সূরা
পারা

Loading verses...

অন্যান্য

অনুবাদ
তেলাওয়াত

সূরা আয্‌-যুমার (الزمر) | দলবদ্ধ জনতা

মাক্কী

মোট আয়াতঃ ৭৫

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَـٰنِ الرَّحِيمِ

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

تَنۡزِیۡلُ الۡکِتٰبِ مِنَ اللّٰہِ الۡعَزِیۡزِ الۡحَکِیۡمِ ١

তানঝীলুল কিতা-বি মিনাল্লা-হিল ‘আঝীঝিল হাকীম।

এ কিতাব নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ হতে, যিনি মহা ক্ষমতাবান, হেকমতওয়ালা।

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَاۤ اِلَیۡکَ الۡکِتٰبَ بِالۡحَقِّ فَاعۡبُدِ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ؕ ٢

ইন্নাআনঝালনাইলাইকাল কিতা-বা বিলহাক্কিফা‘বুদিল্লা-হা মুখলিসাল্লাহুদ্দীন।

(হে রাসূল!) নিশ্চয়ই আমিই এ কিতাব তোমার প্রতি নাযিল করেছি সত্যসহ। সুতরাং তুমি আল্লাহর ইবাদত কর তাঁর জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।

اَلَا لِلّٰہِ الدِّیۡنُ الۡخَالِصُ ؕ وَالَّذِیۡنَ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اَوۡلِیَآءَ ۘ مَا نَعۡبُدُہُمۡ اِلَّا لِیُقَرِّبُوۡنَاۤ اِلَی اللّٰہِ زُلۡفٰی ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَحۡکُمُ بَیۡنَہُمۡ فِیۡ مَا ہُمۡ فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ۬ؕ اِنَّ اللّٰہَ لَا یَہۡدِیۡ مَنۡ ہُوَ کٰذِبٌ کَفَّارٌ ٣

আলা-লিল্লা-হিদ্দীনুল খা-লিসু ওয়াল্লাযীনাত্তাখাযূমিন দূ নিহীআওলিয়াআ । মানা‘বুদুহুম ইল্লা-লিইউকাররিবূনাইলাল্লা-হি ঝুলফা- ইন্নাল্লাহা ইয়াহকুমুবাইনাহুম ফী মা-হুম ফীহি ইয়াখতালিফূন ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদী মান হুওয়া কা-যিবুন কাফ ফা-র।

স্মরণ রেখ, খালেস আনুগত্য তাঁরই প্রাপ্য। যারা তাঁকে ছাড়া অন্যসব অভিভাবক বানিয়ে নিয়েছে (এই কথা বলে যে,) আমরা তাদের উপাসনা করি কেবল এজন্য যে, তারা আমাদেরকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে দেবে, আল্লাহ তাদের মধ্যে সেই বিষয়ে মীমাংসা করে দেবেন যার মাঝে তারা মতবিরোধ করছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কোন ব্যক্তিকে পথে আনেন না, যে চরম মিথ্যুক, ঘোর কাফের।

তাফসীরঃ

১. আরবের মুশরিকগণ সাধারণভাবে আল্লাহ তাআলাকেই বিশ্ব-জগতের সৃষ্টিকর্তা বলে বিশ্বাস করত, কিন্তু তারা মনগড়া কিছু দেব-দেবীর প্রতিমা বানিয়ে তাদের সম্পর্কে এই বিশ্বাস জন্ম দিয়েছিল যে, আমরা এদের উপাসনা করলে এরা খুশী হয়ে আল্লাহ তাআলার দরবারে আমাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং তাদের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতে পারব। কুরআন মাজীদে এটাকেও শিরক সাব্যস্ত করা হয়েছে। কেননা এক তো ওসব দেব-দেবীর কোন বাস্তবতা নেই। দ্বিতীয়ত ইবাদত কেবল আল্লাহ তাআলারই হক। অন্য কারও ইবাদত যে নিয়তেই করা হোক না কেন তা শিরক। এর দ্বারা জানা গেল, কোন ব্যক্তি যদি বাস্তবিকই আল্লাহর ওলী ও বুযুর্গ হয়, তবুও তার ইবাদত করা শিরক । তা এ নিয়তে করলেও যে, তার ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করতে পারবে।

لَوۡ اَرَادَ اللّٰہُ اَنۡ یَّتَّخِذَ وَلَدًا لَّاصۡطَفٰی مِمَّا یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ۙ سُبۡحٰنَہٗ ؕ ہُوَ اللّٰہُ الۡوَاحِدُ الۡقَہَّارُ ٤

লাও আরাদাল্লা-হু আইঁ ইয়াত্তাখিযা ওয়ালাদাল্লাসতাফা-মিম্মা-ইয়াখলুকূমা ইয়াশাউ ছুবহা-নাহূ হুওয়াল্লা-হুল ওয়া-হিদুল কাহহা-র।

আল্লাহ কোন সন্তান গ্রহণ করতে চাইলে নিজ সৃষ্টির মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা বেছে নিতে পারতেন, (কিন্তু) তিনি (এ বিষয় হতে) পবিত্র (যে, তার কোন সন্তান থাকবে)। তিনি তো আল্লাহ, এক এবং প্রচণ্ড ক্ষমতার অধিকারী।

خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ بِالۡحَقِّ ۚ یُکَوِّرُ الَّیۡلَ عَلَی النَّہَارِ وَیُکَوِّرُ النَّہَارَ عَلَی الَّیۡلِ وَسَخَّرَ الشَّمۡسَ وَالۡقَمَرَ ؕ کُلٌّ یَّجۡرِیۡ لِاَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اَلَا ہُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡغَفَّارُ ٥

খালাকাছছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা বিল হাক্কি ইউকাওবিরুল্লাইলা ‘আলান্নাহা-রি ওয়া ইউকাওবিরুন্নাহা-রা ‘আলাল্লাইলি ওয়া ছাখ খারাশশামছা ওয়াল কামারা কুল্লুইঁ ইয়াজরী লিআজালিম মুছাম্মান আলা-হুওয়াল ‘আঝীঝুল গাফফা-র।

তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাতকে দিনের উপর বিছিয়ে দেন এবং দিনকে রাতের উপর বিছিয়ে দেন। তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিয়োজিত করেছেন। প্রতিটি নির্দিষ্ট এক মেয়াদ পর্যন্ত সঞ্চরণ করছে। স্মরণ রেখ, তিনি অশেষ ক্ষমতার মালিক, পরম ক্ষমাশীল।

خَلَقَکُمۡ مِّنۡ نَّفۡسٍ وَّاحِدَۃٍ ثُمَّ جَعَلَ مِنۡہَا زَوۡجَہَا وَاَنۡزَلَ لَکُمۡ مِّنَ الۡاَنۡعَامِ ثَمٰنِیَۃَ اَزۡوَاجٍ ؕ یَخۡلُقُکُمۡ فِیۡ بُطُوۡنِ اُمَّہٰتِکُمۡ خَلۡقًا مِّنۡۢ بَعۡدِ خَلۡقٍ فِیۡ ظُلُمٰتٍ ثَلٰثٍ ؕ ذٰلِکُمُ اللّٰہُ رَبُّکُمۡ لَہُ الۡمُلۡکُ ؕ لَاۤ اِلٰہَ اِلَّا ہُوَ ۚ فَاَنّٰی تُصۡرَفُوۡنَ ٦

খালাকাকুম মিন নাফছিওঁ ওয়া-হিদাতিন ছুম্মা জা‘আলা মিনহা-ঝাওজাহা-ওয়া আনঝালা লাকুম মিনাল আন‘আ-মি ছামা-নিয়াতা আঝওয়া-জিন ইয়াখলুকুকুম ফী বুতূনি উম্মাহা-তিকুম খাল কাম মিম বা‘দি খালকিন ফী জুলুমা-তিন ছালা-ছিন যালিকুমুল্লা-হু রাব্বুকুম লাহুল মুলকু লাইলা-হা ইল্লা-হুওয়া ফাআন্না-তুসরাফূন।

তিনি তোমাদের সকলকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে, আর তার জোড়া বানিয়েছেন তারই থেকে। আর তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হতে আটটি জোড়া সৃষ্টি করেছেন। তিনি তোমাদেরকে তোমাদের মাতৃগর্ভে এভাবে সৃষ্টি করেন যে, তিন অন্ধকারের মধ্যে তোমরা একের পর এক সৃজন স্তর অতিক্রম কর। তিনিই আল্লাহ, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। সমস্ত রাজত্ব তাঁরই। তিনি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই, তারপরও কে কোথা হতে তোমাদের মুখ ফিরিয়ে দিচ্ছে?

তাফসীরঃ

২. ‘তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একই ব্যক্তি হতে’ অর্থাৎ হযরত আদম আলাইহিস সালাম হতে। আর তাঁর জোড়া হলেন হযরত হাওয়া আলাইহাস সালাম, যাকে হযরত আদম আলাইহিস সালামের পাঁজর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

اِنۡ تَکۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنۡکُمۡ ۟ وَلَا یَرۡضٰی لِعِبَادِہِ الۡکُفۡرَ ۚ وَاِنۡ تَشۡکُرُوۡا یَرۡضَہُ لَکُمۡ ؕ وَلَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّکُمۡ مَّرۡجِعُکُمۡ فَیُنَبِّئُکُمۡ بِمَا کُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّہٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ٧

ইন তাকফুরূফাইন্নাল্লা-হা গানিইয়ুন‘আনকুম ওয়ালা-ইয়ারদা-লি‘ইবা-দিহিল কুফরা, ওয়া ইনতাশকুরূইয়ারদাহু লাকুম ওয়ালা-তাঝিরু ওয়া-ঝিরাতুওঁবিঝরা উখরা- ছু ম্মা ইলা-রাব্বিকুম মার জি‘উকুম ফাইউনাব্বিউকুম বিমা-কনতুম তা‘মালূনা ইন্নাহূ ‘আলীমুম বিযা-তিসসুদূ র।

তোমরা কুফর অবলম্বন করলে নিশ্চিত জেনে রেখ আল্লাহ তোমাদের কারও মুখাপেক্ষী নন। তিনি নিজ বান্দাদের জন্য কুফর পছন্দ করেন না। আর তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে, তিনি তোমাদের জন্য তা পছন্দ করবেন। কোনও বোঝা বহনকারী অন্য কারও বোঝা বহন করবে না। তারপর তোমাদের সকলকে তোমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি অন্তরের কথাও ভালোভাবে জানেন।

وَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَا رَبَّہٗ مُنِیۡبًا اِلَیۡہِ ثُمَّ اِذَا خَوَّلَہٗ نِعۡمَۃً مِّنۡہُ نَسِیَ مَا کَانَ یَدۡعُوۡۤا اِلَیۡہِ مِنۡ قَبۡلُ وَجَعَلَ لِلّٰہِ اَنۡدَادًا لِّیُضِلَّ عَنۡ سَبِیۡلِہٖ ؕ قُلۡ تَمَتَّعۡ بِکُفۡرِکَ قَلِیۡلًا ٭ۖ اِنَّکَ مِنۡ اَصۡحٰبِ النَّارِ ٨

ওয়া ইযা-মাছছালইনছা-না দুররুন দা‘আ-রাব্বাহূ মুনীবানইলাইহি ছুম্মা ইযাখাওওয়ালাহূনি‘মাতাম্মিনহু নাছিয়া মা-কা-না ইয়াদ‘ঊইলাইহি মিন কাবলুওয়া জা‘আলা লিল্লা-হি আনদাদালিলইউদিল্লা ‘আন ছাবীলিহী কুল তামাত্তা‘ বিকুফরিকা কালীলান ইন্নাকা মিন আসহা-বিন্না-র।

মানুষকে যখন কোন কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে নিজ প্রতিপালককে তাঁরই অভিমুখী হয়ে ডাকে। অতঃপর তিনি মানুষকে যখন নিজের পক্ষ থেকে কোন নি‘আমত দান করেন, তখন সে তা (অর্থাৎ সেই কষ্টের কথা) ভুলে যায়, যে জন্য সে ইতঃপূর্বে আল্লাহকে ডাকছিল। আর তখন সে আল্লাহর জন্য শরীক সাব্যস্ত করে, যার ফলে সে অন্যকেও আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে। বল, কিছুদিন নিজ কুফরের মজা ভোগ করে নাও। নিশ্চয়ই তুমি জাহান্নামবাসীদের অন্তর্ভুক্ত।

اَمَّنۡ ہُوَ قَانِتٌ اٰنَآءَ الَّیۡلِ سَاجِدًا وَّقَآئِمًا یَّحۡذَرُ الۡاٰخِرَۃَ وَیَرۡجُوۡا رَحۡمَۃَ رَبِّہٖ ؕ  قُلۡ ہَلۡ یَسۡتَوِی الَّذِیۡنَ یَعۡلَمُوۡنَ وَالَّذِیۡنَ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ؕ  اِنَّمَا یَتَذَکَّرُ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ٪ ٩

আম্মান হুওয়া কা-নিতুন আ-নাআল্লাইলি ছা-জিদাওঁ ওয়া কাইমাইঁ ইয়াহযারুল আখিরাতা ওয়া ইয়ারজূরাহমাতা রাব্বিহী কুল হাল ইয়াছতাবিল্লাযীনা ইয়া‘লামূনা ওয়াল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূনা ইন্নামা-ইয়াতাযাক্কারূ উলুল আলবা-ব।

তবে কি (এরূপ ব্যক্তি সেই ব্যক্তির সমতুল্য হতে পারে,) যে রাতের মুহূর্তগুলোতে ইবাদত করে, কখনও সিজদাবস্থায়, কখনও দাঁড়িয়ে, যে আখেরাতকে ভয় করে এবং নিজ প্রতিপালকের রহমতের আশা করে? বল, যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি সমান? (কিন্তু) উপদেশ গ্রহণ তো কেবল বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরাই করে।

তাফসীরঃ

৫. আখেরাতের হিসাব-নিকাশ না থাকলে তার অর্থ দাঁড়ায় মুমিন ও কাফের এবং পুণ্যবান ও পাপী সব সমান। এটা আল্লাহ তাআলার হেকমত ও ইনসাফের পরিপন্থী। (অর্থাৎ জ্ঞানী ও অজ্ঞানী যেমন সমান নয়, তেমনি পুণ্যবান ও পাপীও সমান নয়। -অনুবাদক)
১০

قُلۡ یٰعِبَادِ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ لِلَّذِیۡنَ اَحۡسَنُوۡا فِیۡ ہٰذِہِ الدُّنۡیَا حَسَنَۃٌ ؕ وَاَرۡضُ اللّٰہِ وَاسِعَۃٌ ؕ اِنَّمَا یُوَفَّی الصّٰبِرُوۡنَ اَجۡرَہُمۡ بِغَیۡرِ حِسَابٍ ١۰

কুল ইয়া-‘ইবা-দিল্লাযীনা আ-মানুত্তাকূরাব্বাকুম লিল্লাযীনা আহছানূফী হাযিহিদ্দুনইয়া-হাছানাতুওঁ ওয়াআরদুল্লা-হি ওয়া-ছি‘আতুন ইন্নামাইউওয়াফফাসসা-বিরূনা আজরাহুম বিগাইরি হিছা-ব।

বল, হে আমার মুমিন বান্দাগণ! অন্তরে তোমাদের প্রতিপালকের ভয় রাখ। যারা এ দুনিয়াতে ভালো কাজ করে তাদের জন্য আছে কল্যাণ। আল্লাহর যমীন প্রশস্ত। যারা সবর অবলম্বন করে তাদেরকে তাদের সওয়াব দেওয়া হবে অপরিমিত।

তাফসীরঃ

৬. ইশারা করা হয়েছে, নিজ দেশে দীনের উপর চলা সম্ভব না হলে অথবা অত্যন্ত কঠিন হলে হিজরত করে এমন কোন স্থানে চলে যাও, যেখানে দীনের উপর চলা সহজ হবে। আর দেশত্যাগ করতে যদি কষ্ট হয় তবে সবর কর। কেননা সবর করলে অপরিমিত সওয়াব পাবে।
১১

قُلۡ اِنِّیۡۤ اُمِرۡتُ اَنۡ اَعۡبُدَ اللّٰہَ مُخۡلِصًا لَّہُ الدِّیۡنَ ۙ ١١

কুল ইন্নীউমিরতুআন আ‘বুদাল্লা-হা মুখলিসাল্লাহুদ্দীন।

বলে দাও, আমাকে তো আদেশ করা হয়েছে, যেন আল্লাহর ইবাদত করি তার জন্য আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।
১২

وَاُمِرۡتُ لِاَنۡ اَکُوۡنَ اَوَّلَ الۡمُسۡلِمِیۡنَ ١٢

ওয়া উমিরতুলিআন আকূনা আওওয়ালাল মুছলিমীন।

এবং আমাকে আদেশ করা হয়েছে যে, যেন আমি হই সর্বপ্রথম আত্মসমর্পণকারী।

তাফসীরঃ

৭. এতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যকে কোন ভালো কাজের দাওয়াত দেবে তার কর্তব্য প্রথমে সে ভালো কাজটি নিজে করা।
১৩

قُلۡ اِنِّیۡۤ اَخَافُ اِنۡ عَصَیۡتُ رَبِّیۡ عَذَابَ یَوۡمٍ عَظِیۡمٍ ١٣

কুল ইন্নীআখা-ফুইন ‘আসাইতুরাববী ‘আযা-বা ইয়াওমিন ‘আজীম।

বলে দাও, আমি যদি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করি, তবে আমার ভয় রয়েছে এক মহা দিবসের শাস্তির।
১৪

قُلِ اللّٰہَ اَعۡبُدُ مُخۡلِصًا لَّہٗ دِیۡنِیۡ ۙ ١٤

কুল্লিলা-হা আ‘বুদুমুখলিসাল্লাহূদীনী।

বলে দাও, আমি তো আল্লাহর ইবাদত করি নিজ আনুগত্যকে তারই জন্য খালেস করে।
১৫

فَاعۡبُدُوۡا مَا شِئۡتُمۡ مِّنۡ دُوۡنِہٖ ؕ قُلۡ اِنَّ الۡخٰسِرِیۡنَ الَّذِیۡنَ خَسِرُوۡۤا اَنۡفُسَہُمۡ وَاَہۡلِیۡہِمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ اَلَا ذٰلِکَ ہُوَ الۡخُسۡرَانُ الۡمُبِیۡنُ ١٥

ফা‘বুদূমা-শি’তুম মিন দূ নিহী কুল ইন্নাল খা-ছিরীনাল্লাযীনা খাছিরূআনফুছাহুম ওয়া আহলীহিম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘আলা-যা-লিকা হুওয়াল খুছরা-নুল মুবীন।

অতএব, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার ইচ্ছা ইবাদত কর। বলে দাও, (ব্যবসায়ে) ক্ষতিগ্রস্ত তো তারাই, যারা কিয়ামতের দিন নিজেদের প্রাণ ও নিজেদের পরিবারবর্গের সবই হারাবে। মনে রেখ, এটাই সুস্পষ্ট ক্ষতি।

তাফসীরঃ

৮. এর অর্থ এ নয় যে, কাফেরদেরকে কুফর করার অনুমতি দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেননা পরের বাক্যেই তো পরিষ্কার বলা হয়েছে, এটা লোকসানের ব্যবসা এবং পূর্বে ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ কুফরকে পছন্দ করেন না। বরং এর অর্থ হল, তোমাদেরকে স্বাধীন ক্ষমতা অবশ্যই দেওয়া হয়েছে। তোমরা যদি কুফর অবলম্বন করতে চাও, তবে তা করার ক্ষমতা তোমাদের আছে। তোমাদেরকে জোরপূর্বক মুমিন বানানো হবে না। কিন্তু তার পরিণাম হবে এই যে, তোমরা কিয়ামতের দিন সবকিছু হারাবে। হযরত ইবন আব্বাস (রা.) বলেন, জান্নাতে প্রত্যেকের জন্য বাড়ি, পরিবার ও দাস-দাসী আছে। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার আনুগত্য করে সে তা পাবে আর যে ব্যক্তি অবাধ্যতা করে সে জাহান্নামে যাওয়ার কারণে তা হারাবে। -অনুবাদক
১৬

لَہُمۡ مِّنۡ فَوۡقِہِمۡ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنۡ تَحۡتِہِمۡ ظُلَلٌ ؕ ذٰلِکَ یُخَوِّفُ اللّٰہُ بِہٖ عِبَادَہٗ ؕ یٰعِبَادِ فَاتَّقُوۡنِ ١٦

লাহুম মিন ফাওকিহিম জু লালুম মিনান্না-রি ওয়া মিন তাহতিহিম জু লালুন যা-লিকা ইউখাওবিফুল্লা-হু বিহী ‘ইবা-দাহূ ইয়া-‘ইবাদি ফাত্তাকূন।

তাদের জন্য তাদের উপর দিক থেকেও থাকবে আগুনের মেঘ এবং তাদের নিচের দিকেও থাকবে অনুরূপ মেঘ। এটাই সেই জিনিস যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। সুতরাং হে আমার বান্দাগণ অন্তরে আমার ভয় রাখ।
১৭

وَالَّذِیۡنَ اجۡتَنَبُوا الطَّاغُوۡتَ اَنۡ یَّعۡبُدُوۡہَا وَاَنَابُوۡۤا اِلَی اللّٰہِ لَہُمُ الۡبُشۡرٰی ۚ  فَبَشِّرۡ عِبَادِ ۙ ١٧

ওয়াল্লাযীনাজ তানাবুত্তা-গূতা আইঁ ইয়া‘বুদূ হা-ওয়া আনাবূইল্লাল্লা-হি লাহুমুল বুশরা- ফাবাশশির ‘ইবা-দ।

যারা তাগুতের পূজা পরিহার করেছে ও আল্লাহর অভিমুখী হয়েছে, সুসংবাদ তাদেরই জন্য। সুতরাং আমার সেই বান্দাদেরকে সুসংবাদ শোনাও।

তাফসীরঃ

৯. ‘তাগূত’ অর্থ শয়তান এবং যে-কোনও ভ্রান্ত জিনিস।
১৮

الَّذِیۡنَ یَسۡتَمِعُوۡنَ الۡقَوۡلَ فَیَتَّبِعُوۡنَ اَحۡسَنَہٗ ؕ اُولٰٓئِکَ الَّذِیۡنَ ہَدٰىہُمُ اللّٰہُ وَاُولٰٓئِکَ ہُمۡ اُولُوا الۡاَلۡبَابِ ١٨

আল্লাযীনা ইয়াছতামি‘ঊনাল কাওলা ফাইয়াত্তাবি‘ঊনা আহছানাহূ উলাইকাল্লাযীনা হাদা-হুমুল্লা-হু ওয়া উলাইকা হুম ঊলুল আলবা-ব।

যারা কথা শোনে মনোযোগ দিয়ে, অতঃপর তার মধ্যে যা-কিছু উত্তম তার অনুসরণ করে, ১০ তারাই এমন লোক, যাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দান করেছেন এবং তারাই বোধশক্তিসম্পন্ন।

তাফসীরঃ

১০. অর্থাৎ তারা শোনে তো সবকিছুই, কিন্তু অনুসরণ করে কেবল তার মধ্যে যে কথা উৎকৃষ্ট তার (রূহুল মাআনী, আয-যাজ্জাজের বরাতে)।
১৯

اَفَمَنۡ حَقَّ عَلَیۡہِ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ ؕ  اَفَاَنۡتَ تُنۡقِذُ مَنۡ فِی النَّارِ ۚ ١٩

আফামান হাক্কা ‘আলাইহি কালিমাতুল ‘আযা-ব আফাআনতা তুনকিযুমান ফিন্না-র।

তবে কি যার উপর শাস্তি-বাণী অবধারিত হয়ে গেছে, তুমি রক্ষা করতে পারবে তাকে, যে আগুনের ভেতর পৌঁছে গেছে?
২০

لٰکِنِ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ لَہُمۡ غُرَفٌ مِّنۡ فَوۡقِہَا غُرَفٌ مَّبۡنِیَّۃٌ ۙ تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِہَا الۡاَنۡہٰرُ ۬ؕ وَعۡدَ اللّٰہِ ؕ لَا یُخۡلِفُ اللّٰہُ الۡمِیۡعَادَ ٢۰

লা-কিনিল্লাযীনাত্তাকাও রাব্বাহুম লাহুম গুরাফুম মিন ফাওকিহা-গুরাফুম মাবনিইয়াতুন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু ওয়া‘দাল্লা-হি লা-ইউখলিফুল্লা-হুল মী‘আদ।

তবে যারা অন্তরে নিজ প্রতিপালকের ভয় রাখে, তাদের জন্য আছে বহু প্রাসাদ, যেগুলোর উপরে নির্মিত বহু প্রাসাদ, যার নিচে বয়ে চলে নদ-নদী। এটা আল্লাহর ওয়াদা। আল্লাহ কখনও ওয়াদা ভঙ্গ করেন না।
২১

اَلَمۡ تَرَ اَنَّ اللّٰہَ اَنۡزَلَ مِنَ السَّمَآءِ مَآءً فَسَلَکَہٗ یَنَابِیۡعَ فِی الۡاَرۡضِ ثُمَّ یُخۡرِجُ بِہٖ زَرۡعًا مُّخۡتَلِفًا اَلۡوَانُہٗ ثُمَّ یَہِیۡجُ فَتَرٰىہُ مُصۡفَرًّا ثُمَّ یَجۡعَلُہٗ حُطَامًا ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَذِکۡرٰی لِاُولِی الۡاَلۡبَابِ ٪ ٢١

আলাম তারা আন্নাল্লা-হা আনঝালা মিনাছছামাই মাআন ফাছালাকাহূইয়ানা-বী‘আ ফিল আরদিছুম্মা ইউখরিজূবিহী ঝার‘আম মুখতালিফান আলওয়া-নুহূছু ম্মা ইয়াহীজুফাতারাঁ-হু মুসফাররান ছুম্মা ইয়াজ‘আলুহূহুতা-মা- ইন্না ফী যা-লিকা লাযিকরা-লিঊলিল আলবা-ব।

তুমি কি দেখনি আল্লাহ আকাশ থেকে বারিপাত করেছেন, তারপর তা ভূমির নির্ঝরে প্রবাহিত করেছেন? ১১ তারপর তা দ্বারা বিভিন্ন রংয়ের ফসল উৎপন্ন করেন। তারপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি দেখতে পাও তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। তারপর তিনি তা চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফেলেন। নিশ্চয়ই এর মধ্যে বোধশক্তিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উপদেশ আছে।

তাফসীরঃ

১১. এর এক অর্থ তো এই হতে পারে যে, আকাশ থেকে পাহাড়ে বৃষ্টি বর্ষণ হয় তারপর সেখান থেকে তা গলে-গলে নদ-নদীর রূপ ধারণ করে এবং ভূমিতে যেসব প্রস্রবণ আছে তাতে গিয়ে মিলিত হয়। আরেক অর্থ হতে পারে এ রকম, আল্লাহ তাআলা নিখিল-সৃষ্টির সূচনা করেছেন পানি সৃষ্টির মাধ্যমে। তিনি আকাশ থেকে তা নামিয়ে সরাসরি ভূমির প্রস্রবণে পৌঁছিয়ে দেন (রূহুল মাআনী)।
২২

اَفَمَنۡ شَرَحَ اللّٰہُ صَدۡرَہٗ لِلۡاِسۡلَامِ فَہُوَ عَلٰی نُوۡرٍ مِّنۡ رَّبِّہٖ ؕ فَوَیۡلٌ لِّلۡقٰسِیَۃِ قُلُوۡبُہُمۡ مِّنۡ ذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ اُولٰٓئِکَ فِیۡ ضَلٰلٍ مُّبِیۡنٍ ٢٢

আফামান শারাহাল্লা-হু সাদরাহূলিলইছলা-মি ফাহুওয়া ‘আলা-নূরিম মিররাব্বিহী ফাওয়াইলুলিললকা-ছিয়াতি কু লূবুহুম মিন যিকরিল্লা-হি উলাইকা ফী দালা-লিম মুবীন।

আল্লাহ ইসলামের জন্য যার বক্ষ খুলে দিয়েছেন, ফলে সে তার প্রতিপালকের দেওয়া আলোতে এসে গেছে (সে কি কঠোর হৃদয় ব্যক্তিদের সমতুল্য হতে পারে?) সুতরাং ধ্বংস সেই কঠোরপ্রাণদের জন্য, যারা আল্লাহর যিকির থেকে বিমুখ। তারা সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে নিপতিত।
২৩

اَللّٰہُ نَزَّلَ اَحۡسَنَ الۡحَدِیۡثِ کِتٰبًا مُّتَشَابِہًا مَّثَانِیَ ٭ۖ تَقۡشَعِرُّ مِنۡہُ جُلُوۡدُ الَّذِیۡنَ یَخۡشَوۡنَ رَبَّہُمۡ ۚ ثُمَّ تَلِیۡنُ جُلُوۡدُہُمۡ وَقُلُوۡبُہُمۡ اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰہِ ؕ ذٰلِکَ ہُدَی اللّٰہِ یَہۡدِیۡ بِہٖ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ٢٣

আল্লা-হু নাঝঝালা আহছানাল হাদীছিকিতা-বাম মুতাশা-বিহাম মাছা-নিয়া তাকশা‘ইররু মিনহু জূলূদুল্লাযীনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম ছু ম্মা তালীনুজুলূদুহুম ওয়াকু লূবুহুম ইলা-যিকরিল্লা-হি যা-লিকা হুদাল্লা-হি ইয়াহদী বিহী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফামা-লাহূমিন হা-দ।

আল্লাহ নাযিল করেছেন উত্তম বাণী এমন এক কিতাব যার বিষয়বস্তুসমূহ পরস্পর সুসামঞ্জস্য, (যার বক্তব্যসমূহ) পুনরাবৃত্তিকৃত ১২, যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে এর দ্বারা তাদের শরীর রোমাঞ্চিত হয়। তারপর তাদের দেহ-মন বিগলিত হয়ে আল্লাহর স্মরণে ঝুঁকে পড়ে। এটা আল্লাহর হেদায়াত, যার মাধ্যমে তিনি যাকে চান সঠিক পথে নিয়ে আসেন আর আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন, তাকে সঠিক পথে আনার কেউ নেই।

তাফসীরঃ

১২. অর্থাৎ যার বিধানাবলী, উপদেশসমূহ, দৃষ্টান্তমূলক ঘটনাবলী ও প্রমাণাদি বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু সে পুনরাবৃত্তি পাঠ করলে ক্লান্তি ও অবসাদ জন্মায় না; বরং প্রতিটি স্থানে নতুন নতুন স্বাদ যোগায় এবং গ্রহণ ও অনুসরণের প্রেরণা দান করে। -অনুবাদক
২৪

اَفَمَنۡ یَّتَّقِیۡ بِوَجۡہِہٖ سُوۡٓءَ الۡعَذَابِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَقِیۡلَ لِلظّٰلِمِیۡنَ ذُوۡقُوۡا مَا کُنۡتُمۡ تَکۡسِبُوۡنَ ٢٤

আফামাইঁ ইয়াত্তাকী বিওয়াজহিহী ছূআল ‘আযা-ব ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়া কীলা লিজ্জা-লিমীনা যূকূমা-কুনতুম তাকছিবূন।

(সেই ব্যক্তির অবস্থা কতই না মন্দ হবে) যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন তার চেহারা দ্বারা নিকৃষ্ট শাস্তি ঠেকাতে চাবে? ১৩ জালেমদেরকে বলা হবে, তোমরা যা অর্জন করতে তার স্বাদ গ্রহণ কর।

তাফসীরঃ

১৩. এটা জাহান্নামের এক ভয়াবহ অবস্থার চিত্রাঙ্কণ। সাধারণ মানুষ কোন কষ্টদায়ক জিনিসকে নিজের দিকে আসতে দেখলে তা নিজের হাত বা পা দ্বারা ঠেকানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জাহান্নামে তা সম্ভব হবে না, যেহেতু তখন হাত-পা থাকবে বাঁধা। তাই মানুষ আযাব থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য চেহারাকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবে। কিন্তু বলাবাহুল্য, এ চেষ্টা তার কোন কাজে আসবে না। কেননা কষ্ট তো চেহারাতেই বেশি অনুভূত হয়।
২৫

کَذَّبَ الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَاَتٰىہُمُ الۡعَذَابُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَشۡعُرُوۡنَ ٢٥

কাযযাবাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফাআতা-হুমুল ‘আযা-বুমিন হাইছুলা-ইয়াশ‘ঊরূন।

তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও (তাদের নবীগণকে) অস্বীকার করেছিল। পরিণামে এমন দিক থেকে শাস্তি তাদের কাছে আসল যা তারা ধারণাও করতে পারছিল না।
২৬

فَاَذَاقَہُمُ اللّٰہُ الۡخِزۡیَ فِی الۡحَیٰوۃِ الدُّنۡیَا ۚ وَلَعَذَابُ الۡاٰخِرَۃِ اَکۡبَرُ ۘ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ٢٦

ফাআযা-কাহুমুল্লা-হুল খিঝইয়া ফিল হায়া-তিদ্দুনইয়া- ওয়ালা ‘আযা-বুল আখিরাতি আকবারু । লাও কা-নূইয়া‘লামূন।

আল্লাহ তাদেরকে পার্থিব জীবনেই লাঞ্ছনা ভোগ করালেন আর আখেরাতের শাস্তি তো আরও বড় যদি তারা জানত।
২৭

وَلَقَدۡ ضَرَبۡنَا لِلنَّاسِ فِیۡ ہٰذَا الۡقُرۡاٰنِ مِنۡ کُلِّ مَثَلٍ لَّعَلَّہُمۡ یَتَذَکَّرُوۡنَ ۚ ٢٧

ওয়ালাকাদ্দারাবনা-লিন্না-ছি ফীহা-যাল কুরআ-নি মিন কুল্লি মাছালিল লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।

বস্তুত আমি এ কুরআনে মানুষের জন্য সব রকমের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছি, যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করে।
২৮

قُرۡاٰنًا عَرَبِیًّا غَیۡرَ ذِیۡ عِوَجٍ لَّعَلَّہُمۡ یَتَّقُوۡنَ ٢٨

কুরআ-নান ‘আরাবিইয়ান গাইরা যী ‘ইওয়াজিল লা‘আল্লাহুম ইয়াত্তাকূন।

এটা আরবী কুরআন, নয় বক্রতাপূর্ণ, যাতে মানুষ তাকওয়া অবলম্বন করে। ১৪

তাফসীরঃ

১৪. অর্থাৎ কুরআনের ভাষা নয় প্যাঁচানো এবং বিষয়বস্তু নয় জটিল ও বিসদৃশ, যা কারও পক্ষে বোঝা ও মানা কষ্টসাধ্য হবে। মানার ইচ্ছায় পাঠ করলে যে কেউ এর দ্বারা অনুপ্রেরণা লাভ করবে, পথের সন্ধান পাবে এবং তাকওয়া অবলম্বনে প্রস্তুত হয়ে যাবে। -অনুবাদক
২৯

ضَرَبَ اللّٰہُ مَثَلًا رَّجُلًا فِیۡہِ شُرَکَآءُ مُتَشٰکِسُوۡنَ وَرَجُلًا سَلَمًا لِّرَجُلٍ ؕ ہَلۡ یَسۡتَوِیٰنِ مَثَلًا ؕ اَلۡحَمۡدُ لِلّٰہِ ۚ بَلۡ اَکۡثَرُہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٢٩

দারাবাল্লা-হু মাছালার রাজূলান ফীহি শুরাকাউ মুতাশা-কিছূনা ওয়া রাজূলান ছালামাল লিরাজুলিন হাল ইয়াছতাবিইয়া-নি মাছালান আলহামদুলিল্লা-হি বাল আকছারুহুম লা-ইয়া‘লামূন।

আল্লাহ একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এই যে, এক ব্যক্তি (অর্থাৎ এক গোলাম) এমন, যার মধ্যে কয়েক ব্যক্তি অংশীদার; যারা পরস্পর বিরুদ্ধ ভাবাপন্ন আর অপর ব্যক্তি (অন্য গোলাম) এমন, যে সম্পূর্ণরূপে একই ব্যক্তির মালিকানায়। এ উভয় ব্যক্তির অবস্থা একই রকম হতে পারে? ১৫ আলহামদুলিল্লাহ! (এ দৃষ্টান্ত দ্বারা বিষয়টি সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে গেছে), কিন্তু তাদের অধিকাংশেই বোঝে না।

তাফসীরঃ

১৫. যে গোলাম যৌথভাবে একাধিক ব্যক্তির মালিকানায় থাকে আর মালিকগণও এমন যে, তাদের মধ্যে বিবাদ ও রেষারেষি লেগেই থাকে, সে সব সময় এই দুর্ভাবনায় থাকে যে, কার কথা মেনে তাকে খুশী করব আর কার কথা না মেনে তাকে নারাজ করব? পক্ষান্তরে যে গোলাম একজন মাত্র মনিবের মালিকানাধীন, তার এই পেরেশানী থাকে না। সে একনিষ্ঠভাবে নিজ মনিবের আনুগত্য করতে পারে। এভাবেই যে ব্যক্তি তাওহীদে বিশ্বাসী সে সর্বদা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকেই ডাকে এবং তারই ইবাদত করে। অপর দিকে যারা বহু মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে তারা কখনও এক দেবতার আশ্রয় নেয়, কখনও অন্য দেবতার। তারা কখনও একাগ্রচিত্ত হতে পারে না, পায় না মনের শান্তি। এটা যেমন তাওহীদের দলীল, তেমনি তার তাৎপর্যও বটে।
৩০

اِنَّکَ مَیِّتٌ وَّاِنَّہُمۡ مَّیِّتُوۡنَ ۫ ٣۰

ইন্নাকা মাইয়িতুওঁ ওয়া ইন্নাহুম মাইয়িতূন।

(হে রাসূল!) নিশ্চয় তুমি মরণশীল এবং তারাও অবশ্যই মরণশীল।
৩১

ثُمَّ اِنَّکُمۡ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ عِنۡدَ رَبِّکُمۡ تَخۡتَصِمُوۡنَ ٪ ٣١

ছু ম্মা ইন্নাকুম ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ‘ইনদা রাব্বিকুম তাখতাসিমূন।

অবশেষে তোমরা সকলে কিয়ামতের দিন তোমাদের প্রতিপালকের সামনে বাদানুবাদ করবে। ১৬

তাফসীরঃ

১৬. অর্থাৎ বিভ্রান্তকারী নেতৃবর্গ ও তাদের অনুসারীগণ পরস্পরকে দোষারোপ করবে এবং দীন ও দুনিয়ার যে সব বিষয়ে দুনিয়ায় মানুষ পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে থাকে, আল্লাহ তাআলার আদালতে তারা তা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে লিপ্ত হবে এবং পরিশেষে আল্লাহ তাআলা কে ন্যায়ের উপর এবং কে অন্যায়ের উপর তার মীমাংসা করে দেবেন। -অনুবাদক
৩২

فَمَنۡ اَظۡلَمُ مِمَّنۡ کَذَبَ عَلَی اللّٰہِ وَکَذَّبَ بِالصِّدۡقِ اِذۡ جَآءَہٗ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَہَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡکٰفِرِیۡنَ ٣٢

ফামান আজলামুমিম্মান কাযাবা ‘আলাল্লা-হি ওয়া কাযযাবা বিসসিদকিইযজাআহূ আলাইছা ফী জাহান্নামা মাছওয়ালিললকা-ফিরীন।

সুতরাং বল, সেই ব্যক্তি অপেক্ষা বড় জালেম আর কে হতে পারে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে আর যখন তার কাছে সত্য কথা আসে তা প্রত্যাখ্যান করে? কাফেরদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?
৩৩

وَالَّذِیۡ جَآءَ بِالصِّدۡقِ وَصَدَّقَ بِہٖۤ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡمُتَّقُوۡنَ ٣٣

ওয়াল্লাযী জাআ বিসসিদকিওয়া সাদ্দাকা বিহীউলাইকা হুমুল মুত্তাকূন।

আর যে ব্যক্তি সত্য কথা নিয়ে আসে এবং নিজেও তা বিশ্বাস করে, এরূপ লোকই মুত্তাকী। ১৭

তাফসীরঃ

১৭. অর্থাৎ আল্লাহভীরুদের পরিচয় হল, তারা সদা সত্য বলে, সত্য উপস্থিত করে এবং অন্যের উপস্থাপিত সত্যকে বিশ্বাস করে। আয়াতটির আরেক অর্থ হতে পারে, ‘যে ব্যক্তি সত্য কথা নিয়ে আসে (অর্থাৎ নবী-রাসূল) এবং যে তা বিশ্বাস করে (অর্থাৎ নবীর অনুসারী) এই উভয় শ্রেণীর লোকই মুত্তাকী। -অনুবাদক
৩৪

لَہُمۡ مَّا یَشَآءُوۡنَ عِنۡدَ رَبِّہِمۡ ؕ  ذٰلِکَ جَزٰٓوٴُا الۡمُحۡسِنِیۡنَ ۚۖ ٣٤

লাহুম মা-ইয়াশাঊনা ‘ইনদা রাব্বিহিম যা-লিকা জাঝাউল মুহছিনীন।

তারা তাদের প্রতিপালকের কাছে পাবে বাঞ্ছিত সবকিছু- এটাই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
৩৫

لِیُکَفِّرَ اللّٰہُ عَنۡہُمۡ اَسۡوَاَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا وَیَجۡزِیَہُمۡ اَجۡرَہُمۡ بِاَحۡسَنِ الَّذِیۡ کَانُوۡا یَعۡمَلُوۡنَ ٣٥

লিইউকাফফিরাল্লা-হু ‘আনহুম আছওয়া আল্লাযী ‘আমিলূওয়া ইয়াজঝিয়াহুম আজরাহুম বিআহছানিল্লাযী কা-নূইয়া‘মালূন।

তা এজন্য যে, তারা যে মন্দকাজ করেছিল আল্লাহ তা ক্ষমা করে দিবেন আর যেসব উৎকৃষ্ট কাজে রত ছিল তাদেরকে তার পুরস্কার দান করবেন।
৩৬

اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِکَافٍ عَبۡدَہٗ ؕ  وَیُخَوِّفُوۡنَکَ بِالَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖ ؕ  وَمَنۡ یُّضۡلِلِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ ہَادٍ ۚ ٣٦

আলাইছাল্লা-হু বিকা-ফিন ‘আবদাহূ; ওয়া ইউখাওবিফূনাকা বিল্লাযীনা মিন দূ নিহী ওয়া মাইঁ ইউদলিলিল্লা-হু ফামা-লাহূমিন হা-দ।

(হে রাসূল!) আল্লাহ কি তার বান্দার জন্য যথেষ্ট নন? তারা তোমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যদের ভয় দেখায়। ১৮ আল্লাহ যাকে বিপথগামী করেন তাকে পথে আনার কেউ নেই।

তাফসীরঃ

১৮. কুরায়শের লোকেরা বলেছিল, মুহাম্মাদ যদি আমাদের দেব-দেবীর নিন্দা করা হতে বিরত না হয়, তবে তারা প্রতিশোধ নেবে। হয় তাকে উন্মাদ বানিয়ে দেবে, নয়তো কোনো কঠিন রোগে আক্রান্ত করবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা এ আয়াত নাযিল করেন এবং এর মাধ্যমে মহানবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশ্বস্ত করে দেন যে, ওই পাথরের মূর্তির তো কোনো ক্ষমতাই নেই, আপাতদৃষ্টিতে যাদের কিছুটা ক্ষমতা আছে সেই পৌত্তলিক, এমনকি সারা জাহানও যদি তার বিরুদ্ধে চলে যায়, তাতেও চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা নিজ বান্দা ও রাসূলের সঙ্গে আল্লাহ তাআলা আছেন। তিনিই তাঁর হেফাজতের জন্য যথেষ্ট। -অনুবাদক
৩৭

وَمَنۡ یَّہۡدِ اللّٰہُ فَمَا لَہٗ مِنۡ مُّضِلٍّ ؕ اَلَیۡسَ اللّٰہُ بِعَزِیۡزٍ ذِی انۡتِقَامٍ ٣٧

ওয়া মাইঁ ইয়াহদিল্লা-হু ফামা-লাহূমিম মুদিলিলন আলাইছাল্লা-হু বি‘আঝীঝিন যিন তিকাম।

আর আল্লাহ যাকে সুপথে আনেন, তাকে বিপথগামী করারও কেউ নেই। আল্লাহ কি পরাক্রান্ত, শাস্তিদাতা নন?
৩৮

وَلَئِنۡ سَاَلۡتَہُمۡ مَّنۡ خَلَقَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضَ لَیَقُوۡلُنَّ اللّٰہُ ؕ قُلۡ اَفَرَءَیۡتُمۡ مَّا تَدۡعُوۡنَ مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ اِنۡ اَرَادَنِیَ اللّٰہُ بِضُرٍّ ہَلۡ ہُنَّ کٰشِفٰتُ ضُرِّہٖۤ اَوۡ اَرَادَنِیۡ بِرَحۡمَۃٍ ہَلۡ ہُنَّ مُمۡسِکٰتُ رَحۡمَتِہٖ ؕ قُلۡ حَسۡبِیَ اللّٰہُ ؕ عَلَیۡہِ یَتَوَکَّلُ الۡمُتَوَکِّلُوۡنَ ٣٨

ওয়া লাইন ছাআলতাহুম মান খালাকাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদা লাইয়াকূলুন্নাল্লা-হু কুল আফারাআইতুম মা-তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি ইন আরা-দানিয়াল্লা-হু বিদুররিন হাল হুন্না কা-শিফা-তুদুররিহীআও আরা-দানী বিরাহমাতিন হাল হুন্না মুমছিকা-তুরাহমাতিহী কুল হাছবিয়াল্লা-হু ‘আলাইহি ইয়াতাওয়াক্কালুল মুতাওয়াক্কিলূন।

তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী কে সৃষ্টি করেছে? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ! (তাদেরকে) বল, তোমরা বল তো, তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের (অর্থাৎ যেই প্রতিমাদের)কে ডাক, আল্লাহ আমার কোন ক্ষতি করতে চাইলে তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা আল্লাহ যদি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চান, তবে তারা কি তাঁর সেই রহমত ঠেকাতে পারবে? বল, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। ভরসাকারীগণ তো তাঁরই উপর ভরসা করে।
৩৯

قُلۡ یٰقَوۡمِ اعۡمَلُوۡا عَلٰی مَکَانَتِکُمۡ اِنِّیۡ عَامِلٌ ۚ  فَسَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ ٣٩

কুল ইয়া-কাওমি‘মালূ‘আলা-মাকা-নাতিকুম ইন্নী ‘আ-মিলুন ফাছাওফা তা‘লামূন।

বলে দাও, হে আমার কওম! তোমরা আপন নিয়ম অনুসারে কাজ করতে থাক, আমিও (আমার নিয়মে) কাজ করছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে
৪০

مَنۡ یَّاۡتِیۡہِ عَذَابٌ یُّخۡزِیۡہِ وَیَحِلُّ عَلَیۡہِ عَذَابٌ مُّقِیۡمٌ ٤۰

মাইঁ ইয়া’তীহি ‘আযা-বুইঁ ইউখঝীহি ওয়া ইয়াহিল্লু‘আলাইহি ‘আযা-বুম মুকীম।

কার প্রতি আসে এমন শাস্তি, যা তাকে লাঞ্ছিত করে ছাড়বে এবং কার প্রতি অবতীর্ণ হয় স্থায়ী শাস্তি।
৪১

اِنَّاۤ اَنۡزَلۡنَا عَلَیۡکَ الۡکِتٰبَ لِلنَّاسِ بِالۡحَقِّ ۚ  فَمَنِ اہۡتَدٰی فَلِنَفۡسِہٖ ۚ  وَمَنۡ ضَلَّ فَاِنَّمَا یَضِلُّ عَلَیۡہَا ۚ  وَمَاۤ اَنۡتَ عَلَیۡہِمۡ بِوَکِیۡلٍ ٪ ٤١

ইন্নাআনঝালনা-‘আলাইকাল কিতা-বা লিন্না-ছি বিলহাক্কি ফামানিহতাদাফালিনাফছিহী ওয়া মান দাল্লা ফাইন্নামা-ইয়াদিল্লু‘আলাইহা- ওয়ামাআনতা ‘আলাইহিম বিওয়াকীল।

(হে রাসূল!) আমি মানুষের কল্যাণার্থে তোমার প্রতি সত্যসহ এ কিতাব নাযিল করেছি। সুতরাং যে ব্যক্তি সঠিক পথে এসে যাবে সে আসবে নিজেরই কল্যাণার্থে আর যে ব্যক্তি পথভ্রষ্টতা অবলম্বন করবে, সে তার পথভ্রষ্টতা দ্বারা নিজেরই ক্ষতি করবে। তুমি তাদের তত্ত্বাবধায়ক নও।
৪২

اَللّٰہُ یَتَوَفَّی الۡاَنۡفُسَ حِیۡنَ مَوۡتِہَا وَالَّتِیۡ لَمۡ تَمُتۡ فِیۡ مَنَامِہَا ۚ فَیُمۡسِکُ الَّتِیۡ قَضٰی عَلَیۡہَا الۡمَوۡتَ وَیُرۡسِلُ الۡاُخۡرٰۤی اِلٰۤی اَجَلٍ مُّسَمًّی ؕ اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یَّتَفَکَّرُوۡنَ ٤٢

আল্লা-হু ইয়াতাওয়াফফাল আনফুছা হীনা মাওতিহা-ওয়াল্লাতী লাম তামুত ফী মানা-মিহা- ফাইউমছিকুল্লাতী কাদা-‘আলাইহাল মাওতা ওয়া ইউরছিলুল উখরাইলাআজালিম মুছাম্মান ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।

আল্লাহ রূহসমূহকে কবয করেন তাদের মৃত্যুকালে আর এখনও যার মৃত্যু আসেনি তাকেও (কবয করেন) তার নিদ্রাকালে। অতঃপর যার সম্পর্কে তিনি মৃত্যুর ফায়সালা করেছেন, তাকে রেখে দেন আর অন্যান্য রূহকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত ছেড়ে দেন। ১৯ নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সকল লোকের জন্য, যারা চিন্তা-ভাবনা করে।

তাফসীরঃ

১৯. নিদ্রাবস্থায়ও মানুষের রূহ এক পর্যায়ের কবয হয়ে যায়। কিন্তু সেটা যেহেতু চূড়ান্ত পর্যায়ের নয়, তাই সেটা মৃত্যুক্ষণ না হলে আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আবার ফিরে আসে। আর যার মৃত্যুক্ষণ এসে গেছে তার রূহ পরিপূর্ণভাবে কবয করা হয়।
৪৩

اَمِ اتَّخَذُوۡا مِنۡ دُوۡنِ اللّٰہِ شُفَعَآءَ ؕ قُلۡ اَوَلَوۡ کَانُوۡا لَا یَمۡلِکُوۡنَ شَیۡئًا وَّلَا یَعۡقِلُوۡنَ ٤٣

আমিত্তাখাযূমিন দূ নিল্লা-হি শুফা‘আআ কুল আওয়ালাও কা-নূলা-ইয়ামলিকূনা শাইআওঁ ওয়ালা-ইয়া‘কিলূন।

তবে কি তারা আল্লাহ (-এর অনুমতি) ছাড়া সুপারিশকারী গ্রহণ করেছে। (তাদেরকে) বল, তাদের (অর্থাৎ সেই সুপারিশকারীদের) কোন ক্ষমতা না থাকলেও এবং তারা কোন বোধবুদ্ধি না রাখলেও (তাদেরকে সুপারিশকারী মানতে থাকবে)? ২০

তাফসীরঃ

২০. এর দ্বারা মুশরিকদের সেই সকল মনগড়া দেব-দেবীকে বোঝানো হয়েছে, যাদের তারা আল্লাহ তাআলার সামনে তাদের পক্ষে সুপারিশকারী মনে করত।
৪৪

قُلۡ لِّلّٰہِ الشَّفَاعَۃُ جَمِیۡعًا ؕ لَہٗ مُلۡکُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ ثُمَّ اِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ ٤٤

কুল লিল্লা-হিশশাফা-‘আতুজামী‘আন লাহূমুলকুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ছু ম্মা ইলাইহি তুর জা‘ঊন।

বল, সমস্ত সুপারিশ তো আল্লাহরই এখতিয়ারে। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর রাজত্ব তাঁরই হাতে। পরিশেষে তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
৪৫

وَاِذَا ذُکِرَ اللّٰہُ وَحۡدَہُ اشۡمَاَزَّتۡ قُلُوۡبُ الَّذِیۡنَ لَا یُؤۡمِنُوۡنَ بِالۡاٰخِرَۃِ ۚ وَاِذَا ذُکِرَ الَّذِیۡنَ مِنۡ دُوۡنِہٖۤ اِذَا ہُمۡ یَسۡتَبۡشِرُوۡنَ ٤٥

ওয়া ইযা-যুকিরাল্লা-হু ওয়াহদাহুশমাআঝঝাত কুলূবুল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআখিরাতি ওয়া ইযা-যুকিরাল্লাযীনা মিন দূ নিহী ইযা-হুম ইয়াছতাবশিরূন।

যখন এক আল্লাহকে স্মরণ করা হয়, তখন যারা আখেরাতে ঈমান রাখে না তাদের অন্তর বিরক্ত হয় আর যখন তাঁকে ছাড়া অন্যের কথা বলা হয়, অমনি তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে।
৪৬

قُلِ اللّٰہُمَّ فَاطِرَ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ عٰلِمَ الۡغَیۡبِ وَالشَّہَادَۃِ اَنۡتَ تَحۡکُمُ بَیۡنَ عِبَادِکَ فِیۡ مَا کَانُوۡا فِیۡہِ یَخۡتَلِفُوۡنَ ٤٦

কুল্লিলা-হুম্মা ফা-তিরাছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি‘আ-লিমাল গাইবি ওয়াশশাহা-দাতি আনতা তাহকুমুবাইনা ‘ইবা-দিকা ফী মা-কা-নূফীহি ইয়াখতালিফূন।

বল, হে আল্লাহ! হে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা! সমস্ত অদৃশ্য ও দৃশ্যের জ্ঞাতা! তুমিই তোমার বান্দাদের মধ্যে মীমাংসা করে দেবে সেই বিষয়ে যা নিয়ে তারা মতবিরোধে লিপ্ত।
৪৭

وَلَوۡ اَنَّ لِلَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مَا فِی الۡاَرۡضِ جَمِیۡعًا وَّمِثۡلَہٗ مَعَہٗ لَافۡتَدَوۡا بِہٖ مِنۡ سُوۡٓءِ الۡعَذَابِ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ ؕ وَبَدَا لَہُمۡ مِّنَ اللّٰہِ مَا لَمۡ یَکُوۡنُوۡا یَحۡتَسِبُوۡنَ ٤٧

ওয়ালাও আন্না লিল্লাযীনা জালামূমা-ফিল আরদিজামী‘আওঁ ওয়া মিছলাহূমা‘আহূ লাফতাদাও বিহী মিন ছূইল ‘আযা-বি ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়া বাদা-লাহুম মিনাল্লা-হি মা-লাম ইয়াকূনূইয়াহতাছিবূন।

যারা জুলুমে লিপ্ত হয়েছে, যদি দুনিয়ার সমস্ত সম্পদ তাদের থাকে এবং তার সমপরিমাণ আরও, তবে কিয়ামতের দিন নিকৃষ্টতম শাস্তি হতে বাঁচার জন্য তা সবই মুক্তিপণ স্বরূপ দিয়ে দেবে। আর আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের সামনে এমন কিছু প্রকাশ পাবে, যা তারা কল্পনাও করেনি। ২১

তাফসীরঃ

২১. অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য যে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন তা তাদের সামনে প্রকাশ পাবে। সে শাস্তি এমনই বিভীষিকাময়, যা ইহজগতে কেউ কল্পনাও করতে পারবে না। এটা চরম সতর্কবাণী। এরচে’ কঠিন হুশিয়ারি আর কিছু হতে পারে না। পুরস্কারের সুসংবাদের ক্ষেত্রে এর দৃষ্টান্ত হল ‘কেউ জানে না, তাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে।’ (সূরা সাজদা ৩২ : ১৭) -অনুবাদক
৪৮

وَبَدَا لَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا وَحَاقَ بِہِمۡ مَّا کَانُوۡا بِہٖ یَسۡتَہۡزِءُوۡنَ ٤٨

ওয়া বাদা-লাহুম ছাইয়িআ-তুমা-কাছাবূওয়াহা-কা বিহিম মা-কা-নূবিহী ইয়াছতাহঝিঊন।

তারা যা-কিছু অর্জন করেছিল, তার মন্দ ফল তাদের সামনে প্রকাশ হয়ে যাবে এবং তারা যে বিষয় নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত, তা তাদেরকে চারদিক থেকে বেষ্টন করে ফেলবে।
৪৯

فَاِذَا مَسَّ الۡاِنۡسَانَ ضُرٌّ دَعَانَا ۫ ثُمَّ اِذَا خَوَّلۡنٰہُ نِعۡمَۃً مِّنَّا ۙ قَالَ اِنَّمَاۤ اُوۡتِیۡتُہٗ عَلٰی عِلۡمٍ ؕ بَلۡ ہِیَ فِتۡنَۃٌ وَّلٰکِنَّ اَکۡثَرَہُمۡ لَا یَعۡلَمُوۡنَ ٤٩

ফাইযা-মাছছাল ইনছা-না দুররুন দা‘আ-না- ছু ম্মা ইযা-খাওওয়ালনা-হু নি‘মাতাম মিন্না- কা-লা ইন্নামাঊতীতুহূ‘আলা-‘ইলমিম বাল হিয়া ফিতনাতুওঁ ওয়ালা-কিন্না আকছারাহুম লা-ইয়া‘লামূন।

মানুষকে যখন কোন দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করে, তখন সে আমাকে ডাকে ২২ তারপর যখন আমি আমার পক্ষ হতে তাকে কোন নি‘আমত দান করি, তখন সে বলে, এটা তো আমি লাভ করেছি (আমার) জ্ঞানবলে। না, বরং এটা একটা পরীক্ষা, কিন্তু তাদের অধিকাংশেই জানে না।

তাফসীরঃ

২২. অর্থাৎ কাফেরগণ একদিকে তো তাওহীদকে অস্বীকার করে, অন্যদিকে তারা কোন দুঃখ-কষ্টে পড়লে তখন দেব-দেবীকে নয়; বরং আমাকেই ডাকে।
৫০

قَدۡ قَالَہَا الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِہِمۡ فَمَاۤ اَغۡنٰی عَنۡہُمۡ مَّا کَانُوۡا یَکۡسِبُوۡنَ ٥۰

কাদ কা-লাহাল্লাযীনা মিন কাবলিহিম ফামাআগনা-‘আনহুম মা-কা-নূইয়াকছিবূন।

একথাই বলেছিল তাদের পূর্ববর্তী (কিছু) লোক। ২৩ ফলে, তারা যা অর্জন করত, তা তাদের কোন কাজে আসল না।
৫১

فَاَصَابَہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ؕ وَالَّذِیۡنَ ظَلَمُوۡا مِنۡ ہٰۤؤُلَآءِ سَیُصِیۡبُہُمۡ سَیِّاٰتُ مَا کَسَبُوۡا ۙ وَمَا ہُمۡ بِمُعۡجِزِیۡنَ ٥١

ফাআসা-বাহুম ছাইয়িআ-তুমা-কাছাবূ ওয়াল্লাযীনা জালামূমিন হাউলাই ছাইউসীবুহুম ছাইয়িআ-তুমা-কাছাবূ ওয়া মা-হুম বিমু‘জিঝীন।

এবং তারা যা অর্জন করেছিল তার মন্দ ফল তাদের উপর আপতিত হয়েছে এবং তাদের (অর্থাৎ আরবদের) মধ্যে যারা জুলুম করেছে তাদের কৃতকর্মের মন্দফলও অচিরে তাদের উপর আপতিত হবে এবং তারা (আল্লাহকে) ব্যর্থ করতে পারবে না।
৫২

اَوَلَمۡ یَعۡلَمُوۡۤا اَنَّ اللّٰہَ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَیَقۡدِرُ ؕ  اِنَّ فِیۡ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّقَوۡمٍ یُّؤۡمِنُوۡنَ ٪ ٥٢

আওয়ালাম ইয়া‘লামূআন্নাল্লা-হা ইয়াবছুতু র রিঝকালিমাইঁ ইয়াশাউ ওয়াইয়াকদিরু ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।

তারা কি জানে না আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা রিযক প্রশস্ত করে দেন এবং তিনিই সঙ্কুচিতও করেন? নিশ্চয়ই এর মধ্যে বহু নিদর্শন আছে সেই সব লোকের জন্য, যারা ঈমান আনে।
৫৩

قُلۡ یٰعِبَادِیَ الَّذِیۡنَ اَسۡرَفُوۡا عَلٰۤی اَنۡفُسِہِمۡ لَا تَقۡنَطُوۡا مِنۡ رَّحۡمَۃِ اللّٰہِ ؕ اِنَّ اللّٰہَ یَغۡفِرُ الذُّنُوۡبَ جَمِیۡعًا ؕ اِنَّہٗ ہُوَ الۡغَفُوۡرُ الرَّحِیۡمُ ٥٣

কুল ইয়া-‘ইবা-দিয়াল্লাযীনা আছরাফূ‘আলাআনফুছিহিম লা-তাকনাতূমির রাহমাতিল্লাহি ইন্নাল্লা-হা ইয়াগফিরুয যুনূবা জামী‘আন ইন্নাহূহুওয়াল গাফূরুর রাহীম।

বলে দাও, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজ সত্তার উপর সীমালংঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। ২৪ নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তাফসীরঃ

২৪. অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি সারাটা জীবন কুফর, শিরক কিংবা অন্যান্য গুনাহের ভেতর কাটিয়ে দেয়, তবে এই ভেবে তার হতাশ হওয়ার কারণ নেই যে, এখন আর তার তাওবা কবুল হবে না; বরং আল্লাহ তাআলার রহমত এমন যে, মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত যখনই কোন মানুষ নিজেকে সংশোধনের পাকা নিয়ত করে ফেলে এবং তারপর নিজের পূর্ব জীবনের সমস্ত গুনাহের জন্য ক্ষমা চায় ও তাওবা করে তবে আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তার পাপরাশি ক্ষমা করে দেবেন।
৫৪

وَاَنِیۡبُوۡۤا اِلٰی رَبِّکُمۡ وَاَسۡلِمُوۡا لَہٗ مِنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنۡصَرُوۡنَ ٥٤

ওয়া আনীবূইলা-রাব্বিকুম ওয়া আছলিমূলাহূমিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়াকুমুল ‘আযা-বু ছু ম্মা লা-তুনসারূন।

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হয়ে যাও এবং তাঁর সমীপে আনুগত্য প্রকাশ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
৫৫

وَاتَّبِعُوۡۤا اَحۡسَنَ مَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡکُمۡ مِّنۡ رَّبِّکُمۡ مِّنۡ قَبۡلِ اَنۡ یَّاۡتِیَکُمُ الۡعَذَابُ بَغۡتَۃً وَّاَنۡتُمۡ لَا تَشۡعُرُوۡنَ ۙ ٥٥

ওয়াত্তাবি‘ঊআহছানা মাউনঝিলা ইলাকুম মির রাব্বিকুম মিন কাবলি আইঁ ইয়া’তিয়াকুমুল ‘আযা-বুবাগতাতাওঁ ওয়া আনতুম লা-তাশ‘ঊরূন।

এবং তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের উপর উত্তম যা-কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতভাবে শাস্তি আসার আগে, অথচ তোমরা তা জানতেও পারবে না।
৫৬

اَنۡ تَقُوۡلَ نَفۡسٌ یّٰحَسۡرَتٰی عَلٰی مَا فَرَّطۡتُّ فِیۡ جَنۡۢبِ اللّٰہِ وَاِنۡ کُنۡتُ لَمِنَ السّٰخِرِیۡنَ ۙ ٥٦

আন তাকূলা নাফছুইঁ ইয়া-হাছরাতা-‘আলা-মা-ফাররাত্তুফী জামবিল্লা-হি ওয়া ইন কুনতু লামিনাছ ছা-খিরীন।

যাতে কাউকে বলতে না হয় যে, হায়! আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য আফসোস! প্রকৃতপক্ষে আমি (আল্লাহ তাআলার বিধি-বিধান নিয়ে) ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।
৫৭

اَوۡ تَقُوۡلَ لَوۡ اَنَّ اللّٰہَ ہَدٰىنِیۡ لَکُنۡتُ مِنَ الۡمُتَّقِیۡنَ ۙ ٥٧

আও তাকূলা লাও আন্নাল্লা-হা হাদা-নী লাকুনতুমিনাল মুত্তাকীন।

অথবা কাউকে বলতে না হয় যে, আল্লাহ যদি আমাকে হেদায়াত দিতেন তবে আমিও মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।
৫৮

اَوۡ تَقُوۡلَ حِیۡنَ تَرَی الۡعَذَابَ لَوۡ اَنَّ لِیۡ کَرَّۃً فَاَکُوۡنَ مِنَ الۡمُحۡسِنِیۡنَ ٥٨

আও তাকূলা হীনা তারাল ‘আযা-বা লাও আন্না লী কাররাতান ফাআকূনা মিনাল মুহছিনীন।

অথবা শাস্তি চাক্ষুষ দেখার পর যেন কাউকে বলতে না হয়, আহা! আমার যদি একটিবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, তবে আমি সৎকর্মশীলদের একজন হয়ে যেতাম।
৫৯

بَلٰی قَدۡ جَآءَتۡکَ اٰیٰتِیۡ فَکَذَّبۡتَ بِہَا وَاسۡتَکۡبَرۡتَ وَکُنۡتَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ ٥٩

বালা-কাদ জাআতকা আ-য়া-তী ফাকাযযাবতা বিহা-ওয়াছতাকবারতা ওয়াকুনতা মিনাল কা-ফিরীন।

অবশ্যই (তোমাকে হেদায়াত দেওয়া হয়েছিল)। আমার নিদর্শনাবলী তোমার কাছে এসেছিল, কিন্তু তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে এবং অহমিকা দেখিয়েছিলে আর তুমি ছিলে কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত।
৬০

وَیَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ تَرَی الَّذِیۡنَ کَذَبُوۡا عَلَی اللّٰہِ وُجُوۡہُہُمۡ مُّسۡوَدَّۃٌ ؕ اَلَیۡسَ فِیۡ جَہَنَّمَ مَثۡوًی لِّلۡمُتَکَبِّرِیۡنَ ٦۰

ওয়া ইয়াওমাল কিয়া-মাতি তারাল্লাযীনা কাযাবূ‘আলাল্লা-হি ঊজূহুহুম মুছওয়াদ্দাতুন আলাইছা ফী জাহান্নামা মাছওয়াল লিলমুতাকাব্বিরীন।

কিয়ামতের দিন তুমি দেখবে, যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করেছিল, তাদের চেহারা কালো হয়ে গেছে। এরূপ অহংকারীদের ঠিকানা কি জাহান্নামে নয়?
৬১

وَیُنَجِّی اللّٰہُ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا بِمَفَازَتِہِمۡ ۫ لَا یَمَسُّہُمُ السُّوۡٓءُ وَلَا ہُمۡ یَحۡزَنُوۡنَ ٦١

ওয়া ইউনাজ্জিল্লা-হুল্লাযীনাত্তাকাও বিমাফা-ঝাতিহিম লা-ইয়ামাছছুহুমুছ ছূউ ওয়ালাহুম ইয়াহঝানূন।

যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, আল্লাহ তাদেরকে মুক্তি দেবেন তাদের আমলসহ। কোন কষ্ট তাদেরকে স্পর্শ করবে না এবং তাদের থাকবে না কোন দুঃখ।
৬২

اَللّٰہُ خَالِقُ کُلِّ شَیۡءٍ ۫ وَّہُوَ عَلٰی کُلِّ شَیۡءٍ وَّکِیۡلٌ ٦٢

আল্লা-হু খা-লিকুকুল্লি শাইয়িওঁ ওয়া হুওয়া ‘আলা-কুল্লি শাইয়িওঁ ওয়াকীল।

আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সমস্ত কিছুর রক্ষক।
৬৩

لَہٗ مَقَالِیۡدُ السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ ؕ  وَالَّذِیۡنَ کَفَرُوۡا بِاٰیٰتِ اللّٰہِ اُولٰٓئِکَ ہُمُ الۡخٰسِرُوۡنَ ٪ ٦٣

লাহূমাকা-লিদুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদি ওয়াল্লাযীনা কাফারূবিআ-য়া-তিল্লা-হি উলাইকা হুমুল খা-ছিরূন।

আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর কুঞ্জিরাশি তাঁরই নিকট। যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত।
৬৪

قُلۡ اَفَغَیۡرَ اللّٰہِ تَاۡمُرُوۡٓنِّیۡۤ اَعۡبُدُ اَیُّہَا الۡجٰہِلُوۡنَ ٦٤

কুল আফাগাইরাল্লা-হি তা’মুরূন্নীআ‘বুদুআইয়ুহাল জা-হিলূন।

বলে দাও, হে অজ্ঞ ব্যক্তিরা! তারপরও কি তোমরা আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে বল?
৬৫

وَلَقَدۡ اُوۡحِیَ اِلَیۡکَ وَاِلَی الَّذِیۡنَ مِنۡ قَبۡلِکَ ۚ لَئِنۡ اَشۡرَکۡتَ لَیَحۡبَطَنَّ عَمَلُکَ وَلَتَکُوۡنَنَّ مِنَ الۡخٰسِرِیۡنَ ٦٥

ওয়ালা কাদ ঊহিয়া ইলাইকা ওয়া ইলাল্লাযীনা মিন কাবলিকা লাইন আশরাকতা লাইয়াহবাতান্না ‘আমালুকা ওয়া লাতাকূনান্না মিনাল খা-ছিরীন।

নিশ্চয়ই তোমাকে এবং তোমার পূর্বের নবীগণকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তুমি যদি শিরক কর, তবে নির্ঘাত তোমার সমস্ত কর্ম নিষ্ফল হয়ে যাবে এবং তুমি অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
৬৬

بَلِ اللّٰہَ فَاعۡبُدۡ وَکُنۡ مِّنَ الشّٰکِرِیۡنَ ٦٦

বালিল্লা-হা ফা‘বুদ ওয়াকুম মিনাশশা-কিরীন।

বরং তুমি আল্লাহরই ইবাদত কর এবং কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাক।
৬৭

وَمَا قَدَرُوا اللّٰہَ حَقَّ قَدۡرِہٖ ٭ۖ وَالۡاَرۡضُ جَمِیۡعًا قَبۡضَتُہٗ یَوۡمَ الۡقِیٰمَۃِ وَالسَّمٰوٰتُ مَطۡوِیّٰتٌۢ بِیَمِیۡنِہٖ ؕ سُبۡحٰنَہٗ وَتَعٰلٰی عَمَّا یُشۡرِکُوۡنَ ٦٧

ওয়ামা-কাদারুল্লা-হা হাক্কা কাদরিহী ওয়াল আরদুজামী‘আন কাবদাতুহূ ইয়াওমাল কিয়া-মাতি ওয়াছ ছামা-ওয়া-তুমাতবিইয়া-তুম বিয়ামীনিহী ছুবহা-নাহূ ওয়া তা‘আ-লা-‘আম্মা-ইউশরিকূন।

তারা আল্লাহকে মর্যাদা দেয়নি তাঁর যথোচিত মর্যাদা, অথচ কিয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তার মুঠোর ভেতর এবং আকাশমণ্ডলী গুটানো অবস্থায় থাকবে তার ডান হাতে। তিনি পবিত্র এবং তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি বহু ঊর্ধ্বে।
৬৮

وَنُفِخَ فِی الصُّوۡرِ فَصَعِقَ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَمَنۡ فِی الۡاَرۡضِ اِلَّا مَنۡ شَآءَ اللّٰہُ ؕ ثُمَّ نُفِخَ فِیۡہِ اُخۡرٰی فَاِذَا ہُمۡ قِیَامٌ یَّنۡظُرُوۡنَ ٦٨

ওয়া নুফিখা ফিসসূরি ফাসা‘ইকা মান ফিছছামা-ওয়া-তি ওয়া মান ফিল আরদিইল্লা-মান শাআল্লা-হু ছু ম্মা নুফিখা ফীহি উখরা-ফাইযা-হুম কিয়া-মুইঁ ইয়ানজু রূন।

এবং শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করবেন সে ছাড়া ২৫ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে সকলেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে। তারপর তাতে দ্বিতীয় ফুঁক দেওয়া হবে, অমনি তারা দ-ায়মান হয়ে তাকিয়ে থাকবে।

তাফসীরঃ

২৫. অর্থাৎ শিঙ্গার প্রথম ফুকে সকলেই মূর্ছিত হয়ে পড়বে জিবরাঈল, ইসরাফীল ও মালাকুত-মাওত ছাড়া তাঁরা মূর্ছিত হবে না। কেউ কেউ নবী-রাসূল ও শহীদদেরকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। মূলত আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন কে কে ব্যতিক্রম থাকবে। -অনুবাদক
৬৯

وَاَشۡرَقَتِ الۡاَرۡضُ بِنُوۡرِ رَبِّہَا وَوُضِعَ الۡکِتٰبُ وَجِایۡٓءَ بِالنَّبِیّٖنَ وَالشُّہَدَآءِ وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَہُمۡ لَا یُظۡلَمُوۡنَ ٦٩

ওয়া আশরাকাতিল আরদু বিনূরি রাব্বিহা- ওয়াউদি‘আল কিতা-বু ওয়াজীআ বিন্নাবিইয়ীনা ওয়াশশুহাদাই ওয়া কুদিয়া বাইনাহুম বিল হাক্কিওয়াহুম লা-ইউজলামূন।

এবং পৃথিবী নিজ প্রতিপালকের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠবে, আমলনামা সামনে রেখে দেওয়া হবে এবং নবীগণকে ও সাক্ষীগণকে উপস্থিত করা হবে আর মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করা হবে। তাদের উপর কোন জুলুম করা হবে না।
৭০

وَوُفِّیَتۡ کُلُّ نَفۡسٍ مَّا عَمِلَتۡ وَہُوَ اَعۡلَمُ بِمَا یَفۡعَلُوۡنَ ٪ ٧۰

ওয়া উফফিয়াত কুল্লুনাফছিম মা-‘আমিলাত ওয়া হুওয়া আ‘লামুবিমা-ইয়াফ‘আলূন।

প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পূর্ণ প্রতিফল দেওয়া হবে। আর তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ পরিপূর্ণ জ্ঞাত।
৭১

وَسِیۡقَ الَّذِیۡنَ کَفَرُوۡۤا اِلٰی جَہَنَّمَ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡہَا فُتِحَتۡ اَبۡوَابُہَا وَقَالَ لَہُمۡ خَزَنَتُہَاۤ اَلَمۡ یَاۡتِکُمۡ رُسُلٌ مِّنۡکُمۡ یَتۡلُوۡنَ عَلَیۡکُمۡ اٰیٰتِ رَبِّکُمۡ وَیُنۡذِرُوۡنَکُمۡ لِقَآءَ یَوۡمِکُمۡ ہٰذَا ؕ قَالُوۡا بَلٰی وَلٰکِنۡ حَقَّتۡ کَلِمَۃُ الۡعَذَابِ عَلَی الۡکٰفِرِیۡنَ ٧١

ওয়া ছীকাল্লাযীনা কাফারূইলা-জাহান্নামা ঝুমারা- হাত্তাইযা-জাঊহাফুতিহাত আবওয়া-বুহা-ওয়া কা-লা লাহুম খাঝানাতুহাআলাম ইয়া’তিকুম রুছুলুম মিনকুম ইয়াতলূনা ‘আলাইকুম আ-য়া-তি রাব্বিকুম ওয়া ইউনযিরূনাকুম লিকাআ ইয়াওমিকুম হাযা- কা-লূবালা-ওয়ালা-কিন হাক্কাত কালিমাতুল ‘আযা-বি ‘আলাল কা-ফিরীন।

যারা কুফর অবলম্বন করেছিল তাদেরকে জাহান্নামের দিকে হাঁকিয়ে নেওয়া হবে দলে দলে। যখন তারা তার নিকট পৌঁছবে, তার দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হবে এবং তার রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, তোমাদের কাছে কি তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদেরকে তোমাদের প্রতিপালকের আয়াতসমূহ পড়ে শোনাত এবং তোমাদেরকে এই দিনের সাক্ষাত সম্পর্কে সতর্ক করত? তারা বলবে নিশ্চয়ই এসেছিল, কিন্তু কাফেরদের প্রতি শাস্তির কথা বাস্তবায়িত হয়ে গেছে।
৭২

قِیۡلَ ادۡخُلُوۡۤا اَبۡوَابَ جَہَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡہَا ۚ فَبِئۡسَ مَثۡوَی الۡمُتَکَبِّرِیۡنَ ٧٢

কীলাদখুলূআবওয়া-বা জাহান্নামা খা-লিদীনা ফীহা- ফাবি’ছা মাছওয়াল মুতাকাব্বিরীন।

বলা হবে, জাহান্নামের দরজাসমূহে প্রবেশ কর তাতে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। যারা অহমিকা প্রদর্শন করে তাদের ঠিকানা কত মন্দ!
৭৩

وَسِیۡقَ الَّذِیۡنَ اتَّقَوۡا رَبَّہُمۡ اِلَی الۡجَنَّۃِ زُمَرًا ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءُوۡہَا وَفُتِحَتۡ اَبۡوَابُہَا وَقَالَ لَہُمۡ خَزَنَتُہَا سَلٰمٌ عَلَیۡکُمۡ طِبۡتُمۡ فَادۡخُلُوۡہَا خٰلِدِیۡنَ ٧٣

ওয়াছীকাল্লাযীনাত্তাকাও রাব্বাহুম ইলাল জান্নাতি ঝুমারা- হাত্তাইযা-জাঊহাওয়া ফুতিহাত আবওয়া-বুহা-ওয়াকালা-লাহুম খাঝানাতুহা-ছালা-মুন ‘আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলূহা-খা-লিদীন।

আর যারা তাদের প্রতিপালককে ভয় করে চলেছে, তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছবে এবং তাদের জন্য তার দরজাসমূহ পূর্ব হতেই উন্মুক্ত থাকবে (তখন বড় আনন্দঘন দৃশ্য হবে)। তার রক্ষীগণ তাদেরকে বলবে, আপনাদের প্রতি সালাম। আপনারা সুখী থাকুন। আপনারা এতে প্রবেশ করুন স্থায়ীভাবে থাকার জন্য।
৭৪

وَقَالُوا الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ الَّذِیۡ صَدَقَنَا وَعۡدَہٗ وَاَوۡرَثَنَا الۡاَرۡضَ نَتَبَوَّاُ مِنَ الۡجَنَّۃِ حَیۡثُ نَشَآءُ ۚ فَنِعۡمَ اَجۡرُ الۡعٰمِلِیۡنَ ٧٤

ওয়া কা-লুল হামদুলিল্লা-হিল্লাযী সাদাকানা-ওয়া‘দাহূওয়া আওরাছানাল আরদা নাতাবাওওয়াউ মিনাল জান্নাতি হাইছুনাশাউ ফানি‘মা আজরুল ‘আ-মিলীন।

তারা (অর্থাৎ জান্নাতবাসীগণ) বলবে, সমস্ত শোকর আল্লাহর, যিনি আমাদের সঙ্গে নিজ ওয়াদা সত্যে পরিণত করেছেন এবং আমাদেরকে (জান্নাতের) ভূমির এমন অধিকারী বানিয়েছেন যে, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা হয় ঠিকানা বানাতে পারি। সুতরাং সৎকর্মশীলদের পুরস্কার কত উত্তম!
৭৫

وَتَرَی الۡمَلٰٓئِکَۃَ حَآفِّیۡنَ مِنۡ حَوۡلِ الۡعَرۡشِ یُسَبِّحُوۡنَ بِحَمۡدِ رَبِّہِمۡ ۚ  وَقُضِیَ بَیۡنَہُمۡ بِالۡحَقِّ وَقِیۡلَ الۡحَمۡدُ لِلّٰہِ رَبِّ الۡعٰلَمِیۡنَ ٪ ٧٥

ওয়া তারাল মালাইকাতা হাফফীনা মিন হাওলিল ‘আরশি ইউছাববিহূ না বিহামদি রাব্বিহিম, ওয়া কুদিয়া বাইনাহুম বিলহাক্কি ওয়াকীলাল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আলামীন।

তুমি ফেরেশতাদেরকে দেখতে পাবে, তারা আরশের চারপাশ ঘিরে তাদের প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাঁর তাসবীহ পাঠ করছে এবং মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করে দেওয়া হবে আর বলা হবে সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
সূরা আয্‌-যুমার | মুসলিম বাংলা