শিষ্য গুরুর মনের খবর পায়! গুরু মানলেই মুক্তি! বাউল মতবাদ। পর্ব ৩২—৩৩
শিষ্য গুরুর মনের খবর পায়! গুরু মানলেই মুক্তি! বাউল মতবাদ। পর্ব ৩২—৩৩
শিষ্য গুরুর মনের খবর পায়!
মনের গোপন খবর একমাত্র আল্লাহই জানেন; তিনিই একমাত্র সত্যিকারের অন্তর্যামী।
বাউল ধর্মে কী বলে?
বাউল সম্রাট ফকির লালন বলেছে—
যে জন শিষ্য হয়, গুরুর মনের খবর পায়,
একহাতে যদি বাজতো তালি, তবে কেনো দু'হাত লাগায়। —(মহাত্মা লালন, পৃ. ৮২)
ইসলাম কী বলে?
মনের গোপন খবর একমাত্র আল্লাহ তাআলাই অবগত আছেন। আল্লাহ তাআলার এই গুনাবলীতে কাউকে শরীক করার অবকাশ নেই। মহান রব্ব বলেন—
وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ ۖ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
“তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বলো বা প্রকাশ্যে বলো (সবই তাঁর জানা। কেননা) তিনি তো অন্তর্যামী। যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি জানবেন না? অথচ তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক জ্ঞাত!” —(সুরা মূলক ১৩-১৪)
সুতরাং অন্তর্যামী একমাত্র আল্লাহ তাআলাই। বাউলদের ‘শিষ্য গুরুর মনের খবর পায়’এ শিরকী বক্তব্য কোনো মুসলিমের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নয়।
গুরু মানলেই মুক্তি!
জান্নাতের পথ কোনটি—এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্ট ও দ্ব্যর্থহীন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তাদের দাবী হলো—
আমিত্ব আদম তথা সর্বকালে উপস্থিত একজন সম্যক গুরুর কাছে উৎসর্গ করে সবই 'তিনিময় এবং তাঁর'-এমন মনোভাব দ্বারাই প্রকৃত জান্নাতে দাখেল হওয়া যায়। —(লালনভাষা অনুসন্ধান, খ. ১ পৃ. ১৫৭)
রোজা-নামাজ বেহেস্তের ভজন,
তাই করে আহাম্মক যে জন
বিনয় করে বলছে লালন,
থাকতে পারে ভেদ মুর্শিদের ঠাঁই। —(লালনভাষা অনুসন্ধান, খ. ১ পৃ. ২৫৯)
অর্থাৎ তারা বুঝাতে চায়—গুরু মানার পথই একমাত্র জান্নাতের পথ।
ইসলাম কী বলে?
হযরত আবদুল্লাহ ইবনু আমর রা. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন—
لَيَأْتِيَنَّ عَلَى أُمَّتِي مَا أَتَى عَلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ حَذْوَ النَّعْلِ بِالنَّعْلِ حَتَّى إِنْ كَانَ مِنْهُمْ مَنْ أَتَى أُمَّهُ عَلاَنِيَةً لَكَانَ فِي أُمَّتِي مَنْ يَصْنَعُ ذَلِكَ وَإِنَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ تَفَرَّقَتْ عَلَى ثِنْتَيْنِ وَسَبْعِينَ مِلَّةً وَتَفْتَرِقُ أُمَّتِي عَلَى ثَلاَثٍ وَسَبْعِينَ مِلَّةً كُلُّهُمْ فِي النَّارِ إِلاَّ مِلَّةً وَاحِدَةً قَالُوا وَمَنْ هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا أَنَا عَلَيْهِ وَأَصْحَابِي
“বনী ইসরাঈল যে অবস্থায় পতিত হয়েছিলো, নিঃসন্দেহে আমার উম্মাতও সেই অবস্থার সম্মুখীন হবে, যেমন একজোড়া জুতার একটি আরেকটির মতো হয়ে থাকে। এমনকি তাদের মধ্যে কেউ যদি প্রকাশ্যে তার মায়ের সাথে ব্যভিচার করে থাকে, তবে আমার উন্মাতের মধ্যেও কেউ তাই করবে। আর বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছিল। আমার উন্মাত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। শুধু একটি দল ছাড়া তাদের সবাই জাহান্নামী হবে। সাহাবীগণ বললেন—হে আল্লাহর রাসূল, সে দল কোনটি? তিনি বললেন, আমি ও আমার সাহাবীগণ যার উপর প্রতিষ্ঠিত।” —(জামে তিরমিযি, হাদিস নং : ২৬৪১)
সুতরাং স্পষ্টভাবে বুঝে নেওয়া যায়—একমাত্র গ্রহণযোগ্য আমল ও সঠিক পথ তারাই অবলম্বন করে, যারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবাদের মত ও পথ অনুসরণ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবিদের পথের বিপরীতে গড়ে ওঠা কোনো নতুন পথ কখনোই জান্নাতের পথ হতে পারে না। যেহেতু বাউলদের ধর্ম ইসলাম নয়; বরং তাদের মতবাদ ‘দীনে ইলাহী’ নামে পরিচিত, সুতরাং এ পথ আল্লাহর নাফরমানির পথ। এই পথের কোনো গুরুকে অনুসরণ করলে জান্নাত তো দূরের কথা—তার সুবাসও লাভ করা সম্ভব নয়। কারণ, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—
عَلَى المَرْءِ الْمُسْلِمِ السَّمْعُ والطَّاعَةُ فِيمَا أحَبَّ وكَرِهَ إِلاَّ أنْ يُؤْمَرَ بِمَعْصِيةٍ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيةٍ فَلاَ سَمْعَ وَلاَ طَاعَةَ
“মুসলিমের জন্য (তার শাসকদের) কথা শোনা ও মানা ফরয, তাকে সে কথা পছন্দ লাগুক অথবা অপছন্দ লাগুক; যতক্ষণ না তাকে পাপকাজের নির্দেশ দেওয়া হয়। অতঃপর যখন তাকে পাপকাজের আদেশ দেওয়া হবে, তখন তার কথা শোনা ও মানা ফরয নয়।” —(সহিহ বুখারী, হাদিস নং : (৭১৪৪)
হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেন,
لا طاعَةَ لمخلوقٍ في مَعصيةِ الخالقِ
“স্রষ্টার অবাধ্যতায় সৃষ্টির কোন আনুগত্য নেই।” —(জামে সগীর, হাদিস নং : ৯৮৮৪)
সুতরাং ইসলাম ধর্ম বাদ দিয়ে ভিন্ন কোনো তন্ত্রমন্ত্র বা কোনো মতপথ মানার সুযোগ নেই। কিন্তু বাউল ধর্ম পুরোটাই গুরুবাদী ধর্ম। যে-কারণে তাদের সব কিছুই ডিপেন্ড করে গুরুকে কেন্দ্র করে। যা সুস্পষ্ট ভ্রষ্টতা, শিরক ও কুফর।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন