তাবিজ করে কাউকে বশ করার বিধান
প্রশ্নঃ ১৬৯২১৫. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, মা এবং বোন যদি ভাইকে তাবিজ করে তাহলে আল্লাহ বিধানে তাদের শাস্তি কি
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ঢাকা
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই!
কোনো আমিল, তাবিজ বা অপারগ শক্তির মাধ্যমে কাউকে বশ করা, নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা কিংবা তাকে কষ্ট দেওয়া ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। এ ধরনের কাজ অনেক সময় জাদু বা সেহরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়, যা মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা ও স্বাভাবিক অনুভূতির বিরুদ্ধে যায় এবং এতে ঈমান ও আকীদার ওপর মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। অনেক ক্ষেত্রেই এসব কাজ মিথ্য, ধোঁকা, প্রতারণা এবং শিরকের দিকে নিয়ে যায়।
তাই যারা এসব কাজ করছেন তারা কবিরা গুনাহ করছেন; আর কবিরাহ গুনাহের শাস্তি হলো, খাঁটি দ্বীলে তাওবা না করলে একটি কবিরা গুনাহই জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।
কাজেই যারা এগুলো করছেন তাদের জন্য আবশ্যক হলো, এজাতীয় গর্হিত কাজ থেকে সরে এসে খঁটি দ্বীলে, কায়মনোবাক্যে আল্লাহ তায়ালার দরবারে তাওবা করা।
পাশাপাশি যেই উদ্দেশ্যে এসব কাজ করা হচ্ছে যদি সেগুলো শরীয়তসম্মত হয় তাহলে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করা, তাঁর কাছে হালাল ও কল্যাণকর পথ প্রার্থনা করা। মনে রাখতে হবে, জোরপূর্বক বা তাবিজ-আমলের মাধ্যমে গড়ে ওঠা কোনো সম্পর্কেই প্রকৃত সুখ ও বরকত থাকে না; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চললেই জীবনে শান্তি ও কল্যাণ লাভ করা সম্ভব।
শরঈ দলীল:
وَاتَّبَعُوۡا مَا تَتۡلُوا الشَّیٰطِیۡنُ عَلٰی مُلۡکِ سُلَیۡمٰنَ ۚ وَمَا کَفَرَ سُلَیۡمٰنُ وَلٰکِنَّ الشَّیٰطِیۡنَ کَفَرُوۡا یُعَلِّمُوۡنَ النَّاسَ السِّحۡرَ ٭ وَمَاۤ اُنۡزِلَ عَلَی الۡمَلَکَیۡنِ بِبَابِلَ ہَارُوۡتَ وَمَارُوۡتَ ؕ وَمَا یُعَلِّمٰنِ مِنۡ اَحَدٍ حَتّٰی یَقُوۡلَاۤ اِنَّمَا نَحۡنُ فِتۡنَۃٌ فَلَا تَکۡفُرۡ ؕ فَیَتَعَلَّمُوۡنَ مِنۡہُمَا مَا یُفَرِّقُوۡنَ بِہٖ بَیۡنَ الۡمَرۡءِ وَزَوۡجِہٖ ؕ وَمَا ہُمۡ بِضَآرِّیۡنَ بِہٖ مِنۡ اَحَدٍ اِلَّا بِاِذۡنِ اللّٰہِ ؕ وَیَتَعَلَّمُوۡنَ مَا یَضُرُّہُمۡ وَلَا یَنۡفَعُہُمۡ ؕ وَلَقَدۡ عَلِمُوۡا لَمَنِ اشۡتَرٰىہُ مَا لَہٗ فِی الۡاٰخِرَۃِ مِنۡ خَلَاقٍ ۟ؕ وَلَبِئۡسَ مَا شَرَوۡا بِہٖۤ اَنۡفُسَہُمۡ ؕ لَوۡ کَانُوۡا یَعۡلَمُوۡنَ ١۰٢
আর তারা (বনী ইসরাঈল) সুলায়মান (আলাইহিস সালাম)-এর শাসনামলে শয়তানগণ যা-কিছু (মন্ত্র) পড়ত তার পেছনে পড়ে গেল। সুলায়মান (আলাইহিস সালাম) কোন কুফর করেনি। অবশ্য শয়তানগণ মানুষকে যাদু শিক্ষা দিয়ে কুফরীতে লিপ্ত হয়েছিল। তাছাড়া (বনী ইসরাঈল) বাবিল শহরে হারূত ও মারূত নামক ফিরিশতাদ্বয়ের প্রতি যা নাযিল হয়েছিল তার পেছনে পড়ে গেল। এ ফিরিশতাদ্বয় কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনও তালীম দিত না, যতক্ষণ না বলে দিত, আমরা কেবলই পরীক্ষাস্বরূপ (প্রেরিত হয়েছি)। সুতরাং তোমরা (যাদুর পেছনে পড়ে) কুফরী অবলম্বন করো না। তথাপি তারা তাদের থেকে এমন জিনিস শিক্ষা করত, যা দ্বারা তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত, (তবে প্রকাশ থাকে যে,) তারা তার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারও কোন ক্ষতি সাধন করতে পারত না। (কিন্তু) তারা এমন জিনিস শিখত, যা তাদের পক্ষে ক্ষতিকর ছিল এবং উপকারী ছিল না। আর তারা এটাও ভালো করে জানত যে, যে ব্যক্তি তার খরিদ্দার হবে আখিরাতে তার কোনও হিস্যা থাকবে না। বস্তুত তারা যার বিনিময়ে নিজেদেরকে বিক্রি করেছে তা অতি মন্দ। যদি তাদের (এ বিষয়ের প্রকৃত) জ্ঞান থাকত!
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনে এই আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়েছে-
“এ আয়াতসমূহে আল্লাহ তাআলা ইয়াহুদীদের আরেকটি দুষ্কর্মের প্রতি ইশারা করেছেন। তা এই যে, যাদু-টোনার পেছনে পড়া শরীআতে সম্পূর্ণ অবৈধ ছিল। বিশেষত যাদুর মন্ত্রসমূহে যদি শিরকী কথাবার্তা থাকে, তবে সে যাদু কুফরের নামান্তর। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের আমলে কিছু শয়তান, যাদের মধ্যে জিন ও মানুষ উভয়ই থাকতে পারে, কতক ইয়াহুদীকে ফুসলানি দিল যে, হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের রাজত্বের (খৃস্টপূর্ব ৯৯০-৯৩০) সকল রহস্য যাদুর মধ্যে নিহিত। তোমরা যদি যাদু শিক্ষা কর, তবে তোমাদেরও বিস্ময়কর ক্ষমতা অর্জিত হবে। সুতরাং তারা যাদুর তালীম নিতে ও তা কাজে লাগাতে শুরু করে দিল। অথচ যাদু শেখা যে কেবল অবৈধ ছিল তাই নয়, বরং তার কোনও কোনও পদ্ধতি ছিল কুফরী পর্যায়ের।
ইয়াহুদীরা দ্বিতীয় মহাপাপ করেছিল এই যে, তারা খোদ হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামকেই একজন যাদুকর সাব্যস্ত করেছিল এবং তাঁর সম্পর্কে প্রচার করেছিল, তিনি শেষ জীবনে মূর্তিপূজা শুরু করে দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে এসব অপবাদমূলক কাহিনী তারা তাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থসমূহেও জুড়ে দিয়েছিল, যা বাইবেলে আজও পর্যন্ত দেখতে পাওয়া যায়। বাইবেলে এখনও পর্যন্ত তাঁর মুরতাদ হওয়ার বিবরণ বিদ্যমান (দ্র. ১-বাদশানামা ১১:১-২১)। নাউযুবিল্লাহি মিন যালিক।
কুরআন মাজীদের এ আয়াতে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি আরোপিত এ ন্যাক্কারজনক অপবাদকে খণ্ডন করা হয়েছে। এর দ্বারা আরও পরিষ্কার হয়ে যায়, কুরআন মাজীদ সম্পর্কে যারা অপবাদ দিত যে, ‘এটা ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানদের কিতাব থেকে আহরিত’, তাদের সে অপবাদ কতটা মিথ্যা! এ স্থলে কুরআন মাজীদ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ইয়াহুদী ও নাসারাদের কিতাবসমূহকে রদ করছে।
সত্য কথা হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এমন কোনও মাধ্যম ছিল না, যা দ্বারা তিনি নিজে ইয়াহুদীদের কিতাবে কী লেখা আছে তা জেনে নেবেন। এটা জানার জন্য তাঁর কাছে কেবল ওহীরই সূত্র ছিল। সুতরাং এ আয়াত তাঁর ওহীপ্রাপ্ত নবী হওয়ার সুস্পষ্ট দলীল। এর দ্বারা তিনি ইয়াহুদীদের কিতাবে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি কি ধরনের অপবাদ আরোপ করা হয়েছে সে কথা জানিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং অতি দৃঢ়তার সাথে তা খণ্ডনও করেছেন।
https://muslimbangla.com/quran/sura/2
https://muslimbangla.com/masail/8201
احکام القرآن للتھانوی :
"وما کان منها بآیات قرآنیة أو أسماء إلهیة وأمثالها إلا أن المقصود بها إضرار مسلم کالتفریق بین الزوجین … أو تسخیر مسلم بحیث یصیر مسلوب الاختیار في الحب أو البغض لأحد…فحرام لکونه ظلما".
(أحكام القرآن لظفر أحمد التهانوي: حكم الرقى والعزائم (1/ 51، 52)، ط. مكتبة التهانوي للطباعة والنشر، جمن، بلوشستان، باكستان)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
সাইদুজ্জামান কাসেমি
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মুফতী ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইমাম বুখারী, উত্তরা, ঢাকা।
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৮
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১