মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর জাতি নূরে সৃষ্টি! বাউল মতবাদ! পর্ব—১২
মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর জাতি নূরে সৃষ্টি! বাউল মতবাদ! পর্ব—১২
মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহান আল্লাহর সৃষ্টি জগতের সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর শানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমাদের ঈমানের অংশ। কিন্তু তাঁর শান বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁকে আল্লাহ তাআলার অবস্থানে আসীন করাও এক প্রকার বেয়াদবী ও শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
বাউল ধর্মে কী বলে?
বাউলদের বিশ্বাস হলো—
আল্লাহর নূরে রসুল (সা.) পয়দা আর রসুলের নূরে সারা জগতময় পয়দা করা হয়েছে। আল্লাহ রসুল একখানাতে রয়। আল্লাহকে পেতে হলে তাই রসুলকে চিনতে হয়। তবেই জীবন-জনম-সাধন-ভজন স্বার্থক হবে। যদিও পিতা আব্দুল্লাহ এবং মাতা আমেনার ঔরসে নবির (সা.) জন্ম, তবে তিনি মহান আল্লাহর খোদ কুদরতে তারই নূরে সৃষ্টি হয়েছেন। শুধুমাত্র নবিকে (সা.) মানবসন্তান কিংবা আব্দুল্লাহর পুত্র ভাবা যাবে না, তিনি স্বয়ং আল্লাহর নূরের অংশ। —মহাত্মা লালন, পৃ. ৯৯
ইসলাম কী বলে?
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা হলো—মহান আল্লাহর জাত (সত্ত্বা) বা সিফাত (গুনাবলী) -এর সাথে কোনো শরীক করা শিরক। ইমাম হামোবী রহি. লিখেছেন,
ومن قال إن شيئاً من صفات الله حال في العبد، أو قال بالتبعيض على الله فقد كفر
“যে ব্যক্তি বলবে, ‘আল্লাহ তাআলার সিফাত সমূহের মধ্যে থেকে কোনো সিফাত বান্দার মাঝে প্রবেশ করেছে, কিংবা আল্লাহর জাত বা সিফাতের কোনো অংশ বান্দার মাঝে প্রবেশ করার প্রবক্ত হবে সে কাফের’।” —আল ফাতাওয়া আল হামোবীয়াহ, পৃ. ৪৯
সুতরাং ‘আল্লাহর নূর দ্বারা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে সৃষ্টি করা হয়েছে’ এমন আকিদা লালন করার অর্থ হলো—আল্লাহর সত্ত্বার অংশ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাঝে বিদ্যমান। যা সুস্পষ্ট শিরক। আর এটাই ঈসা আ.-এর প্রতি খ্রিস্টানদের কুফরি আকিদা। এ আকিদা থেকে মুসলিমদের সতর্কতা কাম্য।
নবীজি সা. কী মাটি না নূর দ্বারা সৃষ্টি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আল্লাহ তাআলা মাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন বলে আল্লাহ নিজেই আয়াত নাযিল করেছেন—
هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ
“তিনিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে।” —সুরা মুমিন : ৬৭
এ আয়াত আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিবের প্রতি নাযিল করে সুস্পষ্টভাবে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-সহ সকল মানবকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করার বিষয়টি স্পষ্টত বলে দিয়েছেন। তাছাড়া নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা দিতে বলেছেন—
قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنتُ إِلَّا بَشَرًا رَّسُولًا
“(হে নবী,) বলে দাও—আমার প্রতিপালক পবিত্র। আমি তো একজন (বাশার) মানুষ মাত্র, যাকে রাসুল করে পাঠানো হয়েছে।” —সুরা বনী ইসরাঈল : ৯৩
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা আমাদের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে (‘বাশার’ তথা মানুষ হিশাবে পরিচয় দিতে বলেছেন। আর প্রত্যেক মানুষকে আল্লাহ তাআলা মাটি দ্বারা তৈরি করেছেন বলে খোদ মহান রব্বই ঘোষণা করে বলেন,
إِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن طِينٍ
“স্মরণ করো, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি মাটি দ্বারা এক মানুষ সৃষ্টি করতে চাই।” —সুরা ছোয়াদ : ৭১
সুতরাং বুঝতে পারলাম—মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘বাশার’ তথা মানুষ ছিলেন, আর প্রত্যেক ‘বাশার’ তথা মানুষকে মহান আল্লাহ মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং মহানবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আল্লাহর জাতি নূরে নয়, বরং মাটি দ্বারা সৃষ্ট। তবে মনে রাখা চাই—রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মতো সাধারণ মাটি দ্বারা সৃষ্ট নন, তিনি যেমন অতুলনীয়, তেমনি তাঁর সৃষ্টির মাটিও অসাধারণ।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন