সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আল মু'মিন  (غافر) | বিশ্বাসী

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৮৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

حٰمٓ ۚ ١

হা-মীম

হা-মীম।

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ ۙ ٢

তানঝীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আঝীঝিল ‘আলীম।

এ কিতাব নাযিল করা হচ্ছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি মহা ক্ষমতাবান, সর্বজ্ঞানের অধিকারী।

غَافِرِ الذَّنۡۢبِ وَقَابِلِ التَّوۡبِ شَدِیۡدِ الۡعِقَابِ ۙ ذِی الطَّوۡلِ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ؕ اِلَیۡہِ الۡمَصِیۡرُ ٣

গাফিরিযযামবি ওয়া কাবিলিততাওবি শাদীদিল ‘ইকা-বি যিততাওলি লাইলাহা ইল্লা-হুওয়া, ইলাইহিল মাসীর।

যিনি গুনাহ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, কঠিন শাস্তিদাতা, অত্যন্ত শক্তিমান। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই। তাঁরই কাছে সকলকে ফিরে যেতে হবে।

مَا یُجَادِلُ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ اِلَّا الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا فَلَا یَغۡرُرۡکَ تَقَلُّبُہُمۡ فِی الۡبِلَادِ ٤

মা-ইউজা-দিলুফীআ-য়া-তিল্লা-হি ইল্লাল্লাযীনা কাফারূফালা-ইয়াগরুরকা তাকাল্লুবুহুম ফিল বিলা-দ।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তারাই আল্লাহর আয়াতে বিতর্ক সৃষ্টি করে। সুতরাং নগরে-নগরে তাদের (আয়েশী) পরিভ্রমণ যেন তোমাকে ধোঁকায় না ফেলে।

তাফসীরঃ

১. অর্থাৎ কাফেরগণ তাদের কুফর সত্ত্বেও যে আরাম-আয়েশে আছে তা দেখে কেউ যেন এই ধোঁকায় না পড়ে যে, তাদের বুঝি কৃতকর্মের শাস্তি ভোগ করতে হবে না।

کَذَّبَتۡ قَبۡلَہُمۡ قَوۡمُ نُوۡحٍ وَّالۡاَحۡزَابُ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ۪ وَہَمَّتۡ کُلُّ اُمَّۃٍۭ بِرَسُوۡلِہِمۡ لِیَاۡخُذُوۡہُ وَجٰدَلُوۡا بِالۡبَاطِلِ لِیُدۡحِضُوۡا بِہِ الۡحَقَّ فَاَخَذۡتُہُمۡ ۟ فَکَیۡفَ کَانَ عِقَابِ ٥

কাযযাবাত কাবলাহুম কাওমুনূহিওঁ ওয়াল আহঝা-বুমিম বা‘দিহিম ওয়া হাম্মাত কুল্লুউম্মাতিম বিরাছূলিহিম লিইয়া’খুযূহু ওয়া জা-দালূবিলবা-তিলি লিইউদহিদূ বিহিল হাক্কা ফাআখাযতুহুম ফাকাইফা কা-না ‘ইকা-ব।

তাদের পূর্বে নূহের সম্প্রদায় এবং তাদের পর বহু দল (নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। প্রত্যেক জাতি নিজ নিজ রাসূলকে গ্রেফতার করার অভিসন্ধি করেছিল এবং তারা মিথ্যাকে আশ্রয় করে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল তার মাধ্যমে সত্যকে মিটিয়ে দেওয়ার জন্য। পরিণামে আমি তাদেরকে ধৃত করি। সুতরাং (দেখ) আমার শাস্তি কেমন (কঠোর) ছিল।

وَکَذٰلِکَ حَقَّتۡ کَلِمَتُ رَبِّکَ عَلَی الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اَنَّہُمۡ اَصۡحٰبُ النَّارِ ۘؔ ٦

ওয়া কাযা-লিকা হাক্কাত কালিমাতুরাব্বিকা ‘আলাল্লাযীনা কাফারূআন্নাহুম আসহা-বুন্নার।

এভাবেই যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের এই কথা অবধারিত হয়ে গেছে যে, তারা জাহান্নামী হবে।

اَلَّذِیۡنَ یَحۡمِلُوۡنَ الۡعَرۡشَ وَمَنۡ حَوۡلَہٗ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ وَیُؤۡمِنُوۡنَ بِہٖ وَیَسۡتَغۡفِرُوۡنَ لِلَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ۚ رَبَّنَا وَسِعۡتَ کُلَّ شَیۡءٍ رَّحۡمَۃً وَّعِلۡمًا فَاغۡفِرۡ لِلَّذِیۡنَ تَابُوۡا وَاتَّبَعُوۡا سَبِیۡلَکَ وَقِہِمۡ عَذَابَ الۡجَحِیۡمِ ٧

আল্লাযীনা ইয়াহমিলূনাল‘আরশা ওয়া মান হাওলাহূইউছাব্বিহূনা বিহামদি রাব্বিহিমওয়া ইউ’মিনূনা বিহী ওয়া ইয়াছতাগফিরূনা লিল্লাযীনা আ-মানূ রাব্বানা-ওয়াছি‘তা কুল্লা শাইয়িররাহমাতাওঁ ওয়া ‘ইলমান ফাগফির লিল্লাযীনা তা-বূওয়াত্তাবা‘ঊ ছাবীলাকা ওয়াকিহিম ‘আযা-বাল জাহীম।

যারা (অর্থাৎ যে ফেরেশতাগণ) আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা তাঁর চারপাশে আছে, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করে ও তাঁর প্রতি ঈমান রাখে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ করে (যে,) হে আমাদের প্রতিপালক! তোমার রহমত ও জ্ঞান সমস্ত কিছু জুড়ে ব্যাপ্ত। সুতরাং যারা তাওবা করেছে ও তোমার পথের অনুসারী হয়েছে তাদেরকে ক্ষমা করে দাও এবং তাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর।

رَبَّنَا وَاَدۡخِلۡہُمۡ جَنّٰتِ عَدۡنِۣ الَّتِیۡ وَعَدۡتَّہُمۡ وَمَنۡ صَلَحَ مِنۡ اٰبَآئِہِمۡ وَاَزۡوَاجِہِمۡ وَذُرِّیّٰتِہِمۡ ؕ  اِنَّکَ اَنۡتَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ ۙ ٨

রাব্বানা-ওয়া আদখিলহুম জান্না-তি ‘আদনি নিল্লাতী ওয়া ‘আত্তাহুম ওয়া মান সালাহা মিন আবাইহিম ওয়া আঝওয়া-জিহিম ওয়া যুররিইয়া-তিহিম ইন্নাকা আনতাল ‘আঝীঝুল হাকীম।

হে আমাদের প্রতিপালক! তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার ওয়াদা তুমি তাদের সাথে করেছ এবং তাদের পিতা-মাতা, স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে যারা নেক লোক তাদেরকেও। নিশ্চয়ই তুমিই পরাক্রশালী, প্রজ্ঞাময়।

وَقِہِمُ السَّیِّاٰتِ ؕ  وَمَنۡ تَقِ السَّیِّاٰتِ یَوۡمَئِذٍ فَقَدۡ رَحِمۡتَہٗ ؕ  وَذٰلِکَ ہُوَ الۡفَوۡزُ الۡعَظِیۡمُ ٪ ٩

ওয়া কিহিমুছ ছাইয়িআ-তি ওয়া মান তাকিছ ছাইয়িআ-তি ইয়াওমায়িযিন ফাকাদ রাহিমতাহূ ওয়া যা-লিকা হুওয়াল ফাওঝুল ‘আজীম।

এবং তাদেরকে সকল মন্দ বিষয় থেকে রক্ষা কর। সে দিন তুমি যাকে সব মন্দ থেকে রক্ষা করবে, তার প্রতি তুমি অবশ্যই দয়া করলে। আর এটাই মহাসাফল্য।

তাফসীরঃ

২. ‘মন্দ বিষয়’ দ্বারা জাহান্নামের কষ্ট বোঝানো হয়েছে অথবা তারা দুনিয়ায় যেসব মন্দ কাজ করেছে তা। দ্বিতীয় অবস্থায় এর অর্থ হবে, তাদেরকে দুনিয়ায় কৃত মন্দ কাজের পরিণাম থেকে রক্ষা কর, তথা সেগুলো ক্ষমা করে দাও।
১০

اِنَّ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا یُنَادَوۡنَ لَمَقۡتُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ مِنۡ مَّقۡتِکُمۡ اَنۡفُسَکُمۡ اِذۡ تُدۡعَوۡنَ اِلَی الۡاِیۡمَانِ فَتَکۡفُرُوۡنَ ١۰

ইন্নাল্লাযীনা কাফারূইউনা-দাওনা লামাকতুল্লা-হি আকবারু মিম্মাকতিকুম আনফুছাকুম ইয তুদ‘আওনা ইলাল ঈমা-নি ফাতাকফুরূন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছে তাদেরকে ডাক দিয়ে বলা হবে, (আজ) তোমাদের নিজেদের প্রতি নিজেদের যে ক্ষোভ হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি ক্রোধ হত আল্লাহর, যখন তোমাদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেওয়া হত আর তোমরা তা প্রত্যাখ্যান করতে।

তাফসীরঃ

৩. একথা বলা হবে সেই সময়, যখন কাফেরগণ জাহান্নামে পৌঁছে শাস্তি ভোগ করতে শুরু করবে। তখন তারা নিজেরা নিজেদের প্রতি ক্ষুব্ধ হবে যে, আমরা দুনিয়ায় কেন কুফরের পথ অবলম্বন করেছিলাম!
১১

قَالُوۡا رَبَّنَاۤ اَمَتَّنَا اثۡنَتَیۡنِ وَاَحۡیَیۡتَنَا اثۡنَتَیۡنِ فَاعۡتَرَفۡنَا بِذُنُوۡبِنَا فَہَلۡ اِلٰی خُرُوۡجٍ مِّنۡ سَبِیۡلٍ ١١

কা-লূ রাব্বানা আমাত্তানাছনাতাইনি ওয়া আহয়াইতানাছনাতাইনি ফা‘তারাফনাবিযুনূবিনা ফাহাল ইলা-খুরূজিম মিন ছাবীল।

তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদেরকে দু’বার মৃত্যু দিয়েছ এবং দু’বার জীবন দিয়েছ। এবার আমরা আমাদের গুনাহের কথা স্বীকার করছি। কাজেই (আমাদের জাহান্নাম থেকে) নিষ্কৃতির কোন পথ আছে কি?

তাফসীরঃ

৪. ‘দু’বার মৃত্যু দিয়েছ’ প্রথমবারের মৃত্যু দ্বারা অস্তিহীনতার কথা বোঝানো হয়েছে। মানুষ তার জন্মের আগে নাস্তির ভেতর ছিল, যেন সে মৃত ছিল। আর দ্বিতীয় মৃত্যু হল সেই মৃত্যু, যা জীবনের অবসানে ঘটে থাকে। কাফেরগণ একথা দ্বারা বোঝাতে চাবে যে, আমরা দুনিয়ায় বিশ্বাস করতাম জন্মের আগে আমরা অস্তিত্বহীন ছিলাম এবং এটাও বিশ্বাস করতাম যে, শেষ পর্যন্ত একদিন মৃত্যু আসবে, কিন্তু দ্বিতীয়বারের জীবনকে বিশ্বাস করতাম না। এবার আমাদের মনে সেই দ্বিতীয় জীবনেরও ইয়াকীন সৃষ্টি হয়ে গেছে।
১২

ذٰلِکُمۡ بِاَنَّہٗۤ اِذَا دُعِیَ اللّٰہُ وَحۡدَہٗ کَفَرۡتُمۡ ۚ وَاِنۡ یُّشۡرَکۡ بِہٖ تُؤۡمِنُوۡا ؕ فَالۡحُکۡمُ لِلّٰہِ الۡعَلِیِّ الۡکَبِیۡرِ ١٢

যা-লিকুম বিআন্নাহূইযা-দু‘ইয়াল্লা-হু ওয়াহদাহূকাফারতুম ওয়া ইয়ঁইউশরাক বিহী তু’মিনূ ফালহুকমুলিল্লা-হিল ‘আলিইয়িল কাবীর।

(উত্তর দেওয়া হবে,) তোমাদের এ অবস্থার কারণ হল, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হত, তখন তোমরা তাকে অস্বীকার করতে। আর যদি তার সাথে অন্য কাউকে শরীক করা হত, তোমরা তাতে বিশ্বাস করতে। অতএব এখন ফায়সালা কেবল আল্লাহরই, যিনি সমুচ্চ, সুমহান।
১৩

ہُوَ الَّذِیۡ یُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ وَیُنَزِّلُ لَکُمۡ مِّنَ السَّمَآءِ رِزۡقًا ؕ وَمَا یَتَذَکَّرُ اِلَّا مَنۡ یُّنِیۡبُ ١٣

হুওয়াল্লাযী ইউরীকুম আ-য়া-তিহী ওয়া ইউনাঝঝিলুলাকুম মিনাছ ছামাই রিঝকাওঁ ওয়ামা-ইয়াতাযাক্কারু ইল্লা-মাইঁ ইউনীব।

তিনিই তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন এবং তোমাদের জন্য আসমান থেকে রিযক অবতীর্ণ করেন। উপদেশ তো সেই গ্রহণ করে, যে (হেদায়াতের জন্য) আন্তরিকভাবে রুজু হয়।
১৪

فَادۡعُوا اللّٰہَ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ وَلَوۡ کَرِہَ الۡکٰفِرُوۡنَ ١٤

ফাদ‘উল্লা-হা মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা ওয়ালাও কারিহাল কা-ফিরূন।

সুতরাং (হে মানুষ!) তোমরা আল্লাহকে ডাক তার জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে, তা কাফেরদের পক্ষে যতই অপ্রীতিকর হোক।
১৫

رَفِیۡعُ الدَّرَجٰتِ ذُو الۡعَرۡشِ ۚ  یُلۡقِی الرُّوۡحَ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِہٖ لِیُنۡذِرَ یَوۡمَ التَّلَاقِ ۙ ١٥

রাফী’উদ্দাজা-তি যুল ‘আরশি ইউলকির রূহা মিন আমরিহী ‘আলা-মাইঁ ইয়াশাউ মিন ‘ইবা-দিহী লিইউনযিরা ইয়াওমাত্তালা-ক।

তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি। তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ ওহী) নাযিল করেন। এই জন্য যে, সে সাক্ষাত দিবস সম্পর্কে সতর্ক করবে

তাফসীরঃ

৫. ওহীকে রূহ বলা হয় এ কারণে যে, তা মানবাত্মায় সঞ্চারিত হয়, যেমন রূহ সঞ্চারিত হয় মানুষের দেহে। অতঃপর দেহ যেমন রূহের দ্বারা জীবন লাভ করে তেমনি মানবাত্মাও ওহীর হিদায়াত দ্বারা সঞ্জীবিত হয়ে ওঠে। বস্তুত ওহীর স্পর্শবিহীন মানুষ তার দেহ ও আত্মাসমেত নিষ্প্রাণ জড়পিণ্ড তুল্য। তাতে সত্যিকারের মানবিক প্রাণসঞ্চারের জন্যই আল্লাহ ‘ওহী’ নামক রূহের ব্যবস্থা করেন এবং ডাক দিয়ে বলেন, ‘তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও, যখন তোমাদেরকে ডাক দেন সেই জিনিসের দিকে যা তোমাদেরকে প্রাণবান করে তুলবে’ (সূরা আনফাল ৮ : ২৪)। -অনুবাদক
১৬

یَوۡمَ ہُمۡ بٰرِزُوۡنَ ۬ۚ لَا یَخۡفٰی عَلَی اللّٰہِ مِنۡہُمۡ شَیۡءٌ ؕ لِمَنِ الۡمُلۡکُ الۡیَوۡمَ ؕ لِلّٰہِ الۡوَاحِدِ الۡقَہَّارِ ١٦

ইয়াওমা হুম বা-রিঝূনা লা-ইয়াখফা-‘আলাল্লা-হি মিনহুম শাইউল লিমানিল মুলকুল ইয়াওমা লিল্লা-হিল ওয়া-হিদিল কাহহা-র।

যে দিন তারা সকলে প্রকাশ্যে এসে যাবে। আল্লাহর কাছে তাদের কোন কিছুই গোপন থাকবে না। (বলা হবে) আজ রাজত্ব কার? (উত্তর হবে একটিই যে,) কেবল আল্লাহর, যিনি এক, পরাক্রমশালী।

তাফসীরঃ

৬. আল্লাহ তাআলার কাছে তো কোনও দিনই কারও কিছু গোপন থাকে না, তা সত্ত্বেও হাশর দিবস সম্পর্কে বিশেষভাবে একথা বলা হয়েছে এজন্য যে, দুনিয়ায় মানুষ গুপ্তস্থানে, প্রাচীরের ভেতর, ঘরের মধ্যে বা এরকম লোকচক্ষুর আড়ালে যেসব কাজ করে সে সম্পর্কে মনে করে কেউ তা দেখছে না। কিন্তু হাশরের ময়দানে এ রকম কোনো আড়াল থাকবে না। সকলেই উন্মুক্ত স্থানে সমবেত হয়ে থাকবে। ফলে এদিন কেউ এ রকম কিছু ভাবতে পারবে না। সকলেই নিশ্চিত থাকবে যে, তাদের সব কিছুই আল্লাহ তাআলার দৃষ্টির সামনে রয়েছে। -অনুবাদক
১৭

اَلۡیَوۡمَ تُجۡزٰی کُلُّ نَفۡسٍۭ بِمَا کَسَبَتۡ ؕ لَا ظُلۡمَ الۡیَوۡمَ ؕ اِنَّ اللّٰہَ سَرِیۡعُ الۡحِسَابِ ١٧

আল ইয়াওমা তুজঝা-কুল্লুনাফছিম বিমা-কাছাবাত লা- জু ল মাল ইয়াওমা ইন্নাল্লাহা ছারী‘উল হিছা-ব।

আজ প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের প্রতিফল দেওয়া হবে। আজ কোন জুলুম হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী।
১৮

وَاَنۡذِرۡہُمۡ یَوۡمَ الۡاٰزِفَۃِ اِذِ الۡقُلُوۡبُ لَدَی الۡحَنَاجِرِ کٰظِمِیۡنَ ۬ؕ  مَا لِلظّٰلِمِیۡنَ مِنۡ حَمِیۡمٍ وَّلَا شَفِیۡعٍ یُّطَاعُ ؕ ١٨

ওয়া আনযিরহুম ইয়াওমাল আ-ঝিফাতি ইযিল কুলূবুলাদাল হানা-জিরি কা-জিমীনা মা-লিজ্জা-লিমীনা মিন হামীমিওঁ ওয়ালা-শাফী‘ইঁ ইউতা-‘।

(হে রাসূল!) তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন সম্পর্কে, যখন বেদম কষ্টে মানুষের প্রাণ কণ্ঠাগত হয়ে যাবে। জালেমদের থাকবে না কোন বন্ধু এবং কোন সুপারিশকারী, যার কথা গ্রহণ করা হবে।
১৯

یَعۡلَمُ خَآئِنَۃَ الۡاَعۡیُنِ وَمَا تُخۡفِی الصُّدُوۡرُ ١٩

ইয়া‘লামুখাইনাতাল আ‘ইউনি ওয়ামা-তুখফিস সুদূর।

আল্লাহ জানেন চোখের অসাধুতা এবং সেইসব বিষয়ও, যা বক্ষদেশ লুকিয়ে রাখে।
২০

وَاللّٰہُ یَقۡضِیۡ بِالۡحَقِّ ؕ  وَالَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ لَا یَقۡضُوۡنَ بِشَیۡءٍ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ٪ ٢۰

ওয়াল্লা-হু ইয়াকদী বিলহাক্কি ওয়াল্লাযীনা ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিহী লা-ইয়াকদূ না বিশাইয়িন ইন্নাল্লা-হা হুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।

আল্লাহ ন্যায়বিচার করেন। আর তারা তাকে ছেড়ে যাদেরকে (অর্থাৎ যেই মিথ্যা উপাস্যদেরকে) ডাকে তারা কোন কিছুর বিচার করতে পারে না। নিশ্চয়ই আল্লাহই এমন, যিনি সব কথা শোনেন, সবকিছু দেখেন।
২১

اَوَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ کَانُوۡا مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَانُوۡا ہُمۡ اَشَدَّ مِنۡہُمۡ قُوَّۃً وَّاٰثَارًا فِی الۡاَرۡضِ فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ بِذُنُوۡبِہِمۡ ؕ وَمَا کَانَ لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ وَّاقٍ ٢١

আওয়ালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা কা-নূমিন কাবলিহিম কা-নূহুম আশাদ্দা মিনহুম কুওওয়াতাঁওয়া আ-ছা-রান ফিল আরদি ফাআখাযাহুমুল্লা-হু বিযুনূবিহিম ওয়ামা-কা-না লাহুম মিনাল্লা-হি মিওঁ ওয়া-ক।

তারা কি ভূমিতে বিচরণ করে দেখেনি, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের কী পরিণাম হয়েছে? তারা শক্তিতেও ছিল তাদের অপেক্ষা প্রবলতর এবং পৃথিবীতে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও। অতঃপর আল্লাহ তাদের গুনাহের কারণে তাদেরকে ধৃত করেন। তাদের এমন কেউ ছিল না, যে তাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে।
২২

ذٰلِکَ بِاَنَّہُمۡ کَانَتۡ تَّاۡتِیۡہِمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَکَفَرُوۡا فَاَخَذَہُمُ اللّٰہُ ؕ اِنَّہٗ قَوِیٌّ شَدِیۡدُ الۡعِقَابِ ٢٢

যা-লিকা বিআন্নাহুম কা-নাত্তা’তীহিম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফাকাফারূফাআখাযাহুমুল্লা-হু ইন্নাহূকাবিওউন শাদীদুল ‘ইকা-ব।

তা এ কারণে যে, তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসলে তারা তাদেরকে অস্বীকার করত। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করেন। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী, শাস্তিদানে কঠোর।
২৩

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا مُوۡسٰی بِاٰیٰتِنَا وَسُلۡطٰنٍ مُّبِیۡنٍ ۙ ٢٣

ওয়ালাকাদ আরছালনা-মূছা-বিআ-য়া-তিনা-ওয়া ছুলতা-নিম মুবীন।

আমি মুসাকে আমার নিদর্শনাবলী এবং সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে পাঠিয়েছিলাম,
২৪

اِلٰی فِرۡعَوۡنَ وَہَامٰنَ وَقَارُوۡنَ فَقَالُوۡا سٰحِرٌ کَذَّابٌ ٢٤

ইলা-ফির‘আওনা ওয়া হা-মা-না ওয়া কা-রূনা ফাকা-লূছা-হিরুন কাযযা-ব।

ফির‘আউন, হামান ও কারূনের কাছে কিন্তু তারা বলল, সে তো একজন যাদুকর ঘোর মিথ্যাবাদী।
২৫

فَلَمَّا جَآءَہُمۡ بِالۡحَقِّ مِنۡ عِنۡدِنَا قَالُوا اقۡتُلُوۡۤا اَبۡنَآءَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَعَہٗ وَاسۡتَحۡیُوۡا نِسَآءَہُمۡ ؕ وَمَا کَیۡدُ الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ ٢٥

ফালাম্মা-জাআ হুম বিলহাক্কিমিন ‘ইনদিনা-কা-লুকতুলূআবনাআল্লাযীনা আ-মানূ মা‘আহু ওয়াছতাহইঊ নিছাআহুম ওয়ামা-কাইদুল কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।

অতঃপর সে যখন আমার পক্ষ হতে সত্য নিয়ে তাদের কাছে উপস্থিত হল, তখন তারা বলল, তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রেখে দাও। অথচ কাফেরদের চক্রান্ত পরিণামে তো ব্যর্থই হয়।

তাফসীরঃ

৭. অর্থাৎ যখন তিনি সত্য দীনের ডাক নিয়ে জনসাধারণের কাছে গেলেন এবং বহু লোক তাঁর প্রতি ঈমান আনল, তখন ফির‘আউনের লোকজন প্রস্তাব রাখল, যেসব পুরুষ লোক ঈমান এনেছে তাদের পুত্রদেরকে হত্যা করে ফেল আর নারীদেরকে জীবিত রাখ, যাতে দাসী হিসেবে তাদেরকে ব্যবহার করা যায়। এ রকম একটা নির্দেশ হযরত মুসা আলাইহিস সালামের জন্মের আগেও দেওয়া হয়েছিল, যা বিস্তারিতভাবে সূরা ‘তোয়া-হা’ ও সূরা ‘কাসাস’-এ বর্ণিত হয়েছে। সে নির্দেশের কারণ ছিল এক জ্যোতিষীর ভবিষ্যদ্বাণী। জ্যোতিষী ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, বনী ইসরাঈলে এমন একটি শিশুর জন্ম হবে, বড় হওয়ার পর যার হাতে ফির‘আউনের সিংহাসন উল্টে যাবে। তাই ফির‘আউন ফরমান জারি করেছিল, এখন থেকে বনী ইসরাঈলে যত পুত্র সন্তান জন্ম নেবে তাদেরকে হত্যা করা হোক। তার পক্ষ হতে দ্বিতীয়বার এরূপ ফরমান জারি হয়েছিল হযরত মুসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াত লাভের পর, যখন মানুষ তাঁর প্রতি ঈমান আনতে শুরু করে। পুত্রদেরকে হত্যা করার লক্ষ্য ছিল যাতে মুমিনদের বংশ বিস্তার হতে না পারে। তাছাড়া এর দ্বারা মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করাও উদ্দেশ্য ছিল। কেননা মানুষ সাধারণত পুত্র হত্যার ফলে বেশি দুঃখ পেয়ে থাকে। কাজেই পুত্রদেরকে হত্যা করা শুরু হলে কেউ আর ভয়ে ঈমান আনবে না। কিন্তু আল্লাহ তাআলা সামনে ইরশাদ করেছেন, কাফেরদের এ জাতীয় ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় এবং আল্লাহ তাআলা যা ফায়সালা করেন সেটাই প্রবল থাকে। সুতরাং তাই হল। শেষ পর্যন্ত ফির‘আউন সাগরে ডুবে মরল এবং বনী ইসরাঈল জয়লাভ করল।
২৬

وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ ذَرُوۡنِیۡۤ اَقۡتُلۡ مُوۡسٰی وَلۡیَدۡعُ رَبَّہٗ ۚ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اَنۡ یُّبَدِّلَ دِیۡنَکُمۡ اَوۡ اَنۡ یُّظۡہِرَ فِی الۡاَرۡضِ الۡفَسَادَ ٢٦

ওয়া কা-লা ফির‘আওনুযারূনীআকতুল মুছা-ওয়াল ইয়াদ‘উ রাব্বাহূ ইন্নীআখা-ফু আইঁ ইউবাদ্দিলা দীনাকুম আও আইঁ ইউজহিরা ফিল আরদিল ফাছা-দ।

ফির‘আউন বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করব আর সে তার রবকে ডাকুক। আমার আশঙ্কা সে তোমাদের দীন বদলে ফেলবে অথবা দেশে অশান্তি বিস্তার করবে।

তাফসীরঃ

৮. অর্থাৎ সে তার রব্ব সম্পর্কে যা বলে ওসব নিয়ে তোমরা ভেব না। কারণ তার কোন বাস্তবতা নেই। বড় রব্ব তো আমিই। তোমরা বল তো এখনই আমি তাকে খতম করে দেই। আর সে তার রবকে ডাকুক। দেখি সে তাকে আমার হাত থেকে কেমন করে বাঁচায়। এতদিন কেবল তোমাদের দিকে তাকিয়েই তাকে কিছু বলিনি। আসলে সে একথা বলছিল তাদের মনোরঞ্জন ও নিজের মান রক্ষার বাহানায়। প্রকৃতপক্ষে সে হযরত মূসা (আ.)-কে হত্যা করতে চাচ্ছিল না। কেননা তাঁর মহা মুজিযা দেখে তার মনে বিশ্বাস জন্মেছিল যে, তিনি সত্য নবী। কাজেই তাঁকে হত্যা করলে নিজের পক্ষে পরিণাম ভয়ঙ্কর হতে পারে। কিন্তু মহাদর্পিত একনায়ককে প্রজাসাধারণের কাছে মুখরক্ষাও তো করতে হবে। তাই ভাব দেখাচ্ছিল যে, তাদের পক্ষ হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েই যেন সে হত্যা করা হতে বিরত থাকছে। এমনও হতে পারে যে, সে এসব কথা বলছিল তামাশাচ্ছলে। -অনুবাদক
২৭

وَقَالَ مُوۡسٰۤی اِنِّیۡ عُذۡتُ بِرَبِّیۡ وَرَبِّکُمۡ مِّنۡ کُلِّ مُتَکَبِّرٍ لَّا یُؤۡمِنُ بِیَوۡمِ الۡحِسَابِ ٪ ٢٧

ওয়া কা-লা মূছাইন্নী ‘উযতুবিরাববী ওয়া রাব্বিকুম মিন কুল্লি মুতাকাব্বিরিল লা-ইউ’মিনু বিইয়াওমিল হিছা-ব।

মূসা বলল, হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি সেই সত্তার আশ্রয় গ্রহণ করেছি, যিনি আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক।
২৮

وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤۡمِنٌ ٭ۖ مِّنۡ اٰلِ فِرۡعَوۡنَ یَکۡتُمُ اِیۡمَانَہٗۤ اَتَقۡتُلُوۡنَ رَجُلًا اَنۡ یَّقُوۡلَ رَبِّیَ اللّٰہُ وَقَدۡ جَآءَکُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ مِنۡ رَّبِّکُمۡ ؕ وَاِنۡ یَّکُ کَاذِبًا فَعَلَیۡہِ کَذِبُہٗ ۚ وَاِنۡ یَّکُ صَادِقًا یُّصِبۡکُمۡ بَعۡضُ الَّذِیۡ یَعِدُکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ مُسۡرِفٌ کَذَّابٌ ٢٨

ওয়া কা-লা রাজুলুম মু’মিনুম মিন আ-লি ফির‘আওনা ইয়াকতুমুঈমা-নাহূ আতাকতুলূনা রাজূলান আইঁ ইয়াকূলা রাব্বিয়াল্লা-হু ওয়া কাদ জাআকুম বিলবাইয়িনা-তি মির রাব্বিকুম ওয়া ইয়ঁইয়াকুকা-যিবান ফা‘আলাইহি কাযিবুহূওয়া ইয়ঁইয়াকুসাদিকাইঁ ইউসিবকুম বা‘দুল্লাযী ইয়া‘ইদুকুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদী মান হুওয়া মুছরিফুন কাযযাব।

ফির‘আউনের খান্দানের এক মুমিন ব্যক্তি, যে এ পর্যন্ত নিজ ঈমানের কথা গোপন রেখেছিল, বলে উঠল, তোমরা কি একজন লোককে কেবল এ কারণে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার প্রতিপালক আল্লাহ? অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের কাছে উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়ে এসেছে। সে মিথ্যাবাদী হলে তো তার মিথ্যাবাদীতার জন্য সেই দায়ী হবে। ১০ আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তি সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করছে, তার কিছু তো তোমাদের উপর অবশ্যই আপতিত হবে। আল্লাহ কোন সীমালংঘনকারী, মিথ্যুককে হেদায়াত দান করেন না।

তাফসীরঃ

৯. এই ব্যক্তি কে ছিলেন, কী তার নাম কুরআন মাজীদে তা উল্লেখ করা হয়নি। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, তিনি ছিলেন ফির‘আউনের চাচাত ভাই এবং তার নাম ছিল শামআন।
২৯

یٰقَوۡمِ لَکُمُ الۡمُلۡکُ الۡیَوۡمَ ظٰہِرِیۡنَ فِی الۡاَرۡضِ ۫ فَمَنۡ یَّنۡصُرُنَا مِنۡۢ بَاۡسِ اللّٰہِ اِنۡ جَآءَنَا ؕ قَالَ فِرۡعَوۡنُ مَاۤ اُرِیۡکُمۡ اِلَّا مَاۤ اَرٰی وَمَاۤ اَہۡدِیۡکُمۡ اِلَّا سَبِیۡلَ الرَّشَادِ ٢٩

ইয়া-কাওমি লাকুমুল ইয়াওমা জা-হিরীনা ফিল আরদি ফামাইঁ ইয়ানসুরুনা-মিম বা’ছিল্লা-হি ইন জাআনা- কা-লা ফির‘আওনুমাউরীকুম ইল্লা-মাআরাওয়ামাআহদীকুম ইল্লা-ছাবীলার রাশা-দ।

হে আমার সম্প্রদায়! আজ তো রাজত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল। কিন্তু আমাদের উপর যদি আল্লাহর আযাব এসে পড়ে, তবে এমন কে আছে, যে তাঁর বিপরীতে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফির‘আউন বলল, আমি যা সঠিক মনে করি সেই রায়ই তো তোমাদেরকে দেব। আমি তো তোমাদেরকে কেবল সঠিক পথই দেখিয়ে থাকি।
৩০

وَقَالَ الَّذِیۡۤ اٰمَنَ یٰقَوۡمِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ مِّثۡلَ یَوۡمِ الۡاَحۡزَابِ ۙ ٣۰

ওয়াকালাল্লাযী আ-মানা ইয়াকাওমি ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম মিছলা ইয়াওমিল আহঝা-ব।

যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য আশঙ্কা করি পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর অনুরূপ দিনের (শাস্তির)।
৩১

مِثۡلَ دَاۡبِ قَوۡمِ نُوۡحٍ وَّعَادٍ وَّثَمُوۡدَ وَالَّذِیۡنَ مِنۡۢ بَعۡدِہِمۡ ؕ وَمَا اللّٰہُ یُرِیۡدُ ظُلۡمًا لِّلۡعِبَادِ ٣١

মিছলা দা’বি কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়াল্লাযীনা মিম বা‘দিহিম ওয়া মাল্লা-হু ইউরীদুজুলমাল লিল‘ইবা-দ।

(এবং না জানি তোমাদের অবস্থাও সে রকম হয়) যেমন অবস্থা হয়েছিল নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কওমের, আদ ও ছামুদের এবং তাদের পরবর্তী কালে যারা এসেছিল তাদের। আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি জুলুম করতে চান না।
৩২

وَیٰقَوۡمِ اِنِّیۡۤ اَخَافُ عَلَیۡکُمۡ یَوۡمَ التَّنَادِ ۙ ٣٢

ওয়া ইয়া-কাওমি ইন্নীআখা-ফু‘আলাইকুম ইয়াওমাততানা-দ।

হে আমার কওম! আমি তোমাদের জন্য ভয় করি আর্তনাদ-দিবসের। ১১

তাফসীরঃ

১১. অর্থাৎ কিয়ামত-দিবসের, যে দিনটি হবে অত্যন্ত বিভীষিকাময়। মানুষ ভয়ে আর্তনাদ করবে। অপরাধীরা মৃত্যু ও ধ্বংসকে ডাকবে। কারও মতে এর দ্বারা লোহিতসাগরে ফিরআওনী সম্প্রদায়ের ডুবে মরার দিনকে বোঝানো হয়েছে, মৃত্যুর বিভীষিকায় যখন তারা আর্তনাদ করছিল ও পরস্পরে ডাকাডাকি করছিল। -অনুবাদক
৩৩

یَوۡمَ تُوَلُّوۡنَ مُدۡبِرِیۡنَ ۚ مَا لَکُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مِنۡ عَاصِمٍ ۚ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ٣٣

ইয়াওমা তুওয়াললূনা মুদবিরীনা মা-লাকুম মিনাল্লা-হি মিন ‘আ-সিমিওঁ ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা -হু ফামা-লাহূমিন হা-দ।

যে দিন তোমরা পিছন ফিরে পালাতে চাইবে, (কিন্তু) আল্লাহ হতে তোমাদের কোন রক্ষাকারী থাকবে না। আল্লাহ যাকে বিভ্রান্ত করেন, তার কোন পথ-প্রদর্শক থাকে না।
৩৪

وَلَقَدۡ جَآءَکُمۡ یُوۡسُفُ مِنۡ قَبۡلُ بِالۡبَیِّنٰتِ فَمَا زِلۡتُمۡ فِیۡ شَکٍّ مِّمَّا جَآءَکُمۡ بِہٖ ؕ  حَتّٰۤی اِذَا ہَلَکَ قُلۡتُمۡ لَنۡ یَّبۡعَثَ اللّٰہُ مِنۡۢ بَعۡدِہٖ رَسُوۡلًا ؕ  کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ مَنۡ ہُوَ مُسۡرِفٌ مُّرۡتَابُۨ ۚۖ ٣٤

ওয়ালা কাদ জাআকুম ইঊছুফুমিন কাবলুবিলবাইয়িনা-তি ফামা-ঝিলতুম ফী শাক্কিম মিম্মাজাআকুম বিহী হাত্তাইযা-হালাকা কুলতুম লাইঁ ইয়াব‘আছাল্লা-হু মিম বা‘দিহী রাছূলান কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হু মান হুওয়া মুছরিফুম মুরতা-ব।

বস্তুত এর আগে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম) তোমাদের কাছে এসেছিলেন উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী নিয়ে। ১২ তখনও তোমরা তার নিয়ে আসা বিষয়ে সন্দেহে পতিত ছিলে। তারপর যখন তার ওফাত হয়ে গেল, তখন তোমরা বললে, তারপর আর আল্লাহ কোন রাসূল পাঠাবেন না। ১৩ এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক এমন ব্যক্তিকে পথভ্রষ্টতায় ফেলে রাখেন, যে হয় সীমালংঘনকারী, সন্দিহান।

তাফসীরঃ

১২. মুমিন ব্যক্তি একথা বলেছিলেন ফির‘আউনের কওম অর্থাৎ কিবতীদের লক্ষ্য করে। হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম কিবতীদের মধ্যে হেদায়াতের বাণী প্রচার করেছিলেন, কিন্তু তারা তা গ্রাহ্য করেনি।
৩৫

الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ سُلۡطٰنٍ اَتٰہُمۡ ؕ کَبُرَ مَقۡتًا عِنۡدَ اللّٰہِ وَعِنۡدَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا ؕ کَذٰلِکَ یَطۡبَعُ اللّٰہُ عَلٰی کُلِّ قَلۡبِ مُتَکَبِّرٍ جَبَّارٍ ٣٥

আল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম কাবুরা মাকতান ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদাল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা ইয়াতবা‘উল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি কালবি মুতাকাব্বিরিন জাব্বা-র।

যারা তাদের কাছে কোন প্রমাণ আসা ছাড়াই আল্লাহর আয়াতসমূহ সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয়, তাদের এ কাজ আল্লাহর কাছে অতি ঘৃণার্হ এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের কাছেও। এভাবেই আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী, স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তির অন্তরে মোহর করে দেন।
৩৬

وَقَالَ فِرۡعَوۡنُ یٰہَامٰنُ ابۡنِ لِیۡ صَرۡحًا لَّعَلِّیۡۤ اَبۡلُغُ الۡاَسۡبَابَ ۙ ٣٦

ওয়া কা-লা ফির‘আওনুইয়া-হা-মা-নুবনি লী সারহাল্লা‘আললীআবলুগুল আছবা-ব।

এবং ফির‘আউন (তার মন্ত্রীকে) বলল, হে হামান! আমার জন্য একটি উঁচু প্রাসাদ নির্মাণ কর, যাতে আমি সেই সব পথে পৌঁছতে পারি
৩৭

اَسۡبَابَ السَّمٰوٰتِ فَاَطَّلِعَ اِلٰۤی اِلٰہِ مُوۡسٰی وَاِنِّیۡ لَاَظُنُّہٗ کَاذِبًا ؕ  وَکَذٰلِکَ زُیِّنَ لِفِرۡعَوۡنَ سُوۡٓءُ عَمَلِہٖ وَصُدَّ عَنِ السَّبِیۡلِ ؕ  وَمَا کَیۡدُ فِرۡعَوۡنَ اِلَّا فِیۡ تَبَابٍ ٪ ٣٧

আছবা-বাছছামা-ওয়া-তি ফাআত্তালি‘আ ইলাইলা-হি মূছা-ওয়া ইন্নী লাআজুন্নুহূকাযিবাওঁ ওয়া কাযা-লিকা ঝুইয়িনা লিফির‘আওনা ছূউ ‘আমালিহী ওয়াসুদ্দা ‘আনিছছাবীলি ওয়ামা-কাইদুফির‘আওনা ইল্লা-ফী তাবা-ব।

যা আসমানের পথ। তারপর আমি উঁকি মেরে মূসার মাবুদকে দেখব। ১৪ আমি অবশ্যই তাকে মিথ্যুক মনে করি। ১৫ এভাবেই ফির‘আউনের দুষ্কর্মকে তার দৃষ্টিতে শোভন করে তোলা হয়েছিল এবং তাকে সঠিক পথ থেকে নিবৃত্ত করা হয়েছিল। ১৬ ফির‘আউনের ষড়যন্ত্র তো সম্পূর্ণ নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল।

তাফসীরঃ

১৪. এটাই প্রকাশ যে, ফির‘আউন একথা বলেছিল ঠাট্টাচ্ছলে। কেননা সে নিজেই নিজেকে খোদা বলে দাবি করত এবং সে হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে বলেছিল, আমাকে ছাড়া অন্য কাউকে খোদা মানলে তোমাকে বন্দী করব (দেখুন সূরা শুআরা ২৬ : ২৯)।
৩৮

وَقَالَ الَّذِیۡۤ اٰمَنَ یٰقَوۡمِ اتَّبِعُوۡنِ اَہۡدِکُمۡ سَبِیۡلَ الرَّشَادِ ۚ ٣٨

ওয়াকালাল্লাযীআ-মানা ইয়া-কাওমিততাবি‘ঊনি আহদিকুম ছাবীলার রাশা-দ।

যে ব্যক্তি ঈমান এনেছিল, সে বলল, হে আমার কওম! আমার কথা মান। আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করব।
৩৯

یٰقَوۡمِ اِنَّمَا ہٰذِہِ الۡحَیٰوۃُ الدُّنۡیَا مَتَاعٌ ۫ وَّاِنَّ الۡاٰخِرَۃَ ہِیَ دَارُ الۡقَرَارِ ٣٩

ইয়া-কাওমি ইন্নামা-হা-যিহিল হায়া-তুদ দুনইয়া-মাতা-‘উওঁ ওয়া ইন্নাল আ-খিরাতা হিয়া দা-রুল কারা-র।

হে আমার কওম! এই পার্থিব জীবন তো তুচ্ছ ভোগ মাত্র। নিশ্চয়ই আখেরাতই অবস্থিতির প্রকৃত নিবাস।
৪০

مَنۡ عَمِلَ سَیِّئَۃً فَلَا یُجۡزٰۤی اِلَّا مِثۡلَہَا ۚ وَمَنۡ عَمِلَ صَالِحًا مِّنۡ ذَکَرٍ اَوۡ اُنۡثٰی وَہُوَ مُؤۡمِنٌ فَاُولٰٓئِکَ یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ یُرۡزَقُوۡنَ فِیۡہَا بِغَیۡرِ حِسَابٍ ٤۰

মান ‘আমিলা ছাইয়িআতান ফালা-ইউজঝাইল্লা-মিছলাহা- ওয়ামান ‘আমিলা সালিহাম মিন যাকারিন আও উনছা-ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফাউলাইকা ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা ইউরঝাকূনা ফীহা-বিগাইরি হিছা-ব।

যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজ করবে, তাকে কেবল তার কর্মের অনুরূপ শাস্তিই দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, তা সে নর হোক বা নারী, যদি সে মুমিন হয়ে থাকে, তবে এরূপ লোকই প্রবেশ করবে জান্নাতে, সেখানে তাদেরকে রিযক দেওয়া হবে অপরিমিত।
৪১

وَیٰقَوۡمِ مَا لِیۡۤ اَدۡعُوۡکُمۡ اِلَی النَّجٰوۃِ وَتَدۡعُوۡنَنِیۡۤ اِلَی النَّارِ ؕ ٤١

ওয়া ইয়া-কাওমি মা-লীআদ‘ঊকুম ইলান নাজা-তি ওয়া তাদ‘ঊনানীইলান্না-র।

হে আমার সম্প্রদায়! কী ব্যাপার, আমি তোমাদেরকে মুক্তির দিকে ডাকছি আর তোমরা আমাকে ডাকছ আগুনের দিকে?
৪২

تَدۡعُوۡنَنِیۡ لِاَکۡفُرَ بِاللّٰہِ وَاُشۡرِکَ بِہٖ مَا لَیۡسَ لِیۡ بِہٖ عِلۡمٌ ۫ وَّاَنَا اَدۡعُوۡکُمۡ اِلَی الۡعَزِیۡزِ الۡغَفَّارِ ٤٢

তাদ‘ঊনানী লিআকফুরা বিল্লা-হি ওয়া উশরিকা বিহী মা-লাইছা লী বিহী ‘ইলমুওঁ ওয়াআনা আদ‘ঊকুম ইলাল ‘আঝীঝিল গাফফা-র।

তোমরা আমাকে দাওয়াত দিচ্ছ যেন আমি আল্লাহকে অস্বীকার করি এবং তাঁর সঙ্গে এমন বস্তুকে শরীক করি, যাদের সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই। অপর দিকে আমি তোমাদেরকে সেই সত্তার দিকে ডাকছি যিনি অতি ক্ষমতাবান, পরম ক্ষমাশীল।
৪৩

لَا جَرَمَ اَنَّمَا تَدۡعُوۡنَنِیۡۤ اِلَیۡہِ لَیۡسَ لَہٗ دَعۡوَۃٌ فِی الدُّنۡیَا وَلَا فِی الۡاٰخِرَۃِ وَاَنَّ مَرَدَّنَاۤ اِلَی اللّٰہِ وَاَنَّ الۡمُسۡرِفِیۡنَ ہُمۡ اَصۡحٰبُ النَّارِ ٤٣

লা-জারামা আন্নামা-তাদ‘ঊনানীইলাইহি লাইছা লাহূদা‘ওয়াতুনফিদ্দুনইয়া-ওয়ালা-ফিল আ-খিরাতি ওয়া আন্না মারাদ্দানাইলাল্লা-হি ওয়া আন্নাল মুসরিফীনা হুম আসহা-বুন্না-র।

সত্য তো এই যে, তোমরা যার দিকে আমাকে ডাকছ, তা কোন ডাকের উপযুক্তই নয়, না দুনিয়ায় এবং না আখেরাতে। ১৭ প্রকৃতপক্ষে আমাদের সকলকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে আর যারা সীমালংঘনকারী, তারা হবে অগ্নিবাসী।

তাফসীরঃ

১৭. এর দু’টো ব্যাখ্যা হতে পারে (ক) তোমরা যে প্রতিমাদের পূজা কর তারা যে তাদের পূজা করার জন্য কাউকে ডাকবে সে ক্ষমতাই তাদের নেই। (খ) তোমরা যাদের পূজা করার দাওয়াত আমাকে দিচ্ছ, তারা এ দাওয়াতের উপযুক্ত নয় আদৌ।
৪৪

فَسَتَذۡکُرُوۡنَ مَاۤ اَقُوۡلُ لَکُمۡ ؕ وَاُفَوِّضُ اَمۡرِیۡۤ اِلَی اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ بَصِیۡرٌۢ بِالۡعِبَادِ ٤٤

ফাছাতাযকুরূনা মাআকূলুলাকুম ওয়া উফাওবিদুআমরীইলাল্লা-হি ইন্নাল্লাহা বাসীরুম বিল‘ইবা-দ।

আমি তোমাদেরকে যা বলছি তোমরা অচিরেই তা স্মরণ করবে। আমি আমার বিষয় আল্লাহর উপর ন্যস্ত করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের সম্যক দ্রষ্টা।
৪৫

فَوَقٰىہُ اللّٰہُ سَیِّاٰتِ مَا مَکَرُوۡا وَحَاقَ بِاٰلِ فِرۡعَوۡنَ سُوۡٓءُ الۡعَذَابِ ۚ ٤٥

ফাওয়াকা-হুল্লা-হুছাইয়িআ-তি মা-মাকারূওয়া হা-কাবিআ-লি ফির‘আওনা ছূ উল ‘আযা-ব।

অতঃপর তারা যেসব নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্র করেছিল, আল্লাহ তাকে (সেই মুমিন ব্যক্তিকে) তা হতে রক্ষা করলেন আর ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে পরিবেষ্টন করল নিকৃষ্টতম শাস্তি।
৪৬

اَلنَّارُ یُعۡرَضُوۡنَ عَلَیۡہَا غُدُوًّا وَّعَشِیًّا ۚ وَیَوۡمَ تَقُوۡمُ السَّاعَۃُ ۟ اَدۡخِلُوۡۤا اٰلَ فِرۡعَوۡنَ اَشَدَّ الۡعَذَابِ ٤٦

আন্না-রু ইউ‘রাদূ না ‘আলাইহা-গুদুওওয়াওঁ ওয়া ‘আশিইইয়াওঁ ওয়া ইয়াওমা তাকূমুছ ছা‘আতু আদখিলূআ-লা ফির‘আওনা আশাদ্দাল ‘আযা-ব।

আগুন, যার সামনে তাদেরকে প্রতি সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। ১৮ আর যে দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সে দিন (আদেশ করা হবে) ফির‘আউনের সম্প্রদায়কে কঠিনতম শাস্তিতে প্রবেশ করাও।

তাফসীরঃ

১৮. মৃত্যুর পর কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত মানুষের রূহ যে জগতে থাকে, তাকে ‘বরযখের জগত’ বলে। এ আয়াতে জানানো হয়েছে যে, ফির‘আউন ও তার অনুসারীদেরকে বরযখের জগতে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় জাহান্নামের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে তারা জানতে পারে তাদের ঠিকানা কোথায়।
৪৭

وَاِذۡ یَتَحَآجُّوۡنَ فِی النَّارِ فَیَقُوۡلُ الضُّعَفٰٓؤُا لِلَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُنَّا لَکُمۡ تَبَعًا فَہَلۡ اَنۡتُمۡ مُّغۡنُوۡنَ عَنَّا نَصِیۡبًا مِّنَ النَّارِ ٤٧

ওয়া ইযইয়াতাহাজ্জূনা ফিন্না-রি ফাইয়াকূলুদদু ‘আফাউ লিল্লাযীনাছতাকবারূইন্নাকুন্না-লাকুম তাবা‘আন ফাহাল আনতুম মুগনূনা ‘আন্না-নাসীবাম মিনান্না-র।

এবং সেই সময়কে স্মরণ রাখ, যখন তারা জাহান্নামে একে অন্যের সঙ্গে ঝগড়া করবে। সুতরাং (দুনিয়ার) দুর্বলগণ আত্মগর্বীদেরকে বলবে, আমরা তো তোমাদের অনুগামী ছিলাম। তা তোমরা কি আমাদের থেকে আগুনের কিছু অংশ প্রতিহত করবে?
৪৮

قَالَ الَّذِیۡنَ اسۡتَکۡبَرُوۡۤا اِنَّا کُلٌّ فِیۡہَاۤ ۙ اِنَّ اللّٰہَ قَدۡ حَکَمَ بَیۡنَ الۡعِبَادِ ٤٨

কা-লাল্লাযী নাছতাকরারূইন্না-কুল্লুন ফীহা ইন্নাল্লা-হা কাদ হাকামা বাইনাল ‘ইবা-দ।

যারা আত্মগর্বী ছিল তারা বলবে, আমরা সকলেই জাহান্নামে আছি। আল্লাহ বান্দাদের মধ্যে ফায়সালা করে ফেলেছেন।
৪৯

وَقَالَ الَّذِیۡنَ فِی النَّارِ لِخَزَنَۃِ جَہَنَّمَ ادۡعُوۡا رَبَّکُمۡ یُخَفِّفۡ عَنَّا یَوۡمًا مِّنَ الۡعَذَابِ ٤٩

ওয়া কা-লাল্লাযীনা ফিন্না-রি লিখাঝানাতি জাহান্নামাদ‘ঊ রাব্বাকুম ইউখাফফিফ ‘আন্নাইয়াওমাম মিনাল ‘আযা-ব।

যারা আগুনের ভেতর থাকবে, তারা জাহান্নামের প্রহরীদেরকে বলবে, তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে দুআ কর, তিনি যেন আমাদের এক দিনের শাস্তি লাঘব করেন।
৫০

قَالُوۡۤا اَوَلَمۡ تَکُ تَاۡتِیۡکُمۡ رُسُلُکُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ ؕ  قَالُوۡا بَلٰی ؕ  قَالُوۡا فَادۡعُوۡا ۚ  وَمَا دُعٰٓؤُا الۡکٰفِرِیۡنَ اِلَّا فِیۡ ضَلٰلٍ ٪ ٥۰

কা-লূআওয়ালাম তাকুতা’তীকুম রুছুলুকুম বিলবাইয়িনা-তি কা-লূবালা- কালূফাদ‘ঊ ওয়ামা-দু‘আউল কা-ফিরীনা ইল্লা-ফী দালা-ল।

তারা বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের রাসূলগণ সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসেনি? জাহান্নামীগণ বলবে, অবশ্যই (তারা একের পর এক এসেছিল)। তারা বলবে, তাহলে তোমরাই দুআ কর। আর কাফেরদের দুআ তো নিস্ফলই হয়ে যায়।
৫১

اِنَّا لَنَنۡصُرُ رُسُلَنَا وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا وَیَوۡمَ یَقُوۡمُ الۡاَشۡہَادُ ۙ ٥١

ইন্না- লানানসুরু রুছুলানা- ওয়াল্লাযীনা আ-মানূফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া-ওয়া ইয়াওমা ইয়াকূ মুল আশহা-দ ।

নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলগণকে এবং মুমিনদেরকে পার্থিব জীবনেও সাহায্য করি এবং সেই দিনও করব, যে দিন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে ১৯

তাফসীরঃ

১৯. অর্থাৎ মানুষের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্যদানের জন্য যখন সাক্ষীদের ডাকা হবে তখন সাক্ষীগণ দাঁড়িয়ে যাবে। এ সাক্ষী ফেরেশতাও হতে পারেন এবং নবী-রাসূল ও অন্যান্যরাও হতে পারেন।
৫২

یَوۡمَ لَا یَنۡفَعُ الظّٰلِمِیۡنَ مَعۡذِرَتُہُمۡ وَلَہُمُ اللَّعۡنَۃُ وَلَہُمۡ سُوۡٓءُ الدَّارِ ٥٢

ইয়াওমা লা-ইয়ানফা‘উজ্জা-লিমীনা মা‘যিরাতুহুম ওয়ালাহুমুল লা‘নাতুওয়ালাহুম ছূ উদ্দা র।

যে দিন জালেমদের ওজর-আপত্তি কোন কাজে আসবে না। তাদের জন্য রয়েছে লানত এবং তাদের জন্য আছে নিকৃষ্ট নিবাস।
৫৩

وَلَقَدۡ اٰتَیۡنَا مُوۡسَی الۡہُدٰی وَاَوۡرَثۡنَا بَنِیۡۤ اِسۡرَآءِیۡلَ الۡکِتٰبَ ۙ ٥٣

ওয়া লাকাদ আ-তাইনা-মূছাল হুদা-ওয়া আওরাছনা-বানীইছরাঈলাল কিতা-ব।

আমি মূসাকে দান করেছিলাম পথনির্দেশ আর বনী ইসরাঈলকে করেছিলাম সেই কিতাবের ওয়ারিশ
৫৪

ہُدًی وَّذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ ٥٤

হুদাওঁ ওয়া যিকরা-লিউলিল আলবা-ব।

যা বোধশক্তিসম্পন্নদের জন্য ছিল হেদায়াত ও নসীহত।
৫৫

فَاصۡبِرۡ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ وَّاسۡتَغۡفِرۡ لِذَنۡۢبِکَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِبۡکَارِ ٥٥

ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুওঁ ওয়াছতাগফির লিযামবিকা ওয়া ছাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা বিল‘আশিইয়ি ওয়াল ইবকা-র।

সুতরাং (হে রাসূল!) সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং নিজ ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর ২০ এবং সকাল ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করতে থাক।

তাফসীরঃ

২০. আল্লাহ তাআলা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গুনাহ থেকে পবিত্র বানিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তিনি অত্যধিক ইস্তিগফার করতেন। কুরআন মাজীদেও তাঁকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে ইস্তিগফার করতে বলা হয়েছে। উদ্দেশ্য উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া যে, যখন মাছুম হওয়া সত্ত্বেও মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের এমন সব কাজের জন্যও ক্ষমা প্রার্থনা করতেন, যা প্রকৃতপক্ষে গুনাহ নয়, বরং তিনি নিজ সমুচ্চ মর্যাদার কারণে তাকে গুনাহ বা অন্যায় মনে করতেন, তখন যারা মাছুম নয়, তাদের তো অনেক বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।
৫৬

اِنَّ الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ بِغَیۡرِ سُلۡطٰنٍ اَتٰہُمۡ ۙ اِنۡ فِیۡ صُدُوۡرِہِمۡ اِلَّا کِبۡرٌ مَّا ہُمۡ بِبَالِغِیۡہِ ۚ فَاسۡتَعِذۡ بِاللّٰہِ ؕ اِنَّہٗ ہُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ٥٦

ইন্নাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি বিগাইরি ছুলতা-নিন আতা-হুম ইন ফী সূদূ রিহিম ইল্লা-কিবরুম মা-হুম ব্বিা-লিগীহি ফাছতা‘ইযবিল্লা-হি ইন্নাহূহুওয়াছ ছামী‘উল বাসীর।

নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে বিতর্ক সৃষ্টি করে, অথচ তাদের কাছে (তাদের দাবির সপক্ষে) কোন প্রমাণ আসেনি, তাদের অন্তরে অহমিকা ছাড়া আর কিছুই নেই, যাতে তারা কখনও সফল হওয়ার নয়। ২১ সুতরাং তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।

তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ নিজের সম্পর্কে তাদের ধারণা তারা অনেক উচু মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ গলত। বর্তমানেও যেমন তারা বিশেষ কোন মর্যাদার অধিকারী নয়, তেমনি ভবিষ্যতেও তারা কখনও বিশেষ মর্যাদা লাভে সফল হবে না।
৫৭

لَخَلۡقُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ اَکۡبَرُ مِنۡ خَلۡقِ النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٥٧

লাখালকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি আকবারু মিন খালকিন্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়া‘লামূন।

নিশ্চয়ই মানব সৃষ্টি অপেক্ষা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি বেশি কঠিন, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ (এতটুকু কথাও) বোঝে না। ২২

তাফসীরঃ

২২. আরবের মুশরিকগণ আল্লাহ সম্পর্কে এটা স্বীকার করত যে, তিনিই আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। আল্লাহ তাআলা বলছেন, এতটুকু কথাও তাদের বুঝে আসছে না, যেই মহান সত্তা এমন বিশাল সব বস্তুকে নাস্তি থেকে অস্তিতে আনয়ন করতে পারেন, তার পক্ষে মানুষকে পুনরায় অস্তিতে আনা কঠিন হবে কেন? এই সহজ কথাটা বোঝে না বলেই তারা আখেরাত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে।
৫৮

وَمَا یَسۡتَوِی الۡاَعۡمٰی وَالۡبَصِیۡرُ ۬ۙ وَالَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَعَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ وَلَا الۡمُسِیۡٓءُ ؕ قَلِیۡلًا مَّا تَتَذَکَّرُوۡنَ ٥٨

ওয়ামা-ইয়াছতাবিল আ‘মা-ওয়াল বাসীরু ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসালিহা-তি ওয়ালাল মুছীউ কালীলাম মা-তাতাযাক্কারূন।

অন্ধ ও চক্ষুষ্মান সমান নয় এবং তারাও না, যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে এবং যারা অসৎকর্মশীল। (কিন্তু) তোমরা খুব কমই অনুধাবন কর।
৫৯

اِنَّ السَّاعَۃَ لَاٰتِیَۃٌ لَّا رَیۡبَ فِیۡہَا وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ ٥٩

ইন্নাছ ছা-‘আতা লা- আ-তিয়াতুল লা-রাইবা ফীহা-,ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লাইউ’মিনূন।

কিয়ামতকাল অবশ্যই আসবে, তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনে না।
৬০

وَقَالَ رَبُّکُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَکُمۡ ؕ  اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَکۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَہَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ ٪ ٦۰

ওয়া কা-লা রাব্বুকুমুদ ‘ঊনীআছতাজিব লাকুম ইন্নাল্লাযীনা ইয়াছতাকবিরূনা ‘আন ‘ইবা-দাতী ছাইয়াদখুলূনা জাহান্নামা দা-খিরীন।

তোমাদের প্রতিপালক বলেছেন, আমাকে ডাক। আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই অহংকারবশে যারা আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা লাঞ্ছিত হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
৬১

اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الَّیۡلَ لِتَسۡکُنُوۡا فِیۡہِ وَالنَّہَارَ مُبۡصِرًا ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَذُوۡ فَضۡلٍ عَلَی النَّاسِ وَلٰکِنَّ اَکۡثَرَ النَّاسِ لَا یَشۡکُرُوۡنَ ٦١

আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল্লাইলা লিতাছকুনূফীহি ওয়ান্নাহা-রা মুবসিরান- ইন্নাল্লা-হা লাযূফাদলিন ‘আলান্না-ছি ওয়ালা-কিন্না আকছারান্না-ছি লা-ইয়াশকুরূন।

আল্লাহই তো, যিনি তোমাদের জন্য রাত সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাতে বিশ্রাম গ্রহণ করতে পার আর দিনকে বানিয়েছেন দেখার জন্য। বস্তুত আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহশীল, কিন্তু অধিকাংশ লোক শোকর আদায় করে না।
৬২

ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ ۘ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۫ۚ فَاَنّٰی تُؤۡفَکُوۡنَ ٦٢

যা-লিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম খা-লিকুকুল্লি শাইয় । লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাআন্নাতু’ফাকূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক, প্রতিটি জিনিসের স্রষ্টা। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং কোথা হতে কোন বস্তু তোমাদেরকে বিপথগামী করছে?
৬৩

کَذٰلِکَ یُؤۡفَکُ الَّذِیۡنَ کَانُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ یَجۡحَدُوۡنَ ٦٣

কাযা-লিকা ইউ’ফাকুল্লাযীনা কা-নূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ইয়াজহাদূন।

এমনিভাবে (পূর্বে) যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করত, তারাও বিপথগামী হয়েছিল।
৬৪

اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَرۡضَ قَرَارًا وَّالسَّمَآءَ بِنَآءً وَّصَوَّرَکُمۡ فَاَحۡسَنَ صُوَرَکُمۡ وَرَزَقَکُمۡ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ ۚۖ فَتَبٰرَکَ اللّٰہُ رَبُّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٦٤

আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আরদা কারা-রাওঁ ওয়াছ ছামাআ বিনাআওঁ ওয়া সাওওয়ারাকুম ফাআহছানা ছুওয়ারাকুম ওয়া রাঝাকাকুম মিনাত্তাইয়িবা-তি যালিকুমুল্লা-হু রাব্বাকুম ফাতাবা-রাকাল্লা-হু রাব্বুল ‘আ-লামীন।

আল্লাহই তো, যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন অবস্থানস্থল এবং আকাশকে করেছেন (উঁচু গম্বুজস্বরূপ) এক ছাদ এবং তোমাদের আকৃতিকে করেছেন সুন্দর আর উৎকৃষ্ট বস্তু হতে তোমাদেরকে রিযক দান করেছেন। তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তিনি অতি বরকতময়, জগতসমূহের প্রতিপালক।
৬৫

ہُوَ الۡحَیُّ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ فَادۡعُوۡہُ مُخۡلِصِیۡنَ لَہُ الدِّیۡنَ ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٦٥

হুওয়াল হাইয়ুলাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাদ‘ঊহু মুখলিসীনা লাহুদ্দীনা আলহামদু লিল্লা হি রাব্বিল ‘আ-লামীন।

তিনি চিরঞ্জীব। তিনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। সুতরাং তোমরা তাঁকে ডাক, তাঁর জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
৬৬

قُلۡ اِنِّیۡ نُہِیۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ الَّذِیۡنَ تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ لَمَّا جَآءَنِیَ الۡبَیِّنٰتُ مِنۡ رَّبِّیۡ ۫ وَاُمِرۡتُ اَنۡ اُسۡلِمَ لِرَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٦٦

কুল ইন্নী নুহীতুআন আ‘বুদাল্লাযীনা তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি লাম্মা-জাআনিয়াল বাইয়িনা-তুমিররাববী ওয়া উমিরতুআন উছলিমা লিরাব্বিল ‘আ-লামীন।

(হে রাসূল! কাফেরদেরকে) বলে দাও, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তাদের ইবাদত করতে আমাকে নিষেধ করে দেওয়া হয়েছে যখন আমার কাছে আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী এসে গেছে। আর আমাকে আদেশ করা হয়েছে, আমি যেন জগতসমূহের প্রতিপালকের সামনে আনুগত্য স্বীকার করি।
৬৭

ہُوَ الَّذِیۡ خَلَقَکُمۡ مِّنۡ تُرَابٍ ثُمَّ مِنۡ نُّطۡفَۃٍ ثُمَّ مِنۡ عَلَقَۃٍ ثُمَّ یُخۡرِجُکُمۡ طِفۡلًا ثُمَّ لِتَبۡلُغُوۡۤا اَشُدَّکُمۡ ثُمَّ لِتَکُوۡنُوۡا شُیُوۡخًا ۚ وَمِنۡکُمۡ مَّنۡ یُّتَوَفّٰی مِنۡ قَبۡلُ وَلِتَبۡلُغُوۡۤا اَجَلًا مُّسَمًّی وَّلَعَلَّکُمۡ تَعۡقِلُوۡنَ ٦٧

হুওয়াল্লাযীখালাকাকুম মিন তুরা-বিন ছুম্মা মিন নুতফাতিন ছুম্মা মিন‘আলাকাতিন ছুম্মা ইউখরিজুকুম তিফলান ছুম্মা লিতাবলুগূআশুদ্দাকুম ছু ম্মা লিতাকূনূশুয়ূখাও ওয়া মিনকুম মাইঁ ইউতাওয়াফফা-মিন কাবলুওয়া লিতাবলুগূআজালাম মুছাম্মাওঁ ওয়া লা‘আল্লাকুম তা‘কিলূন।

তিনিই তো তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে, তারপর শুক্রবিন্দু হতে, তারপর জমাট রক্ত হতে। তারপর তিনি তোমাদেরকে শিশুরূপে বের করেন তারপর (তোমাদেরকে প্রতিপালন করেন,) যাতে তোমরা উপনীত হও পূর্ণ বলবত্তায় তারপর হও বৃদ্ধ। তোমাদের মধ্যে কতক এমনও আছে, যারা তার আগেই মারা যায় এবং যাতে তোমরা এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত পৌঁছ এবং যাতে তোমরা বুদ্ধিকে কাজে লাগাও।
৬৮

ہُوَ الَّذِیۡ یُحۡیٖ وَیُمِیۡتُ ۚ  فَاِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ ٪ ٦٨

হুওয়াল্লাযী ইউহয়ী ওয়া ইউমীতু ফাইযা-কাদাআমরান ফাইন্নামা-ইয়াকূলুলাহূ কুন ফাইয়াকূন।

তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং তিনি যখন কোনও বিষয়ে ফায়সালা করেন, তখন কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’, অমনি তা হয়ে যায়।
৬৯

اَلَمۡ تَرَ اِلَی الَّذِیۡنَ یُجَادِلُوۡنَ فِیۡۤ اٰیٰتِ اللّٰہِ ؕ  اَنّٰی یُصۡرَفُوۡنَ ۖۛۚ ٦٩

আলাম তারা ইলাল্লাযীনা ইউজা-দিলূনা ফীআ-য়া-তিল্লা-হি আন্না ইউসরাফূন।

তুমি কি তাদেরকে দেখনি, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিতর্ক সৃষ্টি করে? কে কোথা হতে তাদের মুখ ফিরিয়ে দেয়?
৭০

الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِالۡکِتٰبِ وَبِمَاۤ اَرۡسَلۡنَا بِہٖ رُسُلَنَا ۟ۛ  فَسَوۡفَ یَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٧۰

আল্লাযীনা কাযযাবূবিলকিতা-বি ওয়া বিমা আরছালনা- বিহী রুছুলানা- ফাছাওফা ইয়া‘লামূন।

এরাই তারা, যারা অস্বীকার করেছে এ কিতাব এবং আমার রাসূলগণকে যা সহ প্রেরণ করেছিলাম তাও। সুতরাং তারা অচিরেই জানতে পারবে।
৭১

اِذِ الۡاَغۡلٰلُ فِیۡۤ اَعۡنَاقِہِمۡ وَالسَّلٰسِلُ ؕ  یُسۡحَبُوۡنَ ۙ ٧١

ইযিল আগলা-লুফীআ‘না-কিহিম ওয়াছ ছালা-ছিলু ইউসহাবূন।

যখন তাদের গলায় থাকবে বেড়ি ও শিকল, তাদেরকে হেঁচড়ানো হবে,
৭২

فِی الۡحَمِیۡمِ ۬ۙ  ثُمَّ فِی النَّارِ یُسۡجَرُوۡنَ ۚ ٧٢

ফিল হামীমি ছু ম্মা ফিন্না-রি ইউছজারূন।

গরম পানিতে, তারপর আগুনে দগ্ধ করা হবে।
৭৩

ثُمَّ قِیۡلَ لَہُمۡ اَیۡنَ مَا کُنۡتُمۡ تُشۡرِکُوۡنَ ۙ ٧٣

ছু ম্মা কীলা লাহুম আইনা মা-কুনতুম তুশরিকূন।

তারপর তাদেরকে বলা হবে, কোথায়, যাদেরকে তোমরা (তাঁর প্রভুত্বে) শরীক করতে?
৭৪

مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ ؕ قَالُوۡا ضَلُّوۡا عَنَّا بَلۡ لَّمۡ نَکُنۡ نَّدۡعُوۡا مِنۡ قَبۡلُ شَیۡئًا ؕ کَذٰلِکَ یُضِلُّ اللّٰہُ الۡکٰفِرِیۡنَ ٧٤

মিন দূ নিল্লা-হি কা-লূদাললূ‘আন্না-বাল লাম নাকুন নাদ‘ঊ মিন কাবলুশাইআন কাযা-লিকা ইউদিল্লুল্লা-হুল কা-ফিরীন।

আল্লাহ ছাড়া তারা (অর্থাৎ তোমাদের সেই মাবুদগণ), তারা বলবে, তারা তো আমাদের থেকে অদৃশ্য হয়ে গেছে; বরং পূর্বে আমরা কোন কিছুকে ডাকতামই না। ২৩ এভাবে আল্লাহ কাফেরদেরকে বিভ্রান্ত করেন।

তাফসীরঃ

২৩. ‘আমরা পূর্বে কোন কিছুকে ডাকতামই না’ আখেরাতের বিভীষিকাময় অবস্থা দেখে কাফেরগণ এভাবে মিথ্যা বলবে এবং সাফ জানিয়ে দেবে তারা কোন রকম শিরক করত না, যেমন সূরা আনআমে (৬ : ২৩) বর্ণিত হয়েছে। এর এরূপ ব্যাখ্যাও করা যায় যে, আখেরাতে তারা স্বীকার করতে বাধ্য হবে যে, আমরা দুনিয়ায় দেব-দেবী, প্রতিমা ইত্যাদিকে যে ডাকতাম সেটা আমাদের মারাত্মক ভুল ছিল। এখন আমরা বুঝতে পেরেছি সেগুলোর কোন বাস্তবতা ছিল না। মূলত আমরা কোন বাস্তব জিনিসের নয়; বরং কতগুলো অবাস্তব বস্তুরই পূজা করছিলাম।
৭৫

ذٰلِکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَفۡرَحُوۡنَ فِی الۡاَرۡضِ بِغَیۡرِ الۡحَقِّ وَبِمَا کُنۡتُمۡ تَمۡرَحُوۡنَ ۚ ٧٥

যা-লিকুমবিমা- কুনতুম তাফরাহূনা ফিল আরদি বিগাইরিল হাক্কি ওয়া বিমা-কুনতুম তামরাহূন।

এসব হয়েছে এ কারণে যে, পৃথিবীতে তোমরা অন্যায় বিষয় নিয়ে উল্লাস করতে এবং এ কারণে যে, তোমরা অহমিকা দেখাতে। ২৪

তাফসীরঃ

২৪. সরাসরিভাবে যদিও এ সতর্কবাণী কাফেরদের সম্পর্কে উচ্চারিত, কিন্তু এ দোষ যেসব মুমিনদের মধ্যেও আছে, যারা শরীআতবিরোধী মত ও পথ নিয়ে উল্লাস করে, হারাম রোজগার ও নিষিদ্ধ পানাহার নিয়ে ফুর্তি করে এবং অহমিকাপূর্ণ আচার-আচরণ করে, তারাও এর আওতায় পড়ে যায়। সুতরাং সাবধান হওয়া দরকার সকলেরই। -অনুবাদক
৭৬

اُدۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ فَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ ٧٦

উদখুলূআবওয়া-বা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- ফাবি’ছা মাছওয়াল মুতাকাববিরীন।

যাও, জাহান্নামের দরজা দিয়ে প্রবেশ কর, তাতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। কেননা অহংকারীদের ঠিকানা বড়ই মন্দ।
৭৭

فَاصۡبِرۡ اِنَّ وَعۡدَ اللّٰہِ حَقٌّ ۚ فَاِمَّا نُرِیَنَّکَ بَعۡضَ الَّذِیۡ نَعِدُہُمۡ اَوۡ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِلَیۡنَا یُرۡجَعُوۡنَ ٧٧

ফাসবির ইন্না ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কুন ফাইম্মা-নুরিয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযী না‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইলাইনা-ইউরজা‘ঊন।

সুতরাং (হে রাসূল!) তুমি সবর অবলম্বন কর। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য। আমি তাদেরকে (অর্থাৎ কাফেরদেরকে) যার (অর্থাৎ যে শাস্তির) ভয় দেখাচ্ছি, আমি তার কিছুটা তোমাকে (তোমার জীবনে) দেখিয়ে দেই অথবা (তার আগেই) তোমাকে দুনিয়া থেকে তুলে নেই, সর্বাবস্থায় তাদেরকে আমার কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।
৭৮

وَلَقَدۡ اَرۡسَلۡنَا رُسُلًا مِّنۡ قَبۡلِکَ مِنۡہُمۡ مَّنۡ قَصَصۡنَا عَلَیۡکَ وَمِنۡہُمۡ مَّنۡ لَّمۡ نَقۡصُصۡ عَلَیۡکَ ؕ  وَمَا کَانَ لِرَسُوۡلٍ اَنۡ یَّاۡتِیَ بِاٰیَۃٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ۚ  فَاِذَا جَآءَ اَمۡرُ اللّٰہِ قُضِیَ بِالۡحَقِّ وَخَسِرَ ہُنَالِکَ الۡمُبۡطِلُوۡنَ ٪ ٧٨

ওয়া লাকাদ আরছালনা-রুছুলাম মিন কাবলিকা মিনহুম মান কাসাসনা-‘আলাইকা ওয়া মিনহুম মাল্লাম নাকসুস ‘আলাইকা ওয়ামা-কা-না লিরাছূলিন আইঁ ইয়া’তিয়া বিআয়াতিন ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি ফাইযা-জাআ আমরুল্লা-হি কুদিয়া বিলহাক্কিওয়া খাছিরা হুনা-লিকাল মুবতিলূন।

বস্তুত আমি তোমার পূর্বেও বহু রাসূল পাঠিয়েছি। তাদের মধ্যে কতক এমন, যাদের কতিপয়ের বৃত্তান্ত আমি তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি আর কতক এমন যাদের বৃত্তান্ত তোমাকে জানাইনি। কোন রাসূলের এই এখতিয়ার নেই যে, সে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোন মুজিযা পেশ করবে। ২৫ অতঃপর যখন আল্লাহর আদেশ আসবে, তখন ন্যায়সঙ্গতভাবে ফায়সালা হয়ে যাবে। আর মিথ্যার অনুসারীরা তখন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাফসীরঃ

২৫. মক্কার কাফেরগণ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিত্য-নতুন মুজিযার ফরমায়েশ করত এবং পীড়াপীড়ি করত, তারা যে মুজিযা দাবি করছে তাদেরকে যেন সেটাই দেখানো হয়। কিন্তু এর দ্বারা তাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবলই কালক্ষেপণ করা। কেননা তিনি তো তাদেরকে বহু মুজিযা দেখিয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনতে প্রস্তুত হয়নি। তাই এস্থলে উত্তর শেখানো হচ্ছে যে, তাদেরকে বলুন, মুজিযা দেখানো কোন নবীর নিজ এখতিয়ারের বিষয় নয়। তা কেবল আল্লাহ তাআলার হুকুমেই দেখানো যেতে পারে। সুতরাং আপনি তাদেরকে পরিষ্কার বলে দিন, আমি তোমাদের নতুন-নতুন ফরমায়েশ পূরণ করতে অক্ষম।
৭৯

اَللّٰہُ الَّذِیۡ جَعَلَ لَکُمُ الۡاَنۡعَامَ لِتَرۡکَبُوۡا مِنۡہَا وَمِنۡہَا تَاۡکُلُوۡنَ ۫ ٧٩

আল্লা-হুল্লাযী জা‘আলা লাকুমুল আন‘আ-মা লিতারকাবূমিনহা-ওয়া মিনহা-তা’কুলূন।

তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন চতুষ্পদ জন্তু, যাতে তার কতকে তোমরা আরোহণ কর। আর কতক তোমরা খাও।
৮০

وَلَکُمۡ فِیۡہَا مَنَافِعُ وَلِتَبۡلُغُوۡا عَلَیۡہَا حَاجَۃً فِیۡ صُدُوۡرِکُمۡ وَعَلَیۡہَا وَعَلَی الۡفُلۡکِ تُحۡمَلُوۡنَ ؕ ٨۰

ওয়ালাকুম ফীহা-মানা-ফি‘উ ওয়ালিতাবলগূ ‘আলাইহা-হা-জাতান ফী সদূরিকুম ওয়া ‘আলাইহা-ওয়া ‘আলাল ফুলকি তুহমালূন।

আর তাতে আছে তোমাদের প্রচুর উপকার এবং তার উদ্দেশ্য এটাও যে, তোমাদের অন্তরে (কোথাও যাওয়ার) যে প্রয়োজন আছে, তা পূরণ করতে পার। আর তোমাদেরকে সেই সব পশুতে এবং নৌযানে চড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
৮১

وَیُرِیۡکُمۡ اٰیٰتِہٖ ٭ۖ فَاَیَّ اٰیٰتِ اللّٰہِ تُنۡکِرُوۡنَ ٨١

ওয়া ইউরীকুম আ-য়া-তিহী ফাআইয়া আ-য়া-তিল্লা-হি তুনকিরূন।

আল্লাহ তোমাদেরকে নিজ নিদর্শনাবলী দেখিয়ে থাকেন। সুতরাং তোমরা কোন কোন নিদর্শন অস্বীকার করবে?
৮২

اَفَلَمۡ یَسِیۡرُوۡا فِی الۡاَرۡضِ فَیَنۡظُرُوۡا کَیۡفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ ؕ کَانُوۡۤا اَکۡثَرَ مِنۡہُمۡ وَاَشَدَّ قُوَّۃً وَّاٰثَارًا فِی الۡاَرۡضِ فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٨٢

আফালাম ইয়াছীরূফিল আরদিফাইয়ানজুরূকাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কা-নূআকছারা মিনহুম ওয়া আশাদ্দা কুওওয়াতাঁও ওয়া আছা-রান ফিল আরদিফামাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইয়াকছিবূন।

তবে কি তারা ভূমিতে বিচরণ করে দেখেনি, তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের পরিণাম কী হয়েছে? তারা সংখ্যায় তাদের চেয়ে বেশি ছিল এবং শক্তিতে ও পৃথিবীতে রেখে যাওয়া কীর্তিতেও তাদের উপরে ছিল। তা সত্ত্বেও তারা যা অর্জন করত তা তাদের কোন কাজে আসেনি।
৮৩

فَلَمَّا جَآءَتۡہُمۡ رُسُلُہُمۡ بِالۡبَیِّنٰتِ فَرِحُوۡا بِمَا عِنۡدَہُمۡ مِّنَ الۡعِلۡمِ وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٨٣

ফালাম্মা-জাআতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফারিহূবিমা-‘ইনদাহুম মিনাল ‘ইলমি ওয়া হা-কা বিহিম মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

সুতরাং তাদের রাসূলগণ যখন তাদের কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী নিয়ে আসল, তখনও তারা তাদের কাছে যে জ্ঞান ছিল তারই বড়াই করতে লাগল। ফলে তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তাই তাদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলল।
৮৪

فَلَمَّا رَاَوۡا بَاۡسَنَا قَالُوۡۤا اٰمَنَّا بِاللّٰہِ وَحۡدَہٗ وَکَفَرۡنَا بِمَا کُنَّا بِہٖ مُشۡرِکِیۡنَ ٨٤

ফালাম্মা-রাআও বা’ছানা-কা-লূআ-মান্না-বিল্লা-হি ওয়াহদাহূওয়া কাফার না-বিমাকুন্না-বিহী মুশরিকীন।

অনন্তর তারা যখন আমার শাস্তি প্রত্যক্ষ করল, তখন বলল, আমরা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনলাম আর আমরা যাদেরকে আল্লাহর শরীক করতাম তাদেরকে অস্বীকার করলাম।
৮৫

فَلَمۡ یَکُ یَنۡفَعُہُمۡ اِیۡمَانُہُمۡ لَمَّا رَاَوۡا بَاۡسَنَا ؕ  سُنَّتَ اللّٰہِ الَّتِیۡ قَدۡ خَلَتۡ فِیۡ عِبَادِہٖ ۚ  وَخَسِرَ ہُنَالِکَ الۡکٰفِرُوۡنَ ٪ ٨٥

ফালাম ইয়াকুইয়ানফা‘উহুম ঈমা-নুহুম লাম্মা-রাআও বা’ছানা- ছুন্নাতাল্লা-হিল্লাতী কাদ খালাত ফী ‘ইবা-দিহী ওয়া খাছিরা হুনা-লিকাল কা-ফিরূন।

কিন্তু তারা যখন আমার আযাব দেখে ফেলল, তখন আর তাদের ঈমান তাদের কোন উপকারে আসার ছিল না। জেনে রেখ, এটাই আল্লাহর রীতি, যা তার বান্দাদের মধ্যে পূর্ব থেকে চলে আসছে। আর সেক্ষেত্রে কাফেরগণ হয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত।