ইমাম সাহেব কি নিজেই আজান, ইকামাত দিতে পারবেন?
প্রশ্নঃ ১৬৯৩২৭. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, ইমাম সাহেব আযান দিয়ে নামাজ পড়াতে পারবেন কি না?
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ছাতক
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হ্যাঁ, ইমাম সাহেব নিজে আযান দিয়ে নামাজ পড়াতে পারবেন। এতে মাসায়েলগত কোনো অসুবিধা নেই।
কেননা, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবায় হযরত উকবা ইবনে আমির আল জুহানি রা. থেকে বর্ণিত আছে তিনি বলেন -
: كنت مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر، فلما طلع الفجر أذن وأقام، ثم أقامني عن يمينه، فقرأ بالمعوذتين، فلما انصرف قال: «كيف رأيت؟» قلت: قد رأيت يا رسول الله صلى الله عليه وسلم. قال: «فاقرأ بهما كلما نمت وكلما قمت.”
আমি এক সফরে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন ফজরের সময় হলো, তিনি আযান দিলেন এবং ইকামত করলেন। এরপর তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং সূরা আল-মু‘আউযযাতাইন (সূরাতুল ফালাক ও সূরাতুন-নাস) পাঠ করে নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে তিনি বললেন, “কেমন দেখলে?”
আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসুল ﷺ! আমি দেখেছি।” তিনি বললেন, “তাহলে যখনই তুমি ঘুমাবে এবং যখনই ঘুম থেকে উঠবে, এই দুই সূরা পাঠ করবে।”
(كتاب الصلاة، من كان يخفف القراءة في السفر،رقم: 3688 ،322/1 ،ط: مكتبة رشد رياض)
এই হাদিসে একাই নবী সা. এর আজান, ইকামত এবং ইমামতের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তবে সাধারণত মসজিদে একজন মুয়াজ্জিন আযান দেন এবং ইমাম সাহেব ইমামতি করেন—এটি উত্তম ও প্রচলিত ব্যবস্থা। কিন্তু কোনো কারণে মুয়াজ্জিন উপস্থিত না থাকলে ইমাম নিজেই আযান দিয়ে ইকামত করে নামাজ পড়াতে পারবেন। এতে নামাজ সহিহ হবে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
إِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ
“যখন নামাজের সময় উপস্থিত হবে, তখন তোমাদের মধ্য থেকে একজন আযান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যে অধিক বয়স্ক/যোগ্য, সে ইমামতি করবে।”
— সহিহ বুখারি: ৬৩১; সহিহ মুসলিম: ৬৭৪
এ হাদিসে আযানদাতা ও ইমামের পৃথক হওয়ার বিষয়টি সাধারণত বোঝা যায়; কিন্তু ইমাম নিজে আযান দিতে পারবেন না—এমন কোনো নিষেধ নেই।
فتاوی ہندیہ :
“والأحسن أن يكون إماما في الصلاة. كذا في معراج الدراية والأفضل أن يكون المؤذن هو المقيم كذا في الكافي.وإن أذن رجل وأقام آخر إن غاب الأول جاز من غير كراهة وإن كان حاضرا ويلحقه الوحشة بإقامة غيره يكره وإن رضي به لا يكره عندنا. كذا في المحيط.”
(كتاب الصلاة، الباب الثاني في الأذان، الفصل الأول في صفة الأذان و أحوال المؤذن،54/1،ط: رشيدية)
فتاوی ہندیہ :
“وإن كان المؤذن والإمام واحدا فإن أقام في المسجد فالقوم لا يقومون ما لم يفرغ من الإقامة.”
( كتاب الصلاة ، الباب الثاني في الأذان، الفصل الثاني في كلمات الأذان والإقامة وكيفيتهما ، 57/1 ،ط: رشيدية)
সুতরাং ইমাম সাহেব যদি নিজে আযান দিয়ে নামাজ পড়ান, আযান ও নামাজ উভয়ই সহিহ হবে। তবে নিয়মিত মসজিদের ব্যবস্থাপনায় মুয়াজ্জিন থাকলে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব তাকেই দেওয়া উত্তম।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১