প্রবন্ধ
বাউল ধর্মে জাদু! বাউল মতবাদ। পর্ব—৫২
৩১ জানুয়ারি, ২০২৬
৩৬৮৯
০
ইসলামে জাদু কুফরী। যারা জাদু করে তারা কাফের। কোনো মুসলমানের জন্য জাদু শেখা এবং জাদু করা বৈধ নয়।
বাউল ধর্মে কী বলে?
তারা জাদু করা বৈধ মনে করে থাকে। লালন একাডেমির সাবেক পরিচালক ডক্টর আনোয়ারুল করীম লিখেছেন—
প্রসংগত উল্লেখযোগ্য যে, বাউলদের মধ্যে কিছু আদিম জাদুবিশ্বাস প্রচলিত। এই বিশ্বাস যে কেবল বাউলদের মধ্যেই—তা নয়। সকল পিছিয়ে পড়া সমাজে এমন বিশ্বাস রয়েছে। —(বাংলাদেশের বাউল, পৃ. ৪১০)
ইসলাম কী বলে?
জাদুবিদ্যা শয়তানের আবিস্কার। কুরআনে কারীমে এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে,
وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
“আর তারা (বনী ইসরাঈল) সুলাইমানের শাসনামলে শয়তানগণ যা-কিছু (মন্ত্র) পড়তো, তার পেছনে পড়ে গেলো। সুলাইমান কোনো কুফর করেনি। অবশ্য শয়তানগণ মানুষকে যাদু শিক্ষা দিয়ে কুফরীতে লিপ্ত হয়েছিলো। তাছাড়া (বনী ইসরাঈল) বাবিল শহরে হারূত ও মারূত নামক ফিরিশতাদ্বয়ের প্রতি যা নাযিল হয়েছিলো, তার পেছনে পড়ে গেলো। এ ফেরেশতাদ্বয় কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো তালীম দিতো না, যতক্ষণ না বলে দিতো—আমরা কেবলই পরীক্ষাস্বরূপ (প্রেরিত হয়েছি)। সুতরাং তোমরা (যাদুর পেছনে পড়ে) কুফরী অবলম্বন করো না। তথাপি তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করতো, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাতো, (তবে প্রকাশ থাকে যে,) তারা তার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারো কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারতো না। (কিন্তু) তারা এমন জিনিস শিখতো, যা তাদের পক্ষে ক্ষতিকর ছিল এবং উপকারী ছিল না। আর তারা এটাও ভালো করে জানতো যে, যে ব্যক্তি তার খরিদ্দার হবে, আখিরাতে তার কোনো হিস্যা থাকবে না। বস্তুত তারা যার বিনিময়ে নিজেদেরকে বিক্রি করেছে, তা অতি মন্দ। যদি তাদের (এ বিষয়ের প্রকৃত) জ্ঞান থাকতো!” —(সুরা বাকারা : ১০২)
তাছাড়া হাদিস শরীফে হযরত জুনদুব রা. হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
حَدُّ السَّاحِرِ ضَرْبُهُ بِالسَّيْفِ
“জাদুকরের শরঈ শাস্তি হলো—তাকে তরবারি দিয়ে হত্যা করা।” —(জামে তিরমিযি, হাদিস নং : ১৪৬০)
হযরত বাজালা রহি. সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنْتُ كَاتِبًا لِجَزْءِ بْنِ مُعَاوِيَةَ عَمِّ الْأَحْنَفِ بْنِ قَيْسٍ إِذْ جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ قَبْلَ مَوْتِهِ بِسَنَةٍ: اقْتُلُوا كُلَّ سَاحِرٍ، وَفَرِّقُوا بَيْنَ كُلِّ ذِي مَحْرَمٍ، مِنَ الْمَجُوسِ وَانْهَوْهُمْ عَنِ الزَّمْزَمَةِ، فَقَتَلْنَا فِي يَوْمٍ ثَلَاثَةَ سَوَاحِرَ، وَفَرَّقْنَا بَيْنَ كُلِّ رَجُلٍ مِنَ الْمَجُوسِ وَحَرِيمِهِ فِي كِتَابِ اللَّهِ
“আমি আহনাফ ইবনু কায়িসের চাচা জাযই ইবনু মু’আবিয়ার সচিব ছিলাম। উমার রা.-এর মৃত্যুর এক বছর পূর্বে তার লেখা একটি পত্র আমাদের কাছে আসে। পত্রের বিষয়বস্তু এরূপ—প্রত্যেক যাদুকরকে হত্যা করবে, প্রত্যেক মুহরিম অগ্নিপূজারী স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ ছিন্ন করবে এবং তাদেরকে যামযামা থেকে বিরত রাখবে। অতঃপর আমরা একদিনে তিনজন জাদুকর হত্যা করি এবং আল্লাহর কিতাবে বিধিবদ্ধ প্রতিটি অগ্নিপূজারী পুরুষ ও তার মুহরিম স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করি।” —(সুনানে আবু দাউদ : ৩০৪৩)
সুতরাং জাদুবিশ্বাসী বাউল সম্প্রদায় কোনোভাবেই মুসলিম হতে পারে না।
মন্তব্য (...)
এ সম্পর্কিত আরও প্রবন্ধ
তাহাফফুযে খতমে নবুওত ও কাদিয়ানী সম্প্রদায়
الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونؤمن به ونتوكل عليه،ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا،...
ইলমে দীন ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় ভাবনা
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন,اليوم أكملت لكم دينكم وأتممت عليكم نعم...
ঈমান-আমল সুরক্ষিত রাখতে হক্কানী উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থাকুন, অন্যদের সঙ্গ ছাড়ুন
[প্রদত্ত বয়ান থেকে সংগৃহীত] হামদ ও সালাতের পর... قال الله تعالى: يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتّ...
ধর্মনিরপেক্ষতা ও ইসলাম : বিভ্রান্তি নিরসনে মুসলমানদের যা জানা দরকার
...
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন