ইসলামে নারীর মর্যাদা ও স্ত্রীকে প্রহারের বিধান
প্রশ্নঃ ১৭২০৫৬. আসসালামুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার এক বোনের জামাই নিউজিল্যান্ডে থাকেন। তিনি খ্রিস্টান ধর্মগুরুদের সঙ্গে ইসলাম নিয়ে আলোচনা করেন। সম্প্রতি একজন খ্রিস্টান ধর্মগুরু সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াত দেখিয়ে প্রশ্ন করেন, ইসলামে কি নারীদের প্রহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? এ বিষয়ে কুরআন-হাদিসের আলোকে বিস্তারিত জানতে চাই
২৬ অক্টোবর, ২০২৬
কক্সবাজার
০ বার পড়া হয়েছে
উত্তর
و علَيْــــــــــــــــــــكُم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ইসলামে স্ত্রীকে নির্যাতন, অপমান কিংবা অন্যায়ভাবে প্রহার করার কোনো অনুমতি নেই। বরং স্বামীকে স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করতে, তার অধিকার রক্ষা করতে এবং দাম্পত্য জীবনে দয়া ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে দাম্পত্য জীবনের একটি বিশেষ সংকটপূর্ণ পরিস্থিতিতে যে বিধানের কথা এসেছে, সেটিকে অস্বীকার না করে এর প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা এবং রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর বাস্তব আদর্শের আলোকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
১. সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে কী বলা হয়েছে?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
১. সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে কী বলা হয়েছে?
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
﴿وَاللَّاتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيًّا كَبِيرًا﴾
আর যেসব স্ত্রীর অবাধ্যতা বা দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর অবনতি সম্পর্কে তোমরা আশঙ্কা করো, তাদের উপদেশ দাও, শয্যায় তাদের থেকে পৃথক থাকো এবং (প্রচলিত তাফসিরি ব্যাখ্যা অনুযায়ী) তাদের প্রহার করো। অতঃপর তারা তোমাদের অনুগত হলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অনুসন্ধান করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান। (সুরা আন-নিসা, ৪:৩৪)
আয়াতটিতে নূশূযের পরিস্থিতিতে তিনটি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, উপদেশ দেওয়া, শয্যায় পৃথক থাকা এবং সবশেষে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে প্রহারের বিধান। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়াতটি স্বামীকে স্ত্রীর ওপর যথেচ্ছ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেয়নি। বরং দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর সংকট নিরসনের প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট সীমারেখা উল্লেখ করেছে।
আরবি ব্যাকরণে আদেশসূচক ক্রিয়া (আমর) সব ক্ষেত্রে একই বিধান বোঝায় না; এর অর্থ ও শরয়ি হুকুম নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট দলিল ও প্রেক্ষাপটের আলোকে। তাই এই আয়াতের “وَاضْرِبُوهُنَّ” শব্দটি দেখে একে স্ত্রীকে প্রহার করার সাধারণ নির্দেশ বা পছন্দনীয় আমল বলা যেমন ঠিক নয়।
২. এখানে ‘নূশূয’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আয়াতে ব্যবহৃত “نُشُوز” শব্দটি সাধারণ মতবিরোধ, তুচ্ছ ভুল, রান্নাবান্নায় অবহেলা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর দৈনন্দিন তর্কবিতর্কের সমার্থক নয়। তাফসির ও ফিকহের আলোচনায় এটি দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর অবাধ্যতা, বৈবাহিক দায়িত্ব ও অধিকার নষ্ট করে এমন আচরণ এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, এমন পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে নূশূযকে কেবল ব্যভিচারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করাও যথাযথ নয়। এর পরিধি তাফসির ও ফিকহের আলোচনায় আরও বিস্তৃত। তাই কোনো সাধারণ মতবিরোধ হলেই স্ত্রীকে নাশিযা আখ্যা দেওয়া কিংবা আয়াতটিকে অজুহাত বানিয়ে তার গায়ে হাত তোলা শরিয়তসম্মত নয়।
৩. আয়াতে উল্লিখিত পর্যায়গুলোর ব্যাখ্যা
প্রথম পর্যায়: উপদেশ ও নসিহত
প্রথমে স্ত্রীকে আন্তরিকভাবে বোঝাতে হবে, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করতে হবে এবং পারিবারিক দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। রাগ, গালিগালাজ কিংবা অপমানের পরিবর্তে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাই ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয় পর্যায়: শয্যায় পৃথক থাকা
উপদেশে সমস্যার সমাধান না হলে আয়াতে শয্যায় পৃথক থাকার কথা এসেছে। এটি দাম্পত্য সংকট নিরসনের একটি পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে এর উদ্দেশ্য অপমান করা, প্রতিশোধ নেওয়া কিংবা স্ত্রীকে অনির্দিষ্টকাল কষ্ট দেওয়া নয়; বরং সম্পর্কের সংকট উপলব্ধি করে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা।
তৃতীয় পর্যায়: প্রহারের বিধান ও তার সীমাবদ্ধতা
প্রচলিত সুন্নি তাফসির ও ফিকহের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী পদক্ষেপেও সমাধান না হলে আয়াতে একটি অত্যন্ত সীমিত অনুমতির কথা এসেছে। কিন্তু এই অনুমতিকে কোনোভাবেই মারধর, নির্যাতন, প্রতিশোধ গ্রহণ কিংবা নিজের রাগ প্রকাশের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এটি সাধারণ দাম্পত্য কলহে প্রয়োগ করার কোনো বিধান নয়; আর ক্ষতি, আঘাত, শারীরিক নির্যাতন বা অপমানের সুযোগও এতে নেই।
কুরআনের পরবর্তী আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিলে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশ নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
আয়াতটিতে নূশূযের পরিস্থিতিতে তিনটি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে, উপদেশ দেওয়া, শয্যায় পৃথক থাকা এবং সবশেষে নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে প্রহারের বিধান। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আয়াতটি স্বামীকে স্ত্রীর ওপর যথেচ্ছ ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার দেয়নি। বরং দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর সংকট নিরসনের প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট সীমারেখা উল্লেখ করেছে।
আরবি ব্যাকরণে আদেশসূচক ক্রিয়া (আমর) সব ক্ষেত্রে একই বিধান বোঝায় না; এর অর্থ ও শরয়ি হুকুম নির্ধারিত হয় সংশ্লিষ্ট দলিল ও প্রেক্ষাপটের আলোকে। তাই এই আয়াতের “وَاضْرِبُوهُنَّ” শব্দটি দেখে একে স্ত্রীকে প্রহার করার সাধারণ নির্দেশ বা পছন্দনীয় আমল বলা যেমন ঠিক নয়।
২. এখানে ‘নূশূয’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
আয়াতে ব্যবহৃত “نُشُوز” শব্দটি সাধারণ মতবিরোধ, তুচ্ছ ভুল, রান্নাবান্নায় অবহেলা কিংবা স্বামী-স্ত্রীর দৈনন্দিন তর্কবিতর্কের সমার্থক নয়। তাফসির ও ফিকহের আলোচনায় এটি দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর অবাধ্যতা, বৈবাহিক দায়িত্ব ও অধিকার নষ্ট করে এমন আচরণ এবং সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে, এমন পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে নূশূযকে কেবল ব্যভিচারের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করাও যথাযথ নয়। এর পরিধি তাফসির ও ফিকহের আলোচনায় আরও বিস্তৃত। তাই কোনো সাধারণ মতবিরোধ হলেই স্ত্রীকে নাশিযা আখ্যা দেওয়া কিংবা আয়াতটিকে অজুহাত বানিয়ে তার গায়ে হাত তোলা শরিয়তসম্মত নয়।
৩. আয়াতে উল্লিখিত পর্যায়গুলোর ব্যাখ্যা
প্রথম পর্যায়: উপদেশ ও নসিহত
প্রথমে স্ত্রীকে আন্তরিকভাবে বোঝাতে হবে, ভুল বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করতে হবে এবং পারিবারিক দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে আলোচনা করতে হবে। রাগ, গালিগালাজ কিংবা অপমানের পরিবর্তে ধৈর্য ও প্রজ্ঞার সঙ্গে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করাই ইসলামের নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয় পর্যায়: শয্যায় পৃথক থাকা
উপদেশে সমস্যার সমাধান না হলে আয়াতে শয্যায় পৃথক থাকার কথা এসেছে। এটি দাম্পত্য সংকট নিরসনের একটি পরবর্তী পদক্ষেপ। তবে এর উদ্দেশ্য অপমান করা, প্রতিশোধ নেওয়া কিংবা স্ত্রীকে অনির্দিষ্টকাল কষ্ট দেওয়া নয়; বরং সম্পর্কের সংকট উপলব্ধি করে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা।
তৃতীয় পর্যায়: প্রহারের বিধান ও তার সীমাবদ্ধতা
প্রচলিত সুন্নি তাফসির ও ফিকহের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পূর্ববর্তী পদক্ষেপেও সমাধান না হলে আয়াতে একটি অত্যন্ত সীমিত অনুমতির কথা এসেছে। কিন্তু এই অনুমতিকে কোনোভাবেই মারধর, নির্যাতন, প্রতিশোধ গ্রহণ কিংবা নিজের রাগ প্রকাশের বৈধতা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এটি সাধারণ দাম্পত্য কলহে প্রয়োগ করার কোনো বিধান নয়; আর ক্ষতি, আঘাত, শারীরিক নির্যাতন বা অপমানের সুযোগও এতে নেই।
কুরআনের পরবর্তী আয়াতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দিলে উভয় পরিবারের পক্ষ থেকে সালিশ নিযুক্ত করে মীমাংসার চেষ্টা করতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,
﴿وَإِنْ خِفْتُمْ شِقَاقَ بَيْنِهِمَا فَابْعَثُوا حَكَمًا مِنْ أَهْلِهِ وَحَكَمًا مِنْ أَهْلِهَا إِنْ يُرِيدَا إِصْلَاحًا يُوَفِّقِ اللَّهُ بَيْنَهُمَا إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا خَبِيرًا﴾
আর যদি তোমরা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করো, তাহলে স্বামীর পরিবার থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে একজন সালিশ নিযুক্ত করো। তারা উভয়ে মীমাংসা চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সব বিষয়ে অবহিত। (সুরা আন-নিসা, ৪:৩৫)
অতএব, দাম্পত্য সংকটের ক্ষেত্রে সংশোধন, মীমাংসা ও সম্পর্ক রক্ষার প্রচেষ্টাই মুখ্য। আয়াতের তৃতীয় ধাপকে তালাকের ঠিক আগমুহূর্তের সতর্কবার্তা হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আয়াতের সরাসরি বক্তব্য নয়।
৪. ‘গায়রা মুবাররিহ’ বলতে কী বোঝায়?
বিদায় হজের ভাষণসংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ নারীদের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন,
অতএব, দাম্পত্য সংকটের ক্ষেত্রে সংশোধন, মীমাংসা ও সম্পর্ক রক্ষার প্রচেষ্টাই মুখ্য। আয়াতের তৃতীয় ধাপকে তালাকের ঠিক আগমুহূর্তের সতর্কবার্তা হিসেবে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আয়াতের সরাসরি বক্তব্য নয়।
৪. ‘গায়রা মুবাররিহ’ বলতে কী বোঝায়?
বিদায় হজের ভাষণসংক্রান্ত দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ ﷺ নারীদের অধিকার সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন,
﴿فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ﴾
তারা যদি এমন করে, তবে এমনভাবে প্রহার করবে, যা কঠোর বা ক্ষতিকর নয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ১২১৮)
এখানে “ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ” বলতে এমন প্রহার বোঝানো হয়েছে, যা গুরুতর, ক্ষতিকর বা আঘাতসৃষ্টিকারী নয়। এটি নির্যাতনের অনুমতি নয়; বরং প্রচলিত ফিকহি ব্যাখ্যায় অনুমতির ওপর আরোপিত একটি কঠোর সীমাবদ্ধতা।
তাবেঈ আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.)-এর প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে,
এখানে “ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ” বলতে এমন প্রহার বোঝানো হয়েছে, যা গুরুতর, ক্ষতিকর বা আঘাতসৃষ্টিকারী নয়। এটি নির্যাতনের অনুমতি নয়; বরং প্রচলিত ফিকহি ব্যাখ্যায় অনুমতির ওপর আরোপিত একটি কঠোর সীমাবদ্ধতা।
তাবেঈ আতা ইবনে আবি রাবাহ (রহ.)-এর প্রশ্নের উত্তরে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর কাছ থেকে বর্ণিত হয়েছে,
بِالسِّوَاكِ وَنَحْوِهِ
মিসওয়াক ও এ ধরনের বস্তু দিয়ে।
এ বর্ণনাটি তাফসিরে তাবারীতে সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে। (তাফসির আত-তাবারী, সুরা আন-নিসা, ৪:৩৪-এর তাফসির)
এ থেকে ফকিহগণ প্রহারের কঠোর সীমাবদ্ধতা ও ক্ষতি না করার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। তবে এটিকে আয়াতের একমাত্র ব্যাখ্যা কিংবা সব মুফাসসিরের সর্বসম্মত বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। মূল কথা হলো, আয়াতের অনুমিত সীমারেখার বাইরে গিয়ে স্ত্রীকে শারীরিক কষ্ট দেওয়া বা নির্যাতন করা বৈধ নয়।
৫. রাসুলুল্লাহ ﷺ কি কখনো কোনো নারীকে প্রহার করেছেন?
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন,
এ বর্ণনাটি তাফসিরে তাবারীতে সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতের ব্যাখ্যায় এসেছে। (তাফসির আত-তাবারী, সুরা আন-নিসা, ৪:৩৪-এর তাফসির)
এ থেকে ফকিহগণ প্রহারের কঠোর সীমাবদ্ধতা ও ক্ষতি না করার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। তবে এটিকে আয়াতের একমাত্র ব্যাখ্যা কিংবা সব মুফাসসিরের সর্বসম্মত বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। মূল কথা হলো, আয়াতের অনুমিত সীমারেখার বাইরে গিয়ে স্ত্রীকে শারীরিক কষ্ট দেওয়া বা নির্যাতন করা বৈধ নয়।
৫. রাসুলুল্লাহ ﷺ কি কখনো কোনো নারীকে প্রহার করেছেন?
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বলেন,
مَا ضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم شَيْئًا قَطُّ بِيَدِهِ، وَلَا امْرَأَةً، وَلَا خَادِمًا
রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজ হাতে কখনো কাউকে প্রহার করেননি, না কোনো নারীকে, না কোনো খাদেমকে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৩২৮)
হাদিসের পূর্ণ বর্ণনায় আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রসঙ্গও রয়েছে। এ হাদিস রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ব্যক্তিগত চরিত্র, আত্মসংযম এবং নারী ও অধীনস্থদের প্রতি তাঁর আচরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
তিনি আরও বলেছেন,
হাদিসের পূর্ণ বর্ণনায় আল্লাহর পথে যুদ্ধের প্রসঙ্গও রয়েছে। এ হাদিস রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর ব্যক্তিগত চরিত্র, আত্মসংযম এবং নারী ও অধীনস্থদের প্রতি তাঁর আচরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
তিনি আরও বলেছেন,
لَا تَضْرِبُوا إِمَاءَ اللَّهِ
তোমরা আল্লাহর বান্দীদের প্রহার করো না।
পরবর্তী বর্ণনায় এসেছে, অনেক নারী তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পরিবারের কাছে এলে তিনি বলেন,
পরবর্তী বর্ণনায় এসেছে, অনেক নারী তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর পরিবারের কাছে এলে তিনি বলেন,
لَيْسَ أُولَئِكَ بِخِيَارِكُمْ
তারা তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি নয়। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস ২১৪৬)
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, স্ত্রীকে প্রহার করা কোনো উত্তম চরিত্রের পরিচয় নয়; বরং স্ত্রীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিন্দা করেছেন।
৬. স্ত্রীকে দাসের মতো পেটানোর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সতর্কবাণী
আবদুল্লাহ ইবনে যামআহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
এ হাদিস থেকে স্পষ্ট হয় যে, স্ত্রীকে প্রহার করা কোনো উত্তম চরিত্রের পরিচয় নয়; বরং স্ত্রীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগকে রাসুলুল্লাহ ﷺ নিন্দা করেছেন।
৬. স্ত্রীকে দাসের মতো পেটানোর বিষয়ে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সতর্কবাণী
আবদুল্লাহ ইবনে যামআহ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لَا يَجْلِدُ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ، ثُمَّ يُجَامِعُهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ
তোমাদের কেউ যেন নিজের স্ত্রীকে দাসের মতো প্রহার না করে, তারপর দিনের শেষভাগে তার সঙ্গে সহবাস করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫২০৪)
এ হাদিসে স্ত্রীকে নির্মমভাবে প্রহার করার নিন্দা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ ﷺ দাম্পত্য জীবনে মর্যাদা, কোমলতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
৭. তাহলে ইসলামের মূল শিক্ষা কী?
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ব ও পারস্পরিক অধিকারের সম্পর্ক। আল্লাহ তাআলা বলেন,
এ হাদিসে স্ত্রীকে নির্মমভাবে প্রহার করার নিন্দা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাসুলুল্লাহ ﷺ দাম্পত্য জীবনে মর্যাদা, কোমলতা ও পারস্পরিক সম্মানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
৭. তাহলে ইসলামের মূল শিক্ষা কী?
ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভালোবাসা, দয়া, দায়িত্ব ও পারস্পরিক অধিকারের সম্পর্ক। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿وَعَاشِرُوهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ﴾
তোমরা তাদের সঙ্গে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো। (সুরা আন-নিসা, ৪:১৯)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لِأَهْلِهِ، وَأَنَا خَيْرُكُمْ لِأَهْلِي
তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম; আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম। (জামে তিরমিজি, হাদিস ৩৮৯৫)
সুতরাং ইসলামের শিক্ষা হলো, স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা, তার অধিকার রক্ষা করা, অন্যায় ও নির্যাতন থেকে বিরত থাকা এবং দাম্পত্য সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে খোঁজা। আয়াতের সীমিত বিধানকে অজুহাত বানিয়ে স্ত্রীকে মারধর করা, আঘাত করা, অপমান করা কিংবা নিজের রাগ ঝাড়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা ইসলামের নৈতিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মোটকথা, সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর সংকটের ক্ষেত্রে কয়েকটি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাফসির ও ফিকহ অনুযায়ী, শেষ পর্যায়ে অত্যন্ত সীমিত ও কঠোর শর্তসাপেক্ষে প্রহারের অনুমতির ব্যাখ্যা রয়েছে; তবে এটি স্ত্রীকে নির্যাতন করার সাধারণ নির্দেশ নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে কখনো কোনো নারীকে প্রহার করেননি এবং স্ত্রীদের প্রহারকারীদের উত্তম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেননি। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হলে আয়াতের বিধান গোপন বা অস্বীকার না করে এর প্রেক্ষাপট ও সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, সদাচরণের নির্দেশ এবং নির্যাতনের নিন্দা, সবকিছু একসঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে।
সুতরাং ইসলামের শিক্ষা হলো, স্ত্রীর সঙ্গে সদাচরণ করা, তার অধিকার রক্ষা করা, অন্যায় ও নির্যাতন থেকে বিরত থাকা এবং দাম্পত্য সমস্যার সমাধান শান্তিপূর্ণ উপায়ে খোঁজা। আয়াতের সীমিত বিধানকে অজুহাত বানিয়ে স্ত্রীকে মারধর করা, আঘাত করা, অপমান করা কিংবা নিজের রাগ ঝাড়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা ইসলামের নৈতিক আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
মোটকথা, সূরা নিসার ৩৪ নম্বর আয়াতে দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুতর সংকটের ক্ষেত্রে কয়েকটি পর্যায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাফসির ও ফিকহ অনুযায়ী, শেষ পর্যায়ে অত্যন্ত সীমিত ও কঠোর শর্তসাপেক্ষে প্রহারের অনুমতির ব্যাখ্যা রয়েছে; তবে এটি স্ত্রীকে নির্যাতন করার সাধারণ নির্দেশ নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজে কখনো কোনো নারীকে প্রহার করেননি এবং স্ত্রীদের প্রহারকারীদের উত্তম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করেননি। তাই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে হলে আয়াতের বিধান গোপন বা অস্বীকার না করে এর প্রেক্ষাপট ও সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ, সদাচরণের নির্দেশ এবং নির্যাতনের নিন্দা, সবকিছু একসঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে।
والله اعلم بالصواب
উত্তর দাতা:
জাওয়াদ তাহের
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া বাবুস সালাম, বিমানবন্দর ঢাকা
এ সম্পর্কিত আরও জিজ্ঞাসা/প্রশ্ন-উত্তর
মাসায়েল-এর বিষয়াদি
আল কুরআনুল কারীম
৪
হাদীস ও সুন্নাহ
৬
তাসাউফ-আত্মশুদ্ধি । ইসলাহী পরামর্শ
৩
শরীআত সম্পর্কিত
১৫
ফিতনাসমুহ; বিবরণ - করণীয়
২
আখিরাত - মৃত্যুর পরে
৩
ঈমান বিধ্বংসী কথা ও কাজ
৬
ফিরাকে বাতিলা - ভ্রান্ত দল ও মত
২
পবিত্রতা অর্জন
৮
নামাযের অধ্যায়
১৯
যাকাত - সদাকাহ
৫
রোযার অধ্যায়
৬
হজ্ব - ওমরাহ
২
কাফন দাফন - জানাযা
৫
কসম - মান্নত
১
কুরবানী - যবেহ - আকীকা
৪
বিবাহ শাদী
৭
মীরাছ-উত্তরাধিকার
২
লেনদেন - ব্যবসা - চাকুরী
৯
আধুনিক মাসায়েল
৬
দন্ড বিধি
২
দাওয়াত ও জিহাদ
৩
ইতিহাস ও ঐতিহ্য
৬
সীরাতুন নবী সাঃ । নবীজীর জীবনচরিত
৩
সাহাবা ও তাবেঈন
৩
ফাযায়েল ও মানাকেব
৩
কিতাব - পত্রিকা ও লেখক
৩
পরিবার - সামাজিকতা
৭
মহিলা অঙ্গন
২
আখলাক-চরিত্র
২
আদব- শিষ্টাচার
১২
রোগ-ব্যধি। চিকিৎসা
২
দোয়া - জিকির
২
নাম। শব্দ জ্ঞান
৩
নির্বাচিত
২
সাম্প্রতিক
১
বিবিধ মাসআলা
১
মন্তব্য (0)
কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!
মন্তব্য করতে লগইন করুন