প্রবন্ধ
নামায না পড়লে আল্লাহ জাহান্নামে দেবেন না! হেযবুত তওহীদ। পর্ব–৬৪
৭ অক্টোবর, ২০২৫
৫২৪৪
০
জান্নাতে যাওয়ার অন্যতম একটি মাধ্যম হলো ‘নামায’। কিয়ামতে সর্বপ্রথম নামাযের হিশাব নেওয়া হবে। এমন অসংখ্য বিষয় কুরআন-সুন্নাহ'য় বর্ণিত হয়েছে।
হেযবুত তওহীদ কী বলে?
তাদের আকিদা হলো, আল্লাহ কোথাও বলেননি যে নামায, রোযা, হজ্ব ইত্যাদী ত্যাগ করলে জাহান্নামে দেবেন। দেখুন, তারা কী বলে–
আল্লাহ কোথাও বলেন নাই যে, সালাহ (নামায) ত্যাগ করলে বা সওম (রোজা) ত্যাগ করলে বা হজ্ব ত্যাগ করলে বা অন্য যে কোনো এবাদত ত্যাগ করলে কঠিন শাস্তি দিয়ে এই দীন থেকেই বহিস্কৃত করবেন, শুধু জেহাদ (সংগ্রাম) এবং আল্লাহর রাস্তায় (জেহাদে) ব্যয় ছাড়া। –ইসলামের প্রকৃত সালাহ, পৃ. ১৫
ইসলাম কী বলে?
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে, জাহান্নামীদেরকে জাহান্নামে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করা হবে। প্রশ্ন করা হবে-
مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّين حَتَّى أَتَانَا الْيَقِينُ
কোন জিনিস তোমাদেরকে জাহান্নামে দাখিল করেছে? তারা বলবে, আমরা নামাযীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না। আমরা মিসকীনদেরকে খাবার দিতাম না। আর যারা অহেতুক আলাপ-আলোচনায় মগ্ন হত, আমরাও তাদের সঙ্গে তাতে মগ্ন হতাম। এবং আমরা কর্মফল দিবসকে মিথ্যা সাব্যস্ত করতাম। –সুরা মুদ্দিসসির : ৪২-৪৭
উক্ত আয়াতে জাহান্নামে যাওয়ার প্রথম কারণ হিশাবে নামায না পড়ার অপরাধ বলা হয়েছে। সুতরাং এ আয়াত দ্বারা বুঝতে পারলাম, নামায না পড়ার কারণে জাহান্নামে যেতে হবে। উপরন্তু হাদিস শরীফে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
أَوَّلُ مَا يُحَاسَبُ بِهِ الْعَبْدُ يَوْمَ الْقِياَمَةِ الصَّلاَةُ يُنْظَرُ فِيْ صَلاَتِهِ فَإنْ صَلَحَتْ فَقَدْ أفْلَحَ وإنْ فَسَدَتْ خاَبَ وَخَسِرَ
কিয়ামতের দিন বান্দা সর্বপ্রথম যে বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে, তা হচ্ছে নামায। তার নামাযের দিকে দৃষ্টিপাত করা হবে। যদি তার নামায সংশোধন বা বিশুদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে সে মুক্তি পেয়ে যাবে। আর তার নামায যদি বরবাদ থাকে, তাহলে সে ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবে। –আত তারগীব ওয়াত তারহীব, খ. ১ পৃ. ১৩০
সুতরাং নামাযের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এমন মূর্খতাসুলভ মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
শান্তি সম্প্রীতি ও উদারতার ধর্ম ইসলাম
নামে যার শান্তির আশ্বাস তার ব্যাপারে আর যাই হোক, সন্ত্রাসের অপবাদ দেয়ার আগে তার স্বরূপ উদঘাটনে দু'দণ...
তাহাফফুযে খতমে নবুওত ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه،ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا،...
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম : বিভ্রান্তি নিরসনে মুসলমানদের যা জানা দরকার
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন