স্বামী তালাক না দিয়ে সংসার না করলে স্ত্রীর করণীয়
প্রশ্নঃ ১৭২২২৯. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, বিবাহ বন্ধনের সময় ৭বছর পার হয়ে যাচ্ছে, প্রথম বছর সম্পর্ক ঠিক ছিল। পরবর্তীতে নিজেদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝি তৈরী হয়, এক পর্যায়ে স্বামী জেদ করেই তালাকও দেবেনা সংসারও করবেনা। ঝুলিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ছয়টি বছর মেয়েটির সাথে কোনো যোগাযোগ নাই।এমতাবস্থায় মেয়ে পক্ষের করনীয় কি?
২১ অক্টোবর, ২০২৬
Arijpur
২৭৩ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
কোনো নারীকে এভাবে তালাক না দিয়ে আবার বৈবাহিক অধিকারও আদায় না করে দীর্ঘ ৬ বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে চরম জুলুম, অমানবিক অত্যাচার এবং কবিরা গুনাহ।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্বামীদের এমন আচরণ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করে ইরশাদ করেছেন,
فَلَا تَمِيلُوا كُلَّ الْمَيْلِ فَتَذَرُوهَا كَالْمُعَلَّقَةِ
অতএব তোমরা কোনো এক দিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকে পড়ো না, যার ফলে অপর স্ত্রীকে তোমরা এমনভাবে ফেলে রাখবে, যেন সে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে (না সে বিবাহিতা নারীর মর্যাদা পাচ্ছে, না সে মুক্ত হতে পারছে)। (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১২৯)
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন,
فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ
অতঃপর হয় যথাযথভাবে স্ত্রীকে রেখে দেওয়া, অথবা সদ্ভাবে তাকে মুক্ত করে দেওয়া। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত :২২৯)
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখলে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে হবে; আর সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব না হলে সদ্ভাবে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে হবে। স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ইসলামের ন্যায়নীতি ও সদাচরণের পরিপন্থী।
এই আয়াতের শিক্ষা হলো, দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখলে স্ত্রীর অধিকার আদায় করতে হবে; আর সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব না হলে সদ্ভাবে বিচ্ছেদের ব্যবস্থা করতে হবে। স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ইসলামের ন্যায়নীতি ও সদাচরণের পরিপন্থী।
সময় পার হওয়ার কারণে নিজে নিজে বিবাহ বিচ্ছেদ বা তালাক হয় না। অনেকে মনে করেন, কয়েক বছর যোগাযোগ না থাকলে বা স্বামী ভরণপোষণ না দিলে বুঝি আপনা-আপনি বিয়ে ভেঙে যায়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
স্বামী যেহেতু জেদ ধরে তালাক দিচ্ছে না, তাই শরিয়ত মেয়েটিকে আজীবন এই যাতনায় বন্দি থাকতে বাধ্য করেনি।
আপনার জন্য করণীয় হচ্ছে
বাংলাদেশের বিয়ের কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা থাকে, স্বামী স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা অর্পণ করিয়াছে কি না?যদি ক্ষমতা অর্পণ করে থঅকে তাহলে, মেয়েটি সরাসরি একজন সরকারি নিকাহ রেজিস্টার-এর কাছে গিয়ে কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে নিজেকে এক তালাক গ্রহণ করে তালাক সম্পন্ন করতে পারবে।
যদি কাবিননামায় সেই ক্ষমতা না থাকে, তবে স্থানীয় প্রভাবশালী মুরুব্বি ও আলেমদের মাধ্যমে স্বামীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে তাকে ডেকে এনে বোঝানো যে, স্ত্রীকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখা আল্লাহর গজব ডেকে আনবে। হয় সে সংসার করুক, নতুবা ভদ্রভাবে এক তালাক দিয়ে মেয়েটিকে মুক্তি দিক।
স্বামী যদি টাকার লোভী হয়, তবে প্রয়োজনে দেনমোহর মাফ করে দিয়ে কিংবা কিছু ছাড় দিয়ে হলেও তার কাছ থেকে লিখিত তালাক বা খুলা করিয়ে নেওয়া।
উপরের কোনোটাই যদি সম্ভব না হয়, স্বামী যদি কোনোভাবেই তালাক না দেয় এবং কাবিননামাতেও ক্ষমতা না থাকে, তবে ইসলামি শরিয়তের আলোকে আদালত কর্তৃক এই বিবাহ ভেঙে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। পরিস্থিতি অনুযায়ী পারিবারিক আইনজীবীর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।
যে মাধ্যমেই বিচ্ছেদ চূড়ান্ত হোক না কেন বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার দিন থেকে মেয়েটিকে পূর্ণ তিন হায়েজ ইদ্দত পালন করতে হবে।
ইদ্দত শেষ হওয়ামাত্রই মেয়েটি অন্য যেকোনো পছন্দমতো পাত্রের সাথে নতুন করে শরিয়তসম্মত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ স্বাধীন ও মুক্ত হয়ে যাবে।
প্রকাশ থাকে স্বামী যেহেতু বিগত ৬ বছর কোনো খরচ দেয়নি, তাই মেয়েটি তার বকেয়া দেনমোহর এবং বিগত দিনের ন্যায্য খোরপোষ আইন ও শরিয়ত উভয় দিক থেকেই স্বামীর কাছ থেকে উসুল করার পূর্ণ অধিকার রাখে।
القرآن الكريم: (البقرة، الآية: 229)
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
رد المحتار: (3/441، ط: دار الفكر)
وأما ركنه فهو كما في البدائع: إذا كان بعوض الإيجاب والقبول؛ لأنه عقد على الطلاق بعوض فلا تقع الفرقة ولا يستحق العوض بدون القبول.
الفقه الإسلامي وأدلته: (9/7015، ط: دار الفكر)
وقد اعتبر الحنفية ركن الخلع هو الإيجاب والقبول؛ لأنه عقد على الطلاق بعوض، فلا تقع الفرقة ولا يستحق العوض بدون القبول.
المبسوط للسرخسي: (6/173، ط: دار المعرفة)
(قال): والخلع جائز عند السلطان وغيره؛ لأنه عقد يعتمد التراضي كسائر العقود، وهو بمنزلة الطلاق بعوض، وللزوج ولاية إيقاع الطلاق، ولها ولاية التزام العوض، فلا معنى لاشتراط حضرة السلطان في هذا العقد.
الطَّلَاقُ مَرَّتَانِ ۖ فَإِمْسَاكٌ بِمَعْرُوفٍ أَوْ تَسْرِيحٌ بِإِحْسَانٍ ۗ وَلَا يَحِلُّ لَكُمْ أَن تَأْخُذُوا مِمَّا آتَيْتُمُوهُنَّ شَيْئًا إِلَّا أَن يَخَافَا أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۖ فَإِنْ خِفْتُمْ أَلَّا يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا فِيمَا افْتَدَتْ بِهِ ۗ تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ فَلَا تَعْتَدُوهَا ۚ وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُولَٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
رد المحتار: (3/441، ط: دار الفكر)
وأما ركنه فهو كما في البدائع: إذا كان بعوض الإيجاب والقبول؛ لأنه عقد على الطلاق بعوض فلا تقع الفرقة ولا يستحق العوض بدون القبول.
الفقه الإسلامي وأدلته: (9/7015، ط: دار الفكر)
وقد اعتبر الحنفية ركن الخلع هو الإيجاب والقبول؛ لأنه عقد على الطلاق بعوض، فلا تقع الفرقة ولا يستحق العوض بدون القبول.
المبسوط للسرخسي: (6/173، ط: دار المعرفة)
(قال): والخلع جائز عند السلطان وغيره؛ لأنه عقد يعتمد التراضي كسائر العقود، وهو بمنزلة الطلاق بعوض، وللزوج ولاية إيقاع الطلاق، ولها ولاية التزام العوض، فلا معنى لاشتراط حضرة السلطان في هذا العقد.
الفقه الإسلامي وأدلته:
"وأجاز المالكية التفريق للشقاق أو للضرر، منعاً للنزاع، وحتى لا تصبح الحياة الزوجية جحيماً وبلاء، ولقوله عليه الصلاة والسلام: «لا ضرر ولا ضرار». وبناء عليه ترفع المرأة أمرها للقاضي، فإن أثبتت الضرر أو صحة دعواها، طلقها منه."
(القسم السادس: الأحوال الشخصية، الباب الثاني: انحلال الزواج، الفصل الثالث: التفريق، جلد: 9، صفحة: 7060، طبع: دار الفكر)
"وأجاز المالكية التفريق للشقاق أو للضرر، منعاً للنزاع، وحتى لا تصبح الحياة الزوجية جحيماً وبلاء، ولقوله عليه الصلاة والسلام: «لا ضرر ولا ضرار». وبناء عليه ترفع المرأة أمرها للقاضي، فإن أثبتت الضرر أو صحة دعواها، طلقها منه."
(القسم السادس: الأحوال الشخصية، الباب الثاني: انحلال الزواج، الفصل الثالث: التفريق، جلد: 9، صفحة: 7060، طبع: دار الفكر)
حیلہ ناجزہ میں ہے:
”بیوی نان نفقہ نہ دینے سے متعلق تنسیخِ نکاح کا مقدمہ مسلم عدالت میں دائر کرے، پھر اپنے نکاح کو شرعی گواہوں سے ثابت کرے، اس کے بعد اپنے دعویٰ کو دو گواہوں سے ثابت کرے۔ پھر جس جج کے سامنے معاملہ پیش ہو وہ شوہر کو طلب کرے اور معاملہ کی شرعی شہادت کے ذریعہ سے پوری تحقیق کرے اور اگر عورت کا دعویٰ صحیح ثابت ہو تو اس کے شوہر سے کہا جائے کہ تم اپنی بیوی کے حقوق ادا کرو یا طلاق دے دو، ورنہ ہم تفریق واقع کر دیں گے، اس کے بعد بھی اگر وہ کسی صورت پر عمل نہ کرے تو قاضی یا جو شرعاً اس کے قائم مقام ہو اس کی بیوی پر طلاق واقع کر دے۔“
(حیلہ ناجزہ، ص: 292، ط: مکتبہ رضی دیوبند)
”بیوی نان نفقہ نہ دینے سے متعلق تنسیخِ نکاح کا مقدمہ مسلم عدالت میں دائر کرے، پھر اپنے نکاح کو شرعی گواہوں سے ثابت کرے، اس کے بعد اپنے دعویٰ کو دو گواہوں سے ثابت کرے۔ پھر جس جج کے سامنے معاملہ پیش ہو وہ شوہر کو طلب کرے اور معاملہ کی شرعی شہادت کے ذریعہ سے پوری تحقیق کرے اور اگر عورت کا دعویٰ صحیح ثابت ہو تو اس کے شوہر سے کہا جائے کہ تم اپنی بیوی کے حقوق ادا کرو یا طلاق دے دو، ورنہ ہم تفریق واقع کر دیں گے، اس کے بعد بھی اگر وہ کسی صورت پر عمل نہ کرے تو قاضی یا جو شرعاً اس کے قائم مقام ہو اس کی بیوی پر طلاق واقع کر دے۔“
(حیلہ ناجزہ، ص: 292، ط: مکتبہ رضی دیوبند)
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন