার উপর কোন যাকাত নাই, কিন্তু যদি তার মালিক ইচ্ছা করে তবে দিতে পারে।″

বকরী (ভেড়ার) যাকাতঃ চরণভূমিতে বিচরণকারী বকরীর সংখ্যা সংখ্যা যখন চল্লিশ হতে একশত বিশের মধ্যে হবে, তখন এর জন্য একটি বকরী যাকাত দিতে হবে। অতঃপর যখন এর সংখ্যা একশত বিশ হতে দুইশতের মধ্যে হবে তখন এর জন্য দুইটি বকরী প্রদান করতে হবে। যখন বকরী সংখ্যা দুইশত হতে তিন শতের মধ্যে হবে তখন এর জন্য তিনটি বকরী দিতে হবে। যখন তিন শতের অধিক হবে তখন প্রতি শতকের জন্য একটি বকরী প্রদান করতে হবে। যাকাত হিসাবে কোন ত্রুটিপূর্ণ বকরী অথবা বৃদ্ধ বকরী গ্রহণযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে নর ছাগলও যাকাত হিসেবে দেয়া যাবে না, তবে যদি যাকাত আদায়কারী তা স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবে।

যাকাত প্রদানের ভয়ে বিচ্ছিন্ন পশু একত্রিত এবং একত্রিত পশু বিচ্ছিন্ন করা যাবে না। দুই শরীকের উপর যা যাকাত ধার্য হল তা তারা পরস্পরের সম্পত্তির ভিত্তিতে সমানভাবে আদায় করবে। যদি কোন ব্যক্তির বকরীর সংখ্যা চল্লিশ না হয় তবে তার যাকাত দিতে হবে না। অবশ্য যদি এর মালিক স্বেচ্ছায় প্রদান করে তবে ভাল।

রৌপ্যের যাকাতের পরিমাণ হল উশরের চার ভাগের একভাগ (অর্থাৎ চল্লিশ ভাগের এক ভাগ)। যদি কারও নিকট একশত নব্বই দিরহামের অধিক না থাকে তবে তার উপর কোন যাকাত নাই, তবে এর মালিক স্বেচ্ছায় কিছু প্রদান করে তা স্বতন্ত্র কথা।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، قَالَ أَخَذْتُ مِنْ ثُمَامَةَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَنَسٍ كِتَابًا زَعَمَ أَنَّ أَبَا بَكْرٍ، كَتَبَهُ لأَنَسٍ وَعَلَيْهِ خَاتَمُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حِينَ بَعَثَهُ مُصَدِّقًا وَكَتَبَهُ لَهُ فَإِذَا فِيهِ " هَذِهِ فَرِيضَةُ الصَّدَقَةِ الَّتِي فَرَضَهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمُسْلِمِينَ الَّتِي أَمَرَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ بِهَا نَبِيَّهُ صلى الله عليه وسلم فَمَنْ سُئِلَهَا مِنَ الْمُسْلِمِينَ عَلَى وَجْهِهَا فَلْيُعْطِهَا وَمَنْ سُئِلَ فَوْقَهَا فَلاَ يُعْطِهِ فِيمَا دُونَ خَمْسٍ وَعِشْرِينَ مِنَ الإِبِلِ الْغَنَمُ فِي كُلِّ خَمْسِ ذَوْدٍ شَاةٌ . فَإِذَا بَلَغَتْ خَمْسًا وَعِشْرِينَ فَفِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ خَمْسًا وَثَلاَثِينَ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهَا بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَثَلاَثِينَ فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَأَرْبَعِينَ فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْفَحْلِ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَسِتِّينَ فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ سِتًّا وَسَبْعِينَ فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا بَلَغَتْ إِحْدَى وَتِسْعِينَ فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْفَحْلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ فَإِذَا تَبَايَنَ أَسْنَانُ الإِبِلِ فِي فَرَائِضِ الصَّدَقَاتِ فَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْجَذَعَةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ جَذَعَةٌ وَعِنْدَهُ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَأَنْ يَجْعَلَ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَتْ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ جَذَعَةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ الْحِقَّةِ وَلَيْسَ عِنْدَهُ حِقَّةٌ وَعِنْدَهُ ابْنَةُ لَبُونٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ مِنْ هَا هُنَا لَمْ أَضْبِطْهُ عَنْ مُوسَى كَمَا أُحِبُّ " وَيَجْعَلُ مَعَهَا شَاتَيْنِ - إِنِ اسْتَيْسَرَتَا لَهُ - أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ بِنْتِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ حِقَّةٌ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ إِلَى هَا هُنَا ثُمَّ أَتْقَنْتُهُ " وَيُعْطِيهِ الْمُصَدِّقُ عِشْرِينَ دِرْهَمًا أَوْ شَاتَيْنِ وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ لَبُونٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ بِنْتُ مَخَاضٍ فَإِنَّهَا تُقْبَلُ مِنْهُ وَشَاتَيْنِ أَوْ عِشْرِينَ دِرْهَمًا وَمَنْ بَلَغَتْ عِنْدَهُ صَدَقَةُ ابْنَةِ مَخَاضٍ وَلَيْسَ عِنْدَهُ إِلاَّ ابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ فَإِنَّهُ يُقْبَلُ مِنْهُ وَلَيْسَ مَعَهُ شَىْءٌ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ إِلاَّ أَرْبَعٌ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ إِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ فَفِيهَا شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَفِيهَا شَاتَانِ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ مِائَتَيْنِ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى مِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى أَنْ تَبْلُغَ ثَلاَثَمِائَةٍ فَإِذَا زَادَتْ عَلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ فَإِنْ لَمْ تَبْلُغْ سَائِمَةُ الرَّجُلِ أَرْبَعِينَ فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا وَفِي الرِّقَةِ رُبْعُ الْعُشْرِ فَإِنْ لَمْ يَكُنِ الْمَالُ إِلاَّ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ رَبُّهَا " .
হাদীস নং: ১৫৬৮
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৮
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৬৮. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ (রাহঃ) ..... সালেম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (বিভিন্ন এলাকার) যাকাত আদায়কারী কর্মকর্তাদের নিকট পত্র লিখে তা প্রেরণের পূর্বেই ইনতিকাল করেন। তিনি নির্দেশনাখানি নিজের তরবারির সাথে লাগিয়ে রেখেছিলেন। অতঃপর আবু বকর (রাযিঃ) (খলীফা নির্বাচিত হওয়ার পর) মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তদনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। অতঃপর উমর (রাযিঃ)-ও মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তদানুযায়ী আমল করেন। উক্ত পত্রের বিষয়বস্তু হলঃ

পাঁচটি উটের যাকাত হল একটি বকরী, এবং দশটি উটের যাকাত হল দুটি বকরী, পনেরটি উটের জন্য তিনটি, বিশটির জন্য চারটি, পঁচিশের জন্য এক বছর বয়সের একটি মাদী উট এবং তা পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত। অতঃপর একটি বৃদ্ধি হলে অর্থাৎ ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশ পর্যন্ত সংখ্যক উটের জন্য একটি দুই বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। যখন এর উপর এটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ ছেচল্লিশ হতে ষাট পর্যন্ত উটের সংখ্যার জন্য গর্ভধারণক্ষম চার বছর বয়সের একটি মাদী উট যাকাত দিতে হবে। যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ একষট্টি হতে পঁচাত্তর পর্যন্ত উটের সংখ্যার জন্য পাঁচ বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। যখন এর সংখ্যা একটি বৃদ্ধি হবে, অর্থাৎ উটের সংখ্যা ছিয়াত্তর হতে নব্বই হলে এর জন্য দুটি দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, অর্থাৎ একানব্বই হতে একশত বিশটি উট হলে গর্ভধারণ উপযোগী দুটি চার বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা যদি তারও অধিক হয় তবে প্রত্যেক পঞ্চাশের জন্য একটি চার বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে এবং প্রত্যেক চল্লিশ উটের জন্য একটি দুই বছর বয়সের মাদী উট দিতে হবে।

বকরীর ক্ষেত্রে চল্লিশ হতে একশত বিশটি বকরীর যাকাত হল একটি বকরী। যদি এর উপর একটি বৃদ্ধি হয়, তবে দুইশত পর্যন্ত দুইটি বকরী দিতে হবে। এর উপর একটি বৃদ্ধি হলে তিনশত পর্যন্ত তিনটি বকরী প্রদান করতে হবে এবং একশত পূর্ণ না হলে এর উপর যাকাত দিতে হবে না। যাকাত প্রদানের ভয়ে বিচ্ছিন্নকে একত্রিত ও একত্রিতকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে না এবং দুই শরীকের উপর যে যাকাত নির্ধারিত হবে তা তারা পরস্পর সমান অংশে প্রদান করবে। যাকাত গ্রহণকারী যাকাত বাবদ বৃদ্ধি পশু গ্রহণ করবে না এবং ত্রুটিযুক্ত পশুও গ্রহণ করবে না।

রাবী সুফিয়ান বলেনঃ ইমাম যুহরী (রাহঃ) বলেছেন, যাকাত আদায়কারী উপস্থিত হলে বকরীসমূহ তিনভাগে বিভক্ত করবে। একভাগে নিকৃষ্টগুলি, একভাগে উত্তমগুলি এবং অপর ভাগে মধ্যম শ্রেণীরগুলি। যাকাত আদায়কারী মধ্যম শ্রেণীর অংশ হতে যাকাত গ্রহণ করবে। ইমাম যুহরী (রাহঃ) গরু সম্পর্কে কিছু উল্লেখ করেন নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا عَبَّادُ بْنُ الْعَوَّامِ، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَالِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَتَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كِتَابَ الصَّدَقَةِ فَلَمْ يُخْرِجْهُ إِلَى عُمَّالِهِ حَتَّى قُبِضَ فَقَرَنَهُ بِسَيْفِهِ فَعَمِلَ بِهِ أَبُو بَكْرٍ حَتَّى قُبِضَ ثُمَّ عَمِلَ بِهِ عُمَرُ حَتَّى قُبِضَ فَكَانَ فِيهِ " فِي خَمْسٍ مِنَ الإِبِلِ شَاةٌ وَفِي عَشْرٍ شَاتَانِ وَفِي خَمْسَ عَشَرَةَ ثَلاَثُ شِيَاهٍ وَفِي عِشْرِينَ أَرْبَعُ شِيَاهٍ وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ ابْنَةُ مَخَاضٍ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ إِلَى سِتِّينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا جَذَعَةٌ إِلَى خَمْسٍ وَسَبْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَتَا لَبُونٍ إِلَى تِسْعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَفِي كُلِّ أَرْبَعِينَ ابْنَةُ لَبُونٍ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً فَشَاتَانِ إِلَى مِائَتَيْنِ فَإِنْ زَادَتْ وَاحِدَةً عَلَى الْمِائَتَيْنِ فَفِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ إِلَى ثَلاَثِمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الْغَنَمُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ مِائَةِ شَاةٍ شَاةٌ وَلَيْسَ فِيهَا شَىْءٌ حَتَّى تَبْلُغَ الْمِائَةَ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ مَخَافَةَ الصَّدَقَةِ وَمَا كَانَ مِنْ خَلِيطَيْنِ فَإِنَّهُمَا يَتَرَاجَعَانِ بَيْنَهُمَا بِالسَّوِيَّةِ وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَيْبٍ " . قَالَ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ إِذَا جَاءَ الْمُصَدِّقُ قُسِمَتِ الشَّاءُ أَثْلاَثًا ثُلُثًا شِرَارًا وَثُلُثًا خِيَارًا وَثُلُثًا وَسَطًا فَأَخَذَ الْمُصَدِّقُ مِنَ الْوَسَطِ وَلَمْ يَذْكُرِ الزُّهْرِيُّ الْبَقَرَ .
হাদীস নং: ১৫৬৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৯
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৬৯. উছমান ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ..... সুফিয়ান ইবনে হুসায়েন (রাহঃ) থেকে এই সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এই বর্ণনায় আরো আছেঃ যদি এক বছর বয়সের মাদী উট না থাকে তবে দুই বছর বয়সের নর উট দিতে হবে। তিনি এই বর্ণনায় ইমাম যুহরীর কথা উল্লেখ করেন নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَزِيدَ الْوَاسِطِيُّ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ بْنُ حُسَيْنٍ، بِإِسْنَادِهِ وَمَعْنَاهُ قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَكُنِ ابْنَةُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ " . وَلَمْ يَذْكُرْ كَلاَمَ الزُّهْرِيِّ .
হাদীস নং: ১৫৭০
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭০
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭০. মুহাম্মাদ ইবনু আলা (রাহঃ) ..... ইবনে শিহাব (রাহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যাকাতের নির্দেশনামা যা তিনি যাকাত সম্পর্কে লিখেছিলেন এবং পরবর্তীকালে এই নির্দেশনামা ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) এর বংশধরগণের নিকট সংরক্ষিত ছিল। রাবী ইবনে শিহাব বলেনঃ

সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাহঃ) আমার নিকট তা পাঠ করেন এবং আমি তৎক্ষণাৎ তা হুবহু মুখস্থ করি। এটা ঐ নির্দেশনামা যা উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রাহঃ) আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এবং সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) এর নিকট হতে কপি করিয়ে নিয়েছিলেন। অতঃপর রাবী পূর্বোক্ত হাদীসের বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, যখন উটের সংখ্যা একশত একুশ হতে একশত উনত্রিশটি হবে তখন এর যাকাত বাবত দুই বছর বয়সের তিনটি মাদি উট দিতে হবে।

অতঃপর উটের সংখ্যা একশত ত্রিশ হতে একশত উনচল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য দুইটি দুই বছর বয়সের মাদী উট এবং তিন বছর বয়সের একটি মাদি উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একশত চল্লিশ হতে একশত উনপঞ্চাশ হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের দুটি ও দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত পঞ্চশ হতে একশত উনষাট হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের তিনটি মাদী উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা একশত ষাট হতে একশত উনসত্তর হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের চারটি মাদী উট প্রদান করতে হবে।

উটের সংখ্যা একশত সত্তর হতে একশত উনআশী হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের তিনটি ও তিন বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা একশত আশি হতে একশত উনানব্বই হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের দুইটি এবং দুই বছর বয়সের দুইটি উট প্রদান করতে হবে। উটের সংখ্যা একশত নব্বই হতে একশত নিরানব্বই হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের তিনটি এবং দুই বছর বয়সের একটি উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা দুইশত হলে এর জন্য তিন বছর বয়সের চারটি অথবা দুই বছর বয়সের পাঁচটি মাদী উট দিতে হবে এবং এই দুইটির মধ্যে যেটি সহজলভ্য হবে তাই নেয়া হবে।

বকরীর যাকাত সম্পর্কে রাবী সুফিয়ান ইবনে হুসাইনের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরো উল্লেখ আছেঃ বৃদ্ধা এবং ত্রুটিপূর্ণ বকরী যাকাত হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং নর ছাগলও যাকাত হিসাবে দেওয়া যাবে না, তবে যাকাত আদায়কারি যদি তা গ্রহণ করতে সম্মত হয় তবে কোন আপত্তি নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ بْنِ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ هَذِهِ نُسْخَةُ كِتَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّذِي كَتَبَهُ فِي الصَّدَقَةِ وَهِيَ عِنْدَ آلِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ أَقْرَأَنِيهَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَوَعَيْتُهَا عَلَى وَجْهِهَا وَهِيَ الَّتِي انْتَسَخَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَسَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ " فَإِذَا كَانَتْ إِحْدَى وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَعِشْرِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا بِنْتَا لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ أَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَأَرْبَعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ خَمْسِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَخَمْسِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سِتِّينَ وَمِائَةً فَفِيهَا أَرْبَعُ بَنَاتِ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسِتِّينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ سَبْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ بَنَاتِ لَبُونٍ وَحِقَّةٌ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَسَبْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ ثَمَانِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا حِقَّتَانِ وَابْنَتَا لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَثَمَانِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ تِسْعِينَ وَمِائَةً فَفِيهَا ثَلاَثُ حِقَاقٍ وَبِنْتُ لَبُونٍ حَتَّى تَبْلُغَ تِسْعًا وَتِسْعِينَ وَمِائَةً فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا أَرْبَعُ حِقَاقٍ أَوْ خَمْسُ بَنَاتِ لَبُونٍ أَىُّ السِّنَّيْنِ وُجِدَتْ أُخِذَتْ وَفِي سَائِمَةِ الْغَنَمِ " . فَذَكَرَ نَحْوَ حَدِيثِ سُفْيَانَ بْنِ حُسَيْنٍ وَفِيهِ " وَلاَ يُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ مِنَ الْغَنَمِ وَلاَ تَيْسُ الْغَنَمِ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ " .
tahqiq

তাহকীক:

হাদীস নং: ১৫৭১
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭১
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭১. আব্দুল্লাহ ইবনে মাসলামা (রাহঃ) বলেন, ইমাম মালেক (রাহঃ) বলেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকারী পশুকে একত্রিত এবং একত্রে অবস্থানকারী বিচ্ছিন্ন করে যাকাত দেওয়া বা নেওয়া যাবে না। যেমন মালিকের পৃথক পৃথকভাবে চল্লিশটি করে বকরী আছে। এমতাবস্থায় যাকাত আদায়কারী তাদের নিকট উপস্থিত হলে তারা দুজনের একত্রিত করল যাতে একটির অধিক যাকাত দিতে না হয় (অবশ্য পৃথকভাবে যাকাত ধার্য করলে দুইটি বকরী যাকাত হিসাবে দিতে হত)। অনন্তর একত্রিত পশুকে পৃথক করা যাবে না। যেমন দুই যৌথ মালিকের প্রত্যেকের একশত একটি করে বকরী আছে। এমতাবস্থায় (মোট বকরীর সংখ্যা দুইশত দুইটি হওয়ার কারণে) তাদের উপর তিনটি বকরী যাকাত ধার্য করা হবে। রাবী বলেন, এর ব্যাখ্যা আমি এইরূপ শুনেছি।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، قَالَ قَالَ مَالِكٌ وَقَوْلُ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ - رضى الله عنه لاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُتَفَرِّقٍ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ . هُوَ أَنْ يَكُونَ لِكُلِّ رَجُلٍ أَرْبَعُونَ شَاةً فَإِذَا أَظَلَّهُمُ الْمُصَدِّقُ جَمَعُوهَا لِئَلاَّ يَكُونَ فِيهَا إِلاَّ شَاةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ . أَنَّ الْخَلِيطَيْنِ إِذَا كَانَ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةُ شَاةٍ وَشَاةٌ فَيَكُونُ عَلَيْهِمَا فِيهَا ثَلاَثُ شِيَاهٍ فَإِذَا أَظَلَّهُمَا الْمُصَدِّقُ فَرَّقَا غَنَمَهُمَا فَلَمْ يَكُنْ عَلَى كُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا إِلاَّ شَاةٌ فَهَذَا الَّذِي سَمِعْتُ فِي ذَلِكَ .
হাদীস নং: ১৫৭২
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭২
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭২. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ আন-নুফায়লী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাবী যুহায়ের বলেন, আমার ধারণা এই হাদীস নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ তোমরা প্রতি চল্লিশ দিরহামে এক দিরহাম যাকাত আদায় করবে এবং দুইশত দিরহাম পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তোমাদের প্রতি কিছুই যাকাত নাই। দুইশত দিরহাম পূর্ণ হলে এর যাকাত হবে পাঁচ দিরহাম এবং এর অতিরিক্ত হলে তার যাকাত উপরোক্ত হিসবে প্রদান করতে হবে।

বকরীর যাকাত হিসাবে—প্রতি চল্লিশটি বকরীর জন্য একটি বকরী দিতে হবে। যদি বকরীর সংখ্যা উনচল্লিশ হয় তবে যাকাত হিসেবে তোমার উপর কিছু ওয়াজিব নয়। রাবী (আবু ইসহাক) বকরীর যাকাত সম্পর্কে ইমাম যুহরীর বর্ণিত উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

রাবী ইসহাক গরুর যাকাত সম্পর্কে বলেনঃ প্রত্যেক ত্রিশটি গরুর জন্য যাকাত হিসাবে একটি এক বছর বয়সের বাচ্চা দিতে হবে এবং গরুর সংখ্যা চল্লিশ হলে দুই বছর বয়সের একটি বাচ্চা দিতে হবে এবং কর্মে নিয়োজিত গরুর উপর কোন যাকাত নাই। তিনি উটের যাকাত সম্পর্কে ইমাম যুহরীর অনুরূপ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেনঃ পঁচিশটি উটের জন্য পাঁচটি বকরী যাকাত দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছাব্বিশ হতে পঁয়তাল্লিশটির মধ্যে হলে এর যাকাত হিসাবে এক বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। যাদি মাদী উট না থাকে তবে দুই বছর বয়সের একটি পুরুষ উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছত্রিশ হতে পঁয়তাল্লিশের মধ্যে হলে এর জন্য দুই বছর বয়সের একটি মাদী উট দিতে হবে। উটের সংখ্যা ছেচল্লিশ হতে ষাট হলে গর্ভধারণের উপযোগী একটি চার বছর বয়সের মাদী উট প্রদান করতে হবে। অতঃপর রাবী ইমাম যুহরীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। উটের সংখ্যা একানব্বই হতে একশত বিশ এর যাকাত স্বরূপ গর্ভধারণের উপযোগী চার বছর বয়সের দুইটি উট দিতে হবে। অতঃপর উটের সংখ্যা এর অধিক হলে প্রতি পঞ্চাশ উটের জন্য চার বছর বয়সের একটি মাদী উট প্রদান করতে হবে। যাকাত দেওয়ার ভয়ে একত্রে বিচরণকারী উটগুলিকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বিচ্ছিন্নভাবে বিচরণকরী উটকে একত্রিত করা যাবে না। যাকাত হিসাবে বৃদ্ধ ও ত্রুটিপূর্ণ উট গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্য যাকাত আদায়কারী ইচ্ছা করলে তা গ্রহণ করতে পারে।

যে সমস্ত কৃষিভূমি প্রাকৃতিক নিয়মে বৃষ্টি অথবা নদীর পানি দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার ফসলের দশ ভাগের এক ভাগ যাকাত হিসাবে প্রদান করতে হবে। আর যা সেচ যন্ত্রের দ্বারা সিঞ্চিত হয়, তার জন্য বিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত দিতে হবে।

রাবী আসেম ও হারীছের বর্ণনামতে প্রতি বছরই যাকাত দিতে হবে। রাবী আসেমের হাদীসে আরো উল্লেখ আছে যে, যদি এক বছর বয়সী মাদী উট অথবা দুই বছর বয়সী নর উট না থাকে তবে এর পরিবর্তে দশ দিরহাম অথবা দুইটি বকরী (ছাগল) প্রদান করতে হবে।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ النُّفَيْلِيُّ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَعَنِ الْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " هَاتُوا رُبْعَ الْعُشُورِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ شَىْءٌ حَتَّى تَتِمَّ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَإِذَا كَانَتْ مِائَتَىْ دِرْهَمٍ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ فَمَا زَادَ فَعَلَى حِسَابِ ذَلِكَ وَفِي الْغَنَمِ فِي كُلِّ أَرْبَعِينَ شَاةً شَاةٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ إِلاَّ تِسْعًا وَثَلاَثِينَ فَلَيْسَ عَلَيْكَ فِيهَا شَىْءٌ " . وَسَاقَ صَدَقَةَ الْغَنَمِ مِثْلَ الزُّهْرِيِّ قَالَ " وَفِي الْبَقَرِ فِي كُلِّ ثَلاَثِينَ تَبِيعٌ وَفِي الأَرْبَعِينَ مُسِنَّةٌ وَلَيْسَ عَلَى الْعَوَامِلِ شَىْءٌ وَفِي الإِبِلِ " . فَذَكَرَ صَدَقَتَهَا كَمَا ذَكَرَ الزُّهْرِيُّ قَالَ " وَفِي خَمْسٍ وَعِشْرِينَ خَمْسَةٌ مِنَ الْغَنَمِ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا ابْنَةُ مَخَاضٍ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ بِنْتُ مَخَاضٍ فَابْنُ لَبُونٍ ذَكَرٌ إِلَى خَمْسٍ وَثَلاَثِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا بِنْتُ لَبُونٍ إِلَى خَمْسٍ وَأَرْبَعِينَ فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً فَفِيهَا حِقَّةٌ طَرُوقَةُ الْجَمَلِ إِلَى سِتِّينَ " . ثُمَّ سَاقَ مِثْلَ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ قَالَ " فَإِذَا زَادَتْ وَاحِدَةً - يَعْنِي وَاحِدَةً وَتِسْعِينَ - فَفِيهَا حِقَّتَانِ طَرُوقَتَا الْجَمَلِ إِلَى عِشْرِينَ وَمِائَةٍ فَإِنْ كَانَتِ الإِبِلُ أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ فَفِي كُلِّ خَمْسِينَ حِقَّةٌ وَلاَ يُفَرَّقُ بَيْنَ مُجْتَمِعٍ وَلاَ يُجْمَعُ بَيْنَ مُفْتَرِقٍ خَشْيَةَ الصَّدَقَةِ وَلاَ تُؤْخَذُ فِي الصَّدَقَةِ هَرِمَةٌ وَلاَ ذَاتُ عَوَارٍ وَلاَ تَيْسٌ إِلاَّ أَنْ يَشَاءَ الْمُصَّدِّقُ وَفِي النَّبَاتِ مَا سَقَتْهُ الأَنْهَارُ أَوْ سَقَتِ السَّمَاءُ الْعُشْرُ وَمَا سَقَى الْغَرْبُ فَفِيهِ نِصْفُ الْعُشْرِ " . وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ وَالْحَارِثِ " الصَّدَقَةُ فِي كُلِّ عَامٍ " . قَالَ زُهَيْرٌ أَحْسَبُهُ قَالَ " مَرَّةً " . وَفِي حَدِيثِ عَاصِمٍ " إِذَا لَمْ يَكُنْ فِي الإِبِلِ ابْنَةُ مَخَاضٍ وَلاَ ابْنُ لَبُونٍ فَعَشَرَةُ دَرَاهِمَ أَوْ شَاتَانِ " .
হাদীস নং: ১৫৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭৩
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭৩. সুলাইমান ইবনে দাউদ আল--মোহরী (রাহঃ) ...... আলী (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। এতে পূর্বোক্ত হাদীসের কিছু অংশ আছে। তিনি (নবী (ﷺ)) বলেনঃ যদি তোমার নিকট এক বছরের জন্য দুইশত দিরহাম থাকে, তবে বৎসরান্তে এর জন্য পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে। বিশ দীনারের কম পরিমাণ স্বর্ণে যাকাত ওয়াজিব নয়। অতঃপর যদি কোন ব্যক্তির নিকট বিশ দীনার পরিমাণ স্বর্ণ এক বছর পর্যন্ত থাকে তবে এর জন্য অর্ধ-দীনার যাকাত দিতে হবে। আর যদি এর পরিমাণ আরো বেশী হয় তবে উক্ত হিসাব অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে। রাবী বলেনঃ এর চাইতে অধিক হলে উক্ত হিসাব অনুযায়ী যাকাত দিতে হবে। এই বাক্যটি আলী (রাযিঃ) এর না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর তা আমার জানা নাই। কোন মালের উপর এক বছর পূর্ণ না হলে তার জন্য যাকাত ওয়াজিব নয়।

রাবী ইবনে ওয়াহাবের বর্ণনায় আরো আছে, নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ যে মালের উপর এক বছর পূর্ণ হয় না তার কোন যাকাত নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ، وَسَمَّى، آخَرَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، وَالْحَارِثِ الأَعْوَرِ، عَنْ عَلِيٍّ، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِبَعْضِ أَوَّلِ هَذَا الْحَدِيثِ قَالَ " فَإِذَا كَانَتْ لَكَ مِائَتَا دِرْهَمٍ وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ وَلَيْسَ عَلَيْكَ شَىْءٌ - يَعْنِي فِي الذَّهَبِ - حَتَّى يَكُونَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا فَإِذَا كَانَ لَكَ عِشْرُونَ دِينَارًا وَحَالَ عَلَيْهَا الْحَوْلُ فَفِيهَا نِصْفُ دِينَارٍ فَمَا زَادَ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ " . قَالَ فَلاَ أَدْرِي أَعَلِيٌّ يَقُولُ فَبِحِسَابِ ذَلِكَ . أَوْ رَفَعَهُ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " وَلَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ " . إِلاَّ أَنَّ جَرِيرًا قَالَ ابْنُ وَهْبٍ يَزِيدُ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لَيْسَ فِي مَالٍ زَكَاةٌ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ " .
হাদীস নং: ১৫৭৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭৪
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭৪. আমর ইবনে আওন (রাহঃ) .... আলী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ ঘোড়া ও দাস-দাসীর যাকাত মাফ করা হয়েছে এবং চল্লিশ তোলা রৌপ্যের যাকাত হল এক দিরহাম বা এক তোলা। আর একশত নিরানব্বই তোলা পর্যন্ত রৌপ্যের কোন যাকাত নাই। অতঃপর রৌপ্যের পরিমাণ দুইশত তোলা হলে পাঁচ দিরহাম যাকাত দিতে হবে (প্রতি চল্লিশ তোলায় এক তোলা হিসাবে)।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " قَدْ عَفَوْتُ عَنِ الْخَيْلِ وَالرَّقِيقِ فَهَاتُوا صَدَقَةَ الرِّقَةِ مِنْ كُلِّ أَرْبَعِينَ دِرْهَمًا دِرْهَمٌ وَلَيْسَ فِي تِسْعِينَ وَمِائَةٍ شَىْءٌ فَإِذَا بَلَغَتْ مِائَتَيْنِ فَفِيهَا خَمْسَةُ دَرَاهِمَ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ الأَعْمَشُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ كَمَا قَالَ أَبُو عَوَانَةَ وَرَوَاهُ شَيْبَانُ أَبُو مُعَاوِيَةَ وَإِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنِ الْحَارِثِ عَنْ عَلِيٍّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِثْلَهُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَرَوَى حَدِيثَ النُّفَيْلِيِّ شُعْبَةُ وَسُفْيَانُ وَغَيْرُهُمَا عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ عَلِيٍّ لَمْ يَرْفَعُوهُ أَوْقَفُوهُ عَلَى عَلِيٍّ .
হাদীস নং: ১৫৭৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৭৫
যাকাতের অধ্যায়
পরিচ্ছেদঃ ৪. চরণভূমিতে স্বাধীনভাবে বিচরণশীল পশুর যাকাত।
১৫৭৫. মুসা ইবনে ইসমাঈল (রাহঃ) ..... বাহয ইবনে হাকীম (রাহঃ) থেকে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রতি চল্লিশটি ছাড়া উটের যাকাত একটি দুই বছর বয়সী মাদী উট। যে ব্যক্তি সাওয়াব প্রাপ্তির আশা রাখে সে যেন একত্রে বিচরণকারী উটকে বিচ্ছিন্ন না করে।

রাবী ইবনুল আলার বর্ণনায় আছেঃ যে ব্যক্তি সাওয়াবের আশা রাখে, সে অবশ্যই তা প্রাপ্ত হবে। যে ব্যক্তি যাকাত প্রদানে বিরত থাকে, আমি তা (যাকাত) তার নিকট হতে আদায় করব এবং যাকাত মহান আল্লাহ রাব্বুল আলমীনের প্রাপ্য। আর মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর বংশধরগণের জন্য এতে কোন অংশ নাই।
كتاب الزكاة
باب فِي زَكَاةِ السَّائِمَةِ
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، أَخْبَرَنَا بَهْزُ بْنُ حَكِيمٍ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، أَخْبَرَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بَهْزِ بْنِ حَكِيمٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فِي كُلِّ سَائِمَةِ إِبِلٍ فِي أَرْبَعِينَ بِنْتُ لَبُونٍ وَلاَ يُفَرَّقُ إِبِلٌ عَنْ حِسَابِهَا مَنْ أَعْطَاهَا مُؤْتَجِرًا " . قَالَ ابْنُ الْعَلاَءِ " مُؤْتَجِرًا بِهَا " . " فَلَهُ أَجْرُهَا وَمَنْ مَنَعَهَا فَإِنَّا آخِذُوهَا وَشَطْرَ مَالِهِ عَزْمَةً مِنْ عَزَمَاتِ رَبِّنَا عَزَّ وَجَلَّ لَيْسَ لآلِ مُحَمَّدٍ مِنْهَا شَىْءٌ " .
tahqiq

তাহকীক: