দোয়ায় হাত ওঠানোর পরিমাণ ও পদ্ধতি
প্রশ্নঃ ১৬৯৩৫০. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, দোয়ার মধ্যে কতটুকু উপর এ হাত উঠানোর বিধান রয়েছে দলিল সহ উল্লেখ করলে উপকৃত হবো।।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
হাটহাজারী
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
দোয়ার মধ্যে যেহেতু আল্লাহ عزّ وجلّ-এর সামনে নিজের অসহায়ত্ব, বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করাই উদ্দেশ্য; তাই দোয়ার সময় এমন ভঙ্গি হওয়া উচিত, যাতে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ পায়। পাশাপাশি ভঙ্গিটি হওয়া উচিত গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ। অতএব, দোয়া করার সময় হাত বুক অথবা কাঁধ পর্যন্ত উঠানো উচিত এবং দুই হাতের তালুর মধ্যে সামান্য ব্যবধান রাখা উচিত।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পক্ষ থেকে বুক পর্যন্ত হাত ওঠানোও প্রমাণিত আছে। আবার সাহল ইবনু সা‘দ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী করিম ﷺ দোয়ার সময় তাঁর হাতের আঙুলগুলো কাঁধের সমান্তরাল পর্যন্ত উঠাতেন। আর আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ দোয়ার সময় তাঁর দুই হাত এত উঁচু করতেন যে, তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা প্রকাশিত হয়ে যেত।
মূলত এ বিষয়ে বর্ণনাগুলো বিভিন্ন রকম। ওলামায়ে কেরাম এসব বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করে বলেছেন যে, দোয়ার ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সাধারণ আমল ছিল বুক পর্যন্ত হাত ওঠানো। তবে বিশেষ তাওয়াজু (অত্যন্ত বিনয় ও কাতরতার) সময় তিনি হাত কিছুটা উঁচু করতেন। এমনকি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনায় মুখমণ্ডলের সমান্তরাল পর্যন্ত হাত ওঠানোর কথাও বর্ণিত হয়েছে।
সর্বোপরি, দোয়া করার সময় সাধারণ অবস্থায় আদব হলো—এভাবে হাত ওঠানো, যাতে দুই হাতের তালু বুকের সমান্তরালে থাকে। তবে হাতের আঙুলগুলো যদি কাঁধের সমান্তরাল পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু হাত ওঠানোর ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করে কপাল বা মাথা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া পছন্দনীয় নয়। আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) এটিকে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার ব্যাপারে আপত্তি করেছেন।
তবে বিশেষ কোনো পরিস্থিতি বা অবস্থা হলে—যেমন ইস্তিসকার (বৃষ্টির জন্য দোয়া)-এর সময়, ময়দানে আরাফায় অবস্থানকালে, অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে এমন কোনো অবস্থা সৃষ্টি হলে—হাত ওপরের দিকে উঠালে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। বরং এ ধরনের বিশেষ পরিস্থিতিতে হাত উঁচু করার বিষয়টি হাদিসের বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিতও রয়েছে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِنَّ اللَّهَ حَيِيٌّ كَرِيمٌ، يَسْتَحْيِي إِذَا رَفَعَ الرَّجُلُ إِلَيْهِ يَدَيْهِ أَنْ يَرُدَّهُمَا صِفْرًا خَائِبَتَيْنِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত লজ্জাশীল ও দয়ালু। কোনো ব্যক্তি তাঁর কাছে দু’হাত উঠালে তিনি তা শূন্য ও ব্যর্থ অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।”
— সুনান আবু দাউদ, ১৪৮৮; জামে তিরমিজি, ৩৫৫৬।
বিশেষ কিছু দোয়ায় হাত অনেক উঁচু পর্যন্ত উঠানোর প্রমাণ আছে
বিশেষ করে ইস্তিসকার (বৃষ্টির জন্য দোয়া) সময় রাসুলুল্লাহ ﷺ এত উঁচু করে হাত তুলতেন যে, তাঁর বগলের শুভ্রতা দেখা যেত।
আনাস (রা.) বলেন : وَرَفَعَ يَدَيْهِ حَتَّى رُئِيَ بَيَاضُ إِبْطَيْهِ “তিনি তাঁর দুই হাত এত উঁচু করলেন যে, তাঁর দুই বগলের শুভ্রতা দেখা গেল।”
— সহিহ বুখারি, ১০৩১; সহিহ মুসলিম, ৮৯৫।
এ থেকে বোঝা যায়, দোয়ার সময় হাতের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারিত নয়; দোয়ার ধরন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী হাতের উচ্চতা ভিন্ন হতে পারে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১