কুরআনের তাফসীর মিথ্যার সয়লাব করেছে! বাউল মতবাদ! পর্ব—১১
কুরআনের তাফসীর মিথ্যার সয়লাব করেছে! বাউল মতবাদ! পর্ব—১১
ইসলামে তাফসীরের ইলম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কুরআনের সঠিক জ্ঞান অর্জনে তাফসীরের কোনো বিকল্প নেই।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তাদের ভাষ্যমতে ধর্মের নামে মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করতে তাফসীর সবচে বেশি ভূমিকা রেখেছে। দেখুন, তারা লিখেছে—
প্রচলিত রাজকীয় তফসিরসমূহ কোরানের ভুল ব্যাখ্যার কারণে জগতে ধর্মের নামে আগাগোড়া মিথ্যের প্রবাহে সব সয়লাব করে ফেলেছে। —(লালন অনুসন্ধান, খ. ১ পৃ. ২৫৮)
ইসলাম কী বলে?
পবিত্র কুরআন তাফসীর ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়। এজন্য মহান আল্লাহ সর্বপ্রথম তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে পবিত্র কুরআনের তাফসীর করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,
وَمَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ ۙ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
“আমি তোমার ওপর এ কিতাব এজন্যই নাজিল করেছি, যাতে তারা যে সব বিষয়ে বিভিন্ন পথ গ্রহণ করেছে, তাদের সামনে তা সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করো এবং যাতে এটা ঈমান আনয়নকারীদের জন্য হিদায়াত ও রহমতের অবলম্বন হয়।” –(সুরা নাহাল : ৬৪)
সুতরাং বোঝা গেলো, তাফসীরের জ্ঞান আল্লাহ তাআলা কর্তৃক স্বীকৃত ও নির্দেশিত। ফলে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসের মাধ্যমে কুরআনের তাফসীর করেছেন। যা সাহাবায়ে কেরাম রা. আমাদের জানিয়ে, বুঝিয়ে দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনের তাফসীরের জ্ঞানের জন্য নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. কে দুআ করেছিলেন,
اللَّهمَّ علِّمْهُ الحِكمةَ وتأويلَ الكتاب
“হে আল্লাহ, ইবনে আব্বাসকে রা. তুমি হিকমাহ এবং কুরআনের তাফসীরের জ্ঞান দান করো।” –(ফাতহুল বারী লি ইবনে হাজার, খ. ১ পৃ. ১৫৫)
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এ দুআ এতো বেশি কবুল হয়েছিলো যে, ইবনে আব্বাস রা.-এর তাফসীরের জ্ঞানের প্রশংসায় ইবনে মাসউদ রা. বলতেন,
نِعمَ تُرجَمانُ القرآنِ ابنُ عبّاسٍ
“কুরআনের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস কতইনা পারদর্শী!” –তাবাকাতে ইবনে সাদ, খ. ৬ পৃ. ৩৩১
সুতরাং বোঝা গেলো, তাফসীরের ইলম এটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর থেকে স্বীকৃত। আর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক স্বীকৃত এ জ্ঞানকে ধর্মের নামে মিথ্যার সয়লাব বলা মানেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনীত দ্বীনকে ছুঁড়ে ফেলার নামান্তর।
একটা গভীর ষড়যন্ত্র :
মূলত ইহুদী ও খ্রীস্টানদের ষড়যন্ত্রের একটি গভীর ধারা বর্তমানে আমাদের অগোচরে। তারা শত শত বছর ধরে গবেষণা করে দেখেছে যে, মুসলমানরা মূলত কুরআনের মাধ্যমেই প্রভাবিত হয় সবচে বেশি। সেহেতু তারা কুরআন শরীফকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত উপমহাদেশেই কুরআন শরীফের লক্ষ লক্ষ কপি জ্বালিয়ে দিয়েছিলো, হাফেজদের ধরে ধরে জবাই করেছিলো। যা ইতিহাসের পাতায় এখনও লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। কিন্তু এতো কিছু করার পরও তারা কুরআন মাজীদকে পৃথিবী থেকে উঠিয়ে দিতে পারেনি। তখন তারা ষড়যন্ত্রের রুপরেখা পরিবর্তন করলো। তারা সিদ্ধান্ত নিলো—যেহেতু আমরা কুরআন উঠিয়ে দিতে পারলাম না এবং মুসলিমদের জাগরণ থামাতে পারছি না, সুতরাং প্রমাণ হচ্ছে কুরআন শরীফের কপি জ্বালিয়ে আমরা সফলতা পাবো না। অতএব এখন থেকে ভিন্ন কাজ করতে হবে।’ কিন্তু সেটা কীভাবে?
তারা সিদ্ধান্ত নিলো—পৃথিবীতে কুরআনের কপি থাকবে, আয়াতও নিজ স্থানে ঠিকমত থাকবে বটে, তবে কুরআনের ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণে পরিবর্তণ আনতে হবে অথবা তাফসীরের ব্যাপারে মানুষের অন্ত মহলে সন্দেহ ঢুকিয়ে দিতে হবে। আর এ কাজ বাস্তবায়ন করতে তারা অনেকগুলো মিশন হাতে নিয়েছে। যেমন, পুরাতন তাফসীর বাদ দিয়ে বিজ্ঞানের আলোকে তাফসীরের নামে কুরআনকে বিকৃত করা, তাফসীরের ব্যাপারে সন্দেহ তৈরি করা ইত্যাদী। এরই একটি বাস্তব রূপ হলো বাউল সম্প্রদায়ের তাফসীরের ব্যাপারে বিভ্রান্তিমূলত এ বক্তব্য। আশা করি সর্বসাধারণ এহেন ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবেন।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
জেনারেল শিক্ষিতরা কীভাবে দীনের খেদমত করবেন?
দীনের খিদমত কী জিনিস? ধরেন, আমি ডাক্তার। এক হচ্ছে, আমি হালালভাবে ইনকাম করছি, যথাসাধ্য রোগীদের ফ্রী-ড...
ডাঃ শামসুল আরেফীন শক্তি
৭ নভেম্বর, ২০২৪
৫৫৫৯