ডিজিটাল তসবিহ দিয়ে যিকির করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২২৮৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, গতকাল ইউটিউবে এ দেখলাম একজন সৌদি শায়েখ বললেন ডিজিটাল তাসবিহ ফিতনা, আমি এই বিষয়ে জানতে চাই। জাঝাখাল্লাহু খাইর
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
আল্লাহ তাআলার জিকির মুমিনের হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। তাই জিকিরের ক্ষেত্রে শরিয়তের নির্দেশনা জানা যেমন জরুরি, তেমনি কোনো নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপারে শোনা কথা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি কোনো সৌদি শায়েখকে ডিজিটাল তাসবিহকে ‘ফিতনা’ বলতে শুনে থাকলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। তবে কোনো আলেমের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট না জেনে শুধু একটি শব্দের ভিত্তিতে ডিজিটাল তাসবিহকে সর্বাবস্থায় নাজায়েজ বা হারাম বলা সমীচীন নয়। তিনি হয়তো ডিজিটাল যন্ত্রের কারণে জিকিরে লোকদেখানো, অসতর্কতা, সুন্নাহ থেকে বিমুখতা কিংবা অন্য কোনো সমস্যার আশঙ্কা বোঝাতে চেয়েছেন। তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানা না থাকায় এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া যাচ্ছে না।
ডিজিটাল তাসবিহ বা কাউন্টার হলো যিকিরের সংখ্যা মনে রাখার একটি মাধ্যম মাত্র। শরিয়তের দৃষ্টিতে যিকির গণনার জন্য দানাযুক্ত তাসবিহ, সুতোয় গিঁট দেওয়া, খেজুরের বিচি, পাথরকুঁচি কিংবা ডিজিটাল তাসবিহ কাউন্টার ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এটিকে ঢালাওভাবে বিদআত বা ফিতনা বলা সঠিক নয়। তবে, সুন্নাহ অনুযায়ী হাতের আঙুলে গুনে যিকির করা সর্বোত্তম ও অধিক ফজিলতপূর্ণ। হাদীস শরীফে এসেছে,
عن عائشة بنت سعد بن أبي وقاص، عن أبيها، أنه دخل مع رسول الله صلى الله عليه وسلم على امرأة وبين يديها نوى أو حصى تسبح به فقال " أخبرك بما هو أيسر عليك من هذا أو أفضل " . فقال " سبحان الله عدد ما خلق في السماء وسبحان الله عدد ما خلق في الأرض وسبحان الله عدد ما خلق بين ذلك وسبحان الله عدد ما هو خالق والله أكبر مثل ذلك والحمد لله مثل ذلك . ولا إله إلا الله مثل ذلك . ولا حول ولا قوة إلا بالله مثل ذلك " .
অর্থ: আয়েশা বিনতে সা’দ, তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জনৈক মহিলার নিকট গমন করে তার সম্মুখে কিছু দানা অথবা পাথরের টুকরা দেখতে পান, যা দ্বারা তিনি তাসবীহ পাঠে রত ছিলেন। তখন নবীজি তাকে বলেন, আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজ বা উত্তম পন্থা শিক্ষা দিব?
এরপর নবী করীম (ﷺ) বলেন, তুমি পড়ো
سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَخَالِقٌ
এভাবে তুমি لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْحَمْدُ لِلَّهِ اللَّهُ أَكْبَرُ তাসবীহগুলোও পাঠ করো। -আবু দাউদ, ১৫০০
যদি তাসবীহ পড়া নাজায়েযই হতো, তাহলে নবীজি তাকে বাধা দিতেন। কিন্তু নবীজি তাকে বাধা দেননি। এখান থেকেও স্পষ্ট হয়ে যায়, আঙ্গুল ছাড়া অন্য মাধ্যমেও যিকির করা যায়।
البحر الرائق شرح كنز الدقائق ومنحة الخالق وتكملة الطوري (2/ 31)
فلم ينهها عن ذلك وإنما أرشدها إلى ما هو أيسر وأفضل ولو كان مكروها لبين لها ذلك ثم هذا الحديث ونحوه مما يشهد بأنه لا بأس باتخاذ السبحة المعروفة لإحصاء عدد الأذكار إذ لا تزيد السبحة على مضمون هذا الحديث إلا بضم النوى ونحوه في خيط ومثل هذا لا يظهر تأثيره في المنع فلا جرم إن نقل اتخاذها والعمل بها عن جماعة من الصوفية الأخيار وغيرهم اللهم إلا إذا ترتب عليها رياء وسمعة فلا كلام لنا فيه وهذا الحديث أيضا يشهد لأفضلية هذا الذكر المخصوص على ذكر مجرد عن هذه الصيغة ولو تكرر يسيرا
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
খতীব, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ, মিরাশপাড়া গাজীপুর
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন